Poems of Alice Walker translated by Swarnendu Sengupta

বাংলা English
অ্যালিস ওয়াকার
অ্যালিস ওয়াকার একজন আফ্রিকান-আমেরিকান লেখিকা, জন্মেছিলেন ১৯৪৪ সালে। তাঁর রচিত একটি বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘দ্য কালার পার্পল’, পরবর্তীকালে স্টিভেন স্পিলবার্গ চলচিত্রে রূপান্তরিত করেন, পুলিতজার পুরস্কারও পান তিনি এই উপন্যাসের জন্য। অবশ্য তিনি শুরু করেছিলেন কবিতা লেখা দিয়ে, গদ্য রচনার পাশাপাশি তিনি কবিতাও লেখেন, বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হল,  অ্যালিস ওয়াকার সিভিল রাইটস আন্দোলনের একজন সর্বক্ষণের কর্মী। তাঁর লেখায় স্পষ্টতই রাজনীতির কথা এসেছে। ভারতে কয়েকবার এসেছেন, লেখিকা ও মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী অরুন্ধতি রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নৈকট্য রয়েছে। 
 নারীবাদ তাঁর চর্চার বিষয় হলেও, ফেমিনিস্ট ফেমিনিজম শব্দগুলো বাদ দিয়েছেন। উনি ওম্যানিস্ট বা ওম্যানিজম শব্দগুলো ব্যবহারের পক্ষপাতী, এসব কোয়েনেজ নিজেই বানিয়ে নিয়েছেন। পরিবারগতভাবে যেমন, নিজের জীবনেও অ্যালিস ওয়াকার শ্বেতাঙ্গ শোষণ, অপমান ও লাঞ্ছনার স্বীকার হয়েছেন। অন্যদিকে একজন মহিলা হিসেবে তিনি অনুভব করেছেন স্বজাতির মধ্যেও তাঁদের পিতৃতন্ত্রের স্বীকার হতে হয়। এখান থেকেই স্পষ্ট, একজন শ্বেতাঙ্গ মহিলা ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা দুজনের যুদ্ধ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ হলেও, যুদ্ধটা আসলে এক না। ওম্যানিজম তাই সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের অধিকার রক্ষার কথা বলে। অন্যদিকে ফেমিনিজম শব্দের উদ্ভাবন ও প্রচলন শাদা চামড়ার মানুষেরাই করেছে, এই শব্দকে বাদ দেওয়ার এটাও একটা অন্যতম কারণ। 
                            পাঁচটি কবিতা ॥ অ্যালিস ওয়াকার 
                         অ নু সৃ জ ন : স্ব র্ণে ন্দু  সে ন গু প্ত
   

আমি যদি রাষ্ট্রপতি হতাম

আমি যদি রাষ্ট্রপতি হতাম

প্রথমেই যে কাজটি করতাম

মুমিয়া আবু- জামালকে ফোন করতাম।

না,

আমি যদি রাষ্ট্রপতি হতাম

প্রথমেই যে কাজটি করতাম

লিওনার্ড পেল্টিয়ারকে ফোন করতাম।

না,

যদি আমি রাষ্ট্রপতি হতাম

প্রথম যে ব্যক্তিকে আমি ফোন করতাম

সেই রাস্কেলটিকে                 

জন ট্রুডেল।

না,

প্রথম যাকে আমি ফোন করতাম

অন্য আর একটা রাস্কেল

ডেনিস ব্যাঙ্কস।

আমি অ্যালিস ওয়াকারকেও ফোন করতাম।

এটা হতো একটা কনফারেন্স-কল।

এবং আমি বলতাম যে :

ওহে, সব ঝামেলাবাজ,

এটাই সময় আমাদের

জেল থেকে বেরিয়ে আসার।

তোমাদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও:

ডেনিস এবং জন,

অ্যালিস ওয়াকারকে সঙ্গে নিও

যদি তোমরা তার দেখা পাও:

মেন্ডোসিনো, মলোকাই, মেক্সিকো অথবা

গাজা-তে,

এবং সোজা জেলখানার দিকে যেও

যেখানে মুমিয়া এবং লিওনার্ড

তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

তারা ঘুরে বেড়াবে

নির্ভার।

মুমিয়ার সঙ্গে অনেক কাগজপত্র থাকে

কিন্তু তারা বেশিরভাগটাই তার কাছ থেকে

ছিনিয়ে নিয়েছে।

লিওনার্ড

সম্ভবত কষ্ট করে হলেও

নিয়ে যেতে চাইবে

তার কয়েকটি ক্যানভাস।

অ্যালিস

যে খুব পরিপাটি করে

শপিং করতে পারত

নতুন দিল্লিতে

কোনো সন্দেহ নেই যে

এই উপলক্ষে সে চাইবে

উজ্জ্বল সালোয়ার কামিজে সেজে উঠতে।

আমার পরবর্তী ফোন

কিউবার সেই পাঁচজনকে;

সুতরাং চিন্তা করবে না।

এখনকার জন্য, তোমরা আমার খেলার ঘুঁটি।

এইমাত্র এই দীর্ঘ চিঠিটি পেলাম

অ্যালিসের থেকে এবং সে আমাকে

অনুরোধ করেছে যেন তার দুর্দশার শেষ হয়।

তাই কি? সে বলেছে।

আপনি মনে করেন এই মানুষগুলো

তারাই শুধু কষ্ট পায় যখন রক্ষণশীল আমেরিকা

তাদের লক আপে ঢোকায়

এবং চাবিটি ছুঁড়ে ফেলে দেয় ?

আমি আপনাকে জানাতে পারব না, সে বলে চলে,

এই দূষিত অবস্থা

কোন পরিবর্তনগুলোর ভিতর দিয়ে

আমাকে যেতে বাধ্য করেছে,

এবং আমার একটি বাচ্চা আছে যাকে লালন করতে হয়

এবং পড়ানোর জন্য আমাকে ক্লাসে যেতে হয়

এবং খাবারদাবার কিনতে হয়

এবং শুধুমাত্র এইজন্যে যে

আমি একজন কবি

তার মানে এই নয়

আমাকে বন্ধকী অথবা ভাড়ার জন্য

মূল্য মেটাতে হয় না।

তা সত্ত্বেও এই এতগুলো বছর,

কাছাকাছি তিরিশ বছর, বা তেমনই

কিছু একটা সময়

আমি ছুটে বাড়াচ্ছি পুরো দেশজুড়ে

এবং বিশ্বময়

চেষ্টা করছি এই মানুষগুলোর জন্য সুবিচার গড়ে তুলতে।

টনসিলের ব্যথা

আমাকে রুখে দিতে পারেনি।

মাইগ্রেন

আমাকে থামাতে পারে নি।

লাইম ডিজিজ

আমাকে থামাতে পারে নি।

এবং কেন ?

কারণ

এই দেশটাকে চেনা

যার মধ্যে আমি থাকি,

যেভাবে আপনিও

নিয়তিনির্ধারিত এই দেশটাকে

চেনার ব্যাপারে,

আমি ভুলটা ধরতে পারলাম

দেশটা দেখার সময়।

যদি এই চেয়ারটা আপনি যার ওপর বসে আছেন

কথা বলতে পারত

আপনি এটাকে সরিয়ে দিতেন

অন্য একটা ঘরে।

আপনি এটাকে জ্বালিয়ে দিতেন।

সুতরাং, বন্ধুগণ,

জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও।

অ্যালিস, জন এবং ড্যানিস

কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছে।

নিলাক বাটলার এবং বিল ওয়াপেপার কাছ থেকে তারা আশীর্বচন নিয়ে আসবে;

পাইনের বন থেকে সুগন্ধি ঘাস ও শ্বেতাভ তুলসী নিয়ে ফিরবে।

আমি রাষ্ট্রপতি

যতক্ষণ পর্যন্ত না, কর্পোরেট সংস্থাগুলো পরবর্তী ভোট কিনে নিচ্ছে

আমি এসবই করতে চাই

রাষ্ট্রপতিত্বের প্রথম দিনে।

অত্যাচার

তারা যখন তোমার মায়ের ওপর অত্যাচার করবে

একটা গাছ লাগাও

যখন তোমার বাবার ওপর অত্যাচার করবে

একটা গাছ লাগাও

যখন তোমার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করবে

এবং তোমার বোনের ওপর

একটা গাছ লাগাও

তারা যখন তোমার পথপ্রদর্শকদের

হত্যা করবে

প্রেমিকদের হত্যা করবে

একটি করে গাছ লাগাও

তারা যখন তোমার ওপর অত্যাচার করবে

এমনভাবে যে কথা বলতে পারবে না

একটা গাছ লাগাও

যখন তারা গাছগুলির ওপর অত্যাচার শুরু করবে

এবং তাদের-ই বানিয়ে তোলা অরণ্যটি কেটে সাফ করে দেবে

অন্য আর একটি  গড়ে তোলায় মন দাও।

জীবনবৃক্ষটি ভেঙে পড়েছে

আমার ছোট্ট ঘরের ওপর

জীবনবৃক্ষটি ভেঙে পড়েছে

ভেবেছিলাম, এটা বিশাল

কিন্তু তা নয়

সেখানে, একটু দূরে, এখনও পাহাড় দেখতে পাই

আমার সম্মুখে পরিব্যাপ্ত জলের দৃশ্য অতুলনীয়

আমার বোটটি বিশাল, এখনও ক্যাপটেনকে

আমি আদেশ করতে পারি, আমি নিজে বোট চালানোয় প্রশিক্ষিত নই।

কিন্তু আমি ভেসে যেতাম

আমার এই জীবনবৃক্ষটি ছাড়া

যা খুব ভীষণ হয়ে ভেঙ্গে পড়েছে

দয়ামায়া হীন

আমার ছোট্ট জায়গাটির ওপর…

বিদায়ী এক একনায়কের জন্য, চিরস্থায়ীভাবে।

যখন তুমি জলের দিকে তাকাও

যখন তুমি ঝরনার জলের দিকে তাকাও

তুমি বল : ওহো, এই তো ঝরনার

জল;

যখন নদীর জলের দিকে তাকাও

তুমি বল : ওহো এই তো নদীর

জল;

যখন সমুদ্রের জল দেখে

তুমি বল : এই হলো সমুদ্রের

জল!

প্রকৃতপক্ষে জল চিরকাল

কেবলই জল

এবং কখনোই এইসব আধারের

একটিরও নয়

যদিও জলই তাদের গড়ে তোলে।

এবং একইভাবে জল তোমার মধ্যেও আছে।

তাদের মতো হবে না

তাদের মতো হবে না যারা শুধু প্রত্যাশা করে

প্রশংসা, ব্লার্বের লেখা, আমার ভাড়া করা লিমুজিনে

মুফতে ভ্রমণ। তারা সবকিছু প্রত্যাশা করে কিন্তু প্রতিদানে

কখনো কিছু দেয় না

তাদের মতো হও যারা দেখতে পাচ্ছে আমার পায়ে ব্যথা

ভর্তি রুমের ভেতর থেকে

যে একটি পা ঘষটে চলেছে

আমার সঙ্গে যদি একমত হতে পারো

তাকিয়ে দেখা নিয়ে কখনো কিছু মনে না করা

মৃদু হেসে উঠবার সবচে ভালো উপায় হয়ে উঠতে পারে

এবং আমাকে

হ্যালো বলে সম্বোধন করার।

………

স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত
  শূন্যদশকে আত্মপ্রকাশ, স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত কবিতা ও কবিতা বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। ধানইন্দিরা প্রথম কবিতার বই, এছাড়াও আরও দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত। কবিতার অনুবাদ হয় না, কবিতার ক্ষেত্রে অনুসৃজন শব্দটির ব্যবহার ও মেনে নেওয়ার ইচ্ছে এখান থেকেই। এখনো পর্যন্ত মার্গারেট এটউড ও যোশেফ ম্যাসির কবিতার অনুসৃজন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গুয়ান্তানামোর কয়েদিদের কবিতা, সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিকথার অনুবাদ, সংকলন ও সম্পাদনা নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। 

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *