rui zink’s ‘দুর্বৃত্তদের বাড়বাড়ন্ত’ translated by rita ray

বাংলা English

অনুবাদকের কথা

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে কুরাইয়ু দা মান্যিয়াঁ (সকালের ডাক) নামের একটি দৈনিকে রুই জ়িঙ্কের একটা সাপ্তাহিক পৃষ্ঠা বেরচ্ছে। রুই পৃষ্ঠাটির নাম দিয়েছেন “আমার মতামত তোমারটার চেয়ে বড়”। গোড়ার দিকে প্রত্যেক শনিবারে বেরত, এক্ষণ বেরয় প্রতি শুক্রবারে। মূলত হালফিলের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা নিয়েই এই পাতায় উনি লিখে থাকেন। একটি বড় লেখা ও পাঁচটি ছোট লেখা দিয়ে পাতাটা তৈরি হয়। এখানে চার সপ্তাহের পাতা থেকে বাছাই করে লেখা অনুবাদ করা হয়েছে। এগারই ফেব্রুয়ারির লেখার বিষয় পোর্তুগালের সদ্য-সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। বাকি তিন শুক্রবারের (পঁচিশে ফেব্রুয়ারি, চৌঠা ও এগারই মার্চ যথাক্রমে) বিষয় ইউক্রেনের যুদ্ধ।   

রুই জ়িঙ্ক
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 

দুর্বৃত্তদের বাড়বাড়ন্ত (১১/০২/২০২২)


_ রুই জ়িঙ্ক

আঁদ্রে[1] ছেলেটার ঘ্যানঘ্যানে সুরটা আমার মনে যত রকম ভয়ঙ্কর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। শান্ত হন, ওসব কেবল স্কুলের সময়কার। সেইসব সময়ের যখন ক্লাসের শয়তানটা দু’নৌকায় পা রেখে চলত। মিস পেছন ফিরলেই কাগজের টুকরো ছুঁড়ে মারত, ক্লাসের কোন ছেলেকে পা দিয়ে গুঁতো মারত; কিন্তু তারপরে, বকুনি খেয়ে, সাধুভাব দেখিয়ে, যতটা পারে মেকি আর ন্যাকান্যাকা একটা গলা করে বলত, “আআআআমি, মিস? দিব্বি কেটে বলছি আমি কিচ্ছু করিনি! ওই ছেলেটাই তো… আমি আমার মায়ের আত্মার নামে দিব্বি দিয়ে বলছি!”

         কখন কখন মিস ওর কথার অসঙ্গতিটা ধরে ফেলতেন, “আরে আঁদ্রে, তোমার মা তো এখনও বেঁচে আছেন!”

         “তা ঠিক, মিস। কিন্তু ভবিষ্যতের ব্যাপারে আমি অনেক কিছু দেখতে পাই…”

         আর বরাবর এরকমই করত – একা হোক বা দল বেঁধে, শয়তানিগুলো সবসময়েই চুপচাপ করত। আর সবকিছুই করত যাতে ক্লাসটা ঠিকঠাক করে না হয়, কিন্তু পরে, হাতেনাতে ধরা পড়লে, ক্লাস থেকে বেরতে চাইত না, ওইটেই যেন কেবল বাকি ছিল, “মিস, এটা খুবই অন্যায়! আমি কিছুই করছিলাম না।” কিংবা, যা চালু ছেলে, অন্য কোন হৃদয়বিদারক অবিচারের শিকার হওয়ার ভান করত, “মিস, আরও অনেকে তো একই জিনিশ করছিল। আমি একা শাস্তি পাব, সেটা তো অন্যায়…”

         আর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিত, “এভাবে তো চলবে না। আমার বাবা…” কখন কখন মিসের নার্ভের অবস্থা বা ক্লান্তির কারণে, শেষের ওই হিসহিসে হুমকিটা কাজও করত। যারা সারাটা জীবন কাটায় অন্যদের অধিকার পায়ে দলে, তারা নিজেদের রক্ষা করতে খুব ওস্তাদ। এমনও দিন হয়ত আসবে যখন, কোন একটা তর্ক চলাকালীন, শেগার কোন, মস্তান, ছেলেকে আমরা বলতে দেখব, অভ্যস্ত রাগ দেখিয়ে, “দয়া করে আমার কথার মাঝখানে বাধা দেবেন না, আমি আপনাকে বাধা দিইনি।”  

         কারণ হাতের কাছে যা-ই থাকে সেটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে আর অন্যদের অভিযোগগুলোকে নিজেদের করে নেওয়ার ব্যাপারে এই ছেলের দলের (একজন সংসদ সদস্যাকে বাদ দিয়ে, যে কিনা দলনেতার সংসদীয় উপদেষ্টার তেইশ বছরের মেয়ে) কোন জুড়ি নেই। এটা স্কুলের সময়কার একটা কৌশল, “তুমি-ই সেই!”  

         ওদের যদি সংসদে একজন উপ-সভাপতি থাকে তো আমি নিশ্চিন্তে ঘুমোব। আমার খালি মনে আছে যে ফির্ণান্দু নোব্র ২০১১ সালের জুনে দ্বিতীয় দফাতেও আর নির্বাচিত হননি। ওই ভদ্র ডাক্তারবাবুটি একটা সাংঘাতিক পাপকাজ করে ফেলেছিলেন – বাকি সংসদ সদস্যদের অবজ্ঞা করেছিলেন। এমনকি তাঁর নিজের পার্টির সদস্যরাও তাঁকে ভোট দেননি।

         পেদ্রু ফ্রাজ়াও শেগার পশুচিকিৎসক যিনি, মাস কয়েক আগে, জুয়াসিনের[2] অফিসের দরজায় একটা জঘন্য কাজ করেছিলেন “দিশকুলুনিজ়ার[3]” শব্দটার তৃতীয় সিলেবলটা ঢাকা দিয়ে। এখন তিনি সংসদের সদস্য। ভাল কথা। কিন্তু কোনদিন ওই সাঁও বেন্তুতে কেউ যদি তাকে মগডালে কাকের বাসায়[4] তুলে দেয় তো এই চালু মালটি যেন অবাক না হয়।

আমি হলে

আমি আঁদ্রে আর তার বাহিনীকে সংসদের বাইরে রাখতে চাই না। আমি চাই ওরা ওখানেই থাকুক। ওরা একটু কম থাকলেই অবশ্য খুশি হতাম। এই গোটা তিনেক বা গোটা ছয়েক, বা হয়ত পুরোপুরি এগারটাই কম সাংসদ। সেটা হলেই বরং ভাল হত। সত্যি বলছি, আমি খারাপ কিছু চাই না, আমার কেবল মনে হয় যে এই নতুন সংসদে শেগার সাংসদদের দলটার গঠন আরও ভাল হত যদি তাতে, মানে ওই আর কি, গোটা বারো লোক কম থাকত। কিন্তু করার তো কিছুই নেই: ওরা ওখানে এসে গেছে। আমি যদি ভোটগণনার দায়িত্বে থাকতাম তো গুনতিতে ওরা কম হত এ আমি হলফ করে বলতে পারি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আমি ভোট গুণিনি। আমাকে গুনতে দেওয়া হয়নি। মানে আমি এটা বলেছিলাম বলেই আমাকে গুনতে দেওয়া হয়নি। যেটা আমার অসহ্য একটা বৈষম্য বলে মনে হয়। গণতন্ত্রবিরোধী হওয়াটা আবার কবে থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অংশগ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল? আমার বক্তব্য হল এ দেশে বাক-স্বাধীনতা নেই। যত্তসব!

দোষটা কোভিডের (৪/৩/২০২২)

“যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।”

“কক্ষণ ভাবিনি। আমি সত্যিই ভেবেছিলাম যে ব্যাপারটা পুরো ভাঁওতা। এবার কি হবে?”

“এবারে শুধু হতাহতের পালা।”

“শুধুই তাই?”

“আর পঙ্গু ও বাস্তুচ্যুতদের দল।”

“শুধুই তাই?”

“আরও জানতে চাও যদি, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর, ধুলোয় মিশে যাওয়া পরিকাঠামো, খাদ্যাভাব, অন্যায়ভাবে মজুত করা, তছনছ হয়ে যাওয়া অর্থনীতি, শেষে যে জয়ী হবে – সে যে-ই হোক না কেন – তার ওপর আরও বেশী করে নির্ভরশীল হওয়া। ইউক্রেন এর ফলে আরও শক্তিশালী হবে না আর, আমার ধারণা, রাশিয়া আর ইউরোপও না।”

“কিন্তু এতে কারুর কি ভাল হবে?”

“যদি টাকা করতে চাও, যুদ্ধাস্ত্রের শিল্পে টাকা লগ্নি করার এটাই ভাল সময়।”

“পারব না, সব টাকা বিটকয়েনে লাগিয়েছি।”

“আমার কথা শোন। যুদ্ধাস্ত্রের শিল্প। ওটাই ভবিষ্যৎ।”  

“আর পোর্তুগাল? এসবের মধ্যে তার কি অবস্থা?”

“পোর্তুগাল ন্যাটোর একটা দেশ। ন্যাটোর কোন দেশ যদি আক্রান্ত হয় তাহলে অন্য দেশগুলোকে তো তাকে রক্ষা করার জন্যে এগিয়ে আসতেই হবে। এটাই নিয়ম।”

“ইউক্রেন ন্যাটোতে আছে?”

“এখনও নয়। তবে সময় হয়ে গেছে প্রায়।”

“তাহলে আমরা ওকে বাঁচাতে যাব?”

“হ্যাঁ, মানে আক্রান্তের পাশে দাঁড়ানটা তো একটা নৈতিক কর্তব্য।”

“আর দুর্বলের পাশে দাঁড়ানটাও তো?”

“হ্যাঁ, দুর্বলের পাশে দাঁড়ানটাও।”

“যে বেশী দুর্বল সে-ই সর্বদা আক্রান্ত হয় না?”

“প্রায় সর্বদাই। কিন্তু যুদ্ধটা হল বোর্ডগেমগুলোর মত। শক্তিগুলোর উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

“সেটা কিরকম?”

“বলাই বাহুল্য রাশিয়া ইউক্রেনের চেয়ে বেশী ক্ষমতাশালী।”

“বেশ বুঝতে পারছি ওখানে এবার একটা কিন্তু আসছে…”

“কিন্তু রাশিয়ার চেয়ে ন্যাটোর কাছে বেশী ভাল যুদ্ধাস্ত্র আছে।”

“আমরাও কি যুদ্ধে নেমে পড়েছি?”

“আপাতত সরাসরি নয়।”

“কিন্তু আমাদের ইউক্রেনকে সাহায্য করতে হবে।”

“হ্যাঁ, হবে। যেভাবে আমরা সিরিয়াকে সাহায্য করেছিলাম?”

“অন্তত অস্ত্র পাঠিয়ে। যাতে ওরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে।”

“কোন সেনাবাহিনী নিয়ে?”

“লোকজনকে নিয়ে। সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে।”

“সাধারণ নাগরিকেরা কি রাতারাতি র‍্যাম্বোতে পরিণত হবে?”

“আফগানিস্তানে কাজে দিয়েছিল। রাশিয়ানরা পালাবার পথ পায়নি, ওদের এতটাই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।”

“তুমি কি সত্যিই আফগানিস্তান নিয়ে কথা বলতে চাও?”

“পুটিন কি নির্বোধ হয়ে গেছে?”

“সেটা একটা সম্ভাবনা বটে, কোভিড আমাদের সবাইকে নির্বোধ করে দিয়েছে। আর যারা জ়ারের গর্বে মটমট করে তাদের বোধহয় আরও বেশী করে করেছে।”

প্রথম বলি

বলা হয়ে থাকে যে যুদ্ধের প্রথম বলি হল সত্যিটা। ব্যাপারটা কিন্তু ঠিক তা নয়। যুদ্ধের প্রথম বলি হল মানুষেরা। যেসব সাধারণ নাগরিককে গোলাগুলির মুখোমুখি হতে হয়, যারা শান্তিতে ঘুমোতে গিয়েছিল কিন্তু ঘুম ভাঙে বাস্তুচ্যুত হয়ে; আর সেইসব নবীন সৈন্যেরা যারা, কারণটা না বুঝেই, “আদেশ পালন করে” যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে পড়ছে। আরও বলা যেতে পারে যে, ১৯১৪ থেকে, যুদ্ধগুলো প্রায় কখনই সিনেমার ওই দ্বন্দ্বযুদ্ধ হয় না যেগুলোতে দুপক্ষ মুখোমুখি হয় আর যারা ভাল তারা জেতে, কারণ তাদের দিকে “যুক্তি আর ন্যায়” থাকে। ঈশ্বরের কথা নাহয় না-ই বললাম। অবশ্য ইউরোপে, বলতে গেলে, ঈশ্বরের কথা আর বলাই হয় না। তাঁকে বড় বেশী ডাকা হয়ে গেছে এমন সব জিনিশ বৈধ করার জন্যে যেগুলো, সত্যি বলতে কি, শয়তানের কীর্তি ছিল। সত্যিটা হল অবশ্যই দ্বিতীয় বলি। আমরা আর পক্ষপাতহীন হয়ে থাকতে পারি না, অথবা সেটার ভানও করতে পারি না। শান্তির সময়ে আমাদের অন্য কোন মতামত থাকতে পারে: কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে হয় তুমি আমাদের পক্ষে নয় তুমি আমাদের বিপক্ষে।

দেহের উপসাগর (১১/৩/২০২২)

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পুটিন ডার্থ ভেডার, ক্যাপ্টেন হুক, অ্যাডিনয়েড হিঙ্কেল, সম্রাট প্যাল্পাটিন, ক্রুয়েলা ডে ভিল, ভল্ডেমর্ট, হ্যাল ৯০০০, গলাম, সোরেনে পরিণত হয়েছে।  

         অন্যদিকে সাহসী জ়েলেন্সকি, যাকে ভীতু আর দুর্বল (নরম হওয়াটাকে বর্বররা বরাবরই দুর্বলতা বলে মনে করে এসেছে) বলে মনে হত, জন স্নো, ইন্ডিয়ানা জোন্স, গিদো অরেফিস আর, অবশ্যই, লিউক স্কাইওয়াকারে পরিণত হয়েছে। আমি একটুও অবাক হব না যদি, শিগগিরি, আলোচনার টেবিলে বসে পুটিন ধরা গলায় বলে, “লিউক, আয়াম ইয়োর ফাদার।”

         ধ্বংসকারী ক্ষমতায় পুটিন অনেক শক্তিশালী, কিন্তু কথা বলা বা সম্পর্ক তৈরির মামলায় তার ক্ষমতা ঢুঁঢু। জ়েলেন্সকির একটা আধুনিক টিম আছে; পুটিনের মনে হয় কোন ভাইপো-টাইপো আছে ওর প্রোপাগান্ডার ব্যাপারস্যাপারগুলো দেখভাল করার জন্যে। দেখে মনে হয় ওরা যেন দুটো আলাদা যুগে বাস করে। একটা বেশ চমৎকার ভিডিও আছে যেটাতে জ়েলেন্সকি আর তার কমেডি দল তাদের লিঙ্গ (আরে মশাই, শান্ত হোন, ভান করেছে খালি) দিয়ে হাভা নাগিলা[5] বাজাচ্ছে। সে ছিল সুখের দিন – মানুষ খানখান হয়ে যেত, কিন্তু সেটা হাসির চোটে।    

আর পুটিন? তার লিঙ্গের আকারের টেবিলটাই তো অনেক!

যাক গে, শান্তির ব্যাপারে আমার একটা প্ল্যান আছে। জুলিউ দান্তাশ যেমন বলেছিলেন, শান্তি নিয়ে কোন পরিকল্পনা ছাড়া বাঁচা যায় না। তো আমার প্ল্যানটা হল এই – রক্তগঙ্গা কুল ছাপিয়ে যাবার আগে এক্ষুণি সবরকম লড়াই থামিয়ে দিতে হবে। পুটিনকে দেখাতে হবে যে পালানর কোন পথ নেই, যদিও তার  জন্যে একটা রাস্তা খোলা রাখতে হবে। হামলাকারী সৈন্যবাহিনী যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি সরে গেলে অবরোধগুলোকে একটু নরম করে তুলে ওকে একটা ইঙ্গিত দিতে হবে। ইউক্রেনিয়া ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না, অন্তত, কুড়ি বছরের মধ্যে, ওকে কি এই “জয়”-টা দিতে এতটাই কষ্ট হবে? অন্যদিকে, ইউক্রেনিয়াতে শান্তি আসবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ঢোকার পদ্ধতিটা এখনই শুরু হয়ে যাবে। সেটা অবশ্য “এখনই” হবে না:  বলা যেতে পারে, সেটা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হবে। পুটিন ওর বাকি জীবনটা ধরে ভেবে যাবে: “আমার মত একজন দক্ষ দাবাড়ু কি করে বোকার মাতে মাত হয়ে গেল?” ছ’দিনে ও দেখিয়ে দিয়েছে যে জ়ার উলঙ্গ: পরমাণু অস্ত্র ছাড়া রাশিয়ার সৈন্যবাহিনী, বর্বর হওয়া ছাড়াও মাঝারি মানের। সাহসী জ়েলেন্সকি স্বশাসিত “প্রজাতন্ত্রগুলোর” ওপর থেকে, এখনকার মত, দাবী ছেড়ে দেবে। আয়ারল্যান্ডের বেলায় তো ফল পাওয়া গিয়েছিল, যখন দ্বীপটার উত্তর দিকটা ব্রিটিশ শাসনেই রয়ে গিয়েছিল (একশ বছর হয়ে গেল)। হ্যাঁ, কয়েক দশক ধরে সাম্প্রদায়িক হিংসা চলেছিল বটে, কিন্তু গোটা শহর তো কখন ধ্বংস হয়নি, লক্ষ লক্ষ মানুষ তো বাস্তুচ্যুত হয়নি। আমি এখনই বিরোধীদের মন্তব্য শুনতে পাচ্ছি: “আরে এটা তো সমস্যাটাকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা, কেবল সেটাকে পরের জন্যে জিইয়ে রাখা।” হয়ত। অনেক তরুণদের জন্যে তফাতটা হল জীবন আর মৃত্যুর। দেশের জন্যে জীবন দেওয়ার চেয়ে আরও অনেক বেশী সাহসের কাজ আছে। যেমন বেঁচে থাকা। দেখে মনে হয় না কিন্তু কাজটা বড়ই ক্লান্তিকর।   

অত্যাচারী স্বামীর গল্প

অত্যাচারী স্বামীদের সঙ্গে পুটিনের মিল কোথায়? সে-ও বোঝে না যে ‘কয়েক ঘা দেওয়াতে’ ভালবাসাটা টেকে না। একদিন স্ত্রী তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠে। তখন, মরিয়া হয়ে কাকুতি মিনতি করতে করতে, নাকী কান্না কাঁদতে কাঁদতে ওই দুর্বৃত্ত অত্যাচারী নিজেকেই নিপীড়িত বলে মনে করে। আর ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবে: “আমি ওর জন্যে এত কিছু করার পরে আমার কপালে শেষে এই জুটল!” 

সংস্কৃতি, লড়াইয়ের হাতিয়ার 

রুশ শিল্পীদের একঘরে করা হচ্ছে, ইউক্রেনিয়া ইউরোভিশানের (ওই যেটা কখন রাজনীতিতে নাক গলায় না) সম্ভাব্য বিজেতা, ব্যাটম্যানের নতুন সিনেমাটা মস্কোতে মুক্তি পাবে না। এবারে সংস্কৃতি বাজেটের স্বপ্নে দেখা এক শতাংশও পাবে না। কিন্তু, সেটাও যদি প্রতিরক্ষার বাজেটে চলে যায় তো…       

জীবনকাহিনী: রক্ত-লাল ঠুলি  

কেবল ‘বর্তমানটাকে’ দেখলে অন্ধ হতে হবে। উল্টোটাও সত্যি; একসঙ্গে সব কটা কালকে আর সব কটা দিককে দেখলে বর্তমানটা চোখ ধাঁধিয়ে দিতে পারে । পোর্তুগালের কম্যিউনিস্ট পার্টি লড়াইয়ের ব্যাপারে তাদের ‘সার্বিক দৃষ্টি’-তে বন্দী হয়ে রয়েছে। এটা, বলা যেতে পারে, বামপন্থার একটা শিশুসুলভ দোষ: “কয়েক বছর আগে তো ন্যাটো বেলগ্রেডে বোমা ফেলেছিল আর এখন পুটিন কীভে বোমা ফেলতে পারবে না? এ তো ভারি অন্যায়!” কিংবা: “ভূমধ্যসাগরে যাদের নৌকাডুবি হয়েছিল তাদের নিয়ে এখন আর কেউ ভাবে না!” হ্যাঁ, একটা সোনালী চুলো বাচ্চাকে কাঁদতে দেখলে সেটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে; অন্য কোন রঙের বাচ্চার ক্ষেত্রে সেটা ‘স্বাভাবিক’। পোল্যান্ড আর হাঙ্গেরির ইউক্রেনের সঙ্গে এমন একটা সহমর্মিতা আছে যেটা অন্য শরণার্থীদের জন্যে, এমনকি শিশু হলেও, ওদের নেই। প্রশ্নটা হল: এর কোনটাই, এখানে এবং এখন, ইউক্রেনের সত্যিকারের যন্ত্রণার বৈধতাটাকে নস্যাৎ করে দেয় না। আর কেবল ‘কৌশলগত চলনটাকে’ দেখা, আর আক্রমণটাকে আক্রমণ হিসেবে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়াটাকে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া হিসেবে না দেখাটা… অন্ধত্ব। 

একটা মহৎ পদক্ষেপ: বিদ্রূপাত্মক ভাববিলাস 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান এতটাই উৎসাহ নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছিল যে সিংহের মত ইউক্রেনের মধ্যে ঢুকেই পড়েছিল প্রায়। সাবধান: সম্মিলিত আবেগকে কিন্তু সহজেই কৌশল করে বশে আনা যায়। সেই নিয়মটার কি হল “উত্তেজনার বশে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়”? যুদ্ধের জন্যে মোহিনী কন্যাদের গান সর্বদাই বীরত্বব্যঞ্জক। আর হর্ষোৎফুল্ল: “ধর্ম যখন আমাদের সহায় তখন আমরা কি আর হারতে পারি?” এর ফলে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়: একটা ন্যায়োচিত কারণে (স্বদেশের রক্ষা) ইউক্রেনীয় তরুণেরা মারা পড়ছে, একটা অন্যায় কারণে (অন্য একটা দেশকে আক্রমণ করা) তরুণ রুশেরা মারা পড়ছে। একটা ব্যাপার কিন্তু নিশ্চিত:  তরুণেরা মারা যায়, সোফায় বসা বীরেরা নয়। আমি সোফায় বসা ভীরু কাপুরুষ হতেই পছন্দ করি। সেটা আমার অনেক বেশী সৎ বলে মনে হয়। ইংরেজ বিশ্লেষক টিমথি গার্টন অ্যাশ মনে করেন যে ইউক্রেনের এখনই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ানে ঢোকাটা বেশ ভাল। তাতে কেবল একটাই কাঁটা: ওঁর দেশ সবেমাত্র ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান থেকে বেরল না?      

আসুন হাত মেলাই (১১/৩/২০২২)

ডিভোর্সগুলো শুরু হয় বীরত্বের সব গান দিয়ে আর প্রায় সর্বদাই শেষ হয় তিক্ততা ও ক্ষোভ দিয়ে। আমি কি “ডিভোর্সগুলো” বললাম? আমারই ভুল, বলতে চেয়েছিলাম “যুদ্ধগুলো”। ইউক্রেনিয়ায় এই যুদ্ধটাতে ইউক্রেনীয় ও রুশদের মধ্যে আর ভালবাসা পড়ে থাকবে না। আগেও খুব একটা ছিল না, পারস্পরিক নৃশংসতার বহু অভিযোগ অনেক কাল ধরে চলে আসছে। একটা ডিভোর্সে যখন দু তরফেরই রক্ত ঝরে, তখন ঘেন্না হল সেই শক্তি যেটা রয়ে যায়। আর সেটা মোটেই ভাল শক্তি নয়। সেটার আনুষঙ্গিক ফলাফল বড্ড বেশী। চিরস্থায়ী ঘৃণা আর ক্ষোভ। কিন্তু শান্তিস্থাপন তো বন্ধুদের সঙ্গে হয় না: ইচ্ছে হলে বিশ্বাস করতে পারেন, শান্তিস্থাপন কেবল শত্রুদের সঙ্গেই করা যায়।    

         এই যুদ্ধে আমার কেবল সেই ছবিগুলোই ভাল লাগে যেগুলোতে দুপক্ষের প্রতিনিধিরা একে অপরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েছে। তাদের দিনটা ভাল কেটে থাকলে ইউক্রেনের আলোচনাকারীরা অনেক বেশী চনমনে, এমনকি দুঃসাহসও দেখিয়ে থাকে। ওদের একজন মাথায় বেরে পরে এসেছে। ওদের আরও নিরুদ্বেগ দেখায়, কারণ আলাপআলোচনার টেবিলেও জোরটা দেখান দরকার। শান্তির (বা স্রেফ সাময়িক যুদ্ধবিরতির) ব্যাপারে আলোচনা করাটাও তো একটা সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি কেনার মত, বা মাছের বাজারের মত: দরাদরি করতে হয়, আমরা ভাব দেখাই যেন আমাদের আর কোন আগ্রহ নেই, বিক্রেতার হাস্যকর প্রস্তাব নিয়ে হাসাহাসি করি (কি? একটা আসল রেমব্রান্টের জন্যে ছ’ ইউরো?! মাথাটাথা খারাপ নাকি?), উল্টে আরেকটা দর হাঁকি।

         ফ্রান্সের চেয়েও যে দেশটা পোর্তুগালের কাছে, সেই মরক্কোতে নাকি দরাদরি না করা হলে বিক্রেতারা অপমানিত বোধ করেন। চাওয়া দামে কোন জিনিশ বিক্রি করার মজাটা কোথায়? আর আমার প্রিয় এই প্রবাদটার মত মরোক্কানদের এরকম অনেক আছে: “একটা ভাল কারবার হল সেটাই যেটাতে কেউই সন্তুষ্ট হয় না।”  

আলাপআলোচনার টেবিলে রুশ প্রতিনিধির দল বেশী সতর্ক থাকে। তারা স্যুট-টাই পরে আসে। ওদের দেখতে সিনেমার অ্যাকাউন্টেন্টদের মত লাগে, ঝুলে-যাওয়া নাকের ওপরে চশমা, মক্কেলকে হিসেব ঠিক নেই বলতে হবে বলে অপ্রতিভ হাবভাব। কে বলবে যে ট্যাঙ্কগুলো হামলা করেছে সেগুলো ওদেরই, বর্বরোচিত শক্তিটা ওদেরই, যে সর্বনাশা পদক্ষেপটা প্রায় কুড়ি লাখ (নাকি তারও বেশী? একটা যুদ্ধে হিসেব রাখাটা মুশকিল) মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে সেটা ওদেরই, অন্য পক্ষের নয়।      

সুতরাং আমার সবচেয়ে ভাল লাগে যখন ওরা হাত মেলায়। সেদিন একটা ইতস্তত ভাব দেখা গিয়েছিল, কিন্তু তারপরে (এমনকি সেটাকে বেশ আন্তরিকও মনে হয়েছিল) ওরা হাত মিলিয়েছিল। এই হাত মেলানটা সত্যিই জরুরি। প্রাচীনতম জ্ঞানীরা (অর্থাৎ আমরা) যেটা জানে, সেটা হল এই হাত মেলানই কিন্তু শেষ অবধি জগৎটাকে বাঁচাবে।   

নৈতিক ঝাড়পোঁছ

সাংস্কৃতিক বিশুদ্ধতার ব্যাপারে প্রকাশ্য ঘোষণাগুলো নিয়ে বড্ড বাড়াবাড়ি হয়েছে, যেমন: “আমি অমুক চন্দ্র তমুক, এতদ্বারা ঘোষণা করিতেছি যে আমি কখন দস্তয়েভস্কির কোন রচনা পড়ি নাই বা তারকভস্কির কোন চলচ্চিত্র দেখি নাই। রুশভাষা শুনিবামাত্র ভূমিতে থুতু নিক্ষেপ করিয়াছি। কদাপি “সোয়ান লেক” দর্শন করি নাই, আমি ব্যালে অত্যন্ত ঘৃণা করি। মুসর্গস্কির “পিকচার্স অ্যাট অ্যান এক্সিবিশান[6]” শ্রবণ করি নাই, আমি চিত্রশিল্পের বিষয়ে পুরাপুরি অজ্ঞ। পোর্তুগাল ও রুশিয়ার মধ্যে ফুটসাল ক্রীড়ার ফাইনালে আমি একটি চক্ষু সর্বদা মুদিয়া রাখিয়া ছিলাম ক্রীড়াটির কেবল একটি অর্ধ এবং অর্ধ-সংখ্যক খেলোয়াড়দিগকে (বলাই বাহুল্য আমাদিগের) দেখিব বলিয়া। চিরকালই আমি ভদকা অপেক্ষা হুইস্কি পছন্দ করিয়া আসিয়াছি। ইহা সত্য যে একবার আমি ভদকা পান করিয়াছিলাম বটে, তবে তাহা ভুলক্রমে। উহা যে দেখিতে তেকিলাসদৃশ তাহাতে আমার অপরাধ কোথায়? ঈশ্বরের নামে শপথ লইয়া কহিতেছি যে আমি কদাপি রাশান স্যালাড ভক্ষণ করি নাই, স্যালাড খাইলে আমার অম্লশূল হইয়া থাকে, রুশ পর্বতও[7] খাই নাই, মিষ্টান্ন আমি পছন্দ করি না, মধুমেহ রোগের হেতু উহা আমার পক্ষে বিষবৎ।”        

ঝুলির ভেতরে বেড়াল

যুদ্ধের ফায়দা তুলে চারিদিক থেকে নানান গলায় একযোগে ধুয়ো উঠেছে “ওয়েলফেয়ার স্টেটের এবার শেষ হওয়া দরকার”। আর সেটা শেষ হওয়া দরকার কেন? আরে, “সবকিছুর জন্যে টাকা নেই” বলে। সোনার (ওহো, না না, অস্ত্রশস্ত্রের) জন্যে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা দৌড়-প্রতিযোগিতা আসতে চলেছে, সেটাতে খরচ করার জন্যে কোটি কোটি টাকা রয়েছে, যুদ্ধের অনেক সরঞ্জাম কেনার আছে আর, স্বাভাবিকভাবেই, “সবকিছু টাকায় কুলোবে না”। প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যে এটা একটা খুশির খবর। প্রতিরক্ষা সর্বদাই। আমি বাজি রেখে বলতে পারি যে পুটিন মনে করে না সে আক্রমণ করছে, সে কেবল “প্রতিরক্ষা” করছে। অবশ্য আমার বাজি ধরারও কোন দরকার নেই, ও নিজেই তো সেটা বলেছে: ও বেচারা তো কেবল বিচ্ছিন্নতাকামী প্রজাতন্ত্রগুলোতে “রোজ বোমা-খাওয়া সাধারণ নাগরিকদের” রক্ষা করছে, সে মোটেই ইউরোপে দল বেঁধে দেশ ছেড়ে সবচেয়ে বড় যাত্রার কারণ ঘটায়নি। এর আগে ইউরোপে কবে যেন এতজন লোক একযোগে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল? ওঃ, মাত্রই কয়েক বছর আগে!  

         ভয়ঙ্কর ওয়েলফেয়ার স্টেটের পরিসমাপ্তির অর্থ একটাই: বর্বরতা ফিরে আসা।     


[1]আঁদ্রে ভেন্তুরা (১৯৮৩) অতি দক্ষিণপন্থী শেগা দলের সভাপতি ও ওই দলের সাসদ। ২০১৯ সালের নির্বাচনে শেগার একমাত্র সাংসদ ছিলেন ভেন্তুরা নিজে; এ বছরের তিরিশে জানুয়ারির নির্বাচনে শেগার সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে বারোয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

[2]জুয়াসিন কাতার মুরাইরা (১৯৮২) পোর্তুগালের একজন কৃষ্ণাঙ্গিনী রাজনীতিবিদ। তাঁর জন্ম অ্যাফ্রিকায় পোর্তুগালের পূর্বতন উপনিবেশ গিনে-বিসাউয়ের বিসাউয়ে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি লিভ্র দলের হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। 

[3]ডিকলোনাইজ় করা। 

[4]আগেকার দিনের জাহাজগুলোতে মাস্তুলের একদম ওপরে একটা ঝুড়ির মত জায়গা থাকত যেখানে বসে একজন নাবিক ডাঙা দেখা যাচ্ছে কিনা দেখত। মাস্তুলের একদম ওপরে হওয়ার ফলে জায়গাটা খুবই নড়বড়ে ও অস্বস্তিকর হত এবং সচরাচর শাস্তি হিসেবে নাবিকদের ওখানে নজরদারি করতে পাঠান হত। ইংরিজিতে এই জায়গাটাকে ক্রোজ় নেস্ট বলা হত।  

[5]Hava Nagila (হিব্রুতেHavah Nagilah, “এস আমরা আনন্দে মাতি”) ইহুদিদের একটা লোকসঙ্গীত যেটা পালাপার্বণে গাওয়া হয়।

[6]Pictures at an Exhibition পিয়ানোর জন্যে ১৮৭৪ সালে রচিত রুশ সুরকার মুসর্গস্কির বিখ্যাত কম্পোজ়িশান।  

[7]Montanha russa অর্থাৎ রুশ পাহাড় নারকোল, আনারস, দুধ, জিলেটিন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি ব্রেজ়িলের একটি বিখ্যাত পুডিং।

ঋতা রায়
 ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।   

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *