Free proses by antonio lobo antones translated by rita ray

বাংলা English
ANTONIO LOBO ANTONES 
আন্তনিউ লোবু আন্তুনেশের জন্ম এক অভিজাত পরিবারে, ১৯৪২ সালে লিশবোয়ায়। তাঁর বাবা ছিলেন নামকরা একজন নিউরোলজিস্ট যিনি ১৯২৮ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার প্রাপক আন্তনিউ এগাশ মুনিশের সহকারী ছিলেন। লোবু আন্তুনেশ (বা লিশবোয়ার উচ্চারণে লোব’আন্তুনেশ) পোর্তুগালের বিশিষ্ট একজন লেখক এবং অবসরপ্রাপ্ত সাইকিয়াট্রিস্ট। বহু বছর ধরে তাঁর নাম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্যে প্রস্তাবিত হয়ে আসছে। তিনি ২০০৭ সালে কামঁয়েশ পুরস্কার পান। ডাক্তারি পড়া শেষ করে তাঁকে সেনাবাহিনীতে ডাক্তার হিসেবে যোগ দিয়ে অ্যাঙ্গোলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়তে যেতে হয়। দুবছর ওই দেশের নানা জায়গায় যুদ্ধক্ষেত্রে কাটানোর ফলে তিনি মৃত্যু ও “অপর”-এ আগ্রহী পড়েন। অ্যাঙ্গোলার মুক্তিযুদ্ধ তাঁর বেশ কয়েকটি উপন্যাসের বিষয়। ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হবার জন্যে আবার পড়াশুনা করেন এবং উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। কয়েক বছর প্র্যাকটিস করার পর ডাক্তারি ছেড়ে দিয়ে পূর্ণ সময়ের লেখক হয়ে যান। তাঁর প্রথম উপন্যাস, মেমরিয়া দ্য ইলফান্ত বেরয় ১৯৭৯ সালে; তারপর আজ অবধি তাঁর প্রায় চল্লিশটার মত বই বেরিয়েছে যার মধ্যে পাঁচটি “ক্রনিকা” বা মুক্তগদ্যের সঙ্কলন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসগুলির মধ্যে আছে ফাদু আলেশান্দ্রিনু, আশ নাউশ, উ মানুয়েল দুশ ইনকিজ়িদরেশ। ২০২০ সালে বেরিয়েছে দিসিউনারিউ দা লিঙ্গুয়াজাঁই দাশ ফ্লরেশ। তিরিশটিরও বেশি ভাষায় তাঁর লেখা অনূদিত হয়েছে। ঊনিশ বছর ধরে পাক্ষিক পত্রিকা ভিজ়াঁও-য়ে তিনি ক্রনিকা লিখে এসে ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে মতান্তরের কারণে তিনি এই পত্রিকায় লেখা বন্ধ করে দেন। এই দুটি ক্রনিকা শেষের দিকে লেখা।          

আমার বাবা

আন্তনিউ লোবু আন্তুনেশ

অনুবাদ: ঋতা রায়

একবারই আমার বাবাকে কালো চশমা পরতে দেখেছিলাম সেই যখন আমার দাদু মারা গিয়েছিলেন। তিনি ৯ই নভেম্বার মারা গেলেন, আমার বাবা কালো চশমাটা পরলেন, সেদিন আর সেটা খুললেন না, বাড়িতেও না, ওয়েকেও না, যখন অল্পক্ষণের জন্যে ঘুমোতে এলেন তখনও না, পরের দিন সকালে মিসাতেও না, কবর দেওয়ার সময়েও না, তারপরে বাড়িতেও না, যখন লোকজন তাঁকে সহানুভূতি জানাতে এল তখনও না, আমরা যখন ওইসব শেষ হবার পর ফিরে এলাম, উনি, মা, আমরা, তখনও না। মা আর আমরা বৈঠকখানায় রইলাম, উনি নিজের স্টাডিতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন, ভল্যিউমটা সবচেয়ে জোরে করে বাখের অর্গ্যান-সঙ্গীত চালিয়ে দিলেন, একা একা নিজেকে ওই ঘরে বন্ধ রেখে আর বাড়ির সব দেওয়ালগুলো স্পন্দিত হতেই থাকল। ডিনারের সময়ে সঙ্গীতটায় ছেদ পড়ল, তিনি এসে টেবিলের মাথায় বসলেন, নিজের জায়গাটাতে, মায়ের সঙ্গে আমরা এসে নিজেদের জায়গায় বসব সেই অপেক্ষায় রইলেন, কালো চশমাটা খুলে পকেটে ঢোকালেন, ওঁকে দেখে প্রশান্ত ও অনেক দূরের, প্রায় উদাসীন বলে মনে হচ্ছিল, স্যুপ বা তার পরে যেসব খাবার ছিল বলতে গেলে সেগুলোর কিছুই ছুঁলেন না, আর খাওয়ার পুরো সময়টা আমরা সবাই ওখানে চুপচাপ বসে রইলাম। আমাদের কারুর দিকে তাকিয়ে দেখেছিলেন কিনা মনে পড়ে না যেমন আমার এ-ও মনে পড়ে না যে আমাদের কেউ ওঁর দিকে তাকিয়ে দেখেছিল কিনা। অবশেষে উনি একটা সিগারেট ধরালেন, সিগারেটটা শেষ হলে চুপচাপ উঠে পড়লেন, আবার সিঁড়ির কাছে পৌঁছলেন, নিজেকে আবার স্টাডিতে বন্ধ করে ফেললেন, মা টেবিলের উল্টোদিকের মাথা থেকে আড়চোখে তাকাতে তাকাতে বাখের সঙ্গীতটা আবার ফিরে এল আর পরদিন সকালে সচরাচর যেমনটা ঘটে থাকে তেমনি ওঁকে দেখলাম খালি গায়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাড়ি কামাতে। আমরা ওঁর দাড়ি কামানো দেখতে ভালবাসতাম কারণ ওঁর পিঠের পেশীগুলো নড়াচড়া করত আর ওঁর শরীরটা খুব সুন্দর ছিল। অন্তত আমাদের সেটা খুব সুন্দর বলে মনে হত আর ওঁর সব অঙ্গভঙ্গীই খুব সৌষ্ঠবপূর্ণ ছিল। ওঁর শরীরটা ছিল রোগা ছিপছিপে আর খেলোয়াড়সুলভ কারণ তিনি প্রচুর খালেধুলো করেছিলেন, রোলার হকির বিশ্ব প্রতিযোগিতার জাতীয় দলে ছিলেন, আমরা একটা মেডেল-ভর্তি বাক্স নিয়ে খেলা করতাম যেটাকে উনি কোনরকম পাত্তা দিতেন না, এমনকি সত্তর বছর বয়েসেও আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইকেলের আর স্কেটিঙের রেসে চমৎকার ভাবে জেতা থামাননি, ওঁর শেখানোর ফলে পাঁচ কি ছ’ বছর বয়েসেই আমি স্কেটিংটা খুব ভালভাবে করতে পারতাম, চোদ্দ কি পনেরো বছর বয়েসে প্রথমে ফুটবল বাঁইফিকা আর তারপর বাঁইফিকাতে খেলতাম, আমার জন্যে তিনি ইংল্যান্ড থেকে একটা খুব ভাল হকিস্টিক নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু আমার খেলাধুলো সব বন্ধ করে দিয়েছিলেন কারণ আমি পড়াশুনা করতাম না, আমার ওঁকে গলা টিপে মেরে ফেলতে খুব ইচ্ছে করত কিন্তু কখনও সাহস হয়নি, উনি হাসপাতালে গেলেন   

(ওঁকে এপ্রন পরে দেখতে আমার সবসময়েই ভাল লাগত)

আর আমরা প্রাইমারি কি সেকেন্ডারি স্কুলে কারণ আমার বাবামায়ের সবরকম বয়েসের ছেলে ছিল, আর এমন করে সবকিছু চলতে লাগল যেন কিছুই ঘটেনি; ওঁর প্রধান গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সাংঘাতিক একটা অতিশালীনতা বোধ আর সবকিছুতে সাংঘাতিক একটা বিচক্ষণতা, ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতেন না, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতেন না, যখন আমাদের অসুখ করত আমাদের কারুর একটা খাটে বসে যেসব কবি আর গদ্যকারদের তিনি পছন্দ করতেন তাঁদের লেখা জোরে জোরে পড়তেন, তাঁর ওই অত্যন্ত সুন্দর গলায়, বাক্যগঠনের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন, ওঁর স্বরে কখন কোন শৈত্য থাকত না, কখন কখন তাঁকে বাগানে কাঠ রাখার ছাউনিতে আমার পুড়িয়ে ফেলা বাজে লেখাগুলোর মধ্যে ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখতে পেতাম, সেগুলোর মধ্যে থেকে কিছু কিছু নিজের স্টাডিতে রাখা মোটা একটা সবুজ মলাটের ডায়েরিতে টুকে রাখতেন, আমাকে কখন কোন মন্তব্য করেননি কিন্তু মনে পড়ছে একবার শুনতে পেয়েছিলাম  উনি মাকে বলছেন, খেয়াল না করেই যে আমি কাছাকাছিই আছি     

– তুমি ওর সঙ্গে অন্যদের মত একই ব্যবহার করতে পার না কারণ ও অন্যরকম 

আর শিল্পীদের প্রতি তাঁর সম্ভ্রম ছিল অসীম যদিও, বলাই বাহুল্য, আমি শিল্পী ছিলাম না, কিন্তু আমি জানি যে গোপনে তিনি আমার কাছ থেকে না জানি কি আশা করতেন

(কি জানি উনি কি আশা করতেন, আমি অনেক কিছু আশা করতাম)    

দেখলাম যে এখন ওঁর কাজের টেবিলে দাদুর একটা ছবি আছে, মাইক্রোস্কোপ আর কাগজপত্রেগুলোর পাশে, ওঁর ডেস্কের একটা দেরাজে সেই চিঠিগুলো আবিষ্কার করলাম যেগুলো আমার দাদু ওঁকে লিখেছিলেন ফ্রান্সের যুদ্ধ থেকে ওঁকে জানজাঁও সম্বোধন করে, এ বিষয়ে কেবলে একবারই কথা বলেছিলাম খাবার টেবিলে, একটা নৈঃশব্দ্যের সুযোগ নিয়ে জানজাঁও বলে, আমার বাবার ক্ষুদে ক্ষুদে নীল রঙের চোখগুলোকে হঠাৎ আমার ঘোলাটে বলে মনে হল কিন্তু উনি কিছু বললেন না আর আমি হঠাৎ বুঝতে পারলাম, ভীষণ রকম ভীতসচকিত হয়ে, যে উনি নিজের বাবার ছোট্ট খোকাটিই রয়ে গেছেন, কখন সে বিষয়ে কোনরকম উল্লেখ না করে আর, এই প্রথম আর শেষবারের মত, ওঁকে এত কাছে আর এত ছোট বলে অনুভব করলাম। কিছু বললেন না কিন্তু আমার মনে হল যে, পরের গ্রাসটার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একধরণের অশ্রুও গিলেছিলেন যেটা কেউ লক্ষ করেনি। দুর্ভাগ্যবশত কালো চশমাটা আর কখন দেখতে পাইনি কারণ আমার ধারণা হয়েছিল যে ওটার প্রয়োজনীয়তা উনি বর্জন করেছিলেন। যখন আমার বাবামায়ের বিয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে লাঞ্চ হয়েছিল তখন ওঁকে বলেছিলাম  

– আমি তোমায় খুব ভালবাসি বাবা

আর উনি উত্তরে বলেছিলেন

– আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি বাবা

আর এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতা। এখন যে কেন বাখের কোন সঙ্গীত বাজছে না!  

(ভিজ়াঁও, ২০শে ডিসেম্বার, ২০১৮) 

নতুন বই

আন্তনিউ লোবু আন্তুনেশ

অনুবাদ: ঋতা রায়

আর, অবশেষে, প্রায় দু মাস না লেখার পর, আমার পরের বইটা যে ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে সেটা বুঝতে পারছি। আজ, আমি আশা না করলেও, তলস্তয়কে নিয়ে কথাবার্তার মাঝখানে যখন আমার সহকর্মী ইভান ইলিচের একটা অংশের কথা মনে করিয়ে দিল, যেটাতে বলা হয়েছে “ইভান ইলিচের গত জীবনের ইতিহাসটা ছিল সবচেয়ে সাদাসিধে আর সাধারণ আর, সেইজন্যেই, সবচেয়ে ভয়ানক”, আমি এমনভাবে কেঁপে উঠলাম যেন আমার ভেতরে একটা বিস্ফোরণ হয়েছে আর, হঠাৎই গোটা কাজটা ওখানে এসে হাজির হল, একটা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে। নভেম্বারের কিছুটা ছুটে বেড়িয়েছি একটা প্রোজেক্টের ব্যাপারে যেটা, যে অবস্থায় আছে, আমার কোন কাজে লাগবে না আর যেসব পরিবর্তন আমি ওটাতে করেছিলাম সেসব সত্ত্বেও সেটা আমার কোন কাজেই আসছিল না। শেষে ওটাকে ছেড়ে দিয়ে আমি একজন মৃতের চেয়েও বেশি নিঃস্ব হয়ে পড়লাম, কোনরকম বিকল্প সমাধান ছাড়া, কোথাও যাবার জন্যে কোন পথ ছাড়া, ভেবেছিলাম যে কলটা চিরকালের মত বন্ধ হয়ে গেছে           

(আমি সর্বদাই ভাবি যে কলটা চিরকালের জন্যে বন্ধ হয়ে গেছে)  

দিনগুলো শামুকের গতিতে হাঁটতে লাগল, টেবিলে বসে আমি সেগুলোকে কাটাতে লাগলাম, হাতে কলম নিয়ে, আর শূন্য পৃষ্ঠার দিকে এমন একটা নিশ্চল ধৈর্য নিয়ে যেটা আমায় ব্যথা দিত, আশা হারাতে হারাতে আর আজ, আচমকা, ওপরে যে বাক্যটা উদ্ধৃত করলাম সেটা দরজাটাকে হাট করে খুলে দিল আর এই তো এখন বইটা আমার সামনে, অপেক্ষারত, মনে হচ্ছিল যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে, মানে ঠিক বইটা নয়, কেবল বইটার সব মালমশলা এলেমেলো করে জড়ো করা, জোড়া লাগিয়ে তৈরি করতে হবে এমন একটা মডেলের মত, তার অসংখ্য টুকরোগুলো নিয়ে যেগুলো ছড়ানো ছিটনো হলেও একে অন্যের মধ্যে খাপে খাপে বসার জন্যে প্রস্তুত আর আমি তাদের ছুঁতে ভয় পাচ্ছি কিন্তু তাদের ব্যবহার শুরু করতে ব্যগ্র, দেবতাদের এই অনুগ্রহ এখনও আমার অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে। এখন এটাকে আমায় একটা কাঠামো দিতে হবে তার নির্মাণটা শুরু করার আগে, এখানে ওখানে ফাঁকফোকর আছে, অসংখ্য কৌশলগত সমস্যা যেগুলো এখনও সমাধানহীন, প্রচুর বিভ্রান্তিকর দিক। কিন্তু এখন তো তাকে পেয়ে গেছি আর সেটাই আমাকে এমন একটা স্বস্তি দিচ্ছে যেটা প্রকাশ করা কঠিন। আমি দুটো বই দিয়ে আমার কাজটা শেষ করার কথা ভেবেছিলাম, যেগুলোর প্রথমটা এখন আমার সামনে রয়েছে, তারপরে আশা করি অন্যটাও চলে আসবে আর ব্যস। কিন্তু এটা তো এসেই গেছে। মানে আশা করি এসে গেছে। মালমশলাগুলোকে কেবল একটা কাঠামোয় বাঁধতে হবে, ওই সবকিছুকে গোছাতে হবে, সেটার রচনা, ভয়ে ভয়ে, শুরু করতে হবে। আমার কাজের ধরণ ক্রমাগত নিখুঁত করে তোলা, ভুলত্রুটি সংশোধন করতে করতে। বইটা তৈরি করা কঠিন কিন্তু আজ অবধি কোন বই তৈরি করা সহজ হয়েছে? আর তাছাড়া আমি চ্যালেঞ্জ পছন্দ করি। সবচেয়ে খারাপটা, যেটা হল আমার মধ্যে থাকা সেই কিছু না-টা, কেটে গেছে। আর এবার আমি আসছি, তোমাকে নিতে পাতা বেয়ে বাইরে পড়ে যেও না। লেখা কি অদ্ভুত কাজ। এর নাম “আত্মার প্রায় মৃত পাখিরা”, দেখি এবার সেটাকে নিয়ে কি করতে পারি। কিন্তু জেতার আশা রাখি যদি তাতে নিজের সব হাড়গুলোকেও রেখে আসতে হয় তা-ও। আমার ডজন খানেক স্বর আছে, যদিও এমন কয়েকটা নেই যেগুলোকে তাদের ছিদ্রগুলোতে লাগাতে হবে। এই “পাখিগুলো”-কে তো উড়তেই হবে কারণ আমি সেটা চাই। একটা বই তো আকাশ থেকে খসে পড়া কোন উপহার নয়, তা হল তিল তিল করে জিতে নেওয়া একটা জিনিশ, আমার কাছে অন্তত, একটা অসীম ধৈর্যের ফল, একটা                 

– চল বাছা

যেটার শেষ দেখা যায় না। আর ছেলেটা যায়, কোথায় পা ফেলবে তাই নিয়ে সদাসতর্ক, যেহেতু আমার চারিপাশে সবই পিছল। একই সঙ্গে আমি এই চ্যালেঞ্জগুলোকে, এই লড়াইটাকে ভালবাসি। আমাকে যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয় আর আমি হারা পছন্দ করি না, আমি হারব বলে হাল ছেড়ে দিই না। বাকিগুলোর মতই এটা ঠিক কতদিন পরে শেষ হবে জানি না। কিন্তু ওতে নিজের রক্ত     

(আর বেশ কিছুটা মাংসও)

রেখে যাব। আর তাছাড়া কিসের জন্যে বিলাপ করব যদি কোন কিছুর বিনিময়েই নিজের জীবনটা বদলাতে না চাই? আমার মনে হয় এই পথটাকে আমি বাছিনি, কেবল সেটাকে মেনে নিয়েছি, উত্তর দিয়েছিলাম   

– ঠিক আছে

কোন একটা অচেনা কণ্ঠস্বরকে যে আমাকে এই চুক্তির প্রস্তাবটা দিয়েছিল, দুটো নিঃসঙ্গতার মধ্যে একধরণের একটা সাক্ষাৎ। জানলার দিকে তাকাই, এখন রাত। সবকিছু কালো। দূরে সব বাড়ি। আর আমি, জানি না কেন, আমার বাবামার কথা ভাবছি। ওরা আমাকে কোলে নিয়ে থাকলে আমার ভাল লাগত, কখনই নেয়নি। কখন কখন আমি এত ছোট হয়ে যাই, জানেন? এটা সত্যি: কখন কখন আমি খুব ছোট হয়ে যাই। আমার কাঠের ছোট প্লেনটা কোথায়? ওটাকে নিয়ে আমার  

– ভভভভভভভ

করতে ইচ্ছে করছে যতক্ষণ না জানলা দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে আমার দিকে যাব।

(ভিজ়াঁও, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৯)  

ঋতা রায়
  ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।     

 

©All Rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.