ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় পর্ব-৩

বাংলা English
Rui Zink
Rui Zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures,  imagines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16.Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়’, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista
AUTHOR: Rui Zink
Translation from portuguese: Rita Ray

পাঠ ৮

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট বলে ডাকাটা পছন্দ করে না

সে মনে করেনা যে এই বর্ণনাটা তার প্রতি সুবিচার করে। আর সুবিচারের ব্যাপারটা তার পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে অবিচার সহ্য করতে পারে না।

আর সত্যি বলতে গেলে, “ফ্যাসিস্ট হওয়ার”মানেটা কি? কিছুই না।সালাজা়রকেই দেখুন। সারাটা জীবন লোকে ওঁকে ফ্যাসিস্ট বলে গেল কিন্তু উনি ফ্যাসিস্ট ছিলেন না  [এরকমই বলাহয়ে থাকে – এসব জিনিস কেউ বানায় না], কারণ অনেক জ্ঞানীগুণী লোকেরাই বলেছেন যে সালাজা়র ফ্যাসিস্ট ছিলেন না। ফ্যাসিস্ট ছিলেন হিটলার আর মুসোলিনি।

আর সালাজার হিটলার আর মুসোলিনির থেকে অনেকটাই আলাদা ছিলেন। শুরুতেই বলতে হয় যে হিটলার জার্মান বলতেন আর মুসোলিনি ইটালিয়ান। কিন্তু সালাজা়র না বলতেন জার্মান না বলতেন ইটালিয়ান, উনি বলতেন পোর্তুগিজ়। প্রসঙ্গটাশেষ করতে হলে বলতে হয়যে মুসোলিনি ছিলেন টেকো আর মোটা, আর হিটলারের ছিল শার্লোর মতো গোঁফ6। কিন্তু সালাজা়রের চুল থাকলেও গোঁফ ছিল না। যে দেখতে চায় না সেই খালি দেখতে পায় না! এর চেয়ে আর বড় কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকতে পারে যে পোর্তুগালে কোনোদিনই ফ্যাসিজম ছিল না? সেই।

এর পরেও আছে একগাদা খুব সূক্ষ্ম আর অসংখ্য(কিন্তু তাৎপর্য্যপূর্ণ) তফাৎ। সালাজা়র তাল্যিয়াতেল্লেও7 খেতেন না জা়উয়ারক্রাউটও8 খেতেন না, তিনি স্বদেশপ্রীতি হিসেবে লুজ়িতানীয় খাদ্যবিধিই বেশি মেনে চলতেন: বাকাল্যিয়াও আ গোমশ দ্য সা9, আরোশ দ্য কাবিদেলা10, আলু দিয়ে শুয়োরের মেটে, কালি ছাড়া কাটল মাছ।

হাস্যকর!

এছাড়া আরো আছে:

(…) হিটলার, মুসোলিনি বা ফ্রাঙ্কো জনসাধারণের মধ্যে মিলিটারি পোশাকে দেখা দিয়ে বক্তৃতা দিতেন কিন্তু সালাজার কখনোই তা করেননি।

আপনি একেবারে সঠিক, ড: কাম্পুশ ই কুন্যিয়া11, যে দেখতে চায় না সেই কেবল দেখতে পায় না।

তবে স্বীকার করে নেওয়াই ভাল, (এই বাগাড়ম্বরপূর্ণ সাফল্যের মুহূর্তের পরে একটু সমসাময়িক মত মেনে নিয়ে) যে হয়ত সালাজা়র স্রেফ “একটু স্বৈরাচারীছিলেন।”

আর সেটা দেশের ভালর জন্যেই। আর তিনি কোন ধনসম্পত্তি করেননি। তার প্রমাণ হল তিনি ছেলেমেয়েদের12 জন্যে কিছু রেখে যাননি আর স্ত্রীর13 নামেও কোম্পানিটা করে দিয়ে যাননি।

6.শার্লোর মত গোঁফ (অনুবাদকের নোট) চার্লি চ্যাপ্লিন অভিনীত বিখ্যাত ট্র্যাম্প  চরিত্রটির যে গোঁফ।

7.Tagliatelle – এক ধরণের ইটালিয়ান পাস্তা।

8.Sauerkraut – ফার্মেন্ট করা কুচনো বান্ধাকপির জার্মান স্যালাড।

9.Bacalhau a Gomes de Sá – কডমাছের শুটকির একটা বিশেষ পদ।

10.Arroz de cabidela – উত্তর পোর্তুগালের মুরগি আর চাল দিয়ে বানান বিশেষ একটি পদ যাতে ভাতটা রান্না করার সময়ে মুরগির রক্তটা একটু একটু করে মিশিয়ে দেওয়া হয়৷

11.ড: কাম্পুশ ই কুন্যিয়া – সমাজবাদী পার্টির একজন প্রাক্তন দক্ষিণপন্থী মন্ত্রী যিনি বলেছিলেন যে পোর্তুগালে কখনোই ফ্যাসিজম ছিল না কারণ তার জন্যে সবরকম শর্তপূরণ হয় নি.

12. ও  13. ছেলেমেয়ের জন্যে…কোম্পানি লিখে দিয়ে যাননি – সালাজা়র অবিবাহিত ছিলেন।

পাঠ ৯

তাছাড়া ফ্যাসিস্ট হল খুব সহজ অপমান

এমনটা নয় যে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট হতে লজ্জা পায়। পায় না। কেন পাবে? কি কারণে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট হতে লজ্জা পাবে যদি:

ক) ও শুধু ফ্যাসিস্ট নয় তাই নয়

খ) হলেও বিশাল কোন ক্ষতি ছিল না

সেই।

আর ভাল করে সবদিক ভেবে দেখলে  ফ্যাসিস্ট হওয়ার মানেটা কি? দেশের সমর্থন করা আর তাকে সবারওপরে বসান? দেশকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসা – বা শেষটায়, অন্তত অন্যদের জীবনের চেয়েও বেশি?

তাহলে কি দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাটাই ফ্যাসিজম, তারা যেখানেই থাকুক না কেন? দেশকে নিরাপদ রাখতে চাওয়াটাই কি ফ্যাসিজম, যেখানে কেবল আমাদের বাড়ির লোকই থাকবে, কোনও বিদেশি আমাদের সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারাকে হুমকি দেবে না? আমাদের সবচেয়ে সুন্দর ও খাঁটি ও কোমল ও চিরন্তন ঐতিহ্যগুলোকে ভালবাসাই কি ফ্যাসিজম?

যদি ফ্যাসিস্ট মানে এটাই হয় তাহলে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট খুশি মনেই তাই হবে। আর সেটা মেনে নিতে তার কোনও লজ্জা নেই।

বা, সেটা যদি সে হত তো কোন লজ্জা থাকত না।

কিন্তু সে তা নয়। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জানে যেসঠিক মুহূর্ত এখনো আসেনি।

কিন্তু সেই মুহূর্ত আসবে।

আর অনেকে যা ভাবে তার থেকে তাড়াতাড়িই আসবে।

আরে ভাই, না না, এটা কোন হুমকি নয়, এটা কেবল একটা প্রতিজ্ঞা!

আর তখনই আসল মজাটা হবে।

 [অনুশীলনী: কুড়িবার লিখতে হবে, ভুল করাটা বাঞ্ছনীয়, “মানুষ এখন দেশকেও ভালবাসতে পারে না, তাহলেই লোকে তাকে আজেবাজে নামে ডাকে।”]

পাঠ দশ

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট যথেষ্ট কারণেই রাগ করে

এটাই তার স্বভাব – সর্বদা সঠিক হওয়া। এটা তার পক্ষে অভিশাপও বটে। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট পক্ষপাতহীন, তা তাতে যার যত কষ্টই হোক না কেন। আর তার সুবিচারের তৃষ্ণা এতটাই বেশি যে পথচারীদের জন্যে সবুজ সিগ্ন্যাল চলার সময়েকোন লরি যদি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার সামনে হুড়মুড়িয়ে এসে পড়ে তো একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তার শক্তিশালী গলা বেশ উঁচুতে চড়িয়ে বলবে:

আরে ভাই, মাথা ঠান্ডা করো। আমার এবার রাস্তা পার হওয়ার পালা!”

আর এইজন্যেই হয়তো রাস্তায় অনেক বিড়ম্বনার জন্যে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট দায়ী – যেসব বিড়ম্বনার নাম “দুর্ঘটনা”। ব্যাপারটা হল একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিছুতেই ছাড়বে না, তাতে যার যত কষ্টই হোক না কেন।

ব্যাপারটা আবার এমনিই অদ্ভূত যে যখনই একজন ভাল ফ্যাসিস্টছেড়ে দেয় না সে কিন্তু তখন সর্বদাই নিজের গাড়িতেই থাকে।

কিন্তু সেটা কোনভাবেই এই সহজ সরল সত্যিটাকে বাতিল করে না:সত্যিই যদি ধরে নেওয়া যায় যেসে শান্তভাবে তার ন্যায্য অধিকার অনুযায়ীরাস্তাটা পার হচ্ছিল যখন দু টনের লরিটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার দিকে সোজাসুজি সজোরে ছুটে আসছিল তাহলে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিছুতেই চুপ করে থাকত না আর নৈতিকআঙুল উঁচিয়ে চিৎকার বলত:

“দেখো, তুমি কিন্তু আইন ভাঙছ,আমার অধিকারটা আগে, আর সেইজন্যেই তোমায় সাবধান করে দিচ্ছি যে যদি ধাক্কা মারো তো সমস্যাটা তোমার হবে!”

পাঠ ১১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কখনো অদ্ভূত আচরণ করে না

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট মিথ্যে আর বিকৃতি গেলে, এগুলোই তার প্ৰিয় খাদ্য কিন্তু আর কিছু না পেলে কোনকেই অবজ্ঞা করে না। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট খুঁটে খেতে ভালোবাসে, এমনকি মাঝেমাঝে দুএকটা সত্যি কথায় মজাও পায় যতক্ষণ তথ্যনামের ওইসব উদ্ভট জিনিশগুলো ওই মৌলিক প্রয়োজনীয়তাটা মেটাচ্ছে: সে যা ভাবছে ওগুলো সেটাই নিশ্চিত করছে।

সে যখন খবরও দেখে তখনও নিজেকে বিক্ষিপ্ত হতে বা ভুল বুঝতে দেয় না: কেবল যতটুকু জানে ততটুকুই শোনে। টিভির খবরে তাই জুতে ডলফিন দেখাতে পারে, লস অ্যাঞ্জেলেসে আগুন লেগেছে দেখাতে পারে, একজন বিদেশিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেখাতে পারে, ফ্রান্সের হরতাল দেখাতে পারে, স্পেনের সেপারেটিস্টদের বিচার দেখাতে পারে, সাম্প্রতিকতম কেলেঙ্কারি সম্পর্কে পোপের বিবৃতি দেখাতে পারে, ইউক্রেন আর রাশিয়ার মধ্যে শীর্ষবৈঠক দেখাতে পারে। এসবই একজন ভাল ফ্যাসিস্টতো একটা ঢুলুঢুলু কুমির বিংগো খেলছে এমন একটা ভাব নিয়ে দেখে। কেবল যখন আসল খবরটা বের হয় – এরকম বলা যেতে পারে – “একজন জিপসি/মুসলমান কাউকে আক্রমণ করেছে” – তখন কুমিরটা চোখ খুলে ফেলে, হঠাৎ সজাগ হয়ে। নিজের প্রান্তস্থদৃষ্টিশক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে মন্তব্য করে:

“আমি জানতাম, এইসব লোকজন…”

পাঠ ১২

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জানে যে তার ওপর সর্বদাই ডাকাতি করা হচ্ছে

ঠিক ফুটবল খেলার একজন উন্মত্ত ফ্যানের মতো একজন ভাল ফ্যাসিস্ট মনে করে যে কোন রেফারি “ওদেরলুটছে”। এটা একেবারে পরিষ্কার। আর ওই ছিচকে চোর রেফারিটা আবার ভগবানের মতোই সবজায়গাতেই আছে।

  কিন্তু সবচেয়ে বেশি করে”এই সরকারে”।

  একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে সবকিছু – মানে সত্যিই সব কিছু – “আমাদের ট্যাক্সের টাকায় হচ্ছে”।

  একজন ভাল ফ্যাসিস্ট যা ট্যাক্স দেয়তা এক অফুরন্ত উৎস আর, রাজনৈতিকদের  দোষে, অনি:শেষ ভাবে তার অপচয় হয়৷

  যখন সে ট্যাক্স দেয় ও না তখনও একজন ভাল ফ্যাসিস্ট মনে করে যে সে তার ট্যাক্সের টাকায় শরণার্থীদের বাড়ি করে দিচ্ছে।

  যখন সে ট্যাক্সের টাকা ফাঁকিও দেয়, তখন ও সে যারা ট্যাক্স ফাঁকি দেয় তাদের বিরুদ্ধে তর্জন গর্জন করে।

  নিজে দামে ফাঁকি দিলেও মনেকরে যে তার গাঁটকাটা হচ্ছে।

  সবসময়ে চিৎকার করছে – চিৎকারেই লাভটা থাকে।

  আমাদের চিৎকারেই ওই জাদুদণ্ডটা থাকে: আমাদের সৎ বলে মনে করায়।

  এটাও বলতে হবে এমনকি যখন আমরা একজন ট্যুরিস্টের ভাল করে বোকা বানাই।

[অনুশীলনী: একজন ট্যুরিস্টকে বোকা বানান। নোট: এই অনুশীলনীটা করার সময়ে ধরা না পড়ার চেষ্টা করবেন। যদি ধরা পড়েন তাহলে এই ম্যানুয়ালটা পুলিশকে দিয়ে বলবেন যে এটা আমার তরফ থেকে উপহার।]

পাঠ ১৩

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সবসময়েই নিজেকে পরিস্থিতির শিকার বলে মনে করে

কিন্তু ওরা মনে করে যে অন্য যারা এরকম শিকার তারা তাদের অবস্থার জন্যে নিজেরাই দায়ী। একটা বাচ্চা গাড়ি চাপা পড়েছে? নিশ্চয়ই সাবধান হয়নি।

  একজন মহিলার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে? নিশ্চয়ই তার কোন দোষ ছিল।

  কেউ প্রতারিত হচ্ছে? সে নিশ্চয়ই নিজেকে প্রতারিত হতে দিচ্ছে।

  আর, ভাগ্যক্রমে, আমাদের এই সুন্দর দেশে এই জিনিশটা প্রায়ই ঘটে থাকে: কেউ না কেউ অসাবধান হয়৷

  যদিও যখন কেউ তার দু:খদুর্দশা নিয়ে কান্নাকাটি করে তখন একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বলতে ভালোবাসে যে:

  “আরে ভাই, তোমারও তো দোষ ছিল…”

  কিন্তু নিজের বেলায় হলে তখন বিকট চ্যাচামেচি করে ঠিক যেন একটা ছোট্ট শামুকের প্রেমে পাগল একটা পেলিক্যান। কিন্তু যদি ওর নিজের কিছুনা হয়তো ও বেশ মজাই পায়। এটাই অবশ্য একজন ভাল ফ্যাসিস্টের সবচেয়ে মিষ্টি গুণগুলোর মধ্যেএকটা, অন্যের দুর্দশায় মজা পাওয়া। ওদেরই তো যত দোষ।

  প্ৰিয়পাঠক, আপনার যদি এই কথাগুলো প্রায়ই ব্যবহার করে থাকেন তো বেশি লোভ করবেন না: এখনও সময় আসেনি স্রেফ এই ছোট্ট ব্যাপারটার জন্যে নিজেকে এখনও ভাল ফ্যাসিস্ট মনে করার।

  কিন্তু – আন্তরিক শুভেচ্ছা – আপনি ওইদিকেই যাচ্ছেন নিজেরই দোষে।

পাঠ ১৪

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিন্তু ফ্যাসিস্ট নয়

কিন্তু সে জানে যে সে এটা অস্বীকার করে চালাকি করছে। ভান করে যেন বুঝতে পারছেনা।

“না, ম্যাডাম, না, আমি ফ্যাসিস্ট নই ।”

আপনি ঠিক জানেন?

“পুরোপুরি।”

তাহলে আমায় চোখ মারছেন কেন?

“যদি মেরেই থাকি? সমস্যাটা কোথায়? আমার চোখে কি কিছু পড়তেও পারে না?”

পারে। কিন্তু আপনি অস্বীকার করছিলেন। আর এটা হল একজন…

“তুমি কাকে ফ্যাসিস্ট বলছ?”

আপনাকে।

“বলেইছি তো আমি ফ্যাসিস্ট নই।”

আপনি ঠিক জানেন?

“আরে বাবা, পোর্তুগালে ফ্যাসিজ়ম তো কোনওদিন ছিলই না, সেইজন্যেই তো আরও।”

যদি বলেন তো তাই।

“বলছি, বলছি। আমার প্রশ্ন শুধু এটাই: এটা কি ধরণের গণতন্ত্র যেখানে কেউ কি ভাবছে সেটা বলতে পারবে না?”

মানে বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা নয়…

“কে বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলছে?! মানুষ কি সত্যি কথাটাও বলতে পারবে না?! এ তো ফ্যাসিজ়মের থেকেও খারাপ!”

দাঁড়ান, দাঁড়ান, কি বললেন, ফ্যাসিজ়ম?

“না, হ্যাঁ, ওই মানে। বলেছি কিন্তু বলিনি। এই আমরা যেখানে থাকি সেটা সত্যিকারের একটা ফ্যাসিজম়!”

গণতন্ত্রটাই একটা সত্যিকারের ফ্যাসিসজম? হুঁ।

“১৯৭৪-এর মত14।”

১৯৮৪ পড়েছেন?

“সিনেমাটা দেখেছি। ওইটাই তো, তাই না? আপনি ঠিক জানেন ১৯৭৪ নয়? আমার তো মনে হয় তাই। অন্তত আমি যে ভার্শানটা দেখেছি…”

14. ১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিললিসবনেপৃথিবীরদীর্ঘতমস্বৈরতন্ত্রীসরকারের (১৯২৮-১৯৭৪) পতনঘটে।

Rita Ray
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *