মেরুভল্লুকের প্রেম – রুই জ়িঙ্ক , অনুবাদক ঋতা রায় (৮ম পর্ব)

বাংলা English
Rui Zink
  Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.   
Cover Picture of O amante e sempre o ultimo a saber

মেরুভল্লুকের প্রেম

দশ মাস আগে

ব্যাপারটা তাহলে কি দাঁড়াল, অ্যাঁ? বির্নার্দু ভাবছিল যে সে মরে গেছে যখন কিনা সে মরেইনি। বরং তার শরীরটা খুব ভাল লাগছে। সে ভাবছিল যে সে মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়েছে, কুড়িতলা থেকে পড়ে গিয়ে, যে সে… কিন্তু না। সে দিব্বি আছে। কিংবা বলতে গেলে তা-ই। 

“হ্যালো, বেরুনাদু, আমি ইউকিও। তোমার সঙ্গে আলাপ করে খুশি হলাম। তুমি কি আমায় শুনতে পাচ্ছ?”   

প্রশ্নের কি ছিরি! অবশ্যই সে শুনতে পাচ্ছে।

“আমি নিশ্চিত যে আমরা খুব ভাল বন্ধু হব, বেরুনাদু।”

বির্নার্দুর ধারণাটা কি ভুল নাকি সত্যিই ওর হাতে একটা সিরিঞ্জ আছে? 

“আমি কি তোমায় নাদু বলে ডাকতে পারি? মানে তাহলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়। আর একটু মিষ্টিও। নাদু।”

একটা কিছু ওকে ফোঁটানো হল বলে বির্নার্দু টের পায়, তারপর ওর খালি ঘুমই পেতে থাকে, ঘুম, ঘুম…

কিন্তু সে তো ঘুমিয়ে পড়তে পারে না, তাই না?

বির্নার্দুর অদ্ভুত লাগে। ও কি – কোমাতে চলে গিয়েছিল? কিন্তু তা-ই যদি হয়ে থাকে তো ওর তাহলে হাসপাতালে থাকার কথা। ওর শরীরটা কোথায়? ও নিজের শরীরটাকে অনুভব করতে পারে না।

“আমার পাগুলো… আমার পাগুলোকে অনুভব করতে পারছি না।”

ইউকিও চোখদুটোকে কপালে তোলে: যদি কেবল পাদুটোই শুধু হত! তবে এটা তো স্বাভাবিক, ছেলেটা বুঝতে পারছে না। ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

“নাদু, আমি তোমাকে একজনের সঙ্গে আলাপ করাতে চাই। কোহারু, এদিকে এস। কোনোরকম লজ্জা পেতে হবে না।” 

ইউকিওর হাবভাব বেশ বন্ধুর মত আর কুল। মাথায় কানাতোলা একটা টুপি, থুতনিতে দাড়ি, যার লোমগুলো কমলা রঙ করা। কুল।   

“কোহারু… চলে এস, জ্বালিও না।” ইউকিও ধমক দেয়, কিন্তু মুখে হাসিটা লেগেই থাকে। “ওকে তোমায় দেখতে দাও। তোমায় খুব সুন্দর লাগছে।”

বির্নার্দু ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। আর তখনই মেয়েটা এসে উদয় হয়, ওর সামনে, শূন্য থেকে, যেন বাতাসে ভেসে রয়েছে। ছোট্ট একটা পরীর মত সাজপোষাক, মুখে লাজুক হাসি আর নাভির সামনে হাত দুটো দিয়ে একটা এ-ফোর কাগজ ধরে আছে। কাগজটায় লেখা আছে: 

বির্নার্দু বুঝতে পারে না। মেয়েটা নিজেকে কি ভাবে, একটা পুতুল?

এই গল্পটা কিন্তু বেশ বাজেভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু বির্নার্দুকে একটা সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে গল্পটাকে ঠিকঠাক শোনার জন্যে।

কিংবা জটটা ছাড়ানোর জন্যে। 

ঘুম… 

আমার পাচিংকো[1] খুব ভাল লাগে

– আমি তো আপনাকে বলেইছি, আপনি যেখানে চান আমরা সেখানেই যাব। আমাদের হাতে খানিকটা সময় আছে। আপনি কোথায় যেতে চান, তানো? 

– তিরিয়েজ়া-সান যখন জিজ্ঞেসই করছেন, একটা কবরখানায়। আর, তারপর, একটা মন্দিরে। আর, তারপর, একটা থিম্যাটিক বারে।  

– পরপর এই ক্রমানুযায়ী?

– পরপর এই ক্রমানুযায়ী। এতে কোনোরকম অসুবিধে দেখতে পাচ্ছেন?

– না, আমার তো এটাকে চমৎকার একটা ট্রায়াড বলে মনে হচ্ছে। ঠিক এই জাপানে যেমন হয়ে থাকে।   
– ট্রায়াড সব চিনে[2] হয়, তিরিয়েজ়া-সান। এখানে যা হয় তা হল ইয়াকুজ়া।[3] 

– ও হ্যাঁ, সংগঠিত মাফিয়া।  

– যতদূর মনে পড়ে, তার থেকেও কিছুটা বেশি। সমাজের অঙ্গীভূত হয়ে যাওয়া মাফিয়া।

– এটা বেশ মজার। সমাজের অঙ্গীভূত হয়ে যাওয়া মাফিয়া। সব মাফিয়াই কি তাই নয়?                        

– হয়ত, কিন্তু এখানে, অন্তত আমার যৌবনে, এর চেয়েও বেশি কিছু ছিল। এই ধারণাটা যে, সামাজিক সমন্বয়ের জন্যে, একটা সমাজবিরোধীদের জগৎ থাকা দরকার। কাউকে তো সেইসব জিনিশগুলো দিতে হবে যেগুলো লোকেদের দরকার থাকলেও তাদের গৌরবান্বিত করে না। কোবের ভূমিকম্পটার কথা মনে আছে?     

– কোনটা?

– ওই শেষ যেটা সবকিছু একেবারে ছারখার করে দিয়েছিল, ১৯৮৯ সালেরটা।

– যদি খুব ভুল না হয়, আপনার একজন স্বদেশবাসী একটা বইও লিখেছিলেন। খুব বিখ্যাত একজন। 

– মুরাকামি? ভূমিকম্পের পরে?

– হ্যাঁ বোধহয়? আপনি পড়েছেন, তানো?

– পড়েছি। 

– ইন্টারেস্টিং। একজন বই-পড়া কারাতের প্রশিক্ষক।

– কারাতের মাস্টাররা কি করে বলে আপনার মনে হয়, তিরিয়েজ়া?  

– কিছু না। ভেবে কেবল মজা লাগল।

– জানেন, কোবেতে ইয়াকুজ়ারাই প্রথম ওই দুর্যোগের জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল? আর তারাই সবচেয়ে দক্ষতার সঙ্গে লোকজনকে সাহায্য করেছিল?  

– এটা কোন গল্পকথা নয় তো, তানো?

– নথিবদ্ধ করা আছে। ইয়াকুজ়ারা অকুস্থলে উপস্থিত ছিল আর জীবন বাঁচানোর ব্যাপারে ওরা ছিল অপরিহার্য। ওরা সেনা আর দমকলবাহিনীর সামনে সংগঠনের ব্যাপারে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।   

– ওঃ! দমকলবাহিনীকে দমকলবাহিনীর নাচ নাচিয়ে ছেড়েছিল!

– সেইসময়ে ব্যাপারটায় কোনরকম মজা ছিল না, তিরিয়েজ়া-সান।

– ইয়াকুজ়াদের নাচ।  

– জানি না দুঃখজনক একটা ঘটনা কোন নাচের উপলক্ষ্য হতে পারে কিনা, তিরিয়েজ়া-সান। 

তিরিয়েজ়া দাঁত বার করল:

– পারে না? 

*

ওরা গিনজ়া্র পথ ধরে হাঁটছিল, ছাইরঙা কংক্রিটের চওড়া ফুটপাথের ওপর।  

চওড়া রাজপথটাকে মনে হচ্ছিল যেন সময়ে থেমে রয়েছে, একটা অকাল গ্রীষ্মের আবহ। ফুটপাথটা যেহেতু চওড়া, পথচারীরা সেটাকে হেলতে দুলতে চলা অলস সব সাইকেলদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিল। শৌখিন মহিলারা, রোদ থেকে বাঁচবার জন্যে শৌখিন ছাতা মাথায় দিয়ে, মনে হয় যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। কিংবা রোদ থেকে বাঁচবার জন্যে খুদে খুদে ছাতা নিয়ে। কিংবা – বিষয়টা জটিল করা কেন? – স্রেফ ছায়ায় ঘুরে বেড়ানোর জন্যে প্যারাসল নিয়ে। তিরিয়েজ়া, আরও একবার, অবাক হল, জাপানী মহিলাদের পক্ষে রুচিশীল না হওয়াটা কতটা কঠিন দেখে। মাঝেমধ্যে এক-আধজন এই কৃতিত্বটা দেখাতে পারলেও সেটা বিরলই বলা চলে।            

অন্যদিকে, তাকে ভাল করে লক্ষ করলে কোন জাপানী মহিলা হয়ত তাকেও এই প্রশংসাটা ফিরিয়ে দেবে। তার হিল-ছাড়া কাজের উপযোগী জুতো, গোড়ালির কয়েক আঙুল ওপর অবধি প্যান্ট, ঢিলেঢালা শার্ট, সিল্কের, কাপড়টা দামী কিন্তু প্রিন্টটা সাদাসিধে, ওকেও দেখলে জাপানী বলেই মনে হতে পারত যদি না ওকে একেবারেই জাপানীদের মত দেখতে না হত। 

*

ওরা একটা ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিন পার হয়ে গেল। 

তানো এক নবীন যুগলের দিকে এগিয়ে গেল, ভীষণ রকম পরিশীলিত, মেয়েটি কেনজ়ো[4], ছেলেটি খুব সম্ভবত মিয়াকে[5]। কিছু একটা জিজ্ঞেস করল। তারা মাথা নাড়ল, হেসে, ধনী চিন্তাভাবনাহীন, ওকে তারা কিভাবে সাহায্য করবে জানে না। এরপর তানো আরেকটু বয়স্ক একজনকে থামাল, শাদা শার্ট প্যান্টের বাইরে ঝুলে আছে। এর, দেখে মনে হল, তানো যে দিকনির্দেশটা জানতে চাইছিল, সেটা জানা আছে। লোকটা তার হাত তুলল: আরেকটু সামনের দিকে, দ্বিতীয় ব্লকটায় বেঁকে গিয়ে ওরা যেটা খুঁজছে সেটা পেয়ে যাবে।    

– আমরা কোথায় যাচ্ছি, তানো? ওই কবরখানা, মন্দির, বার দেখার প্ল্যানটা ধরেই তো? 

– না, প্রথমে আপনাকে একটা জিনিশ দেখাব।

ওরা ঠাণ্ডা পানীয়ের একটা মেশিন পার হল।

তারপর আরও একটা।  

ওরা এসে একটা সোনালী দরজায় থামল, ঝুটো সোনার মত রঙ, প্রায় ইচ্ছে করে ঝুটো সোনার মত রঙ করা। তানো সোনালী দরজাটা খুলল, ঝুটো সোনার মত রঙ, প্রায় ইচ্ছে করে ঝুটো সোনার  মত রঙ করা। সঙ্গেসঙ্গে এমন প্রচণ্ড জোরে একটা ইলেক্ট্রনিক ছন্দ ওদের ওপরে সুনামির ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ল যেমনটা তিরিয়েজ়া আগে কখন শোনেনি। প্রায় অসহ্য লাগার মত। অসহ্যই লাগছিল। ওটা কোন মিউজ়িক নয়, গোলমালও নয়। যেন একটা শব্দের মধ্যে ডুবে থাকা, ঠিক সেইভাবে যেভাবে মানুষ ডুব দেওয়ার সময়ে জলে ডুবে থাকে। অতীব শক্তিশালী, পাশবিক, বধির করে দেওয়া এমন এক “সঙ্গীত” যা আতঙ্কের কারখানায় পর্যবসিত হয়েছে। অসহ্যকর – কিন্তু তাসত্ত্বেও লোকে সেটাকে সহ্য করছে, সারসার ইলেক্ট্রনিক মেশিনগুলোর সামনে বসে, আর এমন একটা ভাবলেশহীন মুখ নিয়ে যেন ওখানে ঘণ্টার পোর ঘণ্টা মৌতাতে মজে আছে।             

– মানুষ এই আওয়াজটা কি করে সহ্য করে?

– কেউ কেউ তো এখানে সারাটা দিন কাটিয়ে দেয়। আওয়াজটা ওদের পছন্দের সম্মোহনটা তৈরি করতে সাহায্য করে – তানো বলল। – এটা ধ্বনিজাত ড্রাগ।

– কি?

একটা ধ্বনিজাত ড্রাগ, তানো আবার বলল। যে জুয়োটা তারা খেলছে সেটার আরও গভীরে তারা আছে বলে জুয়াড়িদের মনে করতে সাহায্য করে।   

পাচিংকো এক ধরণের একটা ইলেক্ট্রনিক বিলিয়ার্ড যেটাকে কমিয়ে একেবারে তার সারাংশে, হাড় অবধি, আদিম অবস্থায় নামিয়ে আনা হয়েছে। যে খেলছে তাকে কিছুই করতে হয় না, এমনকি পাশের দিকে কোন বোতামও টিপতে হয় না, পটুত্বও দেখাতে হয় না, বলটা যাতে না ঢোকে বা না বেরয় সেই চেষ্টাটাও করতে হয় না। একদম নিশ্চল হয়ে থাকাটাই যথেষ্ট। পাচিংকো হল একটা দুর্ভাগ্যের খেলা – এমন একটা দুর্ভাগ্যের খেলা যেটাকে আপাত ভাবে ভাগ্যের খেলা বলে মনে হয়। কিংবা তার উল্টোটা। শয়ে শয়ে স্টিলের বল, যেগুলো ইলেক্ট্রনিক বিলিয়ার্ডের টেবিলের বলগুলোর চেয়েও ছোট, তাদের গতিপথ ধরে ছুটে বেড়াচ্ছে, যাদের ফুটতে থাকাটা একটা বাসনের মধ্যে পপকর্নের ফাটতে থাকাটাকে মনে করিয়ে দেয়। আর ওই শব্দ আবহটা, ওই শব্দ আবহ। যে খেলছে তার সক্রিয়তার অভাবটা – তার প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তাটা, স্ক্রিনটার সামনে একটা প্লাস্টিকের টুলে বসে – বৃত্তগুলোর অস্থিরগতিতে এদিক সেদিক ছুটে বেড়ানো আর শব্দের অস্থির স্পন্দন পুষিয়ে দেয়।  

হলঘরটা মেশিনে থিকথিক করছে, জায়গাটার প্রতিটা ইঞ্চি লক্ষণীয় ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, ঠিক যেন একটা লাইব্রেরি যেখানে তাকের বদলে ইলেক্ট্রনিক মেশিন রাখা হয়েছে। অনেক খেলোয়াড়ের পাশে, বালতি ভর্তি করে বল রাখা, কারো কারো পাশে তিনটে কি চারটে বালতি। সুতরাং, হাজার হাজার বল।       

তিরিয়েজ়া খুব সম্ভবত ভাবতে শুরু করেছিল যে তানোর পরিষ্কার উদ্দেশ্য হল তাকে শাস্তি দেওয়া ঠিক সেই সময়ে তারা আবার রাস্তায় বেরিয়ে এল। তারা ঠিক যেন একটা গেট পেরিয়ে অন্য একটা গ্রহে এসে পড়ল। পাচিংকোর হলটাকে বোধহয় খুব ভালভাবে সাউন্ডপ্রুফ করা হয়েছে কারণ, বন্ধ দরজার ফাঁক দিয়ে কোন শব্দই রাস্তায় চুঁইয়ে পড়ছে না। তিরিয়েজ়া স্তম্ভিত। যেন ও এমন একটা সনা নেবার ঘরে ছিল যেটার তাপমাত্রা সবচেয়ে উঁচুতে রাখা ছিল, আর ও হঠাৎ আবিষ্কার করেছিল যে সেটার দরজাটা বাইরে থেকে আটকানো। কিংবা, হয়ত, হারিয়ে-যাওয়া অ্যাটলান্টিসের অ্যাপোক্যালিপ্সের পরের একটা সংস্করণ।            

– অভিজ্ঞতাটা ভাল লাগল, তিরিয়েজ়া-সান?  

তিরিয়েজ়া তানোর দিকে একটা দ্ব্যর্থহীন ভাব নিয়ে তাকাল: তোমাকে এর দাম দিতে হবে। এটাই শুধু জানা বাকি যে সেটা বিদ্রূপার্থে না আক্ষরিক অর্থে। বিদ্রূপের এটাই সমস্যা, তানো ভাবল, আক্ষরিকতারও। কোনটা যে কোনটা, সেটা সবসময় বোঝাটাও সহজ নয়। 

– খুব ভাল লেগেছে। তা এবার?

– এবার একটু অপেক্ষা করুন, প্লিজ়।

তিরিয়েজ়া দেখল তানো কিছু একটা খুঁজছে। সে একটা দিকে গেল। তারপর আরেকটা দিকে। এবার আর কারুর কাছে কিছু জানতে চাইল না। 

তানো জানে যে কুর্তু যদি ঠিক বলে থাকে তো কিয়স্কটার কাছেই কোথাও থাকার কথা, খুবই কাছে।

আঃ।

– এই কিয়স্কটাকে দেখছেন? 

তিরিয়েজ়ার বিশেষ কিছু বলে মনে হল না। বলতে গেলে শুধু দেওয়ালের গায়ে একটা ফাঁক, ফাস্টফুডের একটা রেস্টুরেন্ট, শোকেস ভর্তি রীতিসিদ্ধ প্লাস্টিকের নকল খাবার শুদ্ধু, আর একটা এটিএমের মধ্যিখানে। ফাঁকটার মধ্যে দিয়ে একজন বৃদ্ধের ছোট্ট একটা মাথা উঁকি মারছে, ঠিক যেন খোলসের ভেতর থেকে একটা কচ্ছপের মুণ্ডু।   

– কিয়স্কে কি আছে? 

– আমার যদি কোন ভুল না হয় তো আমাদের কেবল কয়েকটা মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

আর ঠিক কয়েক মিনিটই লাগল। পাচিংকোর হল থেকে একজন মহিলা খেলুড়ে বেরল, তার হাতে তখনও সিগারেট ধরা। খেলুড়ে মহিলাকে দেখে বিধ্বস্ত মনে হচ্ছিল, যেটা অবশ্য আশ্চর্যের নয়, শব্দের ওই আক্যুয়ারিয়াম থেকে বেরিয়ে আসার পর। ঢোকার মুখে রাখা ছাইদানিটাতে সিগারেটটা নিভিয়ে কিয়স্কটার দিকে এগিয়ে গেল। সে একটা হাতে একগোছা পেন ধরে ছিল। সেগুলোকে সে মানুষ-কচ্ছপের শেডের ভেতরে রাখল। লোকটা সেগুলোকে ভাল করে পরীক্ষা করল, তারপর রেখে দিল, বদলে খেলুড়ে মহিলাকে বেশ কতগুলো নোট দিল। তিরিয়েজ়া আর তানো যতটা দূরে ছিল সেখান থেকে নোটগুলো হাজার, পাঁচ হাজার না দশ হাজার ইয়েনের সেটা বোঝা যাচ্ছিল না, তাসত্ত্বেও নোটগুলোর সংখ্যা খুব একটা কম ছিল না।    

– বেশ। এইমাত্র আমরা যেটা দেখতে পেলাম সেটার ব্যাখ্যা দিন।  

– তিরিয়েজ়া-সান এরমধ্যেই যেটা আন্দাজ করে ফেলেছেন। মহিলা পাচিংকোতে যে টাকাটা জিতেছে সেটা পেল।  – আর?

– বুঝে দেখুন। মেশিনে টাকা দিয়ে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ। সুতরাং, বলের বালতিগুলো মেশিনে গোণা হয়, তারপর সেগুলোকে নির্দোষ জিনিশে বদলে ফেলা হয়, যেমন কলম বা প্লাস্টিকের চিরুনি, যেগুলোকে আবার কিয়স্কের ওই লোকটার কাছে “বিক্রি” করা যায়।

– বেশ, তার মানে সাধারণ আর পাঁচটা লেনদেনের মত।

– এমন কয়েকটা প্লাস্টিকের কলম, যেগুলোর দাম বিশ ইয়েনও হবে না, সেগুলোর বদলে  লোকটা দশ হাজার ইয়েন দিচ্ছে?

– বুঝেছি, তানো, কিন্তু আপনি ঠিক কি বলতে চাইছেন?

– এখানকার সমান্তরাল জগৎগুলো এইভাবেই চলে। নিয়মকানুন আছে, সেগুলোকে মানা হয়। কিন্তু সেগুলোকে এড়িয়েও যাওয়া যেতে পারে। যদি সেটাকে কোনোরকম মতবিরোধ ছাড়া করা হয়। কারুরই সম্মানহানি হয় না। কর্তৃপক্ষ নিয়ম জারী করেন। সমান্তরাল জগৎ তার খদ্দেরদের ইচ্ছাপূরণ করার জন্যে একটা সমাধান বের করে।       

– ইচ্ছা? 

– খেলে একটা আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ব্যাপারটা ছেলেমানুষী, কিন্তু মানুষ তো এরকমই। তাদের এমন কিছু উদ্দীপনা লাগে যেগুলো তারা বোঝে। টাকার জন্যে খেলাটা সেগুলোর একটা। 

– যদিও সেটার জন্যে তারা খেলে না।

– ঠিক। যদিও সেটার জন্যে তারা খেলে না।

– কিন্তু আপনি বলছেন যে পাচিনকো খেলার জায়গাগুলোকে ইয়াকুজ়়া নিয়ন্ত্রণ করে? 

তানো মাথাটা নাড়ল, যেন ওর বিরুদ্ধে কোর্টে ওর বিরুদ্ধে মামলা হবে এই ভয়ে। 

– না, না। কিন্তু ব্যাপারটাকে বুঝতে সাহায্য করে। জুয়ার নেশাকে কোনোরকম ঝামেলা ছাড়া সমাজের অংশ করে তোলা। জুয়ায় টাকা জেতাটা অবৈধ। কিন্তু, ঠিক যেমন এক্ষুণি দেখলেন, টাকা জেতা যায়।   

– সবচেয়ে বালখিল্য একটা কৌশলের মাধ্যমে।

তানো আর কি বলতে পারে? যে সবচেয়ে আঁটোসাঁটো ব্যবস্থাগুলো, দম নিতে না পারার কারণে বা অন্ধ হওয়ার জন্যে, নিজেরাই নিজেদের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে?  

– সুতরাং, ওই ভয়ঙ্কর জায়গাটার সঙ্গে ইয়াকুজ়়ার কোনরকম কোন সম্পর্ক নেই…

– না। – ওটা কি তিরিয়েজ়ার মনের ভুল নাকি তানো প্রায় হেসেই ফেলেছিল? – কিন্তু ইয়াকুজ়়া থাকলে তারা কিভাবে কাজ করত এটা তারই একটা সম্ভাব্য স্যাম্পেল।  

দশ মাস আগে

ভিডিও গেমটার নাম ইজ়জ়ি জাপানিজ়জ়ি কেঅস ট্যুর আর এটা হল এমন একটা ফ্যান্টাসি যেটার অনুপ্রেরণা হল হেভি মেটালের একটা ব্যান্ডের সব মিউজ়িক, ওই যেগুলোতে স্রেফ ছন্দের খাতিরে স্যাটানিজ়মের সঙ্গে ক্যানিবালিজ়ম মেশায়। ইজ়জ়িরা হল হিরো, বলাই বাহুল্য, কেবল বিশ্ব জুড়ে লোকজনকে উদ্ধার করার কাজে ঘুরে বেড়ানোর বদলে বিশ্ব জুড়ে শহর ধ্বংস করে বেড়ায়।    

আর, শহর ধংস করতে করতে, গান গায় আর হাসে। একটা ক্রূর হাসি আর গান, নাহলে কি আর ডেথ মেটালের কোন ব্যান্ড হয়। খেলায়, বাজনাগুলোই অস্ত্রশস্ত্র। ইলেকট্রিক গিটারটা থেকে আগুনের গোলা বেরিয়ে আসে, বেস গিটারটা মাটিটাকে একটা বিশেষ ছন্দে থরথর করে কাঁপিয়ে তোলে, ড্রামসেটটা তো, ঘটনাচক্রে, একগুচ্ছ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান যেগুলো সেইসব ভয়ঙ্কর বোমা ছোঁড়ে, যেগুলো থেকে পেরেক বেরিয়ে চতুর্দিকে ছিটকে যায়, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নির্দোষ নাগরিককে ছিন্নভিন্ন করতে করতে। আর গায়ক, যার নামই ইজ়জ়ি, সে তো কেবল তার চিৎকার দিয়েই দেওয়াল ভেঙে ফেলতে পারে।   

খেলার উদ্দেশ্যটা এর চেয়েও আর সোজাসাপটা হতে পারে না: ডেস্ট্রয়, ডেস্ট্রয়, ডেস্ট্রয়। যত বেশি জীবনহানি হবে, যত বেশি ইমারত ধ্বংস হবে, যত বেশি দোকানে আগুনে খাক হবে, তত বেশি পয়েন্ট জমা হবে। আর বোনাস হল, প্রতিটা লেভেলে, ইজ়জ়িদের কোন একটা অপ্রকাশিত গান। এইটা হল ৫ নং লেভেলের:

আমার মাথাটা কেটে ফেলে

আমায় দাও এনে প্লেটে করে

আমার মাথাটা কেটে ফেলে

সবকিছু কর উল্টো ভাবে

আমার মাথাটা কেটে ফেলে

আমায় এনে দাও ট্রেতে করে

নিজেকে ঘরে কর বন্দী 

আমার পেয়ারের হিকিকোমোরি

বাইরে ফেলে দাও চাবি

কাটো মাথাটা আমারি

স্কুলের ছেলেরা এই খেলাটা যে খুব পছন্দ করবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু আছে কি? অবশ্যই না! কিন্তু যেটা হয়ত খুবই আশ্চর্যের সেটা হল এতগুলো মেয়েও এটার ফ্যান। আবার অন্যদিকে দেখতে গেলে, ফ্যান তো ফ্যানই। আর সবাইকারই তো একটা ধর্মের প্রয়োজন থাকে।  

একজন হিকিকোমোরি হল চূড়ান্ত গোলকে উন্নীত একজন কিশোর: ঘরবন্দী, নিজের মধ্যেই আবদ্ধ, এমন একটা সিন্দুকের মত যার মালিক সেটাকে খোলার কম্বিনেশানটা তো ভুলেইছে, এমনকি সেটার ভেতরে কি আছে সেটাও ভুলে গেছে।  

ওটা বোঝা যেতে পারত

– কে বলবে, তানো? আপনি আপনার জাপানকে এখনও চেনেন।

তানো ঠিক করল এটাকে ও একটা প্রশংসা হিসেবেই নেবে।

– ধন্যবাদ।

তারা একটা ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিন পার হয়ে যায়। তিন সারি দাঁত নিয়ে একটা ধাতব বাক্স, হাঙরদের মত, কেবল দাতগুলো হল আইসোটোনিক পানীয় আর সেগুলো স্নানার্থীদের মেরে ফেলে না, কেবল পথচারীদের তৃষ্ণা মেটায়। গোটা শহরটাই ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিনের একটা মহামারী। এটাতে আবার একজন মার্কিন অভিনেতার ছবি লাগানো ছিল। মাঝেমাঝে এগুলোকে তোওকিওর সত্যিকারের বাসিন্দা বলে প্রায় মনে হয়: ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিনগুলো আর মুদীর দোকানগুলো দিনের চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা থাকে। তোওকিওর স্বপ্নচারী পাহারাদার সব।   

তিরিয়েজ়া:

– আর আমি কিনা ভাবছিলাম যে আপনি এখানে বহু বছর আসেননি।

তানো:

– আমার একজন সহযোগী আছে যে এখানে নিয়মিত ট্রেনিং নিতে আসে।

তিরিয়েজ়া:

– আর আপনাকে সবরকম খবরাখবর দেয়।

তানো:

– আর আমাকে সবরকম খবরাখবর দেয়।

তিরিয়েজ়া:

– আর ইন্টারনেট তো আছেই। 

তানো: 

– হ্যাঁ। আজকাল ইন্টারনেটও আছে।

পিং। 

– আপনি ইন্টারনেটে আপনার দেশের খবরগুলোকে দেখেন।

পং।

– অবশ্যই। ইন্টারনেটের কাজটাই তো তাই, নয়কি?    

ওরা আরেকটা ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিন পার হল। তোওকিওতে বোধহয় প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ লোকের বাস। এটা জানতে পারলে খুব ইন্টারেস্টিং হবে যে রাস্তাগুলো ধরে ঠিক কতগুলো ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিন আছে, এমনকি সবচেয়ে দূরবর্তী সব অলিগলি আর বড় বড় সব রাস্তার পেছনদিকগুলো ধরেও, যেখানে শহরটা যেন ফিকে হয়ে গিয়ে গ্রামের একটা সুনসান শুঁড়িপথকে জায়গা করে দেয়। 

পিং:

– সুতরাং, আপনি তোওকিওতে কোনোরকম বদল দেখতে পাচ্ছেন না…

পং:

– বরং ঠিক উল্টোটা, তিরিয়েজ়া-সান। আমি কেবল বদলই দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তোওকিও তো বরাবরই এটাই ছিল।  

ক্লিক:

– ও। ভারি ইন্টারেস্টিং তো। 

ক্লাক:

– কিন্তু আপনি তো এটা আমার চেয়েও ভাল জানেন, তিরিয়েজ়া-সান।

ক্লিক। 

– তিরিয়েজ়া।

ক্লাক।

– তিরিয়েজ়া। হ্যাঁ। যতদূর বুঝেছি, গত কয়েক বছরে তিরিয়েজ়া তো জাপানে তিনবার এসেছেন?

তিরিয়েজ়ার (ওরফে পিং, ওরফে ক্লিক) মুখে সহস্র পঞ্চমবারের মত হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়া পেশাদার ক্লেপ্টোম্যানিয়াকের বিশ্রি হাসিটা: 

– ঠিকই। কিন্তু আমি সব জিনিশের ব্যাখ্যা শুনতে ভালবাসি, তানো।

তারপর যোগ করল: 

–  আমরা যেগুলো দেখছি সেগুলোর সত্যিকারের মানেটা আমাদের দেখিয়ে দেবার জন্যে কোন দেশি লোককে গাইড হিসেবে পাওয়ার মত আর কিছু হয় না।  

তারপর যোগ করল:

– দেখছি না জেনেই যেগুলোকে আমরা দেখছি সেগুলোকে দেখার জন্যে। 

তারপর যোগ করল: 

– যেগুলোকে আমরা দেখছি সেগুলোকে দেখার জন্যে।

আরেকটা ঠাণ্ডা পানীয়ের মেশিন, আরেকটা দাঁতের সারি। তানো, হয়ত একটা অনুপ্রেরণা থেকেই, পকেট হাতড়িয়ে একটা মুদ্রা পেয়ে গিয়ে সেটাকে মেশিনটায় ঢোকাল। কাল্পিস নামের একটা আইসোটোনিক জলের বোতল তেনে বার করল। তারপর, ভদ্রতার খাতিরে, জিজ্ঞেস করল:

– তিরিয়েজ়া-সান?

– একটা বরফ-ঠাণ্ডা চা চলতে পারে।

তানো স্লটটায় আরেকটা মুদ্রা ঢুকিয়ে একটা উলঙের বোতল বার করল।

দশ মাস আগে

বির্নার্দু জেগে ওঠে। কোথায়? ভাল প্রশ্ন। জরুরি যেটা সেটা হল সে বুঝতে পারছে… তার খুব ভাল লাগছে। সে কিনা ভাবছিল যে সে মরে গেছে অথচ আসলে… বরং তার শরীরটা খুব ভাল লাগছে। এক্কেবারে তন্দুরস্ত। আর এই যে মেয়েটা ওকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে… সে খুব ভাল। সত্যিই খুব ভাল। মনে হয়… ওর মাথায় যেটা আসে তার জন্যে নিজেকে বোকাহাঁদা বলে মনে হয়, কিন্তু কিচ্ছু করার নেই: ওকে একটা “সত্যিকারের মেয়ে” বলে মনে হয়।  

ব্যাপারটা বেশ মজার। মেয়েটা ওর হাত ধরে আছে। ওরা একসঙ্গে সাঁতার কাটছে। না, সাঁতার নয়। ওরা উড়ছে। ওরা একটা শহরে পৌঁছতে চলেছে। বির্নার্দু সেটাকে চিনতে পারে না – আগুনের শিখা আর ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে। কোহারু ওর হাতটা ধরে আঙুল দিয়ে একটা চক দেখায়, যার মাঝখানে নরক থেকে আসা কয়েকজন গাইয়েবাজিয়ে আছে, চারিদিকে ভীতসন্ত্রস্ত নগরবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে ছড়াতে। তারা যখন ওদের এগিয়ে আসতে দেখে তখন ওই ইজ়জ়িরা নিজেদের থেকেই ওদের বিরুদ্ধে চলে যায়।     

বির্নার্দুর কষ্ট আর উত্তেজনা মেশানো একটা অনুভূতি হয়। যুদ্ধ শুরু হয়।

হাজার হাজার স্ক্রিনের অন্যদিকে কোথাও একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় সব মুখ, যেটাকে তারা গেমটাকে আক্রমণ করা একটা ভাইরাস ভাবছে সেটাকে নিয়ে। মেয়েটার উদয় হওয়াটা অতটাও আশ্চর্যের নয়। ওই আসাটা স্বাভাবিক, কোন না কোন একটা কঠিন লেভেলে, এই ধরণের একজন শত্রু, আপাতদৃষ্টিতে পলকা, কিন্তু আসলে মহামহাশক্তিধর। যেটা স্বাভাবিক নয় সেটা হল রিমোটগুলোর কোনরকম আদেশ না মানা আর ইজ়জ়িদের, আচমকা, তাদের সাউন্ড অ্যান্ড ফিউরির বাজনাগুলো নিয়ে যেন আতঙ্কে অবশ আর শক্তিহীন হয়ে যাওয়া।     

বির্নার্দুর চেয়ে সামান্য বড়, কুল টুপি পরা আর কমলা রঙের ছোট্ট একটা দাড়িওয়ালা একজন তরুণ ওদের দিকে এগিয়ে আসে, সে-ও উড়তে উড়তে।  

“কোহারু”, সে ধমকে ওঠে। “এক্ষুণি গেম থেকে বেরিয়ে যাও!”

কোহারু ওকে পাত্তাই দেয় না বা পাত্তা না দেওয়ার ভান করে। বির্নার্দুর আবছা ভাবে মনে হয় ওই টুপি-পরা ছেলেটাকে ও আগেও দেখেছে, কিন্তু কোথায় সেটা মনে করতে পারে না। তাছাড়া ওকে দেখতে তোওকিওর রাস্তায় ওর সামনে এসে পড়া আর পাঁচটা জাপানী ছেলের মতই।  

“কোহারু, নাদুকে এখানে নিয়ে আসাটাকে কি তোমার কাছে খুব ভাল মনে হচ্ছে? ভেবেছিলাম তোমার ওকে ভাল লাগে, কিন্তু আসলে তুমি শুধু নিজের কথাই ভাব।”

এই কথাগুলো শুনে সত্যিকারের মেয়েটা ঠোঁট মোচড়াল, নাকটাকে উঁচু করল আর, পরমুহূর্তেই, চারিদিকে আর কিচ্ছু নেই। এই দানটা শেষ।   

“এরকম মুখ করে কোন লাভ নেই, কোহারু। তোমাকে হাজার বার বলেছি। অন্যদের কথা ভাবাটা দরকার।”

বির্নার্দু জানে না তার ঠিক কি ভাবা উচিত।

“নাদু”, ইউকিও বলে, “স্যরি, কিন্তু তোমাকে আমায় সুইচ অফ করে দিতে হবে। এখনও সময় হয়নি। ভুলটা আমারই। ভাল থেক।”

বির্নার্দু নিভে যায়।

আরেকটু এগিয়ে একটা মন্দির

সত্যি বলতে কি, মন্দির না বলে বরং উঠোন বলাই ভাল – অন্তত শব্দটার পশ্চিমী মানেটা ধরলে, অর্থাৎ “যে প্রাসাদে পূজা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে”। ঢুকতে হয় একটা তোরি-ই দিয়ে, দরজাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালটা, ওই যেটাতে আমাদের নিজেদেরই সেই বাড়িটাকে কল্পনা করে নিতে হয় যার দরজাটা হল এই দরজা। তোরি-ই: দুটো কাঠের থাম যার ওপর দিকে একটা বা দুটো কড়িকাঠ আড়াআড়ি ভাবে রাখা। তার ভেতরে (তার বাইরে?) পাথর আর শ্যাওলার একটা বাগান, যার বাসিন্দা গণ্ডায় গণ্ডায় (শয়ে শয়ে) পাথরের শেয়াল, যতরকম আকারের হতে পারে। একটা ছোট্ট ফোয়ারায়, একটা ডাণ্ডার আগায় একটা পেতলের মগ।      

তানো মগটাকে ফোয়ারায় ডোবাল, এর পর জল ঢালল, প্রথমে একটা হাতের ওপর, তারপর অন্যটার ওপর।   

– শুদ্ধিকরণ? – তিরিয়েজ়া জিজ্ঞস করল। 

– আর ঠাণ্ডাও করে। আপনার চাই? 

– এই মন্দিরটা শিনতোওদের, ঠিক কিনা?  

– এটা একটা শেয়ালের মন্দির। ইনারি।[6] শেয়াল বিশাল বড় রক্ষাকর্ত্রী।  

– আপনি কি, তানো? বৌদ্ধ না শিনতোও? – তিরিয়েজ়াও মগটা নিয়ে হাতদুটোর পুরোটাই ঠাণ্ডা করল (বা শুদ্ধ করল)। আর, তানো যেহেতু জবাব দিতে দেরি করছিল: – আর এটা বলবেন না যে আপনি কোন ধর্মের সেটাও আপনি জানেন না। আপনি কোন দেশের সেটা না জানার চেয়েও এটা আরও বেশি খারাপ হবে।    

– মানে… 

এটা বোঝানো তো সেরকম কিছু কঠিন নয়, তাও তানো ইতস্তত করল। বহু জাপানীর মত সে শিনতোওধর্ম আর বৌদ্ধধর্মের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। যদিও একটা সর্বপ্রাণবাদী আর চারিদিকেই আত্মা দেখতে পায়, আর অন্যটা “জীবনটাকে মায়া বলে” উড়িয়ে দেয়, লোকেরা এই বিরোধটা দেখে না। আর বিরোধটা না দেখলে বিরোধটা থাকেও না।   

দুটো ধর্ম? হয়ত সবচেয়ে দুর্দান্ত জাপানী উদ্ভাবন। আয়ারল্যান্ডে একই ধর্ম সহিংস ভাবে দুটো গোষ্ঠীতে ভাবে ভাগ হয়ে গেছে? জাপানে আবার প্রতিটা মানুষই বলতে গেলে দুটো ধর্মে ভাগ হয়ে যায়। আর সেটা দিব্বি কাজ করে।  

একটা নতুন প্রেমের প্রস্তাব দিতে, একটা বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যে, প্রথম সন্তানের জন্ম উদযাপন (মানে উৎসব আর কি) পালন করতে, শিনতোও মন্দিরগুলো আদর্শ। আর এক পিপে সাকে হল সবচেয়ে কম খারাপ নৈবেদ্যের মধ্যে একটা। কিন্তু অসুখ বা মৃত্যু হলে, কষ্ট হলে বা অন্ধকার হয়ে গেলে, সান্ত্বনার একটা চূড়ান্ত ও মেটানো অসম্ভব প্রয়োজনীয়তা, তখনই বৌদ্ধধর্মের আশির্বাদ লাগে।         

– আর খ্রিস্টধর্ম? সপ্তম শতকের পরে কেন সেটা এরকম ঝড়তিপড়তি হয়ে রয়ে গেল? 

তানো হাতদুটোকে মেলে ধরল:

– কি বলি বলুন তো? খ্রিস্টধর্ম মেরে ফেলতে ঢুকেছিল…

তিরিয়েজ়া এই ব্যাখ্যাটাকে বিবেচনা করে দেখল:

– বিষয়টাকে দেখার এটা একটা ইন্টারেস্টিং ধরণ, যদিও কিছুটা অতিসরলীকরণ করা।  

ছোটবেলার অভ্যেস, হয়ত, তানো কিছু না ভেবেচিন্তেই একটা ছোট শেয়ালের ওপরে হাতটা রাখল, সেটা পুরোটা পাথর আর শ্যাওলার, লাল রুমালটা ছাড়া যেটা, খুব বেশিক্ষণ হবে না, কেউ একটা তার গলায় বেঁধে গেছে।  

– বৌদ্ধধর্মে বলা হয় যে সাদাসিধে হওয়াটা ভাল। সংক্ষিপ্ত হওয়াটাও। আমরা ইন্টারেস্টিং না হলেও সাদাসিধে আর সংক্ষিপ্ত হলে অন্যরা অন্তত ধন্যবাদ দেবে। আমরা যদি সাদাসিধে, ইন্টারেস্টিং আর সংক্ষিপ্ত  হতে পারি, তাহলে…

– এত একেবারে হাইকুর সংজ্ঞা।

– তিরিয়েজ়া যদি তাই বলেন। 

– বলছি। আমরা যদি সর্বদা সাদাসিধে, ইন্টারেস্টিং, সংক্ষিপ্ত হতে পারতাম… পৃথিবীটা তাহলে অনেক বেশি সুখের হত, আপনার সেটা মনে হয় না?

*

কেউ ছোট একটা বেদীর ওপরে কোকাকোলার একটা ক্যান রেখে গেছে। তিরিয়েজ়া যাতে না ভাবে যে ওটা ইচ্ছে করে জায়গাটাকে অপবিত্র করার চেষ্টা, তানো বলল কেউ ওটা কোন মৃত আত্মীয়ের উদ্দেশে রেখে গেছে। অ্যাটলান্টার কোম্পানিটার মার্কেটিঙের ডিরেক্টারদের নজর কিছু একটা এড়িয়ে যাচ্ছে: ওদের আর কত সময় লাগবে এই অসাধারণ বিজ্ঞাপনী ক্যাচলাইনটা আবিষ্কার করতে? “ওপারেও কোকাকোলা খায়।”  

*

আঠা দিয়ে সাঁটা, বা কাঠের একটা প্যানেলে পেরেকে ঝোলানো লেখাজোকা নিয়ে ছোট ছোট কাগজের টুকরো আর শেয়ালের মাথা বোঝানোর জন্যে তেকোণা পাতের একটা বাহিনী। 

তিরিয়েজ়া জানতে চাইল কাগজগুলোতে কি লেখা আছে। পড়ার জন্যে তানো কাছে এগিয়ে গেল। তারপর সরে এল। ওর দেখার ক্ষমতাটা আর আগের মত নেই।    

– আপনাকে বোধহয় আমার কাছে দেখার চশমাটা ধার দিলে ভাল হবে, তানো। 

তানো এই প্রস্তাবটা সত্যি বলে ধরে নিল:

– সেটা কি আপনার সঙ্গে আছে?

তিরিয়েজ়া ব্যাগ থেকে কাছে দেখার চশমাটা বের করে দিল।

– ধন্যবাদ – তানো বলল।

কয়েকটা কাগজের টুকরো পড়ার পর ও সোজা হয়ে দাঁড়াল। 

– দেবীর কাছে আর্জি।

– দেবীর কাছে?

– ওই যা হয়ে থাকে আর কি। স্বাস্থ্য, টাকাপয়সা। বেশির ভাগই…

– ভালবাসার… 

– একটা ভালবাসা চাওয়ার জন্যে বা যেটা আছে সেটাকে যেন দেবী রক্ষা করতে সাহায্য করেন। ছেলেছোকরাদের ব্যাপার, বেশির ভাগ।  

– মেয়েদের – তিরিয়েজ়া সিদ্ধান্তে এল।

তানোর কথাটা পছন্দ হল না, কেন সেটা না বুঝেই:

– ছেলেদেরও। কেবল মহিলাদেরই আবেগ-অনুভূতি থাকে না, জানেন তো? 

তিরিয়েজ়া হাতটা বাড়াল, তানোকে কাছে দেখার চশমাটা ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত। 

পাথরের একটা শেয়াল, শ্যাওলায় কিছুটা ঢাকা পড়ে যাওয়া, ওদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। আর তার যেন ওদের কিছুটা হাস্যকর বলে মনে হচ্ছে।  

তিরিয়েজ়া কপালটা কুঁচকোল:

– বির্নার্দু কি এই মন্দিরে এসে থাকতে পারে, তানো?

– এটাতে? জানি না। কিন্তু, তোওকিওতেও, আগে হোক বা পরে, একটা মন্দিরে না গিয়ে পড়াটা কঠিন।    – হয়ত কিছু একটা লিখে রেখে গেছে। কোথাও একটা। ওর কোন গার্লফ্রেন্ডকে আমি কোনদিন চিনতাম না। কিন্তু ওর নিশ্চয়ই কেউ ছিল। 

তানো কিছু বলল না। তারপর এমন কিছু বলল যেটার সঙ্গে তিরিয়েজ়ার প্রশ্নের কোন সম্পর্ক নেই:

– আমার সঙ্গে একটা জায়গায় যেতে আপনার কোন আপত্তি আছে?

তিরিয়েজ়া যুক্তিটা আরেকটু এগিয়ে নিয়ে গেল: 

– কাউকে খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছেটা লিখে রেখে গেছে? বা, হয়ত, কারুর সঙ্গে মিটমাট করার?

ওদের কেউই ঠিক অন্যজনের সঙ্গে কথা বলছিল না। এরকম তো হয়েই থাকে। 

ন’মাস আগে

বির্নার্দু আবার জেগে ওঠে (যদি ওর এই আবার জ্ঞান ফিরে পাওয়াটাকে জেগে ওঠা বলা যেতে পারে) দেখে কোহারু ওর ওপর ঝুঁকে পড়ে আছে, ওর আঙুলগুলোকে তুরপুনের মত করে, ওকে একটা জোড়-দেওয়া পুতুলের মত খুলে ফেলতে ফেলতে।

“কি?!?”

“ভয় পেও না, নাদু”, ইউকিও বলল। 

“ভয় পাব না মানে? এ তো…” 

“কৌশলটা হল হাতদুটোকে চাপানো, কিংবা উপশম করার শক্তিটাকে তাক করা চোখের দৃষ্টি বা নিঃশ্বাসকে ব্যবহার করে, যার সঙ্গে যোগ করা হয় মালিশ, চাপ দিয়ে ছোট করে দেওয়া বা ফুলিয়ে ফেলা, যেটা সেইসব এনার্জির (জমে থাকা সব) ব্লকেজগুলোকে ভেঙে দেয় যেগুলো এনার্জিকে শরীরের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ভাবে ঘুরে বেড়াতে বাধা দেয়, আর একই সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে এনার্জির আদর্শ লেভেলটা নতুন করে ঠিক করে দেয়, কারণ সেটা যদি বেশি, কম বা স্থির হয়ে যায় তো অসুখ হয়ে ফুটে বেরবে। এইভাবে, একটা ট্রিটমেন্টের পর, মানুষের নিজেকে চাঙ্গা আর একই সঙ্গে অনেক শান্ত লাগে।”    

“?!?”

ইউকিও হাসল:  

“আমি তোমার সঙ্গে মজা করছি, নাদু। আমি এটা ইন্টারনেটে পড়েছি।”

“কিন্তু ও তো হাতগুলোকে লাগাচ্ছে না! ও তো আমাকে একটা তুরপুন দিয়ে ফুটো করছে!” 

“চিন্তা কর না, নাদু। আমি যেটা করতে বলেছি কোহারু কেবল সেটাই করছে। এটা তোমার ভালর জন্যেই।”

“আমার ভালর জন্যে?! তোমরা আমায় টুকরো টুকরো করে কাটছ?”

“করতেই হবে, নাদু। করতেই হবে। হয় এটা নয়ত অ্যাসিডে গলিয়ে ফেলতে হবে।”

কোহারু ইউকিওকে জিভ ভ্যাঙচায়। বির্নার্দু ওর হাতদুটোকে দেখে: আজ ওগুলো হাত নয়, নকল হাত।

“কোহারু কি… কোহারু কি… অ্যান্ড্রয়েড?!” 

“যদি এইভাবে বলতে চাও তো। কিন্তু আরও সঠিক ভাবে বলতে গেলে বলতে হয় স্পিরিট।”

“ম-মানে?!”

“তোমার মত। কেবল কোহারু দেহধারণ করতে পারে যখন যেভাবে সে চায়। আর ওর একটা লাগাতার শক্তির উৎস আছে। ও নিজে।”

“আর আমি…”

“আমরা তার জন্যে কাজ করছি, নাদু। কিন্তু তোমায় মিথ্যে বলল না। ব্যাপারটা সহজ নয়।”

“কোহারু একটা স্পিরিট…”

“আমি বলব: একটা ম্যাজিক স্পিরিট। সমস্যাটা আমার, অনেকগুলো মাঙ্গা পড়ে ফেলেছি। কিন্তু ওর সঙ্গে মানুষের মত ব্যবহার করাটাই ও পছন্দ করে।”

“ও… মানুষ নয়?”

“মানে, নাদু, কি করে বলি বল তো? গোড়াতে তা-ই ছিল। একসময়ে একটা মেয়ে যার স্বাস্থ্য দেখে ভাল মনে হত কিন্তু পরে তার বড় বড় সমস্যা দেখা দিতে লাগল। ওর বাবামা খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। ডাক্তারেরা বলেছিলেন যে কয়েক মাসের মধ্যেই ও আর একেবারেই নিজের মধ্যে থাকবে না। ওর বাবার প্রচুর ক্ষমতা ছিল আর তিনি ঠিক করলেন যে তিনি তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে এর একটা চিকিৎসা খুঁজে বার করবেন…”

“ওর টিউমার হয়েছিল?”

“না, নাদু। ওর সমস্যাগুলো ছিল অনেক বেশি… অনেক বেশি অন্য ধরণের। ওর বাবা রীতিমত মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। একমাত্র মেয়ে, বুঝতে পারছ, নাদু? তোমার মতই, একদম, তাই না?”

“ওঃ। স্যরি।”

“তুমিও তো তোমার সঙ্গে মানুষের মত ব্যবহার করাটা পছন্দ কর, তাই না, নাদু?” 

“হ্যাঁ, আমি…”

“স্বাভাবিক। সবাই চায় তাদের সঙ্গে মানুষের মত ব্যবহার করা হোক। সেটা তো এরই অঙ্গ।”

“ও… ও আমার পেটটা ফাঁক করছে। আমাকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলছে। এগুলো… এগুলো তো আমার নাড়িভুঁড়ি?!” 

“শশশশ, নাদু। ভয় পেও না। এটা তোমার ওপর ছাপ ফেলতে পারে, কিন্তু তুমি ব্যথা পাবে না।”

“আমার ব্যথা লাগছে!”

“শশশশ, নাদু। এই ব্যথাটা কল্পনা করা।”

“আমার ব্যথা লাগছে!”

“অসম্ভব, নাদু। স্যরি, তোমাকে এটা বলতেই হচ্ছে, টেকনিকালি তুমি মরে গেছ।”

“আমি… আমি তো এখানে তোমার সঙ্গে কথা বলছি!”

ইউকিও কাঁধ ঝাঁকাল।

“টেকনোলজি চমৎকার একটা জিনিশ, তাই না? ম্যাজিক বলে মনে হয়।”

“আমি স-সত্যি স-সত্যি মরে গেছি?” 

“স-সত্যি স-স-অত্যি”, ইউকিও ওকে ভ্যাঙাল, কিন্তু মজা করে, “এটা দৃষ্টিকোণের ওপর নির্ভর করে।” 

“আমি ম…”

“ভাল খবরটা হল যে তুমি এখনও একটা লোক। কোহারুর মত।”

“আমি মরে গেছি…”

“সেটা একটা যাচ্ছেতাই ব্যাপার, আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু তুমি এখনও কথা বলতে পার, নাদু। মনখারাপ কর না। সেটাও খুব একটা মন্দ নয়। যতক্ষণ কথা বলা যায় ততক্ষণই আশা থাকে।”


[1]Pachinko – গোল গোল স্টিলের বল দিয়ে একরকম জুয়া খেলা। রাস্তার পাশে এর পার্লার থাকে জাপানের সব মহল্লাতেই।

[2]Triad – চীনের সংগঠিত অপরাধের সমিতি, বা চীনে মাফিয়া।

[3]Yakuza – জাপানের মাফিয়া। পুলিশের অনুরোধে জাপানের মিডিয়া তাদের বোওরিয়োকুদান বা ক্রাইম রিং বলে ডাকে আর ইয়াকুজ়ারা নিজেদের নিনকিয়োদানতাই বা সাহসী বীরেদের সংগঠন বলে। ইয়াকুজ়ার আক্ষরিক অর্থ গ্যাংস্টার।

[4]মেরুভল্লুক, পর্ব ১, টীকা ১১ দ্রঃ। 

[5]মেরুভল্লুক, পর্ব ১, টীকা ১২ দ্রঃ।

[6]ইনারি দাইমিয়োও শিনতোওদের একজন প্রধান কামি; ইনি শেয়াল, উর্বরতা, চা আর সাকে, চাষবাস, শিল্প আর সাধারণ সমৃদ্ধি ও জাগতিক সাফল্যের কামি বা দেবতা।

ঋতা রায়
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংক্স্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

©All Rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.