মারিয়ানেলা পর্ব-৪

Marianela-Part 4
বাংলা English
Benito Pérez Galdós
Benito Pérez Galdós
স্পেনের সর্বশ্রেষ্ঠ কথাশিল্পীদের পাশে একইসঙ্গে উচ্চারিত হয় বেনিতো পেরেস গালদোসের নাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক তিনি। তাঁর অন্যতম উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘ফোরতুনাতা এবং হাসিন্তা’,’জাতীয় ঘটনাক্রম’, ‘মারিয়ানেলা’, ‘দন্যা পেরফেক্তা’’ ইত্যাদি।
 বেনিতো পেরেস গালদোস জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৩ সালে গ্রেট কানারিয়া দ্বীপপুঞ্জের ‘লাস পালমাস’ নামক সুন্দর এক দ্বীপে। কর্নেল পিতার মুখে স্পেনের স্বাধীনতা যুদ্ধের গল্প শু্নে বড়ো হয়েছেন গালদোস। স্বাভাবিকভাবেই ঐতিহাসিক কাহিনির প্রতি তাঁর আগ্রহের সৃষ্টি হয় অতি অল্প বয়সে। ১৮৬২ সালে সাহিত্য এবং কলায় স্নাতক হওয়ার পর তিনি সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রহসন-কবিতা, প্রবন্ধ এবং গল্প লিখতে থাকেন। সেই সময় থেকেই চিত্রকলায় আগ্রহী হতে থাকেন। নাটকে বিশেষ আগ্রহ থাকায় তিনি মাদ্রিদে থাকাকালীন প্রায়শই নাটক দেখতে যেতেন। এই শহরেই স্পেনীয় লেখক লেওপোলদো আলাস ক্লারিন-এর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
 গালদোস ছিলেন লাজুক স্বভাবের, সহজ জীবন তাঁর ভালো লাগত,জনসভায় বক্তৃতা দেওয়া পছন্দ ছিল না তাঁর, অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন লেখক, ‘দন কিহোতে’ উপন্যাসটির পাতার পর পাতা তিনি মুখস্থ বলে দিতে পারতেন। বালজাক এবং ডিকেন্স তাঁর প্রিয় লেখক। ১৮৭৩ সালে শুরু করে চল্লিশ বছর ধরে চার খন্ডে ‘জাতীয় ঘটনাবলি’ রচনা করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর স্পেনীয় জীবনের এই আলেখ্যটি মহান সাহিত্যকীর্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং ইতিহাস-ভিত্তিক উপন্যাস রচনার ধারাটিকে পুষ্ট করে।বাস্তববাদী লেখক গালদোসের অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে ৫১টি উপন্যাস,২৩টি নাটক এবং ২০টি খণ্ডের অন্যবিধ রচনা। তিনি ছিলেন বহুপ্রজ লেখক।
 ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘দন্যা পেরফেক্তা’(Dona Perfecta) অর্থাৎ ‘শ্রীমতী পারফেক্ট’। এই উপন্যাসের মূল বিষয় মতাদর্শগত সংঘাত। ১৮৮৯ সালে স্প্যানিশ রয়্যাল একাডেমির সদস্যপদ লাভ করেন গালদোস। জীবনের শেষ দিকে তিনি নাটক রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। স্পেনের অন্যতম সমকালীন লেখক পিও বারোহার(উচ্চারণভেদে বারোখার )মতে ‘তিনি জানতেন মানুষকে কীভাবে কথা বলাতে হয়।‘ লোকজীবনের সাদামাঠা ভাষাই ছিল তাঁর পছন্দ, অলঙ্কারসমৃদ্ধ জমকালো বাক্য তিনি লিখতেন না।
 ১৯১২ সালে নোবেল পুরস্কারের জন্যে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয় এবং স্পেনের সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন ওঠে কিন্তু শেষপর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়। অসম্ভব জনপ্রিয় গদ্যকার বেনিতো পেরেস গালদোস ১৯২০ সালে মাদ্রিদে প্রয়াত হন। কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ তাঁর অন্ত্যেষ্টিতে অংশগ্রহণ করেন। 
Marianela - Benito Pérez Galdós
Marianela – Benito Pérez Galdós

মারিয়ানেলা

পর্ব-৪

পাথর পরিবার

 ছোট্ট পায়ে পথের বাধা অতিক্রম করে নেলা কর্মশালার পেছনে বাড়ির দিকে যায়, বাড়ির সামনে আস্তাবল,সত্তরটা পোষা খচ্চর তখন জাবনা খাচ্ছে।সেন্যোর সেন্তেনোর আধুনিক বাসস্থান এটি, এখানে কোনো কিছুই সুন্দর কিংবা আরামপ্রদ নয়, ছোটোখাটো ছাদের তলায় তিনটে ছোটো ঘরে সেন্তেনো, তার স্ত্রী, চার ছেলে, একটা বেড়াল এবং নেলা থাকে। অনেক বাড়ির মধ্যে অহঙ্কারের সঙ্গে এটিও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে,সামনে লেখা আছে-‘ফোরম্যানের বাসস্থান।’

 মারিয়ানেলার মুখে আগেই শোনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ থকে বাড়ির ভেতরের একটা ছবি পাওয়া গেছে, মোটকথা, সেখানে মারিয়ানেলা এক বোঝা ছাড়া কিছু নয়।আসলে সবার জায়গা আছেস্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়েদের কাজের সবকিছু, হাজারো অকাজের সামগ্রী, বেড়াল,তার খাবার বাটি, তানাসিওর গিটার, নানা আকারের বাক্স, খচ্চরের গলায় বাঁধার হাফডজন বেল্ট, ময়নার খাঁচা, অব্যবহৃত সসপ্যান, সেন্তেনোর প্রার্থনা করার বেদি, শুকনো ফুলের স্তুপ, কয়েকটা বাতি, তার ওপর ঝাঁক ঝাঁক মাছি, সবার জায়গা আছে, একমাত্র কানেলার মেয়ের জন্যে জায়গা নেই।মাঝে মাঝে শোনা যায়:

 “এই নেলা ছুঁড়ির জন্যে পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত আমাদের নেই।”

আরও শোনা যায়:

 “ওই কোণটায় চলে যা…কি একেবারে রাজরাণী! সবাইকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে ওর জন্যে!”

 বাড়ির তিনটে ভাগ আর আছে একটা চিলেকোঠা।প্রথম ভাগে অলিন্দ এবং হল, বড়ো ছেলেদের তিনটে শোবার ঘর।দোতলায় ছোটো দুই মেয়ে, এরা বড়ো হচ্ছে, এদের নাম মারিউকা এবং পেপিনা।বড়ো ছেলের নাম তানাসিও, থাকে চিলেকোঠায়, সবচেয়ে ছোটোটার নামসেলিপিন, বারোয় পড়েছে, সে শোয় রান্নাঘরে, সেনতেনিল থাকে যে ঘরে সেটা ভেতর দিকে, সবথেকে দূরে, অন্ধকার এবং বাসযোগ্য নয়।

 অনেক বছর নেলা এই বাড়িতে আছে, তার শোবার ব্যবস্থা বিভিন্ন কোণায়, এক কোণ থেকে অন্য কোণে তাকে চলে যেতে হয় কারণ নানারকম অদরকারি জিনিসে ভর্তিহয়ে যায় একেকটা কোণ, এই জিনিসগুলো কোনো কাজে না লাগলেও মানুষের চলাফেরার জায়গা শুধু ওরা দখল করে নেয়।তানাসিওর পা যেমন অকেজো মাথাও তেমন দুর্বল, সে খড়ের ঝুড়ি বানায়, রান্নাঘরে সে ওগুলো জমা করে রাখে। একসময় জমে ওঠে আধডজন ঝুড়ি।তখন কানেলার মেয়ে দুঃখের সঙ্গেলক্ষ করে যে, তার বিশ্রামের জায়গাটুকুও আর খালি নেই, কিন্তু এই বিপত্তি তার মাথায় ঢুকিয়ে দেয় নতুন ভাবনা। একটা ঝুড়ির মধ্যে সে ঢুকে যায়, রাতে ভালো ঘুম হয়। আরামকরে শোবার জায়গাটা পেয়ে তার খুব আনন্দ হয়, শীত করলে একটা ঝুড়ি দিয়ে গা চাপা দেয়। ঝুড়িযত জমে ততই ভালো, তার থাকার জায়গার অভাব হয় না।তাই বাড়ির সবাই বলে:

 “রাণীর মতো ঘুমোয় ছুঁড়ি।”

 খাবার সময় সকালের কাজকর্ম নিয়ে কথা হয়,আবোলতাবোল কথার মধ্যে একট স্বর শোনা যায়, বড়ো কর্কশ লাগে সেই স্বর, “নে!বেচারা নেলা বড়ো ছোটো যে কোনো সেন্তেনোর হাত থেকে একটা ভাঙা পাত্র নেয়, একপাশে বসে খুব অশান্তিতে সামান্য খাবারটুকু খায়। খাওয়াদাওয়া শেষ হলে সেন্যোর সেন্তেনোর গলা শোনা যায়,স্ত্রীকে রাগতভাবে কঠোর স্বরে বলে: “বেচারা নেলাকে আজ কিছুই খেতে দিলে না!” মাঝে মাঝে এমনও হয় যে, সেন্যানা (সেন্যোরা আনা থেকে এই সংক্ষিপ্তকরণ) চোখ ঘুরিয়ে ছেলেমেয়েদের মাথা ছাড়িয়ে এক ক্ষুদ্র দূরবর্তী বস্তুকে খুঁজতে খুঁজতে বলেন: “ওখানে কে রে? আমি ভাবছিলাম আজও সে আলদেয়াকোর্বাতেই আছে।”

 রাতের খাবারের পর সবাই প্রার্থনা করে।বাকোর পাদ্রির মতো কাঁপতে কাঁপতে চোখ কচলাতে কচলাতে মারিউকা এবং পেপিনা নিজেদের বিছানায় ঢুকে পড়ে, বেশ নরম আরামদায়ক বিছানা, পুরনো ইয়লা ছেঁরাফাটা পোশাক জমা-করা মোটা বিছানা।

 অল্পক্ষণ পরে দুজনের একটানা নাকডাকার শব্দ শুরু হয়ে যায়।দ্বৈতকন্ঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে ভোর পর্যন্ত।

 তানাসিও উঁচু বিছানায় চলে যায় আরসেলিপিন পুরনো কম্বলের মধ্যে প্রবেশ করে, নেলা ওদের কাছাকাছি কোনো ঝুড়ির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়।

 ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ার পর ওদের মা বাবা বড়ো ঘরে কিছুক্ষণ বসে, সেনতেনো টেবিলের সামনে বসে খবরের কাগজ তুলে পড়ার চেষ্টা করে। তার মুখচোখে নানারকম অভিব্যক্তি দেখে মনে হয় জোর করে পড়ার চেষ্টা করছে, সেন্যানা কাঠের বাক্স থেকে টাকা বের করে গুণতে থাকে, কয়েক টাকা রেখে কয়েকটা তুলে নেয়,তারপর সবগুলো গুছিয়ে রেখে দেয় যথাস্থানে।স্বর্ণমুদ্রা মোড়া কয়েকটা ঠোঙা তুলে অন্য বাক্সে রাখে।টুকরো টুকরো কথাবার্তা শোনা যায়, সেগুলো এইরকম :

“মারিউকার স্কার্ট কেনার জন্যে বত্রিশ রেয়াল আমি নিয়েছি…তানাসিওর কাছে ছয় রেয়াল নিয়েছিলাম, সেটা ফেরত দিয়ে দিয়েছি…পঞ্চাশ হতে আমাদের কয়েকটা মুদ্রা লাগবে”।

কিংবা এইরকম:

“ডেপুটিরা বলেছেন…গতকাল মিটিং ছিল” ইত্যাদি।

সেন্যানা আঙুলের গাঁট গোনে এবং সেন্তেনো অক্ষরের গোলকধাঁধাঁয় ঢুকে দ্বিধাগ্রস্ত মনে হাতড়ে হাতড়ে পছন্দের খবর বেছে বেছে পড়ে।

বাক্য ক্রমে পরিণত হয়ে যায় ভাঙা ভাঙা শব্দে, তারপর শব্দ ছোটো হতে হতে হয় এক বর্ণের; হাই তোলার শব্দ শোনা যায়, তারপর নিটোল নৈঃশব্দ্য, আলো নিভে যায়, খচ্চরচালক সেই আলোর আভায় নিজেকে কিছুটা শিক্ষিত করছিল।

এক রাতে সবকিছু নিস্তব্ধ,রান্নাঘরে ঝুড়ির শব্দ শোনা গেল।জানালার কাঠের পাল্লা খোলা থাকায় এক টুকরো আলো আসছে,সেলিপিন তখনও ঘুমোয়নি, একটার ওপর একটা  করে সাজানো দুটো লম্বা ঝুড়ি আলাদা হয়ে গেছে, শামুকের খোলের মতো খোল।ফাঁক দিয়ে নেলার নাক আর কালো চোখদুটো দেখা যাচ্ছে।

-সেলিপিন, ও সেলিপিন—মেয়েটা হাত বের কর ডাকে—ঘুমোচ্ছিস?

-নারে,আমি জেগে আছিতো।তোকে শামুকের মতো দেখাচ্ছে।কী বলছিস?

– এই যে একটা  পেসেতা, নে,আজ সন্ধেবেলা আমাকে দিয়েছিল দন কার্লোস-এর এক ভাই…কত জমিয়েছিস?…এটা তোকে আমি উপহার দিচ্ছি।আগে তোকে যা দিয়েছি সব ছোটো ছোটো কয়েন।

 -দে,দে, অনেক ধন্যবাদ নেলা,–পেসেতাটা নেবার জন্যে সে ধড়পড়িয়ে উঠে পড়ে; ছোটো ছোটো কয়েনগুলো জমিয়ে হয়েছে বত্রিশ রেয়াল…সব বুকের মধ্যে ধরে রেখেচি, তুই যে থলেটা দিয়েছিলি তার মধ্যে সব আছে।তুই খুব ভালো মেয়ে।

 -আমি টাকাপয়সা চাই না।ভালো করে রেখে দে,তোর মা জানতে পারলে ভাববে যে,পাপকর্ম করে ওটা তুই পেয়েছিস, তোকে মারবে।

 -না, পাপ না, কোনো খারাপ কাজ করে পয়সা পাইনি – একহাতে মাথা রেখে, বুকের ওপর আরক হাতে পায়সাটা ধরে বালক বলে;

 -আমি টাকাওয়ালা মানুষ হব, নেলা, অনেক ধনী মানুষকে আমি চিনি। রবিবার যদি ‘ভিইয়ামোহাদা’ যাবার অনুমতি পাই,আমি বই কিনে আনব, পড়তে শেখার বই, এখানে আমাকে কেউ পড়তে শেখাবে না। নিজে নিজে পড়ব। হা ঈশ্বর! নেলা জানিস, লোকে বলে যে, দন কার্লোস-এর বাবা মাদ্রিদে রাস্তা ঝাঁট দিত।সে একা একা, ঈশ্বরের দয়ায় এত লেখাপড়া করেছে।

 -তুই বোধহয় সেইরকম হতে চাস, তাই না?

 -ঈশ্বর যদি দয়া করেন এই অভিশপ্ত খনি থেকে আমার মাবাবা আমাকে মুক্তি দিতে চাইবে না, আমি নিজের পথ দেখে নেব; হ্যাঁরে, সত্যি বলছি, একদিন তুই দেখবি সেলিপিন কে।

 নেলা,এসব কাজের জন্যে আমার জন্ম হয়নি।তুই আমাকে পয়সা এনে দিবি, আমি জমিয়ে অনেক টাকা করে ফেলব,দেখবি কেমনভাবে আমি নিজেকে তৈরি করি, একদিন হয়তো মাদ্রিদ্র-এর ট্রেনে চেপে চলে যাব কিংবা স্টিমারে চেপে অনেক দূরের কোনো দেশে চলে যাব অথবা এমন কাজ নেব যাতে লেখাপড়া করার সুযোগ পাওয়া যায়।

 -ঈশ্বরের মায়ের নামে দিব্যি! এতসব ইচ্ছে তুই চেপে রেখেছিস? – শামুকের খোল থেকে বেরিয়ে বলে নেলা।

 -তুই কি আমাকে হাঁদা ভাবিস? ওরে নেলা, আমার ভেতর রাগ জমে আছে। এভাবে আমি বাঁচতে পারব না, খনিতে থাকলে আমি মরে যাব, ঈশ্বর সাক্ষী! সারারাত ধরে আমি কাঁদি আর হাত কামড়াই…ভয় পাস না নেলা, আর এখন তোকে এসব কথা বলছি বলে আমাকে বদমাশ ভাবিস না, একমাত্র তোকেই কিছু কথা বলব।

 -কী?

 -বলছি যে,মাবাবাকে যতটা ভালোবাসা উচিত আমি তত বাসি না।

 -এই,এসব করলে তোকে এক রেয়ালও দেব না।সেলিপিন,ঈশ্বরের ভালোবাসার নামে দিব্যি, যা বলছিস ভালো করে ভেবে বল।

 -আমি মাথা থেকে এই ভাবনা তাড়াতে পারছি না। তুইতো দেখছিস ওরা আমাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে। হা ঈশ্বর! আমরা জানোয়ার, মানুষ নই। মাঝে মাঝে মনে হয় খচ্চরের চেয়েও খারাপ আমাদের অবস্থা আর নিজের মনেই প্রশ্ন আসে,একটা গাধার সঙ্গে আমার তফাত কী…চুনাপাথরের বস্তা মাথায় করে নিয়ে ওয়াগনে ফেলা, ওয়াগন ঠেলে বয়লারে নিয়ে যাওয়া, লাঠি দিয়ে ঠেলে জলে ধোয়া। এই তো জীবন!—এতটা বলার পর কান্নায় ছেলের গলা বুজে আসে- ঈশ্বর সব জানে। অনেক বছর এমন কাজ করতে করতে মানুষ খারাপ হয়ে যায় আর ব্রেণ হয়ে যায় চুনাপাথর…নারে, সেলিপিন এসব কাজ করবে না…মা বাবাকে আমি বলি যে, আমাকে এখান থেকে বের করে লেখাপড়া করার সুযোগ দাও, ওরা বলে, আমরা গরীব, আমার ইচ্ছেগুলো না কি অবাস্তব! কিচ্ছু না, কিচ্ছু না, আমরা কিছু রোজগার করি কিন্তু জন্তুর চেয়ে আমরা একটুও ভালো নেই…তুই কিছু বলছিস না কেন?

 নেলা উত্তর দেয়নি, সম্ভবত এই ছেলেটার দুর্দশার সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা করছে সে আর অসম্ভব দুঃখে মন ডুবে যাচ্ছে।

 শেষে অবশ্য বলল:

 -কী বলব বলতো? আমি তো নিজেই অপদার্থ, আমি তো মানুষ নই, তোকে কিছু বলার ক্ষমতা আমার নেই…শুধু এইটুকু বলছি যে, মা বাবা সম্বন্ধে অত খারাপ চিন্তা করিস না, ওসব বাজে ভাবনা ঝেড়ে ফ্যাল।

 -আমাকে সান্ত্বনা দেবার জন্যে এসব কথা বলছিস, কিন্তু তুই তো জানিস আমি যা বলছি ঠিকই বলছি…এই মনে হচ্ছে, তুই কাঁদছিস?

 -না,আমি কাঁদছি না।

 -হ্যাঁ,কাঁদছিস তুই।

 -প্রত্যেকের নিজের নিজের দুঃখ আছে, তাই সবাই কাঁদে…কথা বলতে বলতে নেলার গলা বন্ধ হয়ে আসে…কিন্তু অনেক রাত হয়েছে, সেলিপিন, এখন ঘুমিয়ে পড়।

 -ঘুম আসছে না এখনও…

 -আর বাজে চিন্তা করিস না,এখন ঘুমো; শুভরাত্রি—বোয়েনাস নোচেস!

 শামুকের খোলের মধ্যে আবার প্রবেশ করল নেলা, চারপাশে এখন ঘন নৈঃশব্দ্য।

 শহরের ভালো দিকের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা হয়েছে, বৈভব আর বিলাসিতা সমাজের নৈতিক ভিত্তিটা কুড়েকুড়ে খেয়ে ফেলে, কিন্তু তার চেয়েও ভয়ংকর রোগ আছে,গ্রামের সদর্থক দিক হল যে, লক্ষ লক্ষ মানুষের মহান উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো খেয়ে ফেলে, যন্ত্রের মতো জীবনযাত্রায় মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, সে জীবন নৃশংস এবং অন্ধকার।আমাদের সমাজে ভয়াবহ শত্রুরা জাঁকিয়ে বসে আছে; যেমনবাজি ধরা, মিথ্যে আশা, ভদ্রলোকের স্থবিরতা; কিন্তু সবার ওপর বসে আছে এক বীভৎস রাক্ষস যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর; সেটা হল গ্রামের মানুষের লোভ।লোভীর নৈতিকতার সীমাপরিসীমা নেই,তার আইন নেই,ধর্ম নেই, মঙ্গল অমঙ্গল চিন্তা নেই,তার মনে অজস্র কুসংস্কার আর স্থূল অঙ্ক, তার সবকিছু বুঝিয়ে বলাও যায় না। ভণ্ডামি বুজরুকি দিয়ে আবৃত ধূসর অঙ্ক যা সূক্ষ্ম চতুরতায় গণিতজ্ঞদের বিদ্যাকেও হার মানায়। গ্রামের এক সাধারণ লোক একটা হোটো তামার মুদ্রা পেলে তো রূপোয় রূপান্তরিতকরার কথা ভাবে, তারপর সেটাকে করতে চায় সোনা, এই লোভই সর্বনেশে দানব, এমন মারাত্মক বিষ সবকিছু বিষিয়ে দিতে পারে; মানুষের এইসব চতুরতা আর বদবুদ্ধি তার ভালো অনুভূতির মৃত্যু ঘটায়, সংবেদনশীলতার অপমৃত্যু ভয়ংকর অভিশাপ। তখন মানুষের মন হিসেব ছাড়া কিছু বোঝে না। অজ্ঞতা, বর্বরতা আর দুর্দশা নিয়ে আসে এমন ঘৃণ্য পরিমণ্ডল, তখন মানুষের মনের ভেতর গোপনীয়তা বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। আঙুলের গাঁট গুণে গুণে এই মানুষ সমস্ত নৈতিক শৃঙ্খলাকে সংখ্যায় পরিণত করে, তা থেকে বাদ যায় না বিবেক এবং আত্মা।

 সেন্যানা এবং তার স্বামী সেন্তেনো অনেক  জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করার পর শেষে সোকার্তেস-এর খনিতে এসে এক টুকরো রুটির সন্ধান পেয়েছেন,চার ছেলেমেয়েকে কাজে লাগিয়ে এখন রাজপুত্রের মতো জীবন কাটাচ্ছেন, তার আগে মেলায় মেলায় ঘুরে ওরা মাটির পট বিক্রি করত। সেন্তেনোর বুদ্ধিশুদ্ধির তারিফ করে মানুষ বলতেই পারে যে, কর্মশালার মাথায় বসানো লোয়ার যন্ত্রের মতোই তার মাথা; সেন্যানার কিন্তু তা নয়, সাধারণ জ্ঞান এবং হিসেবে পটু মহিলা রাজ্যের দক্ষ শাসকের চেয়েও সুষ্ঠুভাবে সংসার চালাতে পারে। স্বামী এবং ছেলেমেয়েদের রোজগারের অর্থ জমিয়ে সে একটা মজবুত সঞ্চয় করতে পেরেছে, যতবার সে জমানো অর্থ দেখে ততবারই তার মনে হয় যে, তার বাড়িতে প্রবেশ করেছেন দয়ালু যিশুখ্রিস্ট।

 ছেলেমেয়েরা ঘাম ঝরিয়ে যা রোজগার করে মায়ের হাতে তুলে দেয় তার বিনিময়ে সেন্যানা তাদের যৎসামান্য প্রতিদান দেয়, যে বীভৎস কার্পণ্যের মধ্যে কষ্ট করে দিন কাটে তার বিরুদ্ধে তারা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে না, এ থেকে মুক্তির কোনো লক্ষণ ওরা দেখতে পায় না, এর চেয়ে ভালো জীবনের স্বপ্ন ওরা দেখে না, বুদ্ধিমান মানুষরা যেরকম সম্মানের সঙ্গে বাঁচে সেরকমভাবে বাঁচার আশা এরা করতে পারে না, শ্রীমতী সেন্যানা এভাবেই দিন কাটিয়ে দিতে চায়।ছেলেমেয়েরা কতদিন ভালো বিছানায় শোয়নি, কতদিন বাড়ন্ত দেহের ছেলেমেয়েরা সুন্দর পোশাক পরতে পায়নি। নিয়মমতো উচ্ছিষ্ট খেয়ে তাদের দিন কাটে,শরীর সুস্থ রাখার পরামর্শ মেনে এমন আহারের ব্যবস্থা, কিন্তু খাবার মুখে তোলা যায় না, মানুষকে পশুর খাদ্য খাওয়ানো হয়। বুদ্ধিবৃত্তি বৃদ্ধির প্রসঙ্গে শ্রীমতী সেন্যানার অকাট্য যুক্তি হল যে, তার স্বামী প্রচুর লেখাপড়া করে যে বিশাল জ্ঞান অর্জন করেছে তাতে একটা পরিবারের সবাই বেশ পণ্ডিত বনে যেতে পারে; তাই স্কুলে পাঠিয়ে ছেলেমেয়েদের বস্তাপচা শিক্ষা দেবার কথা সে ভাবে না। ওই শিক্ষায় ছেলেমেয়েদের মনের উন্নতি হয় না। বড়োরা স্কুলে গেলে সবচেয়ে ছোটোটা শিক্ষকের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে বারো ঘন্টা খনির মধ্যে পশুর মতো কাজ করে আর পুরো পরিবারটি অশিক্ষার সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে সুখে দিন যাপন করে।

দুই মেয়ে মারিউকা এবং পেপিনার আনন্দের অভাব নেই, যৌবনের উল্লাসে আর উন্মাদনায় তারা বেশ ফুর্তিতেই থাকে।এদের একজন জীবন থেকে শেখে; অন্যজন কিছুই শেখে না,যতই তারা পরীদের অবাস্তব রাজ্যের কথা ভাবুক দিনযাপনের মধ্যে দিয়ে যা দরকার তা শিখে নিতে পারে, যন্ত্রের মতো কাজ করলেও চোখকান তোখোলা থাকে।মারিউকা এবং পেপিনা বেপরোয়া, ঋজু, শক্তিশালী এবং আমাজন নদীর মতো উচ্ছল।ছোটো স্কার্ট পরে, ঊরু দেখা যায়, মোটা পা খালি থাকে, মাথা যেন কোনো প্রাচীন স্থাপত্যের অংশ।তাদের সারা দেহে চুনাপাথরের ধুলো, খনিতে যারা কাজ করে সবারই এমন থাকে, মেয়ে দুটোকে মাটির বিশাল প্রতিমার মতো দেখায়।

 তানাসিও এক উদাসীন ছেলে। উচ্চাশা আর চরিত্রের দৃঢ়তা নেই বলে ও হাবাগোবা বনে গেছে।শৈশব থেকেই ও ঘরবন্দি থাকতে ভালোবাসে, দুষ্টুমি বলে কিছু জানে না, উল্টো প্রকৃতির ছেলে; আনন্দ,যন্ত্রণা,মন কেমন করা ইত্যাদি অনুভব থেকে অনেক দূরেথাকে তার মন, জন্ম থেকেই সে এক যন্ত্র,ধীরে ধীরে যন্ত্রটি আরও ভোঁতা হয়ে গেছে। একদিন যদি এই ছেলের মাথায় নিজের একটা ভাবনা আসত সবকিছু অদ্ভুতভাবে বদলে যেতে পারত যা পাথরের মাথায় কখনও আসে না।

 পরিবারের শাসক মা,তার সঙ্গে ছেলেমেয়েদের সম্পর্কের প্রধান শর্ত হল সম্পূর্ণ মান্যতা, সেন্যানার আদেশ সকলকে মানতেই হবে। একমাত্র ছোটোটার মধ্যে বিদ্রোহের ইঙ্গিত দেখা যায়।ছেলেটার সঙ্গে সামান্য কথাবার্তা হয় মায়ের,কিন্তু তাতে মা বুঝতে পারে না কেন সে পাথরের মতো নিঃসাড় না হয়ে আশাআকাঙক্ষা আয়ত্ত করে ফেলে? সৌভাগ্যবশত পাথরের চেয়ে সুখী এবং সমৃদ্ধ জীবন পৃথিবীতে আছে।জীবন বদলে যেতে পারে এমন বিশ্বাস মায়ের নেই, চারপাশের অবস্থা দেখেও সে আঁচ পায় না।সেন্যানা ছেলেমেয়েদের কিন্তু ভালোবাসে; তবে ভালোবাসাররূপ তো অনেক! খনিতে চিরটাকাল কাজ করে যাওয়াকে মা সবার ওপর স্থান দেয়,তার ইচ্ছেতে সবার রোজগার একটি জায়গায় জমাতে হবে, অন্ধভাবে তার কথা মানতে হবে আর পাগলের মতো অন্য কোনো আশাআকাঙ্ক্ষা পোষণ করা যাবে না, কল্পনায় মেতে ওঠা চলবে না, সময়ের আগে বিয়ে করা চলবে না, কোনো বজ্জাতি নয়,জ্ঞানার্জনের ইচ্ছে নিষিদ্ধ, কারণ সে বলে, গরীব চিরকাল গরীবই থাকে, গরিবিয়ানা থাকবে চলচলনে, ধনী কিংবা শহুরে লোকের মতো বাবুগিরি চলবে না, ওদের জীবন খেয়ে ফেলে লোভ পাপে পচে যায় ওদের জীবন।

 সেন্তেনোর বাড়ির ছেলেমেয়েরা কেমন ব্যবহার পায় আমরা তা দেখলাম, এথেকেই বোঝা যায় নেলা কীরকম ভাবে বেঁচে থাকে। পরিত্যক্তা, নিঃস্ব, অপদার্থ, অর্থ উপার্জনে অক্ষম, অতীত এবং ভবিষ্যৎবিহীন, কূলপরিচয়বিহীন, নিরাশ, ব্যক্তিত্বহীন মেয়েটির শুধুমাত্র প্রাণে বেঁচে থাকা ব্যতীত কোনো অধিকার নেই। সেন্যানার বদ্ধ ধারণা যে, তার ঔদার্য বিরল বীরত্বের সঙ্গে তুলনীয়। নেলার ভাঙা থালাটায় খাবার বেড়ে দিয়ে তিনি নিজের মনে বারবার বলেন:  -“স্বর্গে আমার ঠাঁই হবেই, এত দরিদ্রসেবা করছি এমনি এমনি?” দেবদূতের মতো তাঁর এই বিশ্বাস। তাঁর মোটা মাথায় এই দানটুকুর ওপর অন্য কোনো আলো প্রবেশ করতে পারে না।তিনি বুঝতে পারেন না যে, একটু ভালোবাসার কথা, একটু আদর আর স্নেহ  মেয়েটির ক্ষুদ্রতা ভুলিয়ে দিতে পারে, দুঃখী মানুষের দূর করতে পারে একটু দরদ, অখাদ্য উচ্ছিষ্ট দেওয়ার চেয়ে এইটুকু দান অনেক দামী।বেড়ালটাকে কি তা দেন না? সে অনেক মিষ্টি আদরের ডাক শুনতে পায়, ‘মেনি, আয়, আয়, খেয়ে নে, মিষ্টি মিনি খায়।’ এসব কথা নেলার ভাগ্যে জোটে না, বেড়ালটা কতই না আদর আর ভালোবাসা পায়, কিন্তু হায় রেনেলা! সে যে বড়োই অভাগিনী! বাড়ির অন্যদের মতোই নেলাও যে মানুষের জন্ম পেয়েছে এই কথাটা ঘুণাক্ষরে তাকে বুঝতে দেওয়া হয় না। মারধোর যেশুধু খেতে হয় তা নয় তবে শরীরটার ছোটোখাটো গড়নের জন্যে একটা ঘৃণা তার ওপর বর্ষণ করা হয়; নেলা বুঝতে পারে যে, মানুষের মর্যাদা সে এদের কাছে কখনই পাবে না। তাকে কখনই বুঝতে দেওয়া হয় না যে, একটু  আদর যত্ন পেলে তার মনও বিকশিত হতে পারে, তার যে মন বলে কিছু আছে তাও স্বীকার করা হয় না, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি বলতে যা বোঝায় তা এ মেয়েরও আছে, শুধুমাত্র সামান্য যত্ন পেলে তার বুদ্ধিমত্তার আলো ছড়িয়ে পড়ত আর মানুষের কত মঙ্গলই না ঘটত। কখনও তাকে বুঝতে দেওয়া হয় না যে, তার ক্ষুদ্র শরীরের মধ্যেই আছে মানুষের যত সংবেদন এবং মহান ভাবনার উৎস, তা থেকে ফুটে উঠতে পারে অসংখ্য সুন্দর পবিত্র ফুল, খুব যত্নের প্রয়োজন হয় না, মাঝে মাঝে একবার তাকালে ফুল নিজেকে ধন্য মনে করে। কদাপি তাকে বুঝতে দেওয়া হয় না যে, তার অধিকার আছে, প্রকৃতির নিয়মে তার বড়ো হবার, সুযোগ পাওয়ার হক আছে, একটু মনোযোগ তার প্রাপ্য ছিল ; যারা স্বাস্থ্যবান, সবল, যাদের মাবাবা আছে, নিজেদের বাড়িঘর আছে অথচ খ্রিস্টীয় বিচারধারায় প্রতিবাদী, দরিদ্র, অনাথ এবং সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত বলে বিবেচিত হয় তাদের এমন মনোযোগ না হলেও চলে।

 উল্টোদিকে, তাকে এক পাথরখণ্ডের মতো ভাবা হয়; অথচ তার শরীরের আকার পুষ্টি লাভ করেনি, কিন্তু প্রকৃতি থেকে সে জল পায়, জলের টানে মন খুশি হয়, আবার মানুষের ঘৃণায় লাথিও খায়। সবাই তাকে দেখিয়ে দেয় যে, বাড়ির ব্যবস্থায় তার স্থান বেড়ালের নীচে, বেড়ালটার পিঠে আদরের নরম স্পর্শ পড়ে, খাঁচার ময়নাটা পর্যন্ত তার ওপরে, নিজের খাঁচার ভেতর কি আনন্দে গান গায় ময়না!

এদের মধ্যে একজনও নিস্পৃহ মমতায় কখনও বলে না: “ওরে হতভাগিনী, এর চেয়ে মরাও ঢের ভালো ছিল।”

ক্রমশ…

Tarun Kumar Ghatak

তরুণ কুমার ঘটক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্প্যানিশ ভাষায় প্রাক্তন শিক্ষক ও  হিস্পানিক সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অনুবাদক।  ‘দন কিহোতে’ এবং  ‘নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ’ সহ বিয়াল্লিশটি গ্রন্থের অনুবাদক। ‘দন কিহোতে’ লীলা রায় স্মারক পুরস্কার অর্জন করে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাঁর অনুদিত গল্প কবিতা ছাড়াও প্রকাশিত হয় স্পেন ও লাতিন আমেরিকার সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

One comment

  • Krishna Gangopadhyay

    এক দম চাপা নিরুপায় জীবনের নিখুঁত আঁকা ছবির মত ভাষা। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *