ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় পর্ব-১

Manual Do Bom Fascista
বাংলা English
Rui Zink
Rui Zink

 রুই জিঙ্ক
 ‘বই লেখে, ক্লাস নেয়, নানা জিনিস কল্পনা করে’ – নিজের বর্ণনায় রুই জিঙ্ক এমনই । ১৯৬১ সালে লিসবনে জন্ম। পেশা অধ্যাপনা। প্রথম উপন্যাস ‘অতেল লুজিতানু’(১৯৮৬)। তাঁর ‘A Arte Suprema’(২০০৭) প্রথম পর্তুগিজ গ্রাফিক নভেল । তাঁর 'Os Surfistas’ পোর্তুগালের প্রথম ইণ্টারঅ্যাক্টিভ ই-নভেল । তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪৫ । ২০০৫ সালে তিনি ‘Dadiva Divina’ উপন্যাসের জন্য Pen Club পুরস্কার পান । বাংলায় তাঁর অনূদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘নয়ন’, ‘এক সমুদ্দুর বই’, ‘ভয়’, ‘শেষের সে দিন’, ‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ’, ‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা’ ইত্যাদি । এই সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে শুরু হচ্ছে রুই জিঙ্কের 'Manual Do Bom Fascista'-এর বাংলা অনুবাদ 'ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায়'। অনুবাদক ঋতা রায়।
Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista – Rui Zink

ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায়

পর্ব ১

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এই বইটি রুই জ়িঙ্কের বড়দের জন্যে লেখা এখন অবধি শেষ বই। এই নন-ফিকশানটি লেখকের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইও বটে। রুইয়ের মতে এটি তাঁর সবচেয়ে বেশি “পোর্তুগিজ” বই। বইটির শুরুতে উৎসর্গ ও সূচিপত্রের পর একটি ভূমিকা আছে – “একটা ফাঁক পূরণ করা হল”। এরপরে বইয়ের মূল অংশ – পাঁচটি পর্ব যা কিনা আবার নিরানব্বইটি লেসন বা পাঠে বিভক্ত। আমরা শুরু করব উৎসর্গ দিয়ে, তারপর ভূমিকা হয়ে চলে যাব প্রথম পর্বে, যার নাম “শিক্ষার আনন্দ”; এই পর্বে আছে একুশটি পাঠ।   

 উৎসর্গ

 যে (বেচারা) ভবিষ্যৎ জানেও না তার অদৃষ্টে কি আছে, তার উদ্দেশ্যে

 আমাদের বিশিষ্ট দাদু-দিদিমা-ঠাকুমাদের উদ্দেশ্যে,

 যাঁরা (এখন অবধি) আমাদের  চেয়ে বেশি কষ্টভোগ করেছেন মানুষের স্মৃতিশক্তিহীনতার উদ্দেশ্যে ও যেটা এখন ভুলে গেছি এরকম আরও একটা কিছুর উদ্দেশ্যে

 একটা ফাঁক পূরণ করা হল

ভূমিকা

একদিন আমি আধ্যাত্মিক নির্জনবাস হেতু একটা ক্যাফেতে বসেছিলাম, হেনকালে কম্পমান কাপা ও বাতিনা[1] পরিহিত এক তরুণ আমার সমীপস্থ হল: “গুরুদেব, কিরূপে একজন উত্তম ফ্যাসিস্ট হওয়া যায়?”

                “বাছা, আমার হাতটা ছেড়ে র‍্যাগিং করোগে যাও” এই বলে তাকে তাড়িয়ে দিলাম না দেখে আমি নিজেই খুব অবাক হয়ে গেলাম। বরং কয়েক মুহূর্ত গভীর চিন্তাভাবনার পর অনুভব করলাম যে বিষয়টা যা মনে হচ্ছে তদপেক্ষা বেশিই গুরুতর।

                এই কারণেই বেশি চিন্তাভাবনা করাটা আমি এড়িয়ে চলি: যখনই আমরা কোন কিছুর বিষয়ে একটু বেশি ভেবে ফেলি, তা সে যা-ই হোক না কেন, তখনই সেই বিষয়ের – তা সে যা-ই হোক না কেন – কোন একটা অসামান্য গুরুত্ব আবিষ্কার করে ফেলি।

                যাই হোক। কোন একটা বিষয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমনোর চেয়ে ভাল কিছু আর হয় না এবং আমি ঠিক তাই-ই করলাম। পরদিন সকালে, হাতমুখ প্রক্ষালনের সময়ে, ওই অজ্ঞ তরুণের অনিশ্চয়তার উত্তরটা আমি পেয়ে গেলাম। আর সেই উত্তরটা ছিল নির্বোধের মত সরল, এতটাই নির্বোধের মত সরল যে তা  প্রশ্নটার মূঢ়তাকেও হার মানায় প্রায়।

                সেইদিনই উত্তরটা তাকে দিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু আমার শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি হল ছেলেপুলেদের কিছু শেখাতে নেই, তাহলে তারা কখনোই কিছু শেখে না। কিন্তু সেটা তো আর আমার কাছে এই বিষম ভুলের মর্মোদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না: আমি যদি চতুর হই তো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোন ফাঁক থাকলে তার ফায়দা তুলে ভাল টাকা কামাতে পারি – সেই বিষয়ে একটা সেলফ হেল্পের বই লিখে, অবশ্যই যদি এই ফাঁকটা আমাদের বইয়ের দোকান, লাইব্রেরি আর মলগুলো অবধি ছড়ানো থাকে। যদিও সেই টাকাটা খুব বেশি হবে না, হাজার হোক আমরা পোর্তুগালে বাস করি আর এখানে একটা বইয়ের ছাপার সংখ্যা যে কতটা লজ্জাজনক তা সবাই জানে। ওই সামান্য কিছু টাকাই আর কি।

                আর বইটা বেরিয়ে গেলে, হয়ত তার অনুবাদও হবে: আসলে পোর্তুগাল তো এখন একটা ফ্যাশান, আর আজকাল সারা পৃথিবী জুড়ে যে জিনিসটার সবচেয়ে বাড়বাড়ন্ত তা হল বেকার ও বুভুক্ষু পোর্তুগিজ় থেকে তর্জমাকারের দল, যারা পাঁউরুটিরূপ লেখার শক্ত অংশটুকু, কোন টেক্সটের একটা কণার জন্যে হাপিত্যেশ করছে – যদি তাদের হতভাগা ভাষায় তর্জমা করার জন্যে আর কিছু পাওয়া না যায় তাহলে একটা টাটকা কাঁচা কবিতা হলেও চলবে।    

                আর এই ফাঁকটা কিন্তু কেবল প্রি-স্কুল বা প্রাথমিক শিক্ষার বাজারেই আটকে নেই।  বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও এটা আছে: সেগুলো তো ভর্তি সেইসব অধ্যাপক দিয়ে যারা কিনা বামপন্থী সাংস্কৃতিক মার্ক্সবাদী আর লিঙ্গচর্চার ভাবাদর্শের পৃষ্ঠপোষক, বিশেষ করে মানব বিজ্ঞানের শিক্ষাবিভাগ গুলোতে। আর হয়ত এই অনিষ্টকর বিষয়টার মূলোচ্ছেদ করে মানববিদ্যাচর্চা একেবারে শেষ করে দেবার সময় এসে গেছে – মানবজাতির মঙ্গলের জন্যে।  

                অন্যদিকে আবার যারা নিজেদের খুব গর্ব ভরে কোনরকম প্রতিবন্ধকতা বা চিত্তবিকৃতি ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্কদের মত, ফ্যাসিস্ট বলে ঘোষণা করে, এরকম শিক্ষক হস্তহীন এক বাহুর আঙুলে গোনা যায়। কিন্তু এরকম একটা সময় ছিল যখন এই ধরণের শিক্ষকদের অস্তিত্ব ছিল। আর হয়ত আজও আছে। কিন্তু সংখ্যায় তারা খুবই নগণ্য।

                আর এইভাবেই দেখা যায় যে মহৎ অন্যায়-অবিচারগুলো প্রত্যাশিত জায়গাতেই সর্বদা হয় না।  

                এতে কি কারোর দ্বিমত আছে? আমার ঠিকই মনে হয়েছিল। আপনাদের মৌনতা অনেক কিছুই বলছে। অবশ্য একজন পাঠকের উৎফুল্ল ও সম্ভ্রমপূর্ণ মৌনতার চেয়ে মুখর ও সুন্দর খুব কম জিনিসই হয়ে থাকে।

                সুতরাং এই নগণ্য পাঠ্যপুস্তক ওই শূন্যস্থানটি পূরণ করতে ইচ্ছুক, এবং এটি অত্যন্ত সুসময়ে আলো  দেখাতে চলেছে। বই আলো দেখাতে চলেছে – বই পোড়ানোটাকে যে সহনীয় বলে মনে করে তার কাছে এই কথাটা অদ্ভুত ঠেকতে পারে। সেটা আমার ক্ষেত্রে খাটে না। যে এই বইটা পড়বে সে স্বচ্ছন্দে এটা পুড়িয়ে ফেলতে পারে। এমনকি আমি এ-ও আশ্বাস দিচ্ছি যে কেনবার পর বইটা আরও ভাল করে পুড়বে।

                আর ব্যাপারটা যে শিগগিরি তেতে উঠবে তার সবরকম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে: যেমন এই বিষয়ে লেখা বইগুলো তেমনি পাপমুক্তির আগুন।

                একশো বছর পার করে ইউরোপ আর জগত বিক্ষিপ্ত কিশোরদের মত আবার পূর্বরাগে মেতে উঠেছে এই অদ্ভুত রূপের জীবনের সঙ্গে যাকে আমরা, আরো ভাল কোন শব্দের অভাবে, “ফ্যাসিজ়ম” বলে থাকি।

                কেউ কেউ বলে থাকে “ফ্যাসিজ়ম বলে কোনদিন কিছু ছিল না”। এই বছর পোর্তুর বইমেলাতে যাঁকে বিশেষ সম্মান জানানো হল, সেই অধ্যাপক এদুয়ার্দু লোরেন্সুর[2] এই নামে একটা বই আছে। এখানে যে  প্রতিপাদ্যটা উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা এর ঠিক উল্টো: যে “ফ্যাসিজ়ম” সর্বদাই ছিল।

                তা সত্ত্বেও এটা ভাবলে চলবে না যে জীবনটা কেবলই সহজসাধ্য। এটা নিশ্চিত যে ফ্যাসিজম আত্মরক্ষার একটা প্রচেষ্টা, যার প্রাথমিক দাবি সতর্কতা শিথিল করা, কিন্তু তার জন্যে প্রয়োজন কিছু সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের, বিশেষ একটা প্রবণতার, আদর্শ কিছু উপাদানের সমাহার। আর, যে কেউ ফ্যাসিস্ট হতে পারে, এই কথাটা যদি সত্যি হয় তবে বিষয়টা সম্পূর্ণ অন্য হয়ে যায় যখন ভাল ফ্যাসিস্ট হবার কথাটা ওঠে।  

                হতাশ হবার কিছু নেই। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভাল ফ্যাসিস্ট হবার অনেকগুলো গুণ হয়ত সংঘটিত হয়েই রয়েছে। আর তা শুধু ভাবী কালে নয় – তা আপনার ভেতরেও, সহৃদয় পাঠিকা এবং আপনার মধ্যে, অমায়িক পাঠক।  

                যদিও “ফ্যাসিজ়ম কী” এই বিষয়ে আমাদের সর্বদা ঐকমত্য থাকে না, একটা ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় একমত: বিশেষ কিছু বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ এর পক্ষে অনুকূল। আর মনুষ্য চরিত্রের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য সুপ্ত থাকলেও সেগুলোকে সহজেই আবার জাগিয়ে তোলা যায়!

                তাছাড়া সব লক্ষণই উপস্থিত আছে, একগুচ্ছ বিস্ময়বোধক চিহ্নের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে। এই সেদিন কেউ একজন আমায় জিজ্ঞেস করেছিল: “তুমি কি চাও যে তোমায় একটা ছবি এঁকে দিই?”  

                আমি রাজি হয়ে তাকে ধন্যবাদ জানালাম, কিন্তু শেষমেশ যেটা এল সেটা কোন আঁকা ছবি নয়, বরং একটা বাক্যালঙ্কার। এমনকি এই মুহূর্তে জগতের অবস্থার বিষয়ে ছবি আঁকার কোন প্রয়োজনই নেই, বিভিন্ন বিন্দুগুলোকে জোড়াটাই যথেষ্ট। লক্ষণ সবই দেখা দিয়েছে। আলেলুইয়া, ভাইসকল, ঈশ্বরের জয় হোক!

                আর, হয়ত এটা অতটাও খারাপ নয়। একটা নার্সারিতে সব বাচ্চার একসঙ্গে হাম হওয়াটা বেশি কার্যকর নয় কি? বেশ, তাহলে পুরো পৃথিবীটাই একটা ফ্যাসিস্ট ঢেউয়ে নিজেকে ছেড়ে দেবে এটাও হয়ত তেমনি ভাবে অনিবার্য। কারণ আমরা তো বেশ কিছুদিন হল সেরকম কিছু একটা সঠিক ভাবে পাইনি।  

কীকরে অসুখী হতে হয় এর ওপরে দশটা পাঠের একটা সুন্দর বই লিখেছিলেন একজন অস্ট্রীয়-অ্যামেরিকান, অনেক বছর আগে। না, না, তিনি আর্নল্ড শোয়ার্ৎজ়নেগার নন, কিন্তু, পাঠিকা, আমি আপনাকে একটা কথা বলব: মন্দ ভাবেননি আপনি। আর, পাঠক, আপনাকেও একটা কথা বলব: আপনি মন্দ ভাবেননি। ইনি অন্য আরেকজন অস্ট্রীয়, পাউল ভাট্ৎস্লাভিক[3], কিন্তু এ কথা এখন অর্থহীন।  

                বেশ, তবে এটা বলা যায় যে এই বইটা আর্নল্ড শোয়ার্ৎজ়নেগারের বইটার চেয়ে ভাল কারণ এতে দশটারও বেশি পাঠ আছে। অর্থাৎ এই বইটা কিনলে আপনার অনেক বেশি শিক্ষা হবে, অনুশীলন হবে, সাহিত্যচর্চা হবে!  

                তার ওপর আবার পোর্তুগিজ় সাহিত্য! যা কেবল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সাহিত্যই নয়, সবচেয়ে ভাল বোঝাও যায় যে সাহিত্যকে।

শিক্ষার আনন্দ

“ওই হতচ্ছাড়া বামপন্থা যত দুর্নীতিপরায়ণ, নৈতিকভাবে অধঃপতিতদের
একটা দল বৈ আর কিছু নয়, যারা একটা ক্ষয়িষ্ণু সমাজে সক্রিয়ভাবে
অংশ নেয় আর যাদের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ওইসব উন্মাদরা তাদের
পূতিগন্ধময় ভাবনাচিন্তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ওইসব লোকেদের মুখে যত
থুতুই মাখানো হোক না কেন সেই প্রয়োগ যথাযথ হবে।” 

একজন সাধু ধর্মযাজক   

পাঠ ১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কখনো অন্যায় করে না।

বরং তার ভাগ্যটাই খারাপ কারণ তার সারা জীবন চলে যায় অন্যায় সইতে সইতে। আর এটা সে মোটেই মেনে নেবে না।

                কিন্তু সে অন্যায় করবে? কখনোই নয়। এটা ঠিক যে মাঝে মাঝে সে একটু বেশিই স্পষ্ট কথা বলে ফেলে। কিন্তু স্পষ্টবক্তা হওয়াটা কবে থেকে অপরাধ বলে গণ্য হল?

                তাছাড়া সে যদি শুধু সত্যি কথাই বলে, তাহলে অন্যায়টা সে কিভাবে করে? অন্যরা এতে বিচলিত হতে পারে। আর যদি তারা বিচলিত হয়, তাঁর মানে নিশ্চয়ই তারা কিছু লুকোতে চাইছে। আর সেইজন্যেই তারা নিশ্চিত সত্যি কথাটা পছন্দ করছে না।

                সে কেবলই সত্যি কথাটা বলে। আর তাকে কেউ চুপ করাতে পারে না। খবরের কাগজগুলো তাকে থামিয়ে দিতে পারে কিন্তু কেউ তাকে চুপ করাতে পারে না।

                আর এ কথা অনস্বীকার্য: একজন ভাল ফ্যাসিস্ট শুধুই সত্যি কথা বলে যদি কেউ এর উল্টোটা বলে তো সে মিথ্যে কথা বলবে।

                “আমাকে মিথ্যেবাদী বলছ?!” একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বলে। “আমাকে কেউ মিথ্যেবাদী বলে, শুনেছ?!”

                আর এটা একেবারে খাঁটি কথা। একজন ভাল ফ্যাসিস্টকে কেউ মিথ্যেবাদী বলে না। অন্তত তাঁর সামনে নয়, কারণ সে এটা মেনে নেওয়ার পাত্রই নয়।

                আর আমরা কিভাবে জানব যে ও যা বলে তা সত্যিই সত্যি? আরে, কারণ ও বলে তাই। আর ও যদি বলে তাহলে সত্যিটা হল হাতের মুঠোর মতই সহজবোধ্য।

                আর যদি তাঁর সত্যিটা অন্যদের আঘাত করে তাতে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের দোষটা কোথায়? যদি সেটা সত্যিই হয়! ওর কথাগুলো সবই সত্যি কারণ (এটা বারবার বললেও যথেষ্ট হবে না) একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সদা সত্য কথা বলে।

                বিষয়টাকে আরও প্রাঞ্জল করে দেওয়ার জন্যে এখানে হয়ত এটা যোগ করে দেওয়া উচিত: যতই যার খারাপ লাগুক না কেন           

ক্রমশ…


[1] Capa e batina – গাউন আর ক্লোক, সাধারণত কালো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আনুষ্ঠানিক পোষাক। 

[2] Eduardo Lourenço  (১৯২৩-২০২০) – পোর্তুগালের একজন দার্শনিক ও প্রবন্ধকার। 

[3] Paul Watzslawick, The Situation Is Hopeless, But Not Serious: The Pursuit of Unhappiness, 1983.

ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *