ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় (পর্ব ১০)

বাংলা English
Rui Zink

 Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista

পাঠ ৫১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট উদ্দেশ্যে বিশ্বাস করে

আর উদ্দেশ্যের এই কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়াটা একটা অলৌকিক ব্যাপার, কারণ তার আসল উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই: সবকিছু একটা শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলা। কিংবা টু ইন ওয়ান, ঠিক যেমন শ্যাম্পু আর কন্ডিশানার একসঙ্গে একই বোতলে ত্থাকে: সবকিছু শৃঙ্খলাবদ্ধ করে স্বদেশকে ভালবাসা।  

         তাই যতক্ষণ না সবকিছু শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলা যাচ্ছে আর স্বদেশ ভালবাসার যোগ্য হচ্ছে, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট নতুন নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে বার করে তার অতৃপ্ত তৃষ্ণা মেটানর উপায় হিসেবে।

         আর তার ন্যায্য ক্রোধকে লাগামমুক্ত করার জন্যে ১৯৯০ সালের সেই বিখ্যাত বানানের চুক্তি[1] ছাড়া অন্য কোন সুন্দর অজুহাত হতে পারে কি?

         অদ্ভুতভাবে, রোজকার জীবনে, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিন্তু ভাষার প্রতি এত দরদ দেখায় না, সে মুখের ভাষাই হোক বা লেখার। কথা বলতে গিয়েই যদি লোকে, জানে, লিখতে গিয়ে বিশেষ করে যতিচিহ্ন বসানর সময়েই একজন ভাল ফ্যাসিস্ট, কমা, বিভ্রান্ত বলে, কমা, নিজেকে প্রকাশ করে ফেলে সেমিকোলন হতাশা ড্যাশ কোলন চরম বিরক্তি বিস্ময়বোধক চিহ্ন কমা বিস্ময়বোধক চিহ্ন বাস্তুতান্ত্রিক বিপর্যয়। কমা ঘোষিত। কিন্তু এসবই হল ছোটখাট খুঁটিনাটি যেগুলোকে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না। বা আরো ভাল ভাবে বলতে গেলে: একজন ভাল ফ্যাসিস্ট, ধর্তব্বের মদ্ধে, আনে না, কারণ ওর বানানের জ্ঞানটাও খুব একটা পাকাপোক্ত নয়।

         সবচেয়ে বড় কথা হল, একজন ভাল ফ্যাসিস্টের লড়াইটা হল “ফাতু[2]”-র বানান থেকে “সি”-টাকে উড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে, যদিও এটা কোন ঘটনা নয়, কেবলই একটা গুজব।

         অন্যদিকে, জে দিয়ে গ্যারেজ, কিংবা ওইসব বিরক্তিকর, কমা, যেখানে, ওরা লেখাটাকে, বয়ে যেতে সাহায্য, করে না; বরং সেটাকে, আটকে দেয়? নাকি আমরা এ-বার থেকে এবা-রকে এ বার বলব? যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল [য – এসব কেউ বানিয়ে বলে না] একটা দ্রিশটিভনগি থাকা।  

         যাই হোক, এটা একটা ভাল উদ্দেশ্য।  

পাঠ ৫২

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বানান নিয়ে চুক্তির বিপক্ষে  

তাছাড়া সেটাকে তো ও “বানানের গর্ভপাত” বলে ডাকে। একজন সত্যিকারের ভাল ফ্যাসিস্ট সবসময়েই – একটা গাণ্ডেপিণ্ডে তৃপ্তির ভাব নিয়ে – এই চমৎকার কথার খেলাটা খেলে। কক্ষণও “বানান নিয়ে চুক্তি” বলে না, বলে “বানানের গর্ভপাত”[3]। যেটা ভালভাবেই খাপ খেয়ে যায় কারণ ওটা ওই টু-ইন-ওয়ান রীতিতে কাজ করে: একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তো গর্ভপাতেরও বিপক্ষে।

         ওই কমিউনিস্ট ব্যাটাদের ছাড়া, হেহেহে, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বলে, সঙ্গে আবার এটাও যোগ করে:

        “আমি তো স্রেফ মজা করছি, গায়ে মেখো না যেন, আমি তো মজা করতে খুব ভালবাসি।”    

         কিংবা, ভাল করে ভেবে দেখলে, ওর প্রেমিকার ক্ষেত্রেও, যদি তার এরকম কেউ থেকে থাকে আর সে এসে তার অন্তঃসত্ত্বা হবার খারাপ খবরটা দেয়। তার উত্তরে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট অনিবার্য ভাবে বলে, আক্রমণই যে আত্মরক্ষার সবচেয়ে ভাল উপায় সে ব্যাপারে সচেতন হয়ে:

         “আমি কি করে বুঝব যে বাচ্চাটা আমারই?!” 

         একজন ভাল ফ্যাসিস্ট নিজের অধিকার রক্ষা করার জন্যে এই অবস্থানটা নেয় সেই ভাষায় লিখতে লিখতে আর সঙ্গম করতে করতে যেটা খাঁটি পোর্তুগিজ়,পোর্তুগালের ভাষা, এই মুহূর্তে আর চিরকালের সকল  দেশের রানী আমার জন্মভূমি, সবচেয়ে সুন্দরী দেশমাতৃকার সবচেয়ে সুন্দর ভাষা। সেই ভাষা যেটা আমাদের, শুধুই আমাদের, তার একটা প্রধান কারণ [য – এসব কেউ বানিয়ে বলে না]:

         “আমরাই তো ওদের কথা বলতে শিখিয়েছি, যে জিনিশটা আমাদের তাই নিয়ে ওরা বকবক করবে         এবার এটাই শুধু দেখা বাকি ছিল!!!”   

         অবশ্য বলাই বাহুল্য যে বানান নিয়ে চুক্তির বিপক্ষে হওয়াটাই যথেষ্ট নয় (এমনকি প্রয়োজনীয়ও নয়) একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হওয়ার জন্যে। 

পাঠ ৫৩

সে বানান নিয়ে চুক্তির বিপক্ষে কারণ কেউ ওকে বলেছে যে সেটা ব্রেজ়িলীয়দের বিপক্ষেও হওয়া

আর তাহলেই সব ঠিক আছে।

         আর এখানে সবই খারাপ কারণ আমরা এবার বইয়ের যে মুহূর্তটাতে পৌঁছেছি সেটার জন্যে আমরা অনেক খদ্দের হারাব।

         কিন্তু গোঁসা করবেন না যেন। মনে রাখবেন: না শুনেই গোঁসা করাটা এমন একটা শিল্প যেটা কেবল সবচেয়ে ভাল ফ্যাসিস্টদেরই আয়ত্তে থাকে। আর, যথাযোগ্য সম্মান দিয়েই বলছি, আপনি তো মশাই এখনও শিখছেন। ছোট্ট মিষ্টি বাচ্চাদের মত সবে হাঁটি হাঁটি পা পা করছেন। 

         সত্যিটা হল এই যে আমরা চুক্তিটার পক্ষে বা বিপক্ষে হতেই পারি, তাতে জগতের বিশেষ কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না।

         প্রাথমিক ভাবে ব্যাপারটা তো আমার বেশ ভালই লেগেছে: টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকাটা যে আমাদের দুর্বল করে দেয়, সেটাকে শেষ করে দেওয়া। এছাড়া আমার বিশেষ কিছু যায় আসে না – বা, যেমন ফরাসিরা বলে থাকে, জ্য ম্য সুই দঁ লে তঁত – প্রায় বছর দশেক আগে একবার গ্যোটে ইন্সটিটুটের একটা যুক্তিসম্মত তর্কে ভাশকু গ্রাসা মোরা বা আলজ়িরা সাইশুর মত বিশিষ্ট চুক্তি-বিরোধীদের  উপস্থিতিতে আমার এটা বলার সুযোগ হয়েছিল।

         উপস্থিত জনা পঞ্চাশেক লোকের মধ্যে আমিই ছিলাম একমাত্র যে চুক্তিটার ঠিক বিপক্ষে নয়, যার ফলে ওই মুহূর্তে উপস্থিত বাকিদের চোখে আমি হয়ে উঠেছিলাম চুক্তির স্বপক্ষে একজন গোঁড়া লোক আর মাওবাদী হোমারের চেয়েও বেশি অন্ধ।            

         আমার তখন কি মনে হয়েছিল বা এখন কি মনে হয়? যে বানান একটা রীতি আর এই সুন্দরী যৌথ ভাষাটা একটা ঘুমন্ত দানব। যখন “আবিশ্মু” থেকে “ওয়াই”[4] বাদ গিয়েছিল তখন ফির্ণান্দু পেসোয়াও নাকে কান্না কেঁদেছিলেন আর মনে হয় যে কাময়েন্সও[5] বানানগুলো অন্যভাবে লিখতেন। আমরা গাছেরটা কুড়োতে আর তলারটা খেতে চাইতে পারি না – তিরিশ কোটি মানুষ যে ভাষাটা বলে, তার আইনকানুন এখনও তৈরি করছে একটেরে এই ছোট্ট জায়গাটা যেখানে সাঁও পাউলুর চেয়েও কম লোকের বাস? যখন মালিকানার প্রশ্নটা ওঠে তখন আমার খুব অদ্ভুত লাগে। এ হল নিজের পায়েই কুড়ুল মারা – বা আরও খারাপ, নিজের জিভে[6] কোপ মারা। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এর জন্যে ধন্যবাদ জানায়। বলে, মের্সি[7]

         আর তারপর আমরা ডিনার খেতে গেলাম। সুন্দর শব্দ, জান্তার[8], চুক্তি দিয়েই হোক বা চুক্তি ছাড়া।

পাঠ ৫৪

একজন ভাল ভাষাতত্ত্ববিদ ফ্যাসিস্ট গাছেরও খেতে চায়, তলারও কুড়োতে চায়

যে ভাষা “বিশ্বের চারটে কোণে পৌঁছে যায়!” আর যে ভাষায় তিরিশ কোটি মানুষ কথা বলে এমন একটা ভাষা নিজের থাকা তো দারুণ ব্যাপার। দুর্দান্ত! দুর্ধষ! চমৎকার! অসাধারণ! যদিও এতে পোর্তুগালের অবদান মাত্র এক কোটি আর তাও অতি কষ্টে কেঁদে ককিয়ে।

         তাসত্ত্বেও একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হাল ছাড়ে না, মালিকানার দলিলটা হাতছাড়া করে না, অধিকার, সম্পত্তি; মালিক হওয়া, গুপ্তসঙ্কেত, মোড়ল, জমিদার, কুলিদের সর্দার, ঈর্ষাকাতর স্বামী যে রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরোনর আগে জিভে একটা সতীত্ব রক্ষাকারী বেল্ট পরিয়ে সেটা তালা বন্ধ করে চাবিটা সঙ্গে করে নিয়ে যায় যাতে জিভটা ছেনালিপনা না করতে পারে যখন সে নিড়ানি আর টিফিনকৌটো হাতে রোজের মেহনত করতে বেরোয়।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে ভাষাটা ওরই, শুধু ওরই। অন্যরা ওকে সেলাম ঠুকুক আর হিংসে করুক, সেটা বরং ভাল। কিন্তু সর্বদাই সম্মান জানিয়ে আর বাবার চোখের সামনে। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ভাষাতত্ত্ববিদের স্বপ্ন হল ওর যেন এমন একটা ভাষা থাকে যে কেবল ওর সঙ্গেই শোবে আর ওকেই কেবল ভালবাসবে। কিন্তু সেই ভাষায় তিরিশ কোটি কথা বলবে।  

         আর যখন সে ব্যাকরণে লাথি মারে তখন একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ভাষাতত্ত্ববিদ সেটা ভালবেসেই মারে, একটা পুরুষালী ভালবাসা দিয়ে, যেটা কখনও নেতিয়ে পড়ে না। বা, হয়ত ভাষাটা কিছু একটা করেছে বলে।

         ফাদু[9] তো বলেইছে যে ভাষার ব্যাপারে:

         সব সাবধানতাই কম

         এই অসার সংসারে,  

         পাগল যখন ভালবাসা

         এই জগত-জঞ্জালে, ভাষা

         ওই ছেনাল মাগী      

         মারতে পারে পিঠে ছুরি।

পাঠ ৫৫

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট উঁচু গলায় লিখতে খুব ভালবাসে

বিশেষ করে ফেসবুকে। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সৎভাবে বিশ্বাস করে যে উঁচু গলায় লিখলে যেটা সে বলছে তার যুক্তির জোরটা বাড়ে। এটা রোগজীবাণুতাত্ত্বিকভাবে প্রমাণিত। এই রইল তার দুটো খুব সুন্দর, আধুনিক,  মৌলিক নমুনা।     

         নমুনা ক:

       “এলজিবিটিকিউআই শিক্ষা প্রকল্প????

       কার অনুমোদনে!!!!”

         নমুনা খ:

       “বর্ণবিদ্বেষ, কিন্তু কোন বর্ণবিদ্বেষ?

       একমাত্র যদি সেটা শাদা পোর্তুগিজ়দের বিরুদ্ধে ওই কালোগুলোর হয়!

       অবশ্য এসওএস রাসিশ্মু বলে একটা ছদ্ম-মঞ্চকে পোর্তুগিজ়দের বিশাল একটা     অংশের প্রতি চরম      অশালীন অবমাননা বলে মনে করি; সেটার অস্তিত্বটাই  

       তো এই ধারণাটার জন্ম দেয় যে পোর্তুগাল বর্ণবিদ্বেষী, আর আজকাল সেটা

       মোটেই সত্যি নয়! 

       যদি কালোরা শাদাদের পছন্দ না-ই করে তো আমি কেন ওদের পছন্দ করতে      বাধ্য হব?”  

         [য – এসব কথা কেউ বানিয়ে বলে না।]

পাঠ ৫৬

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জোরে কথা বলে

জোরে কথা বলাটা একজন ভাল ফ্যাসিস্টের সবচেয়ে চোখে পড়ার মত লক্ষণ। বা শোনার মত। এমনকি সে যখন কিছু নিঃশব্দেও করে তখনও একজন ভাল ফ্যাসিস্ট চুপ করে থাকে না। এমনকি যখন সে বেনামেও কিছু লেখে, বা বিশেষ করে যখন বেনামে লেখে, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট চিৎকার করে।

         বড় হাতের অক্ষর আর বিস্ময়বোধক চিহ্ন ওর বৈশিষ্ট্য।

         এই যেমন:

         ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয় – আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে!!!

         ও মনে করে না যে এটা লজ্জার বিষয়, ও জানে যে – এটা খুবই লজ্জার বিষয়!!! আমার      বমি উঠে আসছে!!!

         এইরকমই সব। তাছাড়া একজন ভাল ফ্যাসিস্ট পৃথিবীটা নিয়ে মাথা ঘামায় না, ওর যত চিন্তা          পোর্তুগালকে নিয়েই।

         ওহো, ভুল বললাম, মাপ করবেন, ওর কাছে: পোর্তুগালই সব!!!   

         আর বাকি সব চুলোয় যাক। এই গ্রহের বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে সমুদ্রতল বাড়ছে বলে? বিশ্বের  উষ্ণায়ণের জন্যে? একটা বড়সড় উল্কা এসে পড়বে বলে? আর এতে কি যায় আসে? একজন ভাল ফ্যাসিস্ট এই গ্রহে বাস করে না, এই মেয়েলি জায়গাটা যেখানে জন্তুজানোয়ার আছে, আর আমাদের “রেড ইন্ডিয়ানদের” যত্ন করে রাখতে হয়, আর প্রকৃতির কাছে আমাদের মাপ চাইতে হয় আরো খানিকটা হাইওয়ে তৈরি করতে গিয়ে কতগুলো কর্ক ওক গাছ কেটে ফেলার জন্যে।, যেখানে খুশি গাড়ি চালিয়ে যাবার অধিকার আছে যে দেশে, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সেই পোর্তুগালেই থাকে।    

ভাল বামপন্থী ফ্যাসিস্ট কি হতে পারে?

         হ্যাঁ। গাঁয়ের ইঁদুর আর শহরের ইঁদুরের নীতিকথার মত একজন জ্ঞাতিভাই আছে। বামপন্থী ফ্যাসিস্ট  সাধারণত আরো নিরীহ হাড়জ্বালানে একটা লোক, কিন্তু যে কোন কোন সময়ে ঝামেলা পাকাতে পারে।   একজন ভাল ফ্যাসিস্টের যদি মনে হয় যে “সবাই বিক্রি হয়ে গেছে” তো তার জ্ঞাতিভাই (ব্যাপারটা আর জটিল না করার জন্যে আমরা ওকে এফই, বা স্রেফ ফে[10] বলে ডাকব) মনে করে “আমাদের সবার চোখে ঠুলি পরানো”। ও-ই কেবল আলো দেখতে পায়, ও-ই সব জানে, ও-ই কেবল লেখাপড়া করেছে। কেবল একটাই তফাত: ফে সত্যিসত্যিই পড়েছে, কেবল যেটা পড়েছে সেটা বোঝাই কেবল ওর বাকি আছে।   

         ফে একজন পিউরিটান। তাই ওকে ঘোল খাওয়ানটা এত সহজ। যে সর্বদা পরিষ্কার ফিটফাট জামাকাপড় পরে থাকে, সামান্য একটা ছোপ লাগলেই তার জামা নোংরা হবার ভয় থাকে।

         ওকে নিয়ে সবচেয়ে ভাল কাজ যেটা হয়েছে সেটা হল একটা নাটক যেখানে ওর ভেতরটার একেবারে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে: আলবেয়ার কামিউর লে জিউস্ত (১৯৪৯)। ফিল্মের ফরম্যাটে একটা প্রবন্ধও  আছে, রাইনার ভেরনার ফাসবিন্ডারের ডি ড্রিটে গেনেরাৎসিওন (১৯৭৯)। একজন বামপন্থী ফ্যাসিস্ট মূলত এমন একজন যে:

  • নিজের জীবনযাপন করতে অপারগ আর অন্যদের জীবন বাঁচানর জন্যে ব্যাকুল।
  • জগতের ওপর খুব ক্ষেপে থাকে, সেটাকে বদলাতে সে বদ্ধপরিকর, বিশেষ করে যখন তার  বয়েসটা কম থাকে আর যে জগতটাকে বদলাতে চায় সেটাকে তখনও সে ভাল করে চেনে না।
  • নিজেকে বুঝিয়েছে যে সে জন্তুজানোয়ার খুব ভালবাসে কিন্তু সে এটা জানে না যে সেটা মানুষকে ভাল করে জ্বালাতন করার জন্যে।   
  • মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে আনন্দ পায়, যদি সেটা মন্দ লোকেদের হয়।
  • অন্যের কষ্টের নিন্দে করে কারণ জগতের কষ্টের তুলনায় সেটা কিছুই নয়।
  • সবাইকে ভালবাসে কারণ সেটা, ফ্লোরবেলা শ্পাঙ্কার[11] কথা অনুযায়ী, কাউকে ভাল না বাসার থেকে ভাল।

         আর ওই ফে হল হাড়জ্বালানে। প্রথমেই বলতে হয় যে ওর জ্ঞাতিভাইয়ের মত ও-ও সর্বদাই সঠিক। খুব চটে যায়। ফে হওয়ার অর্থ হৃদরোগ হওয়ার বাড়তি ঝুঁকি।

         ও একটু স্বেচ্ছাচারীও বটে। কিন্তু ওর জ্ঞাতিভাই যেমন স্বেচ্ছাচারী হওয়াটা পছন্দ করে বা হতে চায়, ফে কিন্তু তার ঠিক উল্টোটা, ও যে স্বচ্ছাচারী হতে চায় না শুধু তাই নয়, ও মনেও করে না যে ও স্বেচ্ছাচারী। যেমন একজন ড্রাইভার একটা বাচ্চাকে স্কুলের সামনে ইচ্ছে করে গাড়ি চাপা দেয় না (ও স্রেফ দেখতে পায়নি আর তাড়ায় ছিল), ফেও তেমনি ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও একজন স্বেচ্ছাচারী।

         (যেটা সর্বদাই একটা সান্ত্বনা।)

         উদাহরণস্বরূপ, ফে তার পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরে খেতে বসেছে।

         যেহেতু সে বামপন্থী, সে সংলাপে উৎসাহ দেয়।

         আর খোশমেজাজে বক্তৃতা শুরু করে দেয়:

        “আমাদের অন্যদের কথা শুনতে শিখতে হবে, কারণ এটাই হল যোগাযোগের মূলনীতি।”

         কিন্তু তারপরেই যদি তার ছেলে কিছু একটা বলার চেষ্টা করে তো টেবিলে ধাঁইধপাধপ করে একটা ঘুষি মেরে বলে:

        “চোপ! এই শিক্ষাটা হয়নি এখনও? অন্যদের কথা শুনতে শিখতে হবে!”  

         কারণ ফে শিক্ষাও দেয়। আর নিজের গলাটা শুনতে খুব ভালবাসে। কক্ষণ চুপ করে না। আর বক্তিমে দিয়েই যায়, দিয়েই যায়, দিয়েই যায়, ওই ভালমানুষ ফে। ও ধরে নেয় যেহেতু ও নিজের গলাটা শুনতে ভালবাসে, অন্যরাও ওর গলাটা খুব ভালবাসে।

         ফের সুন্দর স্বপ্নটা হল একটা সংহতিপূর্ণ পৃথিবী যেটা একটাই স্বরে কথা বলে – তাহলে সেই স্বরটা ওরই বা হবে না কেন?

         ফে একজন শান্ত মানুষও বটে। ও ভয়ঙ্কর ক্ষেপে যায় কেবল তখনই যখন জগতে কোন একটা সমস্যা হয়। কিংবা কোন অবিচার। ওর জ্ঞাতিভাইয়ের মত ফে অন্যায়-অবিচারকে পুজো করা দূরস্থান, সহ্য পর্যন্ত করতে পারে না!

         দুর্ভাগ্যবশত সমস্যা এবং অবিচারের বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থার সুপারিশ করা দৈনিক মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণেই সেগুলো ভোগ করার প্রবণতা পৃথিবীর আছে বলে ফে-কে বেশ ঘনঘন ক্ষেপে উঠতে হয়; কারণ দৈবদুর্বিপাকে পৃথিবীর সমস্যাগুলো যথেষ্ট ঘনঘন হবার ঝোঁক আছে।

         সুতরাং সে জ্বালাময়ী ভাষণ দিতে শুরু করে। আর কপালদোষে কেউ যদি তার ওই দৈবী রোষের বিস্ফোরণের মুখে পড়ে তো তার হয়ে গেল! এরপর ফে চিৎকার করে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজ়মের বিরুদ্ধে, নৃশংস পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, এই পৃথিবীর শোষকদের বিরুদ্ধে – বিশেষ করে অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে – তার তিক্ত নৈতিক ভাষণ দিতে শুরু করে। কেবল তার ওইসব শত্রুরা, যারা ওই সমস্ত ক্ষিপ্ততা, শাপশাপান্ত আর থুতুর ছিটের যোগ্য, তারা ওইখানে ফে-র সঙ্গে এক টেবিলে বসে নেই। যদি থাকত তো নিঃসন্দেহে তাদের কান লাল হয়ে যেত আর চামচে করে মুখে সূপটুকু তোলার সাহস না দেখিয়ে বড়দের মত নীচে ঝুঁকে পড়ত, এক্কেবারে চুপ করে যেত, যতক্ষণ ওই বামপন্থী ন্যায্য রোষ তাদের মাথা আর কানের ওপর এমনভাবে ঝরে পড়তে থাকত কোথায় লাগে মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী শিলাবৃষ্টি।

         কিন্তু তারা তো ওখানে নেই।

         ফে-র পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব আছে। আর সেটাই তো সমস্যা।

         আর তারা কাঁটা হাতে বসে থাকে, ভয়ে বরফ, টানটান হয়ে, ভয়ে বুক শুকিয়ে গেছে, অসহায়, জানে যে যদি ওই ভাষণের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ন্যায্য রোষ আর ন্যায়সঙ্গত বিদ্বেষের প্রবল বেগকে বাধা দেয় তো ব্যাপারটা আরও খারাপ হবে। আর এই লক্ষ্যবস্তু অতীতের কোন ব্যক্তিবিশেষ হতে পারে (নিশ্চিত ভাবে হিটলার, মুসোলিনি ফ্রাঙ্কো, সালাজ়ার) কিংবা কোন সময়ের ফল: সালভিনি, ট্রাম্প, বলসোনারো, দুতের্তে, অরবান, এরদোগানের মত কোন তরুণ প্রতিভা।

         একজন স্বেচ্ছাচারীকে যে বাধা দিতে নেই সেটা ওর পরিবার আর বন্ধুরা অনেক দাম দিয়ে শিখেছে। আর তার ফল হল এই যে বেশির ভাগ জনসাধারণের চেয়ে একজন ফের যদি হৃদরোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে তো একজন ফের আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের পেটে আলসার হওয়ার ভয় কয়েকগুণ বেশি।

         ও হ্যাঁ, তাই তো! এখনও আপনাদের বলিনি, তাই না? ফে তো স্বেচ্ছাচারী।          

         কেবল তার রাজ্যটা খুবই ছোট আর তার প্রজাদের খুব সুন্দর সব সাম্মানিক পদ আছে: স্ত্রী, সঙ্গিনী, ছেলেমেয়ে, ভাইপো-ভাইঝি, ভাগ্নে-ভাগ্নী, কমরেড।

  • ফে খুব বিরক্তিকর – কিন্তু সে বামপন্থী হাড়জ্বালানে বলে নিজেকে বিরক্তিকর বলে মনে করে না।
  • ফে নাস্তিক। সে খুব ধর্মীয় নিষ্ঠার সঙ্গে নাস্তিক।
  • আর সে একটা (এটা যতবারই বলা হোক না কেন সেটা বেশি হবে না) হাড়জ্বালানে। সে গায়ে এঁটুলির মতো সেঁটে থাকা একটা(এটা যতবারই বলা হোক না কেন সেটা বেশি হবে না) হাড়জ্বালানে। সে একটা (এটা যতবারই বলা হোক না কেন সেটা বেশি হবে না) এঁটুলি।

        তার বন্ধুরা একে একে কেটে পড়তে শুরু করে,বুঝলি আমান্সিউ, তোর বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে যাওয়ার ইচ্ছে তো খুবই ছিল কিন্তু কি করব বল, উনুনে আইসক্রিমটা চড়ান আছে

        কিন্তু তার স্ত্রী ছেলেমেয়েদের কাছে ব্যাপারটা আরো কঠিন। তাদেরই তো (অন্য কোন কাল্পনিক লক্ষ্যবস্তুকে নয়) মুখ বুজে এই বিশ্রী বিরক্তিকর পরিস্থিতিটা সহ্য করতে হয়৷ ওই প্রচন্ড রাগ। শিক্ষা দেওয়া। কখন ওই সাংঘাতিক যন্ত্রণা শেষ হবে, ভয়ে দুরুদুরু বুকে তার অপেক্ষা করতে করতে আর পেটের আলসারের সম্ভাবনাটা আরেকটু বাড়িয়ে তুলে, কিন্তু সে তো শেষ হওয়ার নামই নেয় না।

        ভাগ্য ভাল হলে কুড়ি মিনিট অন্তর অন্তর ফে ক্লান্ত হয়ে পড়ে একটা বিরতি নেয়, তার কোলেস্টরেল আবার খুব হাই কিনা। হাওয়ায় ভাসন্ত বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর মত মাটিতে নেমে আসার পর ও যে কি বিশ্রি আর ভয়ঙ্কর একটা অবস্থা তৈরি করেছিল সে ব্যাপারে বলতে গেলে ওর কিছুই মনে পড়ে না।

        “মারিয়া, নুনটা একটু দাও তো। ব্যাপারটা কি, সবাই মনে হচ্ছে হঠাৎ চুপ করে গেছে? আরে,    এটা তো শ্রাদ্ধবাড়ি নয়, একটা পার্টি হচ্ছে! যদি ওয়াইন কম পড়ে থাকে তো কোন ব্যাপারই নয়, আরো ওয়াইন অর্ডার করা যাবে। ও কাকা, এই যে এদিকে, এখানে আর এক জাগ ভরে দিয়ে যাবে? এইটা তো ফুটো ছিল। আর বাচ্চাদের জন্যে একটা কোক। রোজ রোজ তো আর এভাবে বাইরে খাওয়া হয় না!”          হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যবশত ছোটখাট বামপন্থী ফ্যাসিস্ট আছে। এর ভাল দিকটা হল যে বুড়ো বয়েসে দক্ষিণপন্থী ফ্যাসিস্টদের আর অতটা একলা মনে হয় না, হাজার হোক গজগজ করার আর এক হাত তাস খেলার একটা লোক তো পাওয়া যায়। আর ওদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হবার বিশেষ ভয় নেই, ওরা এমনকি ভাল বন্ধুও হতে পারে। আর না হবার তো কোন কারণ নেই, ওদের কারুরই তো অন্যের কথা কানে যায় না, কেবল নিজেদের গলাই শুনতে ভালবাসে, তাই মাথার মধ্যে নিজের বলা শেষ কথাটাই ঘোরে, অন্যজন কি বলল তা চুলোয়

ক্রমশ… 


[1]Acordo Otográfico de 1990 বা সংক্ষেপে AO1990 – ব্রিটেনের আর অ্যামেরিকার ইংরেজির বানানে যে প্রভেদ আছে সেই ধরণের প্রভেদ ব্রেজ়িল আর বাকি পোর্তুগিজ়ভাষী অঞ্চলের (পোর্তুগাল ও অ্যাফ্রিকায় তার পাঁচটি ভূতপূর্ব উপনিবেশ) মধ্যেও আছে। একটা সমতা আনার জন্যে ১৯৯০ সালে সব কটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয় যেটা ২০০৯ সালে কার্যকর হয়। ২০১৬ থেকে সরকারি নথিপত্রে এই চুক্তি মেনে বানান লেখাটা বাধ্যতামূলক। 

[2]Facto অর্থাৎ ঘটনা বা তথ্য; নতুন বানান অনুযায়ী “c” বাদ দিতে হবে, “fato” বানানটা বহুদিন ধরেই ব্রেজ়িলে ব্যবহার হয়ে আসছে। এর ফলে “facto” আর “fato” (ছেলেদের পরিধেয় suit) আলাদা করার কোন উপায় নেই।    

[3]পোর্তুগিজ়়ে খেলাটা “acordo” (চুক্তি) আর “aborto”  (গর্ভপাত) নিয়ে।

[4]পোর্তুগিজ় ভাষার বানানবিধিকে আইনি নিয়ম নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ শতকের গোড়ার দিক অবধি পোর্তুগাল ও ব্রেজ়িলে (পোর্তুগিজ়ভাষী বাকি দেশগুলো তখন পোর্তুগালের উপনিবেশ বা “সমুদ্রের ওপারের প্রদেশ” ল্যাটিন এবং গ্রীকের মূল শব্দের ওপর ভিত্তি করে বানান নির্ধারিত হত। ১৯১০ সালে পোর্তুগালে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবার এক বছর পর বানানবিধির আমূল সংস্কার হয়, যার ফলে পোর্তুগালের পোর্তুগিজ়ে বানানে বড়সড় বদল আসে। এর ফলে abysmo (অতল গহ্বর/পাতাল) “y”-এর বদলে “i” দিয়ে লেখা চালু হয়। বস্তুত “y” পোর্তুগিজ় বর্ণমালা থেকে উঠেই যায়। কিন্তু সেইসময়ে ব্রেজ়িলের সঙ্গে এ বিষয়ে কোন চুক্তি হয়নি এবং সেখানে পুরনো বানানই চালু থাকে। ১৯২০-এর দশক থেকে ব্রেজ়িলেও একই ব্যাপার ঘটে।    

[5]Camoens – মহাকবি কাময়েঁশের নামের আদি বানান যা এখনও ইংরেজিতে এইভাবেই লেখা হয়। ওঁর যুগে অনেক বানানই আজকের বানানের থেকে আলাদা ছিল। এটা সব ভাষাতেই হয়ে থাকে; ভাষা, সে কথ্যই হোক বা লিখিত, কখনই একই রূপে স্থির থাকে না, এটা আমাদের বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, এই নিয়ে হাহুতাশ করা নিরর্থক, এটাই লেখকের বক্তব্য। 

[6]পোর্তুগিজ়ে “língua”-র অর্থ জিভ আর ভাষা দুই-ই। 

[7]বিভিন্ন পোর্তুগিজ়ভাষী দেশের মধ্যে বানান নিয়ে খেয়োখেয়ির মধ্যে লাভবান হয় ফরাসি ভাষা, যা এখনও ব্যবহারকারীদের মোট সংখ্যার দিক থেকে পোর্তুগিজ়কে টপকে যেতে পারেনি। প্রসঙ্গত, ব্যবহারকারীদের মোট সংখ্যা অনুসারে বাংলা ষষ্ঠ, পোর্তুগিজ় নবম আর ফরাসি দশম স্থানে। 

[8]Jantar অর্থাৎ রাতের খাবার। এই শব্দটার বানান কোনভাবেই চুক্তির আওতায় আসে না।  

[9]Fado – এক ধরণের গান যার উদ্ভব লিসবনে, ঊনিশ শতকের গোড়ায়। মন-কেমনের গান যার ভিত্তি হল সাউদাদ (saudade); ২০১১ সালে ইউনেস্কো ফাদুকে মানবতার স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

[10]F.E. অর্থাৎ fascista de esquerda বা বামপন্থী ফ্যাসিস্ট; fé মানে আস্থা। 

[11]Florbela Espanca  (১৮৯৪-১৯৩০) – একজন পোর্তুগিজ় কবি।

Rita ray
 ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *