ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় পর্ব-৬

Bom Fasista 6
বাংলা English
Rui Zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures,  imagines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16.Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়’, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista

পাঠ ৩০

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট গায়ের রঙ দেখে অপরাধীদের চিনে নেয়

ঘটনাটা ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘটেছিল, কয়েক বছর আগে। ভদ্রলোকেদের পাড়ায় একটা সুন্দর বড় বাড়ির দরজায় একটা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি থেকে একজন মহিলাকে সন্দেহজনক হাবভাব নিয়ে নামতে দেখা গিয়েছিল।

          ভাগ্যক্রমে একটা পুলিশের গাড়ি সেই সময়েই সেখান দিয়ে যাচ্ছিল বলে তারা অপরাধটা ঘটতে দেখে মহিলাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

          মহিলাটি প্রতিবাদ করে আর আত্মরক্ষার চেষ্টা করে, কিন্তু তার কৈফিয়তগুলো শুনতে যেমন হাস্যকর তেমনি চালাকি বলে মনে হয়েছিল: গাড়িটা নাকি ওরই, বাড়িটাও ওরই, আর হ্যাঁ স্যার, ও ওখানেই থাকে, আর হ্যাঁ, ওই ভাল পাড়ায় থাকার মত ওর ক্ষমতাও আছে কারণ ও এমন একটা ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার যেটা কিনা এখনও ফেল করেনি – ভগবানের দিব্বি, স্যার, আমি মিথ্যে বলছি না।

          পুলিশগুলো ঠাঠা করে হেসে উঠল। অভিযোগটা পরিষ্কার আর অকাট্য: মহিলাটি সলিসিট করছিল, অর্থাৎ “নিজের শরীর বেচছিল, বেশ্যাবৃত্তি করছিল”, আর এটা তো হতে দেওয়া যায় না – অন্তত ওই সুন্দর আর অভিজাত পাড়ায় তো নয়ই। ওই দামি গাড়িটা নিশ্চয়ই কোন খদ্দেরের কিংবা ওর দালালেরও হতে পারে। মহিলার কোন প্রতিবাদই কোন কাজে এল না, পুলিশেরা তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে গেল।

          কিন্তু ঘণ্টা কয়েক পরেই আশ্চর্যজনক ভাবে মহিলাটি ছাড়া পেয়ে গেল, তার সঙ্গে বিশাল বড় একটা ক্ষমা প্রার্থনা জুটল। ওই সন্দেহভাজন মহিলা নাকি একেবারে সত্যি কথাই বলেছিল (হাস্যকর সব অদ্ভুত ঘটনাও ঘটে): বাড়িটা ওর, গাড়িটা ওর, এমনকি চাকরিটাও, অবিশ্বাস্য হলেও, ওরই। 

          কিন্তু পুলিশের ভুলটা কিন্তু সৎই ছিল। সত্যি বলতে কি, মহিলার গায়ের রংটা যে অপরাধীদের মত, সেটা কি ওদের দোষ?    

পাঠ ৩১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ট্যুরিজ়মকে সন্দেহের চোখে দেখে

কারণ ট্যুরিস্টরা তো এখানে আসে যা আমাদের তা ভোগ করতে, আর আমাদের দেশটাকে টুকটুক[1], কাজ়া[2] দ্য ফাদু[3] আর এমনসব দোকান দিয়ে ভরিয়ে দিতে যেখানে শুধু নিয়ন রঙের সার্ডিনের টিন[4] বিক্রি হয়;  এইসব ট্যুরিস্টদের অনেকেই ছেঁড়াখোঁড়া জামাকাপড় পরে ঘুরে বেড়ায়, তারা শস্তার কোন দেশে বেড়াতে চায় আর তাই আমাদের দেশে দাম খালি বেড়েই চলেছে, এরপর তারাই চড়া দামের ব্যাপারে অভিযোগ করে, এই লোকগুলোকে বোঝা দায়। 

          একজন ভাল ফ্যাসিস্টের এটাও সন্দেহ যে ট্যুরিস্টরা আদতে বিদেশি।  

          আর বিদেশি হওয়ার ফলে তারা মন দিয়ে কিছু দেখে না, অর্থাৎ সবকিছু অন্য চোখে দেখে।

          তাই একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ট্যুরিজ়মের প্রতি নাক কুঁচকোয়।

          যারা নিজেদের খুব নীতিবাগীশ বলে মনে করে ট্যুরিজ়ম তাদের পক্ষেও খুব সুবিধের, কারণ এর ফলে ওরা, কোন অপরাধবোধ ছাড়াই, নিজেদের মধ্যে ঘুমিয়ে-থাকা ভাল ফ্যাসিস্টটাকে লালন করতে পারে। 

          কিন্তু নীতিবাগীশদের ভেতরেও একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ঘুমিয়ে থাকে?, একজন অসতর্ক পাঠক জিজ্ঞেস করতে পারে। অবশ্যই থাকে, প্রিয় অসতর্ক পাঠক। আমাদের ভেতর একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ঘুমিয়ে না থাকলে আমরা বাঁচতেই পারব না!

          এইভাবেই ট্যুরিজ়ম একটা অমূল্য পরিষেবা দিয়ে থাকে: নিজেদের বিদেশিদের ভয়ে উন্মাদ মনে না করেও আমাদের বিদেশিদের ঘেন্না করতে দেয়। কি আনন্দ! একটা স্বপ্ন বাস্তব হয়: বিবেকে কোনরকম ভার অনুভব না করেও অন্যকে ঘেন্না করা।

          তার ওপর আবার যদি, পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা উল্টোটা বললেও, বিবেকের ভারও মোটা করে আর কোলেস্টরল বাড়িয়ে দেয়।

[অনুশীলনী: যতবার প্রয়োজন ততবার বলতে হবে, “এখন রাস্তায় হাঁটতে হলেও ইংরিজি জানাটা দরকারই বলতে গেলে।” এর বদলে বলা যেতে পারে: “আর কোন বিদেশি যদি আমায় গ্রাসিয়াস[5] বলে ধন্যবাদ জানায় তো আমার মাথার ঠিক থাকবে না এই বলে দিলাম।”]

পাঠ ৩২

নীতিবাগীশদের নিয়ে ভাববার জন্যে একটা জিনিশ

ঘটনা হল নীতিবাগীশরা জানে যে বিদেশিদের পছন্দ না করাটা মার্জিতও নয় কেতাদুরস্তও নয়। অন্তত খোলাখুলি ভাবে তো নয়ই। আর সাংস্কৃতিক নাকউঁচু-মার্ক্সবাদের ক্রীতদাসেরা বিদেশিদের লোক দেখিয়ে অপছন্দ করা এড়িয়ে চলে। কেউ কেউ তো আবার নিজেদের সুন্দর পোর্তুগিজ় নামটার পেছনে পোর্তুগিজ়ে নেই এমন সব অক্ষর জুড়ে বিকৃত করে ফেলে, যেমন “তামা” কিংবা “জ়িঙ্ক”[6], যাতে সেটাকে শুনতে বিদেশি আর অনেক বেশি কেতার বলে মনে হয়।  

          ফলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে ট্যুরিস্টরা আমাদের নিষিদ্ধ ফলটা খাবার সুযোগ করে দেয় কিন্তু কেউ টেরও পায় না যে আমরা ফ্যাসিস্টের মত আচরণ করছি।

          বা ফ্যাসিজ়মকে সমর্থন করছি।

          সেইজন্যেই ট্যুরিস্টরা যত বিরক্তিকর হয় ততই সেটা ভেতরে ঘুমন্ত ফ্যাসিস্ট বয়ে বেড়ানো  নীতিবাগীশদের পক্ষে ভাল।

          বিশেষ করে যেসব ট্যুরিস্ট জোরে জোরে কথা বলে, সবকিছুর সঙ্গে সেলফি তোলে, সের্রার চিজ়[7] দিয়ে পাশ্তেল দ্য বাকাল্যিয়াউ[8] খায়। যত বেশি ঘৃণ্য হবে, স্বাদটা তত বেশি ভাল হবে, ঠিক আন্ডারস্ট্যান্ডেস[9] বা অন্য কোন সীফুডের মত, যা আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে পাওয় যায়।  

          ট্যুরিস্টদের ঢেউ, ট্যুরিস্টদের দলে দলে হামলা, প্রাচ্যের অসহ্যকর লোকেদের পাল, জড়বুদ্ধি হাবভাব নিয়ে নর্ডিকেরা, চিৎকার চ্যাঁচামেচি করা অ্যামেরিকানরা, স্প্যানিশ বুলি মুখে স্প্যানিয়ার্ডরা, বিরক্তিসূচক বফ!” বলে অবজ্ঞা দেখান ফরাসিরা, এরা সবাই নীতিবাগীশদের কাছে দৈবপ্রেরিত। দারুণ সুখাদ্য!        

            “একজন পাতি ও আহাম্মক বর্ণবিদ্বেষী” বলে বিবেচিত হবার ঝুঁকি ছাড়াই ট্যুরিজ়ম নীতিবাগীশদের  বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে নিরাপদে খেলতে দেয়।

          বলা যেতে পারে যে ট্যুরিস্টদের ঘেন্না করা হল গুরমে জ়েনোফোবিয়া[10]।    

পাঠ ৩৩

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ইমিগ্রান্টদের[11] পছন্দ করে না

ওরা এখানে আসে আমাদের ভাতা আর প্রাক্তন স্ত্রীদের কেড়ে নিতে (আগেকার দিন হলে আমাদের চাকরি আর স্ত্রী হত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবই তো পালটায়), আর ওরা না পারে পোর্তুগিজ় বলতে না আছে তাদের কোন শ্রদ্ধাভক্তি।

          আর আমাদের এমিগ্রান্টরা[12]? ওহো, আমাদের এমিগ্রান্টদের ব্যাপারটা আলাদা। প্রথমেই বলতে হয় যে তারা ইমিগ্রান্ট নয়, তারা এমিগ্রান্ট। মনে না হলেও এই “এ”-টা একটা বড় তফাত তৈরি করে দেয়। সবচেয়ে আগে যেটা লক্ষ করার তা হল, রোমান বর্ণমালায় “এ” “ই”-এর আগে আসে বলে কর্তৃত্বটা কার সেটা পরিষ্কার। দ্বিতীয়ত, আমাদের এমিগ্রান্টরা বিদেশি নয়, তারা পোর্তুগিজ়। এর প্রমাণ হল লুক্সেমবুর্গের রাস্তায় বেরোলে সবাইকে খুব ভাল পোর্তুগিজ় বলতে শোনা যায়। আর তাদের কথায় কোন টান নেই!

          অনেকেই জানে না কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পোর্তুগিজ় থাকে যেসব শহরে তাদের মধ্যে প্যারিস তৃতীয়।

          অর্থাৎ, ওটা একটা পোর্তুগিজ় শহর। কারণ আমাদের সেতুবালবাসী মহাকবি[13] যখন ওখানে থাকতেন, তাঁর সেইসময়কার দোকানটা[14], রুয়া দ্য সেভ্রে, এখনও আছে। আর সেটা এখনও ভালভাবেই সংরক্ষিত।

পাঠ ৩৪

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট অন্যরকম হওয়ার অধিকারের বিরুদ্ধে

কিন্তু তার অন্যরকম হওয়ার অধিকার যখন মেনে নেওয়া হয় না তখন সে ভীষণ বিচলিত হয়। ওর কাছে এই সমাজটা খুব বিশৃঙ্খল, আর তার কারণ আছে। এটা কি ধরণের গণতন্ত্র, এটা কি ধরণের গণতন্ত্র?! এটা কি ধরণের গণতন্ত্র যেখানে মন খুলে কথা বলা যায় না?!

          এবারে এটা বল না যে নিজের ভাবনাচিন্তার কথা বলতে হলেও সমকামী হতে হবে?!”,একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বিলাপ করে।

          এই প্রশ্নের অন্তর্নিহিত আক্রোশ তাকে আবার খোশমেজাজি করে তোলে আর এই কথাটা –

          শুধু থিয়েটারে, শিল্পকলায়, রাজনীতিতে, ওকালতিতে, সিনেমায়, রোজকার জীবনে নাম করতে

          হলে সমকামী হওয়াটাই কি যথেষ্ট নয়? এখন সমকামীদের না চটানোর জন্যেও আমায় সমকামী        হতে হবে?!”      

– বলে যে এখন হিসহিস করে বলে ওঠে,সে যত না ছিঁচকাঁদুনে তার চেয়ে বেশি একজন ভাল ফ্যাসিস্ট।

     সমকামিতা নিয়ে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের সমস্যাটা কুখ্যাত, কিন্তু আমাদের পক্ষপাতহীন হতে হবে: একজন ভাল ফ্যাসিস্ট এখানে কোনরকম ভেদাভেদও করে না, যেকোন প্রভেদই ওর কাছে কষ্টকর – তা সে গায়ের রঙই হোক, বা ধর্ম, বা প্রেম, বা পোষাক বা জীবনযাত্রার ধরণ। আর এটা সহ্য করাও ওর কাছে খুব কষ্টকর।

     আর ওর অসহিষ্ণুতার প্রতি যে এত অসহিষ্ণুতা আছে সেটা ওর কাছে আরো বেশি কষ্টকর। সেটা শুধু অন্যায়ই নয়, খারাপও বটে।

     দেখে মনে না হলেও, প্রতিটা ভাল ফ্যাসিস্টের ভেতর একজন কালিমেরো[15] নামের মুরগি-ছানা আছে।

পাঠ ৩৫

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জনগণকে ভালবাসে

ও শুধু তখনই জনগণকে ভালবাসে না যখন জনগণ ওর ইচ্ছেমত কাজ করে না।  

     আর তখনই একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ক্ষেপে গিয়ে ভাবে:

     ভেড়ার পাল সব!” 

     কিন্তু একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জনগণকে ভালবাসে। আর এতটাই ভালবাসে যে রাতে ঘুমিয়ে পড়ার জন্যে জনগণ গোণে।   

     একজন ভাল ফ্যাসিস্ট মানুষের সঙ্গে একাত্মবোধ করে। ভীষণ ভাবে একাত্মবোধ করে। চতুর্দশ লুই,    ফ্রান্সের স্বৈরতন্ত্রী রাজা, বলেছিলেন লেতা সে মোয়া[16]। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বলে: আমিই জনগণ”  

     একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বলে, সংসদে জনগণের প্রতিনিধি থাকা দরকার, সেইজন্যে তোমরা আমাকে নির্বাচিত কর। এটা ঠিক যে ওর মুখ থেকে এটা একটু আবেগসর্বস্ব নেতার মত শোনায় কিন্তু সেটা ওই গলাবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে ভাল করে লড়াই করার জন্যে।   

     অন্যরা কিন্তু জনপ্রতিনিধি নয়। কিংবা, ঠিক আছে, চলুন, নিয়মগুলো মেনে নেবার ভাবটা আমরা  দেখাই, “জনগণের প্রতিনিধি” থাকতেই পারে। তারা কিন্তু জনগণ নয়।

     একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিন্তু জনগণ। সে নির্বাচিত হলে সংসদে জনগণের কোন প্রতিনিধি থাকবে না। জনগণই সেখানে থাকবে!

     ইউরোপের মূল ভূখন্ডে পোর্তুগালের যে অংশটা আছে, তার আকৃতিটা মুখের মত। একসময়ে, শ্তাদু নোভুর[17] শাসনকালে, কেউ একজন তটরেখায় মন্ত্রীসভার সভাপতির[18] মুখের পাশটা দেখতে পেয়েছিল।

     ভাল ফ্যাসিস্টের বিকাশ ঘটেছে। সে এখন ওখানে নিজের মুখটা দেখতে পায়।  

পাঠ ৩৬

আর জনগণের ভালটা কি?

এই প্রশ্নটাকে নিয়ে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কোনই সংশয় নেই।

     বেশ, জনগণের ভাল হল গিয়ে…”

     কি?

     জনগণের ভাল হল গিয়ে…”

     হ্যাঁ, কি?

     আরে দূর! জনগণের ভাল হল গিয়ে জনগণের ভাল!  

     ব্যস, এইটুকুই?

     এতে চলবে না? এতে চলবে না বুঝি?”

     মানে

     ন্যাকামি হচ্ছে?!”

     না, মানে আমি খালি

     কে রে এই মালটা? দেব নাকি পাতা থেকে বেরিয়ে দুই ঘা?”

     না না, তার কোন দরকার নেই, কেবল

     কেবল কি, বাবা? ঝেড়ে কাশ!”

     মানে ব্যাপারটা

     না বোঝার মত কিছু আছে কি? কি জ্বালায় যে পড়েছি! তোকে কি ছবি এঁকে বোঝাতে হবে নাকি রে?”  

     মানে

     বুঝেছিস? আমি জানি তুই কোথায় থাকিস…”

     হ্যাঁ, হ্যাঁ বুঝেছি বৈকি আমি কিছু বলিনি তো

     বেশ বেশ এই মালটা ভেবেছে কি! লেখে বলে মাথা কিনে নিয়েছে নাকি?” [অনুশীলনী, ঐচ্ছিক কিন্তু করলে ভাল হয়: একজন লেখককে অপমান করুন। হ্যাঁ, ওই $%# সারামাগু হতে পারে, যে কিনা এমন সময়ে নোবেলটা পেয়েছিল যখন ওর চেয়ে যোগ্যতর লেখক অনেকেই ছিল। বলবেন যে এটা আমার


[1]অটোরিকশা। লিসবনের শহরের কেন্দ্রে ট্যুরিস্টদের বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখানর জন্যে ইদানীং কালে প্রচুর অটোরিকশা চালু হয়েছে যা লিসবনবাসীদের কাছে যথেষ্ট বিরক্তিকর।      

[2]Casa de Fado – যেসব ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টে রাতে ফাদু পরিবেশিত হয়। 

[3]ফাদু – উনিশ শতক থেকে পোর্তুগালে প্রচলিত এক বিশেষ ধরণের গান যা বর্তমানে ইউনেস্কোর ইনটাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজের অন্তর্গত। ফাদিশ্তা, অর্থাৎ ফাদুর গায়ক বা গায়িকার সঙ্গে সঙ্গত করেন দুজন গিটারবাদক – একজন বাজান ক্ল্যাসিকাল গিটার আর অন্যজন বাজান বারো তার বিশিষ্ট পোর্তুগিজ় গিটার।   

[4]অলিভ তেল বা টম্যাটো সসে সংরক্ষিত সার্ডিন কেনাটা পোর্তুগালে বেড়াতে আসা ট্যুরিস্টদের একটা প্রধান শখ। লিসবনের রুসিউ অঞ্চলে এরকম বেশ কিছু দোকান আছে যেখানে কেবল সার্ডিনের রঙচঙে টিন বিক্রি হয়।  

[5]Gracias – স্প্যানিশ ভাষায় ধন্যবাদ। 

[6]লেখক নিজের নাম নিয়েই খেলা করছেন – “জ়িঙ্ক”-এর পোর্তুগিজ় প্রতিশব্দ “জ়িঙ্কু” বা zinco; লেখকের নাম রোমান অক্ষরে Zink, আর “k” অক্ষরটি পোর্তুগিজ় বর্ণমালায় নেই।  

[7]সের্রা দ্য শ্ত্রেলা (Serra de Estrela) অঞ্চলের ভেড়ার দুধ থেকে হাতে-বানানো চিজ়।    

[8]Pastel de bacalhau – বাকাল্যিয়াউ বা কডমাছের শুঁটকি আর আলুসেদ্ধ দিয়ে তৈরি একধরণের চপ। সাধারণ কোন পোর্তুগিজ় পাশ্তেল দ্য বাকাল্যিয়াউয়ের সঙ্গে চিজ় খায় না। 

[9]“a(u)nderstandes” হল “percebes”-এর আক্ষরিক অনুবাদ। “Percebe”-এর আরেকটা অর্থ বার্নাকল (barnacle), বা শামুক জাতীয় ছোট সামুদ্রিক প্রাণী, যা পোর্তুগিজ়দের কাছে খুব উপাদেয়। 

[10]Xenophobia – বিদেশিদের ভয় পাওয়া; gourmet – ভাল খাবারের সমঝদার বা এরকম কারুর জন্যে উপযুক্ত মানের খাবার।  

[11]Immigrant – যেসব বিদেশি অন্য দেশে বাস করতে যায় তারা সেই দেশে অভিবাসনকারী বা ইমিগ্রান্ট।     

[12]Emigrant – বাস্তুত্যাগী বা দেশান্তরী, যারা নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বাস করতে যায়, যারা অন্য দেশের অভিবাসনকারী। 

[13]বোকাজ (Bocage: ১৭৬৫-১৮০৫); ইনি ১৭৮৬ থেকে ১৭৮৯ পানাজি আর দামানে কাটান। 

[14]পোর্তুগালের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের নিয়ে লেখকের আর একটা রসিকতা – বোকাজ কখনও প্যারিসে, বা ফ্রান্সে, যাননি কিন্তু প্যারিসে (এখন ইউরোপের অন্যান্য শহরেও) “বোকাজ” বলে একটা জুতো ও চামড়ার তৈরি সাজপোষাকের অন্যান্য জিনিশের দোকান আছে।     

[15]“কালিমেরো” জাপানী ও ইটালিয়ানদের তৈরি একটা অ্যানিমেটেড  টিভি সিরিজ়। এর মূল চরিত্র হল কালিমেরো নামের একটা মিষ্টি কিন্তু দুঃখী মুরগির ছানা; তার ভাইবোনেরা হলদে রঙের হলেও সে নিজে কালো। মনের দুঃখে সে তাই যে ডিম ফুটে সে বেরিয়েছিল তার আধখানা মাথার ওপর পরে থাকে। এর প্রথম সম্প্রচার হয় ১৯৬৩ সালে।   

[16]L’État c’est moi – আমিই রাষ্ট্র। 

[17]Estado Novo – এক স্বৈরতন্ত্রী ও স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা যা পোর্তুগালে ৪১ বছর ধরে চলেছিল। এর শুরু ১৯৩৩ সালের সংবিধান অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর শেষ ১৯৭৪ সালের ২৫শে এপ্রিলের কার্নেশান বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আন্তনিউ অলিভাইরা দ্য সালাজ়ার (১৯৮৯ – ১৯৭০)।    

[18]১৯৬৮ সালে চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে পঙ্গু হওয়া অবধি শ্তাদু নোভুর মন্ত্রীসভার সভাপতি ছিলেন সালাজ়ার। এই পদটিকে সাধারণত “প্রধান মন্ত্রী” বলা হয়ে থাকে।   

ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *