ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় পর্ব-৪

বাংলা English
Rui Zink
Rui Zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures,  imagines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16.Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়’, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista
AUTHOR: Rui Zink
Translation from portuguese: Rita Ray

পাঠ ১৫

অন্য সময়ে জানেই না যে সে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট

তখনই খুব ধৈর্য ধরে ওকে বোঝাতে হয় যে…

         “আরে ও শিকু, তোর কি মনে হয়:

        এ সবকিছুর দোষ ইমিগ্র্যান্টদের।

        যে ওদের সবার নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।

        যে আমরা সবাই একটা সমকামী-ইহুদি চক্রান্তের শিকার।

        যে মুসলমানেরা সবাই পাঁচশ বছর পিছিয়ে আছে।

        তুমি ভয় পাচ্ছ যে আমরা আমাদের হাজার বছরের পুরনো পরিচয় হারিয়ে ফেলব।

        তোমার মনে হয় যে আমাদের সশস্ত্র হয়ে চলাফেরা করা উচিত।

        যে সমাজের “মেয়েলি” না হয়ে পুরুষোচিত হওয়া উচিত।

        যে শব্দটা তুমি সবচেয়ে বেশি (গালাগালি বাদ দিলে) ব্যবহার কর তা হল ঘেন্না করি।

        তাহলে, কিছু মনে কর না, ভাই, তুমি কিন্তু ফ্যাসিস্ট!”  

         মাঝেমাঝে আমরা এর সঙ্গে আরো যোগ করতে পারি:

         “হয় তাই নয়ত তুমি, বাবা, একটা গর্দভ…”

        এইখানে হয়ত একজন ভাল ফ্যাসিস্ট প্রচণ্ড ক্ষেপে যাবে। তারপর একটু নরম হবে, কারণ সে উভয়সঙ্কটটা বুঝতে পারবে: কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে, যদি প্রতিক্রিয়া দেবার মানে হয় যে সে বিচলিত হয়ে পড়েছিল, তার গায়ে লেগেছে? এটা একটা উভয়সঙ্কট তো বটেই, এই কারণেও যে সে ছেড়ে দেবার পাত্র নয়।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হতাশ হয়ে পড়ে। আর কেউই একজন ভাল ফ্যাসিস্টকে হতাশ দেখতে চায় না!

         “তুই খুব চালু না, এক ঘুষিতে দাঁতগুলো যখন ফেলে দেব দেখব তখনও এইরকম থাকিস কিনা! বা আরো বুকে যদি একটা গুলি লাগে।”  

পাঠ ১৬

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট রাজনীতির ভেতর ঢোকে না

তার এটাও একটা কারণ যে কাজই হল তার নীতি।

         আর একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কাজ খুব ভালবাসে। অন্যরা যখন “কাজই করতে চায় না”, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিন্তু ঠিক উল্টো, সে কাজ করতে চায়। আর সে কাজকে ভয় পায় না। সত্যিই সে ভয়  পায় না। সে অকুতোভয় হয়ে কাজের দিকে এগিয়ে যায় – যতক্ষণ তার হাতে চাবুক আছে, চেয়ার আছে, আর, অতি অবশ্যই, কাজটার যথাযথ ভাবে মুখ বন্ধ করা আছে ও/বা সেটা দেওয়ালের সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা আছে।

         যদি একজন ভাল ফ্যাসিস্টের চাবুক আর চেয়ার থাকে আর কাজটার ঠিকঠাক ভাবে মুখ বন্ধ থাকে তাহলে কাজটা নিজেই নিজেকে বুঝে নিক। ওর সঙ্গে কোনরকম চালাকি চলবে না।

         যখন সে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আর পেছনের গাড়িগুলো হর্ন বাজাতে থাকে, তখন একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হুঙ্কার ছাড়ে:

        “আমি কাজ করছি!”

         আর যখন ওকে যেতে দেওয়া হয় না, তখনই একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হর্নে চাপ দিয়ে চ্যাঁচায়:

        “ওইখান থেকে ওই মালটাকে হঠাও, আমায় কাজে যেতে হবে!”

        তাসত্ত্বেও একজন ভাল ফ্যাসিস্ট মাঝেমাঝে পছন্দের হাসিটা হেসে বলতে ভালবাসে যে “কাজ করাটা কালোদেরই পক্ষে ভাল”। এটা অবশ্য সেটাই যেটা কিনা, ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন ভাল ফ্যাসিস্টকে হাসায়: কল্পনা করা যে কাউকে পায়ের তলায় মাড়ান হচ্ছে, কারুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, কাউকে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে। আর আপত্তি জানালে পিঠে ঘা কতক পড়ছে, পরের বার যেন মুখ বুজে থাকে এই শিক্ষাটা পাওয়ার জন্যে।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্ট যখন হাসে তখন সে দুর্বলদের নিয়ে হাসাহাসি করে।

         যেটা কিনা মানতেই হবে সর্বদা সহজ নয়। বিশেষ করে যখন আমাদের হাতভর্তি কাজ।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্ট এতটাই কাজ করতে ভালবাসে যে যখন সে কাজ করে না তখনও সে ভান করে যে সে কাজ করছে।

পাঠ ১৭

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক ভাবে সঠিকের বিরুদ্ধে

আর এই বিখ্যাত রাজনৈতিক ভাবে সঠিক ব্যাপারটা কি?

        “লোকে যা ভাবে সেটা বলতে পারার অধিকার না থাকা!”

        ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বল না, ভাই:

         “একজন হিজড়েকে হিজড়ে বলা যাবে না, একজন চিঙ্কিকে চিঙ্কি বলা যাবে না, একজন…”

        আচ্ছা, আচ্ছা, বুঝেছি। আর এই যে তোমার পেশীর ক্ষমতা নিয়ে এত মোহ, সেটাকি একটু…

         “একটু কি?”

        বেশ, যখন জোরাজুরিই করছ, তখন তোমারই কথা ব্যবহার করব: “একটু সমকামী বলে মনে হয় না?”

         এইখানে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট চটে যায়। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট “চটানর অধিকারের” পক্ষে কিন্তু নিজে চট করে চটে যায় একটা উটপাখিকে এমু বললে ঠিক যা হয় সেইরকম ভাবে।

         বা একটা এমুকে উটপাখি বললে।

         বা একটা মোটা উটপাখি বা এমুকে লামা বললে যা হয়।

         জন্তুজানোয়ারের কথাই যখন উঠল তখন বলা যেতে পারে যে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জ়েব্রা ভালবাসে, আবার বাসেও না।

         একদিকে ভালবাসে না কারণ সে মিশ্রণ পছন্দ করে না।

         আবার, অন্যদিকে, ভালওবাসে কারণ জ়েব্রায় বলতে গেলে “কোনরকম মিশ্রণ” নেই। বরং তা মিশ্রণকে  অস্বীকার করে। কেন যে এটা জাতিবিদ্বেষের প্রতীক হয়নি সেটাই আশ্চর্যের।

         মিশ্রণ না থাকাটা একজন ভাল ফ্যাসিস্টের পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠ ১৮

একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে জগতের জন্যে একটা সমাধান আছে

“আমি হলে সবকটাকে জেলে পুরতাম।”

         একজন ভাল ফ্যাসিস্টের মাথায় জেল হল সবরকম খারাপের ওষুধ, এমনকি মাথাধরা, পায়ের আঙুলের কড়া আর গলাব্যথারও।

         রোজেরিউ ক্লারু[1] মহাশয় (১৯৬৫:১), একজন ভদ্র, বিদ্বান, লেখক, বোকাজের[2] জন্মের দ্বিশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলিতে লিখেছিলেন:

         “অধার্মিক, হিংসাত্মক, সমালোচনাপূর্ণ কাগজপত্রের” লেখক হিসাবে বোকাজ রাষ্ট্রের পুলিশের হাতে   বন্দী হন। নিঃসন্দেহে বন্ধুদের প্রভাবে তাঁকে ইনকুইজ়িশানের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যার জেলে তাঁকে     তিন মাস কাটাতে হয়, তারপর তাঁকে লিসবনের নেসেসিদাদে ওরাতরিউ সম্প্রদায়ের যে মঠ ছিল     সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

         [এরকমটাই বলা হয়ে থাকে – এসব জিনিশ কেউ বানায় না] যেটা এর পর বলা হয়েছে সেটাও বানান নয়:   

         এই আশ্রমে কারাবাসের ফলে তাঁর বন্ধুদের [যারা নিঃসন্দেহে তাঁকে ইনকুইজ়িশানের হাতে তুলে    দেওয়ার জন্যে প্রভাব খাটিয়েছিলেন] প্রার্থিত পরিণতি প্রকাশ পায়: কাজের সঙ্গে তাঁর সমন্বয় সাধন   আর অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলস্বরূপ তাঁর যে স্নায়বিক উত্তেজনা হয়েছিল তার প্রশমণ। 

         আমি জানি না রজেরিউ ক্লারু মহাশয় একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ছিলেন কিনা। ঘটনাচক্রে আমি শুনেছি যে তিনি একজন ভাল লোক আর বোকাজের সত্যিকারের গুণগ্রাহী ছিলেন। হয়ত তিনি শুধুই একজন সাদামাটা মনের (এরকম অনেক ভাল ফ্যাসিস্টের ক্ষেত্রেই ঘটে) মানুষ ছিলেন।

         কিন্তু ধুস, ধ্যাত্তেরি, দুচ্ছাই, চুলোয় যাক, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট এর থেকে ভালভাবে বলতে পারত না: তাহলে বেচারা বোকাজ বন্দী হয়েছিল আর সেটা ওর পক্ষে এমন কি ভালই হয়েছিল কারণ তাতে ওর শিক্ষা হয়েছিল?

         পোর্তুগিজ় প্রাচীনপন্থী ফ্যাসিজ়মে এইসব জিনিশ ছিল: যদি লোকেরা যেরকমটি হওয়া উচিত সেরকম ভাবে শিখত তাহলে শেষ অবধি তাদের আর জেলে যেতে হত না।  

পাঠ ১৯

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট অবিচারের বিরুদ্ধে  

যদি সে সবকিছু চালাত তো সাঙ্ঘাতিক সব কাণ্ড ঘটত।  

         আর কতজনের যে সর্বনাশ করত তার ঠিক নেই। ব্যাপারটা বেশ সুন্দর হত।

         আপনি একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হতে চান? তাহলে আপনিও আপনার তালিকাটা তৈরি করুন।

         সত্যি বলছি, লজ্জা করবেন না।

         আপনার শিকারদের শিকার হবার একচেটিয়া অধিকার দেবেন না। দক্ষতা আর কৌশল থাকলে আপনিও শিকার হতে পারবেন।

         অবশ্য তার থেকেও ভাল ধরা না পড়া: ধরা না পড়লে কোন অপরাধ ঘটে না।

         সুতরাং ধরা পড়বেন না। হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়ার মধ্যে ভয়ঙ্কর অবিচারটার ভাবুন, যখন কিনা আপনি আসলে কিছুই করেননি।

         এর মধ্যে আপনাকে যারা চটায় তাদের একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন, মানে কোনদিন যদি তারা এরকমটা করে।

         তালিকাটা বাড়িয়েই চলুন।

         হয়ত একদিন অবস্থাটা বদলাবে। যারা আপনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তারা শূলে চড়বে। আর তখনই আপনি আপনার এই তালিকাটা নিয়ে (আরও কয়েকজন ভাল লোকজনের সঙ্গে) বেশ সুন্দর সাফাই করে ফেলতে পারবেন।

         একটা নৈতিক সাফাই।

         আলকশেতের[3] ব্যাপারটা ঠিকঠাক হয়নি, করেছিল তো কতগুলো অ্যামেচার আর কামানের মুখে কতগুলো মাংসের টুকরো। কিন্তু একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ঠেকে শেখে। ওটা একটা নিছক মহলা ছিল, খেলাচ্ছলে করা বলতে গেলে।              

         একদিন আমরা শেষ মহলাটা করব আর, সেই সুন্দর দিনে, আমরা একটা সাফাই শুরু করব, বিশেষত কারণ (সাবধান, যদি আপনার উত্তর সঠিক হয় তো আপনি সঠিক পথে চলেছেন):

         ক) আমি জানি ওদের বাড়ি কোথায়                                       c

         খ) তুমি জান ওদের ফ্ল্যাটটা কোথায়                                       c

         গ) আমরা জানি ওরা কোথায় থাকে                                        c

পাঠ ২০

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সর্বদাই পক্ষপাতহীন

এমনকি যখন সে বোঝে যে “সে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে”। হ্যাঁ, মাঝেমাঝে সে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলে, সে-ই কিন্তু প্রথমে বোঝে যে সে বোধহয় বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে, তা-ও সেটা ঠিক কিনা সে জানে না। সীমা ছাড়িয়ে গেছে হয়ত, যদি আদৌ গিয়ে থাকে। এ তো হয়েই থাকে। সত্যি বলতে কি, সীমা ছাড়ানটা মানুষের ধর্ম, বিশেষ করে যখন আমরা সঠিক হই, আর একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তো সর্বদাই সঠিক। সুতরাং, ভাল করে ভেবে দেখলে, সে কখনই সীমা ছাড়ায় না।

         এ ব্যাপারে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সেইসব রাজনৈতিকদের মত যাদের কোন সাক্ষাৎকারেযখন জিজ্ঞেস করা হয় যে তাদের সবচেয়ে বড় দোষ কি তখন তারা সর্বদাই নীচের এই বিকল্পগুলোর কোন একটা বলে থাকে:

         “আমার সবচেয়ে খারাপ দোষ? মিথ্যে সহ্য করতে না পারা!”

        “আমার সবচেয়ে খারাপ দোষ? বড্ড বেশি ঠোঁটকাটা হওয়া!”

        “আমার সবচেয়ে খারাপ দোষ? নিজের দেশকে বড্ড বেশি ভালবাসা!”

        “আমার সবচেয়ে খারাপ দোষ? অন্যদের বড্ড বেশি বিশ্বাস করা!”

        ইত্যাদি।

         আমরা এইভাবে চালিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু আসলে সবকিছু একই ছাঁচে ঢালা। আমার প্রধান দোষ হল বড্ড বেশি ভাল হওয়া।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্টও বড্ড বেশি ভাল আর এইজন্যেই সে সবসময়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বিশেষ করে যখন প্রশ্নটা তার সুনামের বা এমন কোন একটা উদ্দেশ্যের সুনামের যার জন্যে সে আগুনে ঝাঁপ দিতেও রাজি। তখনই যদি কেউ সেই উদ্দেশ্যকে প্রশ্ন করে বা সেটাকে বিপদে ফেলে তো সেটা তার বাবা ও/বা মাকে অপমান করার মত। সে তখন আরশোলার চেয়েও খারাপ, প্রচণ্ড ক্ষেপে যায়। সে সহ্য করতে পারে না, সে ওটা করতে দেয় না, সে বরদাস্ত করতে পারে না।  

         ব্যাপারটা এইরকমই আর এইরকমই ব্যাপারটা। যার পছন্দ নয় সে জানে বেরনোর দরজাটা কোনদিকে – বাড়ির, কাফের, ক্লাবের।

         বা, আরো ভাল, দেশের।

[অনুশীলনী: কোন একটা অবিচারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হন। হ্যাঁ, ফুটবলের ব্যাপারে হতে পারে।] 

পাঠ ২১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট খুব সংবেদনশীল

আর কেউ ওকে মাড়াক সেটা ও পছন্দ করে না। কিন্তু আশ্চর্য এটাই যে সে যখন সে নিজে মাড়ায় তখন সেই মাড়ান আঙুলটার জন্যে তার কোন ব্যথা হয় না।

         ব্যাপারটা অদ্ভূত। ওই অবিশ্বাস্য ব্যাপারগুলোর মত যেগুলোতে শুধু চাইলেই বিশ্বাস করা যায়। যখন সে মাড়ায় তখন একজন ভাল ফ্যাসিস্ট খেয়ালই করে না!

         বেশ মজার!

         মানবিকও, এ প্রসঙ্গে বলতেই হবে। আর একজন ভাল ফ্যাসিস্টের চেয়ে কেউ এত মানবিক নয়।

         পুরুষদের সত্যিকারের যন্ত্রণা সহ্য করার অক্ষমতা নিয়ে মহিলারা মজা করে, আর লক্ষ করে দেখে যে তারা অসুস্থ হলে সত্যিকারের ছিঁচকাঁদুনে বাচ্চায় পরিণত হয়। এমনকি পুরুষজাতীয় সর্দিজ্বর বলে তারা একটা কথাও তৈরি করেছে সেই মর্মভেদী অপেরার গান বোঝানর জন্যে যাতে একজন পুরুষ পরিণত হয় যখন সে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে একটা অসহায় পশুর মত – কোথায় লাগে একটা আহত সিংহ বা মোষ – কাতরাচ্ছে, মুমূর্ষু, বা হয়ত মরেই গেছে।

         না, না, এখনও নিঃশ্বাস নিচ্ছে, এক্ষুণি ওর আরো একটা গোঙানি শুনতে পেলাম।

         কারণ একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ছাড়া আর কারুর এমন পৌরুষদীপ্ত আর উচ্চস্তরের পুরুষজাতীয় সর্দিজ্বর হয় না।

         “ওগো শুনছোওও, আআমাআকে কিইইই রিইমোওওটটা দেএএবে, আআআমাআআর গাআআয়ে একদম জোওওর নেএএই?”

প্রথম পর্ব, “শিক্ষার আনন্দ” সমাপ্ত।


[1]Rogério Noel PeresClaro (১৯২১-২০১৫) – সালাজ়ারের আমলে একজন শিক্ষক ও সাংবাদিক, ১৯৫৭ থেকে ১৯৬১ জাতীয় সংসদের সভ্য ছিলেন। ১৯৬৫ সালে বোকাজের দুশো বছর উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে এই সঙ্কলনটি সম্পাদনা করেছিলেন ও এর ভূমিকা লিখেছিলেন – Homenagem Nacional a Bocage : II Centenário : Antologia.  

[2]Manuel Maria de Barbosa l’Hedois du Bocage (১৭৬৫-১৮০৫) – পোর্তুগালের জাতীয় কবি, ধ্রূপদী থেকে রোমান্টিজ়মের  যাওয়ার সন্ধিক্ষণে আর্কাদিশমু ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।   

[3]পোর্তুগালের প্রধান ফুটবল ক্লাবের একটি হল স্পোর্টিং। এর কার্যালয় তাইজু নদীর তীরে বৃহত্তর লিসবন অঞ্চলের আলকশেত (Alcochete) শহরে। ২০১৮ সালের ১৪ই মে গভীর রাতে এই ক্লাবের চল্লিশ-পঞ্চাশ জন ফ্যান মুখ ঢেকে কোচ জর্জ জেজু়শ এবং খেলোয়াড়দের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় এবং অনেকেই খেলোয়াড়দের অনেকেই এই হামলাতে গুরুতর ভাবে আহত হন।     


     

Rita Ray
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি  পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *