ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় (অন্তিম পর্ব)

বাংলা English
Rui Zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista

অনুবাদকের কথা

এই কিস্তি দিয়েই শেষ হচ্ছে রুই জ়িঙ্কের ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায়-এর প্রথম খণ্ড। এর মূল পোর্তুগিজ়টি যখন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বারে বেরয় তখন তার শেষে লেখক দ্বিতীয় খণ্ডের সম্ভাব্য সূচি দিয়ে দেন। কিন্তু এখন অবধি তার কিছুই লিখে উঠতে পারেননি। তাড়া দিলে খালি বলেন “আমি রিটায়ার করেছি”। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রাজি করিয়েছি তর্কিত তর্জনী-র জন্যেপনের দিন অন্তর দ্বিতীয় খণ্ডের একট করে কিস্তি লিখতে। অবশ্য যতক্ষণ না হাতে প্রথম কিস্তি পাচ্ছি ততক্ষণ খুব একটা আশা না করাই ভাল। অন্যদিকে, তিরিশে জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে পার্তিদু সুসিয়ালিশ্তা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, কিন্তু তেমনিই অতিদক্ষিণপন্থী দুই নতুন দল, শেগা আর ইনিসিয়াতিভা লিবরাল, যাদের আগের সংসদে একটি করে আসন ছিল, এবারের নির্বাচনে যথাক্রমে বারোটি আর আটটি আসন পেয়েছে। বেশ কিছু মধ্য আর বামপন্থী ছোট দল একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সুতরাং ভাল ফ্যাসিস্ট-এর দ্বিতীয় খণ্ড লেখার এটা খুব ভাল সময়।   

আলমারিতে একটা শটগান

আমরা কি “ফ্যাসিজ়ম” শব্দটার ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে পারি? এক ধরণের থালি হিসেবে, এক শ্রেণীর বৈশিষ্ট্যের একটা সংমিশ্রণ হিসেবে যেগুলো, সত্যি বলতে কি, যে কোন মানুষের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে? হ্যাঁ।   

         আমি হিসেবগুলো খতিয়ে দেখেছি আর যেটা সন্দেহ করেছিলাম সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি: এখানে যেসব ত্র্যুটিবিচ্যুতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অন্তত এক-তৃতীয়াংশ (আমি নিজের ব্যাপারে খুবই দরাজ) আমার আছে – যেগুলো আমি যোগ করতে ভুলে গেছি সেগুলো বাদ দিয়ে।

         এরপর, তফাতটা হল, সেগুলোকে নিয়মিত প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা। আমাদের সবাইকারই মানুষ মারার প্রবণতা আছে, সেটা যদি স্বপ্নেও হয় তা-ও, কিংবা যখন আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়। (বিঃদ্রঃ – সত্যিই অবিচারের শিকার হওয়া আর সেটা মনে করা, নিজের কাছে একই ব্যাপার।)

         ক্ষোভ, আশাভঙ্গের অনুভূতি, এমনকি ঘেন্নাও, খুবই মানবিক। এগুলো প্রাকৃতিক জিনিশ। আমার স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য কারুর সঙ্গে মিলে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে আমি যদি আবিষ্কার করি, তাহলে আমার নিজেকে ছোট বলে মনে হবে – বিশেষ করে কারণ ঈর্ষাজনিত আমার অসুস্থ কল্পনাতে, আমার স্ত্রী আর তার নাগর বিছানায় হাজার একটা মজা লুটছে। হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে, চোদ্দশ বার অরগ্যাজ়ম হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন প্রশ্নটা হল আমি কি আলমারি থেকে শটগানটা বের করে একটা কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটাব না গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিয়ে বরং একটা সিনেমা দেখতে যাব, কোলে বিশাল বড় একটা বরফ-ভর্তি বালতি বসিয়ে। (বিঃদ্রঃ – এটা শুধু সিনেমায় নয়, সত্যিসত্যিই কাজে দেয়।)

         এইসব ব্যাপারে, আলমারিতে শটগান না থাকাটা সাধারণত শান্তিপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এটা যদি আপনার সঙ্গে ঘটে তাহলে আমি কি পরামর্শ দেব? ব্যাপারটাকে বিশেষ পাত্তা দেবেন না, যারা বড় হয়ে গেছে তারা এটাই করে।

         শটগান না থাকলেও আমি একটা জিনিশ শিখেছি: ছুরি থাকে যে দেরাজটায়, সেটা খোলা রেখে কখনই কোনোরকম দাম্পত্য আলোচনা করা উচিত নয়। ঘরের জানলা খোলা থাকলে কখনই কোন বয়ঃসন্ধির কিশোর বা কিশোরীর সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা করতে নেই।

         কারণ মন্দ তো সুযোগসন্ধানী, আর সে কেবল আমাদের দুর্বলতার কোন লক্ষণের অপেক্ষায় থাকে।

         ফ্যাসিস্টের মত কাজকর্ম করাটা মনুষ্যধর্ম। দিনে কতবার আমরা ফ্যাসিস্টের মত আচরণ করি – আর তার তীব্রতাই বা কতটা – এটাই দেখার বিষয়। অ্যাটাকগুলো কত ঘনঘন হচ্ছে আর সেগুলোর তীব্রতা কিরকম এগুলোর ওপরেই আমাদের নজর রাখতে হবে, ঠিক যেমন একজন অন্তঃসত্ত্বা খেয়াল রাখে তার ব্যথা কত ঘনঘন আর কতটা জোরে উঠছে।

         বেশী পরিমাণে হলে জলও (যেটা কিনা জীবনদায়ী, যা ফ্যাসিজ়ম অবশ্যই নয়) আমাদের ডুবিয়ে দিতে পারে।

         এর কোন টিকা নেই, ঠিক যেমন ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে নেই বলে অ্যামোস ওজ় (উনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন একটা বার করার) মেনে নিয়েছিলেন। তবে কিছু ঘরোয়া টোটকা আছে অবশ্য। আগেকার দিনের লোকেরা উপদেশ দিতেন সবকিছু খুব গুরুত্ব দিয়ে করতে কিন্তু নিজেদের খুব একটা গুরুত্ব না দিতে।

         যেমন, নিজেদের নিয়ে হাসাহাসি করলে কাজে দেয়।

         যদিও ফ্যাসিজ়ম হাসিঠাট্টার ব্যাপার নয়, তা-ও। যদি সেটা ফিরে আসে – ওহো, মাপ করবেন, যখন সেটা ফিরে আসবে – তখন অবশ্যই সেটা তার আগের রূপগুলোর থেকে আলাদা হবে, ঠিক যেমন এগুলো অবশ্যই একটার থেকে আরেকটা অন্যরকম ছিল। জার্মান মডেলটা, কাজের হিসেবে খুবই প্রবল, বারো বছর টিকেছিল। ইটালিয়ান মডেলটা, কম উন্নত, একুশ বছর ধরে চলেছিল। পোর্তুগিজ় মডেলটা, আরও নরমপন্থী, আটচল্লিশ বছর ধরে চলেছিল। আর অন্যায়-অবিচারের শিকার জুলিউ দান্তাশ[1] হলে বলতেন: আহা, পোর্তুগালে ফ্যাসিজ়ম কত অন্যরকম!   

         আর যদি সেটা না-ও বলতেন তবে ওঁর বলাটা উচিত হত, কারণ কথাটা সত্যি। পোর্তুগালে সবই অন্যরকম, এমনকি ভালবাসাও, আর সেইজন্যেই আমাদের এখানে সবচেয়ে ভাল ব্র্যান্ডের কারডিনালদের নৈশভোজ আছে।

পাঠ ৯৭

ভাল ফ্যাসিস্ট প্রথাগত রীতিনীতি ভালবাসে

আর আমাদের দেশে যে জিনিশগুলো সবচেয়ে সুন্দর তাদের মধ্যে প্রথারা পড়ে। একজন ভাল ফ্যাসিস্টকে কোন কিছু বোঝাতে চান? তাকে বলুন যে ওটাই প্রথা।

         “ওহো, আমি কিন্তু জানি না মারজ়িপান[2] আর শান্তিলির[3] আইসিং দেওয়া, ওপরে ভিতেলা আ

ত্রানশমন্তানা[4] দিয়ে সাজান ভিন্যিয়া দ্য আল্যিউশে[5] ভিজিয়ে রাখা খোসা-শুদ্ধু শামুক খেতে আমার ভাল লাগবে কিনা…”

        “আরে বাবা, এটা তো একটা প্রথা, এবার বলিস না যেন তুই প্রথার বিরুদ্ধে!”  

         এ হল সর্বরোগহর। শিক্ষানবিশ ফ্যাসিস্ট প্রথার প্রতি অনুগত হয় – বিশেষ করে যেগুলো সবচেয়ে সাম্প্রতিক।  

         যদিও মেয়েলি ব্যাপারস্যাপার তার ঘোর অপছন্দের তাসত্ত্বেও সে কিন্তু সাংঘাতিক উন্মত্ত হিংসাত্মক ব্যাপারস্যাপারে রাজি হয়ে যেতে পারে যদি তাকে বোঝান হয় যে “আরে বস, এটা তো আমাদের গ্যাঙের দীক্ষার মত একটা রীতি, [সত্যিকারের বা কল্পিত কোন সামরিক বা আধা-সামরিক বাহিনীর নাম করে]-তে তো এরকম প্রচুর হয়েছে আর কেউ কোন নালিশও করেনি!”   

         পুরুষালী মস্তি হলেই হল, কোন সমস্যা নেই। পুরুষালী মস্তির জন্যে সবকিছু করা যেতে পারে, পুরুষালী মস্তির বিরুদ্ধে কিচ্ছু বলার নেই।

         তাছাড়া র‍্যাগিং, তার সবচেয়ে অকৃত্রিম জৌলুস সহ, এ ছাড়া তো আর কিছু নয়: ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, এমন সব ইচ্ছুক অর্বাচীন নিধিরাম সর্দারদের নিয়ে জোর করে কতগুলো দল তৈরি করেতাদের সুশৃঙ্খল ধর্ষকামী গুণগুলোতে শাণ দেওয়া, একধরণের স্বাস্থ্যসম্মত অবমাননার মাধ্যমে; তখনও তারা খেলনার ফ্যাসিস্ট মাত্র, হাতে সত্যিকারের পিস্তলের বদলে খেলনার ক্যাপ-লাগান পিস্তল। যাই হোক, কিছু না কিছু গণ্ডগোল তো হয়েই যায় কারণ কেউ একটা (এতে মজাও আছে) বেশির ভাগ সময়েই পিস্তল বদলে দিতে ভুলে যায়। র‍্যাগিং আর অত্যাচারের মধ্যে সম্পর্কটা হল ভার্জিন মেরি আর ব্লাডি মেরির মধ্যে ঠিক যে সম্পর্কটা: সত্যিকারের জিনও থাকবে না, রক্তও থাকবে না কিন্তু, ভালভাবে করতে পারলে স্বাদটা প্রায় একই রকম ভাল হয়ে থাকে।        

পাঠ ৯৮

ভাল ফ্যাসিস্ট জানে আমাদের বাড়ি কোথায়

ভাল ফ্যাসিস্টের সূক্ষ্ম হুমকির অফুরন্ত ভাণ্ডারের মধ্যে যেটা সবচেয়ে ছবির মত সেটা হল: “আমি জানি তুমি কোথায় থাক।”  

         ভাল ফ্যাসিস্ট, যদি আমরা ওকে জ্বালাতন করি, তাহলে ও জানে আমরা কোথায় থাকি।

         “আমি জানি তুমি কোথায় থাক।”

         অন্যদিকে আবার, আমরা যদি ওকে না জ্বালাই তো ও সেটা জানে না। ভাল ফ্যাসিস্ট হল প্রথম ছবিগুলোতে হাল্কের[6] মত: ডক্টর ব্রুস ব্যানার বিরক্ত হলে গাধা হয়ে যেতেন; ভাল ফ্যাসিস্ট জ্ঞানী হয়ে যায়।

         তার কাছে ডিরেকশান চাইলে সে অবশ্য খুব প্র্যাক্টিকাল হয়ে যায়:

         “মাপ করবেন, এখান থেকে রুসিউ কি করে যায় একটু বলতে পারবেন?”

        “দুঃখিত। সত্যি বলতে কি, জানি না। কিন্তু রুসিউতে আমার বিরক্ত হওয়ার মত এমন কিছু

আছে যদি বলতে পারতেন, তবে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারতাম।”

        “সত্যি?”

        “হ্যাঁ। রুসিউতে বিরক্তিকর কোন কিছুর কথা কি আমায় বলতে পারেন?”

        “দেখুন, আমায় বলা হয়েছে যে ওখানে প্রচুর জিপসি, নিগ্রো আর পকেটমার আছে।”

        “আরে, সেটা তো আগে বলবেন! হ্যাঁ মশাই, খুব ভাল করে জানি জায়গাটা কোথায়। হেঁটে

যাবেন না গাড়িতে? শুনুন, এই ডানদিকে যাবেন, প্রথম গলিটা ছেড়ে, দ্বিতীয়টাও, কারণ ওখানে ঢুকতে পারবেন না, ওখানে ঢোকা বারণ…”         

এইভাবে ভাল ফ্যাসিস্ট হল গরীবদের মার্ক জ়ুকারবার্গের মত, একটা মনুষ্য জিপিএস, একটা টেলিফোন ডিরেক্টারি, জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রি অফিস। যারা ওকে কখন না কখন বিরক্ত করেছে, তারা সবাই কোথায় থাকে সেটা ও জানে আর প্রতিজ্ঞা করে যে একদিন, অফিস খোলা থাকার সময়ের বাইরে, ও তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাবে।

[অনুশীলনী: চোখ বন্ধ করুন, পকেটে হাতদুটোকে ঢোকান, কোন একটা কিছু নিয়ে বিরক্ত হয়ে কোন কিছুতে ধাক্কা না মেরে বৈঠকখানা অবধি যাবার চেষ্টা করুন। মাথায় ঠোক্কর লাগলে চিন্তা করবেন না, তাতে এমনকি তাড়াতাড়ি ভাল ফ্যাসিস্ট হয়ে যেতে সাহায্য পাবেন। যতবার দরকার ততবার করুন।]

পাঠ ৯৯

ভাল ফ্যাসিস্ট সবকিছু জানে

তার কখন কোন সন্দেহ হয় না আর সে ভুল করেই না বলতে গেলে। আর কখনসখন ভুল করলে সেটা করে কারণ তাকে ভুল বোঝান হয়।

         অথবা তাকে ঠিক করে বোঝান হয় না।

         এতে কি কারো সন্দেহ আছে?

         বেশ, বেশ।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্ট যত খবর জোগাড় করে সেসবই তার একজন তুতো ভাইয়ের কাছ থেকে যে “সবকিছু নিজের চোখে দেখেছে”। কিন্তু যখন সে, যে “সবকিছু নিজের চোখে দেখেছে”, সেই তুতো ভাইয়ের কাছ থেকে খবরটা না পেয়ে থাকে, তখন ভাল ফ্যাসিস্ট খবরটা পড়েছে।

         পড়েছে? কোথায় পড়েছে? আরে! এ আবার কি প্রশ্ন! এটা নিশ্চিত যে এটা তার কখনই মনে থাকে না। তাসত্ত্বেও, এটা নিশ্চিত যে সে পড়েছে।

         নাকি কোন তুতো ভাইয়ের কাছ থেকে জেনেছে? সে যা-ই হোক না কেন, জানাটাই তো পড়ার আসল কথা।

         কিংবা, হয়ত, কোন তুতো ভাইয়ের কাছ থেকে, যে “নিজের চোখে দেখেছে”?

         কোথায় পড়েছে সেটা ভুলে যাওয়ার ভাল ফ্যাসিস্টের একটা অদ্ভুত প্রবণতা আছে।

         কিংবা তুতো ভাইয়ের নামটা। সে-ও তো ওর গুচ্ছের আছে, ওই তুতো ভাইয়েরা।

         এটা বললেই ভাববেন না যেন ভাল ফ্যাসিস্টের স্মৃতিশক্তি খুব খারাপ। মোটেই না। ওর, যেমন, স্বৈরতন্ত্রের একটা চমৎকার স্মৃতি আছে। কিন্তু কম চমৎকার কিছু স্মৃতিও আছে, কিছু কিছু তো বেশ বিশ্রি, আর সেগুলোকে পর্যন্ত সে ভোলে না, বিশেষ করে সেগুলো যদি অপমানজনক হয়ে থাকে। যে মনে করে যে ভাল ফ্যাসিস্ট বোকা, সে ভুল করে। কিংবা তার স্মৃতিশক্তি কমজোরি।

         ভাল ফ্যাসিস্টের স্মৃতিশক্তি হাতির মত। কিন্তু, সাবধান, সে হাতি নয়। না, তা সে নয়। কিন্তু যদি হত?

         ভবিষ্যৎটা কিন্তু – যে আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছে সে কিন্তু আপনার বন্ধু – চিনেমাটির জিনিশের দোকান নয়।

জানেন কি…

একটাকে নীল আর অন্যটাকে গোলাপী পরানর জন্যেই আমাদের দুটো কিডনি আছে?

ফ্যাসিজ়ম চুমু বা আলিঙ্গন দিয়ে ছড়ায় না, কিন্তু সাবধান হওয়ার জন্যে আমাদের বাহু বা জিভ কোনটাই বেশী লম্বা করা উচিত নয়?

একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে ফ্যাসিজ়মের ছোঁয়াচ লাগে না, তাসত্ত্বেও একই সিরিঞ্জ কিন্তু ব্যবহার করবেন না।  

যে হাত আমাদের খেতে দেয়, সেটাকে কামড়ান উচিত নয় কারণ সেটা কাঁচাও হতে পারে?

যেটা আমাদের ফ্যাসিনেট করে সে বিষয়ে আমাদের সাবধান হওয়া উচিত – “এন”-এ একটা টোকা মারলেই সেটা কাত হয়ে গিয়ে সব ঝোল উলটে ফেলবে?

জগৎ ফ্যাসিনেট করে

জগৎ ফ্যাসিAট করে

জগৎটা ফ্যাসিস্ট

পরের খণ্ডটা কিনতে ভুলবেন না

পাঠ ১০০

ভাল ফ্যাসিস্ট ভবিষ্যৎ পছন্দ করে। কিন্তু সে চায় সেটা যেন আগেকার মতই হয়।

পাঠ ১০১

ভাল ফ্যাসিস্ট জীবজন্তু ভালবাসে। আর সে জানে যে কুকুর যদি বাচ্চাকে কামড়িয়ে থাকে তার কারণ তার [বাচ্চার] মুখে ঠিক করে ঠুলি পরান ছিল না।  

পাঠ ১০২

ভাল ফ্যাসিস্ট জীবনের পবিত্রতায় বিশ্বাস করে। আর ঠিক সেই জন্যেই সে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে।

পাঠ ১০৩

ভাল ফ্যাসিস্টের পৃথিবীর আদিমতম পেশার প্রতি একটা দুঃখজনক অসম্মানের মনোভাব আছে: “সব শালা বেবুশ্যে।”

পাঠ ১০৪

ভাল ফ্যাসিস্ট লোকটা খারাপ নয়। সে তার বন্ধুর বন্ধু, সে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু তারও তো একটা সীমা আছে। আমি কেবল সাবধান করে দিচ্ছি। সীমা আছে।

পাঠ ১০৫

একদিন, ভাল ফ্যাসিস্ট এইসব আলতুফালতু জিনিশ ভেঙে চুরমার করে দেবে। আর তখনই আপনারা কত ধানে কত চাল দেখতে পাবেন। হ্যাঁ, হ্যাঁ, কত ধানে কত চাল দেখতে পাবেন।

পাঠ ১০৬

ভাল ফ্যাসিস্ট একজন ডাক্তার। সেইজন্যে সে সবসময়ে জিজ্ঞেস করে: “দেব নাকি এক দাগ ওষুধ?”   

পাঠ ১০৭

ভাল ফ্যাসিস্ট পরিবার ভালবাসে। যতক্ষণ না সে তার মেজাজটা হারিয়ে ফেলে, তখন কিন্তু তার নিজের কাজের ব্যাপারে আর কোন দায়িত্ব থাকে না।

পাঠ ১০৮

একটা তর্কে জেতার জন্যে ভাল ফ্যাসিস্ট সবকিছু ব্যবহার করে। এমনকি সত্যিটাও, যদি আর কিছু হাতের কাছে না থাকে।

পাঠ ১০৯

ভাল ফ্যাসিস্ট ইসলামবিরোধী নয়, কিন্তু চাঁদটা অর্ধচন্দ্রাকার হলেই সে নার্ভাস হয়ে পড়ে।

পাঠ ১১০

ভাল ফ্যাসিস্ট হল একটা গ্রীষ্মপ্রধান দেশ, যাকে তার নিজের লোকেরা উত্যক্ত করে আর প্রকৃতি ঘেন্না করে।

পাঠ ১১১

আগেকারদিনে লোকে যা ভাবত তা-ই বলে ফেলতে পারত। সালাজ়ারের আমলে কেবল সে-ই ধরা পড়ত যার ধরা পড়া উচিত।

পাঠ ১১২

ভাল ফ্যাসিস্ট ট্যুরিস্টদের পছন্দ করে না – ওর আশঙ্কা ওদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীরা থাকবে।

পাঠ ১১৩

ভাল ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসবাদীদের সন্দেহ করে – ওর আশঙ্কা ওদের মধ্যে ট্যুরিস্টরা থাকবে।

পাঠ ১১৪

ভাল ফ্যাসিস্ট রীতিনীতি মেনে চলা প্রবাদ পছন্দ করে – যেমন বন্যেরা বনে সুন্দর।

পাঠ ১১৫

ভাল ফ্যাসিস্ট সন্দেহজনক প্রবাদ অপছন্দ করে – যেমন কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।

পাঠ ১১৬

ভাল ফ্যাসিস্ট গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু সে মনে করে “এটা গণতন্ত্র নয়”

পাঠ ১১৭

ভাল ফ্যাসিস্ট প্রথা খুব পছন্দ করে। বিশেষ করে যেগুলো একেবারে ঝাঁ চকচকে।

পাঠ ১১৮

ভাল ফ্যাসিস্ট গর্দভ নয়। হয়ে যায়।

পাঠ ১১৯

তার একটা কারণ কেউ গর্দভ হয়ে জন্মায় না। হয়ে যায়।

পাঠ ১২০

ভাল ফ্যাসিস্ট রাজনীতিতে নাক গলায় না – কিন্তু মানুষ তো আর কাঠের পুতুল নয়।

পাঠ ১২১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট সর্বদাই ভুক্তভোগী – “বাচ্চাটাই তো দৌড়ে পার হচ্ছিল”।  

পাঠ ১২২

ভাল ফ্যাসিস্ট বুঝতে না। “আরে পুরুষদিবস যদি না-ই থাকবে তো কিসের জন্যে নারীদিবস হবে?”

পাঠ ১২৩

ভাল ফ্যাসিস্ট এতটাই কম বর্ণবিদ্বেষী যে তার বর্ণবিদ্বেষী বন্ধুও আছে।

পাঠ ১২৪

ভাল ফ্যাসিস্ট সবসময়েই পৃথিবীর শেষ হয়ে যাওয়াটা ঘোষণা করছে – আর ওর কাছে সেটার সমাধানও আছে: পৃথিবীর শেষ হওয়াটা আরও তাড়াতাড়ি করে ফেলা।

পাঠ ১২৫

ভাল ফ্যাসিস্টের মৃত্যুর প্রতি একটা তীব্র আকর্ষণ আছে। মৃত্যু সহজ সরল, জীবনটা জটিল। জীবনটা আকাশে ওঠে, মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ে, মৃত্যু বিশুদ্ধতার বিভ্রম জাগায়।

পাঠ ১২৬

জীবন ভয় দেখায়। মৃত্যু সেটা কেবল করে যখন আমরা বেঁচে থাকি।

পাঠ ১২৭

ভাল ফ্যাসিস্ট ভাল জনসংযোগ নিয়োগ করতে ওস্তাদ। কেউ কেউ আবার ওকে ওর গল্পের উর্দিটা খুলে ফেলতে বলে।

পাঠ ১২৮

ভাল ফ্যাসিস্ট নিজের শত্রু ছাড়া আর কারুর কোন ক্ষতি চায় না।   

পাঠ ১২৯

ভাল ফ্যাসিস্ট বলে: আমার নাম লিজিয়ান[7]পোর্তুগিজ়।

পাঠ ১৩০

ভাল ফ্যাসিস্ট খুব মিতব্যয়ী। সে অল্পতেই চটে যায়।

পাঠ ১৩১

ভাল ফ্যাসিস্ট নিশ্চিত প্রত্যয়ের মানুষ – ওর নিশ্চিত প্রত্যয়গুলো যে তথ্য মেনে চলবে, এটা আশা করাটাই তো কেবল বাকি আছে!

পাঠ ১৩২

ভাল ফ্যাসিস্ট কখনই নিজেকে ভুল বলে মেনে নেয় না। তাহলেসেটা দুর্বলতার লক্ষণ হত।

পাঠ ১৩৩

ভাল ফ্যাসিস্ট কল্পিত শত্রু তৈরি করে যাতে তাদের বিরুদ্ধে ওর জয়টা বাস্তব হয়।

পাঠ ১৩৪

ভাল ফ্যাসিস্ট বুদ্ধিজীবীদের ঘোর অপছন্দ করে। গোড়া থেকেই, কারণ ওরা বুদ্ধিজীবীর ভান করা নকল-বুদ্ধিজীবী।

পাঠ ১৩৫

ভাল ফ্যাসিস্ট নকল-বুদ্ধিজীবীদের ঘোর অপছন্দ করে। গোড়া থেকেই, কারণ ওরা হল নকল-বুদ্ধিজীবীর ভান করা বুদ্ধিজীবী আর ভাল ফ্যাসিস্ট (পাঠ ১৩৪ দ্রঃ) বুদ্ধিজীবীদের ঘোর অপছন্দ করে।

পাঠ ১৩৬

আমাদের সবারই এমন একজন ভাল ফ্যাসিস্ট থাকা দরকার যে আমাদের ঘোর অপছন্দ করে। কেবল তার কল্পনাতেই আমরা সর্বদা খোশমেজাজে থাকি, আর শ্যাম্পেন খাই, আর ক্যাভিয়ার খাই ক্যাভিয়ার খাওয়ার উপযুক্ত হাত, অর্থাৎ বাঁ হাত দিয়ে।

পাঠ ১৩৭

ভাল ফ্যাসিস্ট একটা মাছিকেও মারে না। দায়িত্বজ্ঞানহীন শয়তানগুলো বড্ড তাড়াতাড়ি ওড়ে।

পাঠ ১৩৮

ভাল ফ্যাসিস্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এবার ছোটখাট সাহায্য চাওয়াতে দোষের কি আছে?

পাঠ ১৩৯

ভাল ফ্যাসিস্ট ওর চেয়ে বড় কারুর সঙ্গে লাগতে যায় না। ওকে বোকা বলতেই পারেন।

পাঠ ১৪০

বা লাগলেও, দল বেঁধে লাগে। যদি ভাল ফ্যাসিস্ট দল বেঁধে থাকে তো ওকে বোকা না বলার পরামর্শটাই আপনাকে দেব।  

পাঠ ১৪১

ভাল ফ্যাসিস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্ক খুব ভালবাসে। “এইসব ফলস প্রোফাইল কিসের জন্যে, দিম্মা?” “তোমাকে ভাল করে ছিপ দিয়ে গেঁথে তোলার জন্যে, দিদিভাই।”

পাঠ ১৪২

ভাল ফ্যাসিস্ট নকল প্রোফাইল ব্যবহার করে? হ্যাঁ, কিন্তু সেটা সত্যিটা আরও ভাল করে বলার জন্যে।

পাঠ ১৪৩

ভাল ফ্যাসিস্ট কোন সোর্স পরীক্ষা করে দেখে না। এমনকি যখন বড় বড় করে লেখা থাকে “এই উৎস পানযোগ্য নয়।”

পাঠ ১৪৪

ভাল ফ্যাসিস্টের সেই সময়ের জন্যে মনকেমন করে যখন এই রাজনৈতিক ভাবে সঠিকের ফালতু ঝামেলাটা ছিল না আর মানুষ মনের সুখে বেনামে যাকে খুশি ধরিয়ে দিতে পারত।  

পাঠ ১৪৫

ভাল ফ্যাসিস্ট সত্যি কথা বলতে খুব ভালবাসে। মিথ্যে তো কেবল তাতিয়ে তোলার জন্যে।  

পাঠ ১৪৬

ভাল ফ্যাসিস্টের কমেন্ট বক্স খুব ভাল লাগে। কারণ যে কোন সম্মানজনক ফ্যাসিস্টের বাক্স খুব পছন্দ।

পাঠ ১৪৭       

ভাল ফ্যাসিস্টের কমেন্ট বক্স খুব ভাল লাগে। কিন্তু সে মাঝেমাঝে বাক্সের বাইরেও ভাবে।

পাঠ ১৪৮

ভাল ফ্যাসিস্ট এখন আর অতটা ত্রাউলিতারীয়[8] নয়। এখন সে আধুনিক হয়ে উঠে অনেক বেশী ট্রল।

পাঠ ১৪৯

ভাল ফ্যাসিস্টের একটা ট্র্যাভেল এজেন্সি খোলা উচিত, কারণ সে লোকেদের “তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে” খুব দড়।

পাঠ ১৫০

ভাল ফ্যাসিস্ট হল বুদ্ধিবিবেচনার ঘুম। কিন্তু সে নিশ্চিত যে সে বুদ্ধিবিবেচনার প্রভু।

পাঠ ১৫১

হ্যাঁ, ভাল ফ্যাসিস্ট মনে করে যে সর্বদাই সঠিক। আর সে মনে করে যে সর্বদাই সঠিক হওয়াটা ভাল। আমি, অবশ্য, জানি যে ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। সর্বদা সঠিক হওয়াটা আশির্বাদ নয়, অভিশাপ। আর আমি এটা কি করে জানি? কারণ, দুর্ভাগ্যবশত, সব জানা আর সর্বদা সঠিক হওয়াটা – এই এখন যেমন – আমার অভিশাপ।    


[1]Júlio Dantas (১৮৭৬-১৯৬২), একজন পোর্তুগিজ় লেখক যাঁকে তাঁর বেশ কিছু সমসাময়িক লেখকেরা, যেমন পেসোয়ার বন্ধু আলমাদা নেগ্রাইরুশ, পশ্চাৎপন্থী বলে মনে করতেন। ১৯০৮ সালে তিনি আ সেইয়া দুশ কার্দিয়াইশ (কার্ডিনালদের নৈশভোজ) নামে একটি নাটক লেখেন তাতে একটি বাক্য ছিল “ওঃ, পোর্তুগালে ভালবাসা কত অন্যরকম!” নাটকটি মজার কিন্তু সেটা ইচ্ছাকৃত ভাবে নয়; রাসিনের নাটক আর সিরানো দ্য ব্যার্জারাক-এর মত এটিও ছন্দে লেখা। তিনজন কার্ডিনাল – একজন ফরাসী, একজন স্প্যানিয়ার্ড ও একজন পোর্তুগিজ় – নৈশভোজে মিলিত হয়েছেন। কার প্রেমের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে ভাল এই নিয়ে সবাই একটা বাজি ধরেন। স্প্যানিয়ার্ডটি খুবই সাহসী ও বীর – একাই কুড়িজনের বিরুদ্ধে লড়েছেন, ফরাসীটি রুচিশীল ও মহৎ – বুদ্ধি করে একটা ডুয়েল জিতেছেন আর একজন মার্শনেসকে সিডিউস করেছেন। যখন পোর্তুগিজ় কার্ডিনালের পালা আসে, তখন তিনি বাচ্চাদের মধ্যে পবিত্র ভালবাসার কথা বলেন যাতে বালিকাটি মারা যায় আর (ঠিক যেমন ঊনবিংশ শতাব্দীর ঔপন্যাসিক কামিলু কাশ্তেলু ব্রাঙ্কুর লেখায় হয়ে থাকে) তিনি পাদ্রী হয়ে যান । বলাই বাহুল্য, তিনিই বাজিটা জেতেন। পোর্তুগালে ভালবাসাটা ফরাসীর গল্পের মত মহৎ নয়, স্প্যানিয়ার্ডের গল্পের মত সাহসীও নয়, এমনকি ইরটিকও নয়: কিন্তু সেটা পবিত্র, ভাল, কোমল। ঠিক যেমন ওদের ফ্যাসিজ়ম!!!

[2]Marzipan – আমন্ড বাদামের গুঁড়ো, ময়দা, ডিম ও চিনি দিয়ে তৈরি পেস্ট। কেকের ওপরে এই পেস্টের একটা পরত দিয়ে ঢাকা হয়, আবার এ দিয়ে মিষ্টিও তৈরি হয়। দক্ষিণ পোর্তুগালের আলগার্ভ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশী আমন্ড বাদাম হয় আর তাই ওই অঞ্চল এই “মাসাপাঁও”-এর মিষ্টির জন্যে বিখ্যাত।  

[3]Chantilly, বা crème Chantilly তাজা, সাধারণত ডাবল, ক্রিম চিনি মিশিয়ে বরফের ওপরে রেখে ভাল করে ফেটিয়ে আরও ঘন করে তোলা। শান্তিলি কেক সাজাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।     

[4]Vitela à Transmontana – ভীল অর্থাৎ বাছুরের মাংস, আলু আর চেস্টনাট দিয়ে তৈরি উত্তর পোর্তুগালের একটা পদ।

[5]Vinha de alhos – ভিনিগার বা ওয়াইন, রশুন আর তেজপাতার একটা মিশ্রণ যাতে রান্নার আগে মাংস ভিজিয়ে রাখা হয়। এর থেকেই গোয়ার রান্না “ভিন্দালু”-র নাম এসেছে, যদিও রান্নার প্রণালী একেবারেই আলাদা।   

[6]মার্ভেল কমিক্সের একজন সুপারহিরো যার প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৬২ সালের মে মাসে। এর অল্টার ইগো হল ডঃ ব্রুস ব্যানার নামের একজন পদার্থবিদ।  

[7]Legion – খ্রিস্টধর্মে শয়তান বা শয়তানদের একটা দলকে লিজিয়ান বলা হয়ে থাকে। নিউ টেস্টামেন্টের গস্পেল অফ মার্কে, যেখানে জিশুর সঙ্গে দেখা হয় এমন একজনের যার ওপরে শয়তান ভর করেছে। জিশু সেই শয়তানকে তাড়িয়ে লোকটিকে সুস্থ করে তোলার জন্যে যখন তাকে তার নাম জিজ্ঞেস করেন, তখন সেই শয়তানেরা একযোগে উত্তর দিয়ে বলে যে তাদের সমষ্টিগত নাম “লিজিয়ান”।   

[8]১৯১৯ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে রাজতন্ত্রের কিছু সমর্থক দেশের উত্তরে, পোর্তুতে দেশের প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবিদ্রোহ করে পঁচিশ দিনের একটা (উত্তরের রাজতন্ত্র নামে) রাজতন্ত্রী সরকার তৈরি করে। এই সরকারকে ব্যঙ্গ করে ত্রাউলিতানিয়া বলা হত।     

ঋতা রায়
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।  

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.