ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় (পর্ব ১৫)

বাংলা English
Rui Zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista

এই কিস্তি শুরু করার আগে একটা ছোট্ট ভূমিকা জরুরি। রুই যখন ২০১৮ নাগাদ এই বইটা লিখতে শুরু করেন তখন পোর্তুগালে অতিদক্ষিণপন্থা নোতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। ১৯৭৪ সালের এপ্রিল অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম। ২০১৯ সালে শেগা রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নাম নথিভুক্ত করল এবং সে বছরেই সংসদ নির্বাচনে একটি সিট পেল। খুব সম্ভবত পোর্তুগালই তখন অবধি ইউরোপের (নাকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের?) একমাত্র দেশ ছিল যেখানে অতিদক্ষিণপন্থী রাজনীতি অনুপস্থিত ছিল। তারপর রুই এবং তাঁর সমমনস্ক অনেক স্বদেশীয়র আশঙ্কা সত্যি করে শেগা এবং তার সমর্থকদের দিনে দিনে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেছে। পোর্তুগালে ১৯৭৪ সালের পর থেকেই মধ্য-দক্ষিণপন্থী সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটরা এবং মধ্য-বামপন্থী সোশ্যালিস্টরা পালা করে সরকার গড়ে আসছে, রাষ্ট্রপতি পদেও একই ব্যাপার ঘটে চলেছে। তবে ২০১১ থেকে ২০১৫ অবধি সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটদের “দুঃশাসন” এখনও অনেক পোর্তুগালবাসী এবং আমার মত পোর্তুগাল-মিত্রের কাছে দুঃস্বপ্নের মত। ২০১৫ সালের শেষে সোশ্যালিস্টরা মেজরিটি না পেলেও বামপন্থীদের বাইরে থেকে দেওয়া ঠেকনা নিয়ে সরকার গঠন করল। এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হল “জেরিঙ্গন্সা” অর্থাৎ “লজঝড়ে গাড়ি”। পরের বছরের গোড়ায় একজন সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাট রাষ্ট্রপতি পদে এলেন। মানুষটি পোড়-খাওয়া ঝানু রাজনীতিবিদ, স্বভাবটিও ভদ্র, এই দুটি গুণ তাঁরই পার্টির পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির একেবারেই ছিল না। চারটি বছর (ও দেশের সংসদের সময়সীমা চার বছরই) খুবই ভাল কাটল, অর্থনৈতিক মন্দা ধীরে ধীরে কাটতে লাগল, দেশের আবার শ্রীবৃদ্ধি শুরু হল। ২০১৯-এর নির্বাচনের ফল মোটামুটি একই। কিন্তু বামপন্থী দলগুলি এবারে একটু বেগড়বাঁই শুরু করল। কি কারণে সেটা আমার কাছে খুব স্পষ্ট নয়। তারা বলল এবারেও সরকারের বাইরে তো তারা থাকবেই, তারপর আবার চোখ বুজে সাহায্যও করবে না, এবারে হবে ইশ্যুভিত্তিক সাপোর্ট। পরের বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর একই রাষ্ট্রপতি এলেন। হিসেব মত সরকার চলার কথা ২০২৩এর নভেম্বার অবধি। গোল বাধল গত বছরের অক্টোবারে, বাজেট অধিবেশনে (ওদের অর্থনৈতিক বছর শুরু হয় পয়লা জানুয়ারি, বাজেট পাশ করাতে হয় নভেম্বারের মধ্যে)। বামেরা বেঁকে বসল – তারা কিছুতেই বাজেট অনুমোদন করবে না, কারণগুলো যদিও খুব গুরুতর নয়। এদিকে রাষ্ট্রপতিও বেঁকে বসলেন – বাজেট পাশ না হলে তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে নোতুন করে নির্বাচন ঘোষণা করবেন। দশ-বারো দিন ধরে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন অনেকেই বামেদের বোঝানর অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু সবই বৃথায় গেল। বামেরা ডানেদের সঙ্গে একজোট হয়ে বাজেট আটকে দিল। তারপরেও কিন্তু রাষ্ট্রপতির হাতে সংসদ না ভাঙার উপায় ছিল, কিন্তু তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে অকাল নির্বাচন ডাকার বিপদ বুঝেও বুঝলেন না। ফলত, রবিবার যখন তর্কিত তর্জনীর এই সংখ্যাটি, এবং “ভাল ফ্যাসিস্টের” এই কিস্তিটি পাঠকদের সামনে উপস্থিত হবে, তখন রুই এবং তাঁর স্বদেশবাসীরা ভোট দিতে যাবার জন্যে তৈরি হচ্ছেন। এখন শীতকাল, পোর্তুগালের সময় আমাদের সময়ের থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পিছিয়ে। রুই এবং ওই দেশে আমার অন্যান্য বন্ধুরা কেউই স্বস্তিতে নেই। আমিও তাঁদের মত “দুঃশ্চিন্তিত”; কারণ হিসেবমত এবার মধ্য-দক্ষিণ সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটদেরই বেশী ভোট পাওয়ার কথা এবং সার্ভে অনুযায়ী তারাও মেজরিটি পাবে না। অতএব, আবার জেরিঙ্গন্সা এবং এবারে এই লজঝড়ে গাড়িতে বসবে, হয়তবা চালকের আসনেই, অতিদক্ষিণপন্থী শেগা। সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই ত্রাহি মধুসূদন হাঁক পেড়ে বলছে “শেগা”, মানে “যথেষ্ট হয়েছে, আর না!” একটু যদি আপনারা পোর্তুগালের জন্যে প্রার্থনা করেন!           

একটা সহজ সার্ভে

কিন্তু আমি একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হবার পথ ধরেছি কিনা সেটা আমি কখন জানতে পারব?, এটা পাঠকের প্রশ্ন – আর সেটা ভাল প্রশ্নটা। এর চেয়ে সহজ কিছু আর হতে পারে না, বেবি। ভাল ফ্যাসিজ়মের কোন লেভেলে আপনি এখন আছেন, সেটা জানার জন্যে সেলফ-ইভ্যালুয়েশানের এই ছোট্ট কোয়েশ্চেনেয়ারটার উত্তর দেওয়াই যথেষ্ট। যে উত্তরটা আপনার চিন্তার সবচেয়ে কাছাকাছি, সেটার সামনের বক্সটায় একটা ক্রসচিহ্ন (স্বস্তিকা চিহ্ন দেওয়াটা বড্ড বেশী খাটুনির) দিন:

১। সবচেয়ে খারাপ অভিবাসীরা হল  

ক) মুসলমানেরা    ।                                                                   £

খ) নিগ্রোরা।                                                                     £

গ) স্প্যানিয়ার্ডরা।                                                              £    

ঘ) পোর্তুগিজ়রা।                                                                       £

২। মেয়েমানুষেরা

ক) কি চায় আমি জানি।                                                       £

খ) নিজেদের খেলো করে ফেলে, আর তারপর নালিশ করে।                              £

গ) আইবেরীয় পুরুষদের মৃগয়াভূমিতে যাবার জন্যে ওদের কেউ মাথার দিব্বি দেয়নি[1]।      £

ঘ) ওরা ব্যাটাছেলেদের চেয়ে খারাপ হবার ক্ষমতা রাখে।                                  £

ঙ) একজন ব্যভিচারিণী হল একজন মেকি, ভণ্ড, অসৎ, বিশ্বাসঘাতিনী, ব্যর্থ, অসচ্চরিত্র

   মানুষ, মানে এককথায় তার কোন নৈতিক সততা নেই।                               £

৩। রাজনীতিবিদেরা  

ক) হল দালালের দল।                                                                £

খ) আমার মতে সব ব্যাটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।                                 £

গ) ব্যাটাদের গলায় পাথর বেঁধে তাইজুতে ফেলে দেওয়া হোক।                          £

ঘ) সিমেন্টের জুতো পরিয়ে দোরুতে ছুঁড়ে ফেলা হোক।                                £

৪। কারাদণ্ড

ক) আমার মতে সব ব্যাটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।                                 £

খ) আমি হলে চাবিটা ছুঁড়ে ফেলে দিতাম।                                           £

গ) দিনে তিনবেলা খ্যাঁটন, মুফতের বিছানা, আর তারপরেও নাকে কান্না?!             £

ঘ) মুখের হাসিটা মুছে ফেলার জন্যে সব কটাকে নিকেশ করা উচিত।                  £

৫) শিক্ষা

ক) স্কুলে ওদের (ছাত্রদের) কিছু শেখান হয় না।                                    £

খ) স্কুলে ওদের (শিক্ষকদের) কিছু শেখান হয় না।                                 £

গ) আমাদের সময়ে রুলের বাড়ি মেরে শক্তসমর্থ করা হত।                             £

ঘ) স্কুলেই তো সব আজেবাজে জিনিশ শেখে হয়।                                  £

ঙ) কো-এডুকেশান স্কুলগুলোরই যত দোষ।                                        £

৬। সমাজ

ক) আমার মতে সব কটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।                                  £

খ) আমি হলে চাবিটা বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিতাম।                                   £

গ) একটা জোচ্চুরি।                                                                    £

ঘ) ওরা এমনকি পুলিশদের নিয়েও হাসাহাসি করে।                                       £

৭। খেলাধুলো

ক) আমার মতে সব কটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।                                  £

খ) সবাই নিজের পকেট ভরতেই ব্যস্ত।                                              £

গ) এটার জন্যে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির একজন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি

   দরকার ছিল।                                                                £

ঘ) চল সব আমরা গিয়ে ওই আলতুফালতু সবকিছু ভাঙচুর করে আসি।                      £

৮। রান্না-খাওয়া

ক) কোলেস্টেরল হল ওদের মামণি।                                                £

খ) আমার মতে সব কটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।                                  £

গ) এই ট্যুরিস্টগুলো আসা শুরু করতেই ভাল বাকাল্যিয়াউ[2] আর পাওয়া যায় না।               £

ঘ) নরওয়ে আর আইসল্যান্ড[3] যদি আমাদের ভাগ কমিয়ে দেয় তো ওদের গুলি করে এমন

   শিক্ষা দেব যাতে ওরা আর আমাদের মাল চুরি করার সাহস না পায়।                £

ঙ) খাবার সময়টাও আর পবিত্র রইল না।                                          £

চ) এটা অন্যায়, আমি মিষ্টি খাইনি, মোটে আধ বোতল হুইস্কি খেয়েছি, তা-ও আমাকে

   সবার মত একই টাকা দিতে হবে[4]?                                               £

৯। সংখ্যালঘু

ক) আমার এস্কিমোদের সঙ্গে কোন শত্রুতা নেই, এমনকি আমার এস্কিমো বন্ধুও আছে।        £      খ) আমার মতে সব কটাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।                                  £

গ) যদি আমাদের জন্যেই না কোলায় তো অন্যদের জন্যে কি করে কুলোবে?           £

ঘ) ওদের আর আমাদের সংস্কৃতি এক নয়।                                         £

১০। ইহুদি

ক) হিটলার একদম সঠিক ছিল।                                                     £

খ) ওরাই এই স-অ-ব চালায়।                                                £

গ) দেখুন ওরা প্যালেস্তিনীয়দের নিয়ে কি করছে।                                  £

ঘ) ওরাই হল আসল নাৎসি।                                                          £

১১। খাদ্যাভ্যাস  

ক) ওয়াইন পান করার অর্থ দশ লক্ষ পোর্তুগিজ়ের মুখে অন্ন জোগান[5]।                     £

খ) ওয়াইন খাওয়ার অর্থ দশ লক্ষ সালাজ়ারকে পান করান।                         £

গ) চাইনিজ় আর ভারতীয়দের জন্যেই অবস্থাটা এখন এরকম, ওরা তো খরগোশদের মত

   বংশবৃদ্ধি করে।                                                              £

ঘ) খরগোশদের জন্যে অবস্থাটা এখন এরকম, ওরা তো চাইনিজ় আর ভারতীয়দের মত

   বংশবৃদ্ধি করে।                                                              £

ঙ) অবস্থাটা এখন এরকম ওইসব মালেদের জন্যে, যারা সবসময়ে বিশ্ব উষ্ণায়নকে দোষ  

   দেয়, আর সে তো একটা সময়ে এত শত্রুতা আর সহ্য করতে না পেরে কিছু একটা

   করে বসবেই, হয়ত সেটা একটু বাড়াবাড়িই হয়ে যাবে, কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখানটাও তো

   স্বাভাবিক, যে চুপ করে সহ্য করে সে কখনই ভাল বিশ্ব উষ্ণায়ন হতে পারে না।    £

১২। বিয়ে

ক) স্ত্রীদের উচিত চার্চ এবং ঈশ্বরের মত স্বামীরও বাধ্য হওয়া।                         £

খ) একটা সুখী বিচ্ছেদের চেয়ে একটা অসুখী বিয়েও অনেক বেশী মূল্যবান, যদি সেটা

   বাচ্চাদের ভালর জন্যে হয়।                                                        £

গ) একজন পুরুষমানুষকে পত্নীনিষ্ঠ হওয়ার জন্যে জোর করা আর বাতাসকে শনশন করে

   বইতে বারণ করা একই।                                                           £

ঘ) একজন ব্যভিচারিণী হল একজন মেকি, ভণ্ড, অসৎ, বিশ্বাসঘাতিনী, ব্যর্থ, অসচ্চরিত্র

   মানুষ, মানে এককথায় তার কোন নৈতিক সততা নেই।                        £

১৩। জন্মহার

ক) আমাদের আরও বেশী করে পোর্তুগিজ় বাচ্চা তৈরি করা উচিত।                     £

খ) আমি এমনকি একটা বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ জবাব দেয়নি।            £

গ) ওদের এখন এমন ব্যাটাছেলে চাই যারা ওদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে, তারা

   যদি ভদ্রসভ্য আর অমায়িক হয় তাহলে বিদেশী হলেও ক্ষতি নেই, ও মাগীদের

   নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর অন্য কোনদিকে নজর নেই।                        £

ঘ) আমার বাচ্চা ভাল লাগে কিন্তু ন্যাপি বদলানটা ঠিক আমার দ্বারা হয় না।           £

ঙ) আমার মতে যারাই বাচ্চাদের রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় তাদের সবাইকে জেলে পোরা

   উচিত।                                                                        £

১৪। সিনেমা – আপনার প্রিয় ছবি হল

ক) আ কানসাঁও দ্য লিশবোয়া[6]                                                       £

খ) উ কাসাদর[7]                                                                         £

গ) বাম্বি[8]                                                                        £

ঘ) চাক নরিস বা স্টিভেন সীগালের[9] যে কোন একটা ছবি                               £

ঙ) সাউন্ড অফ মিউজ়িক                                                     £

মূল্যায়ন

ক), খ), ইত্যাদি যে কোন একটিতে প্রতিটি ক্রসচিহ্নের জন্যে এক পয়েন্ট। জোচ্চুরি

করলে ম্যানেজমেন্ট খুশি হবে কিন্তু তার দায়টা নেবে না।  

১-৩ পয়েন্ট: দুঃখিত, আপনি এখনও ঠিক করে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারেননি।

এখন কেবল মাঝেমাঝে আপনার মধ্যে একটা ঝলক দেখা যায়। হাল ছাড়বেন না তাই

বলে।

৪-৭ পয়েন্ট: আপনি ফ্যাসিস্ট, হ্যাঁ মশাই, কিন্তু স্রেফ ওইটুকুই। সাবাস, আপনি ঠিক পথে

এগোচ্ছেন।

৮-১২ পয়েন্ট: অনেক শুভেচ্ছা, আপনি একজন ভাল ফ্যাসিস্ট।

২০ পয়েন্টের বেশী: দুর্দান্ত! আপনার মত আরও অনেকে থাকলে আপনার মত আরও অনেকে

থাকত!

পাঠ ৮৭

ভাল ফ্যাসিস্টও সহনশীল হতে পারে

যখন ক্যাবলা আধিপত্যবাদীরা হামলা করে বসে আর তড়িঘড়ি অন্য পক্ষের হামলায় “খ্রিস্টান হতাহত”-এর সংখ্যার সঙ্গে তুলনা শুরু করে দেয়, যেন সেটা একটা পয়েন্টের ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়ন হবার প্রতিযোগিতা আর তাতে একদলই টাইটেলটা জিতবে, তখন ভাল ফ্যাসিস্ট তাদের প্রতি সহনশীল হতে জানে।   

        সন্ত্রাসবাদীরা, বলাই বাহুল্য, চিরকালই অপরেরা হয়। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, উল্টোদিকের সন্ত্রাসবাদীদেরও এটাই অভিমত – ওরাও মনে করে যে যার কাছে যত বেশী পয়েন্ট থাকে তারাই জেতে আর তারা নিজেদের মত করে হিসেব করে।

        স্পষ্ট ব্যাপারটা মেনে নেওয়া সম্ভব হতে পারে: যারা সেইসব অসহায় মানুষদের ওপর হামলা করে, যাদের সঙ্গে তাদের কোনরকম ব্যক্তিগত পরিচয় নেই, তারাই সন্ত্রাসবাদী। আর একটা গির্জার ওপরে, মসজিদের ওপরে, সিনাগগের ওপরে, বৌদ্ধ মন্দিরের ওপরে বা অন্য যে কোন প্রকাশ্য জায়গায় হামলা হওয়াটা কি একই রকম নিন্দনীয়? জীবনের পবিত্রতা ভালবাসে বলে স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানর ক্লিনিকে বোমা মারাটা কি মূর্খামি? সেটা হতে পারত কিন্তু তাতে একই রকম মজা হত না।   

        একজন আত্মমর্যাদাজ্ঞানসম্পন্ন ভাল ফ্যাসিস্ট কেবল তখনই ক্ষুব্ধ হয় (আর সেই কষ্ট অনুভব করার ভান করে যেটা সে হয়ত অনুভব করতে পারলে খুশিও হত কিন্তু আসলে সে সেটা অনুভব করে না[10]) যখন হতাহতেরা আমাদের, আমাদের গোষ্ঠীর, আমাদের বিনোদন চক্রের কেউ হয়।     

        কিন্তু যখন হতাহতেরা, বিবরণ অনুসারে, কয়েকজন হয়, অর্থাৎ ওদের, তখন ভাল ফ্যাসিস্ট কাঁধ ঝাঁকায়: আরে ভাই, এটা তো স্বাভাবিক যে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের করা অন্তহীন নৃশংসতার অন্তহীন রাশির কথা ভেবে দেখার পর কেউ না কেউ মেজাজ গরম করে ফেলে শোধ তুলবে।

        আর ভাল ফ্যাসিস্টের সারল্য দেখলে হাসিই পায় যখন সে মাথায় রাখে না যে এটা সেই তাদের প্রতিক্রিয়া, প্রায় নিখুঁত, যাদের সে ন্যক্কারজনক বলে মনে করে। ওরাও কিন্তু সবসময়ে শোধই তুলছে। যেটা ঘটে সেটা হল মাঝেমধ্যে বর্বরদের করা পাশবিকতা দেখে ওদের ফিউজ়টা উড়ে যায়।

        মানে আমাদের করা।

পাঠ ৮৮

ভাল ফ্যাসিস্ট হুমকি দেয় না

কেবল কথা দেয়।

       “একদিন আমার মাথায় রক্ত চড়ে যাবে আর যা করে বসব তার জন্যে আমি দায়ী থাকব না!”

        এর মানেটা কি? মানে এটাই: একদিন ভাল ফ্যাসিস্টের মাথায় রক্ত চড়ে যাবে আর সে যা করে বসব তার জন্যে সে দায়ী থাকবে না।

        ভাল ফ্যাসিস্ট যা বলে অক্ষরে অক্ষরে তা-ই পালন করে। তার কাছে কোনোরকম কবিতা, অস্পষ্ট অর্থ বা লেখকের স্বত্ব বলে কিছুই নেই।

        ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে পাঁউরুটি পাঁউরুটিই আর চীজ় চীজ়ই। এখানে কোনোরকম মেশামিশির ব্যাপার নেই।

        এমনকি চীজ়ের পাঁউরুটিও গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও সেটা ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে কম অগ্রহণযোগ্য হবে যদি তাকে বলা হয় যে ওটা “পাঁও জি কেইজু”[11] (অ্যাঃ, ওটা তো দক্ষিণ অ্যামেরিকার ব্যাপার!) নয়, কেজ়েব্রোট[12], উত্তর ইউরোপের জিনিশ, আখ, ভী ফাইন[13]!)।

ভাল ফ্যাসিস্ট বর্ণবিদ্বেষী নয়, কিন্তু…

আর ওই “কিন্তু”-তেই কিন্তু লাভের ব্যাপারটা লুকিয়ে আছে। মর্মস্থল। নির্যাশ। মূল।

“কিন্তু” হল সব যুদ্ধের মা।

তার চেয়েও বেশী কিছু।

“কিন্তু” হল সব জিনিশেরই মা।  

হ্যাঁ, ভাল ফ্যাসিস্ট কথা দেয়। তারপর, কখনসখন সেটা রাখে। তখন, পুলিশের হাত থেকে ঘণ্টা কয়েক পালিয়ে ধরা দেয়, যখন আবিষ্কার করে যে তার তথ্যগুলো ওদের কাছে আছে আর, উকিলের পরামর্শ মত ধরা দিলে অপরাধটাকে লঘু করে দেখানর কিছু তথ্য হয়ত পাওয়া যাবে, একজন বুঝদার বিচারক জুটে যাবে যিনি বুঝবেন যে মানুষ তো আর কাঠের তৈরি নয়, এমনকি তার ক্ষতি করার কোন অভিসন্ধিও ছিল না, ব্যাপারটা স্রেফ ঘটে গেছে, ওর হঠাৎ একটা কিছুর অ্যাটাক হয়েছিল, কিংবা কিছু একটা ও খেয়েছিল।

পাঠ ৮৯

ভাল ফ্যাসিস্ট সেন্সরশিপের পক্ষে

আর সেটা না জানার তো কিছু নেই? সেন্সর হল সেই দেওয়াল যেটা আমাদের সবরকম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে: মূল্যবোধকে তালগোল পাকিয়ে ফেলা, যেটা আমাদের মূল্যবোধ নিয়ে তারাই করতে চায় যাদের আমাদের মূল্যবোধগুলো নেই। ভাল ফ্যাসিস্ট নীল পেন্সিল দিয়ে আমাদের মাথার চারদিকে বেড়া দেওয়ার স্বপ্ন দেখে।  

        কিন্তু নিজেকে সেন্সরশিপের শিকার বলে মনে করে। ভাল ফ্যাসিস্ট একটা কল্পিত নৃশংস স্বৈরতান্ত্রিক আমলে বাস করে, একটা সত্যিকারের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের জন্যে তার মনকেমন করে। কি আর বলার আছে? মানুষ তো ভীষণ ভাবে বৈপরীত্যে ভরা, এমনকি ভাল ফ্যাসিস্টরাও, যাদের স্বপ্ন হল সঙ্গতির একটা ব্ল্যাকহোল হওয়া:

        “পোর্তুগাল ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে স্বাধীনতা হল একটা মিথ্যে বিশ্বাস!

        আর জাতীয়তাবাদীরা সেটা খুব ভাল করেই জানে! আমরা একটা গুপ্ত স্বৈরতন্ত্রে বাস করি!

        এমন একটা স্বৈরতন্ত্র যেখানে কেবল তাদেরই জায়গা আছে যারা এই শাসনব্যবস্থার সঙ্গে

একমত, যেটা আন্তর্জাতিকতাবাদী বিশ্বায়নের সেবায় লেগে রয়েছে কিন্তু একেবারেই বহুত্ববাদী

নয়! আমাদের সেন্সর করা হয়! আর এই সেন্সরশিপ শুরু হয় সংবাদ মাধ্যমে

বর্তমান স্থিতাবস্থার পক্ষে, যা ক্রমাগত সমগ্র ইউরোপে জাতীয়তাবাদী কার্যকলাপকে নারকীয়

বলে কালিমালিপ্ত করে শেষ হয়ে একেবারে রাষ্ট্রে এসে।”

        [য – এসব কথা কেউ বানিয়ে বলে না।]   

পাঠ ৯০

ভাল ফ্যাসিস্ট অনেকটাই চাক নরিসের মত

কেবল কারাটের মেয়েলি ঘাগুলো নেই আর মুখের বুলিটা আমাদের পোর্তুগিজ়ে, কিন্তু তাসত্ত্বেও সে ভালরকম বীরত্বের ক্ষমতা রাখে। যতটুকু বিধিসম্মত তার বেশী বড়াই করতে স্রেফ ওর বিনয়ই ওকে বাধা দেয়।  

        তাসত্ত্বেও, এখানে রইল একমুঠো অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব (উচ্চতর দক্ষতা আর নির্ভেজাল অলৌকিক ঘটনার মধ্যে) যেগুলো ভাল ফ্যাসিস্ট করতে সক্ষম।

        জানতেন কি:

  • এমনকি জন্মানরও আগে সে “জীবনের পাঠশালা”-য় পড়াশোনা করেছে?
  • ভাল করে যখন হামাগুড়িও দিতে পারত না তখনও রিবাতাইজুর[14] মাঠে চরে বেড়ান ষাঁড়গুলো ওর শিঙের গুঁতোকে ভয় পেত?
  • অ্যাফ্রিকাটা যে একটা স্বর্গরাজ্য সেটা জানার জন্যে ওকে ওখানে যেতে হয়নি, ওরাই সেটার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে?
  • মৃত্যু নিয়ে ঠাট্টাতামাশার ব্যাপারে ওর একটা অবিশ্বাস্য রসবোধ আছে?
  • পোর্তুগিজ়় হওয়াটা ওর খুবই পছন্দের আর সেটা ও স্বীকার করতে লজ্জাও পায় না, তাতে যারা মনে করে পোর্তুগিজ়় হওয়াটা শ্লাঘার বিষয় নয় আর তার জন্যে লজ্জা না পাওয়াটা উচিত নয়, তারা যা-ই ভাবুক না কেন?
  • ওই ব্যাটাচ্ছেলে মাতাল নোয়ার জায়গায় ও যদি নৌকোটা তৈরি করত তাহলে আজ আর জ্বালাতন করার জন্যে কোন মশা বা পিঁপড়ে থাকত না?
  • কেবল সিংহ, ঈগল আর (ঠিক আছে, জীবন তো একটাই) ড্র্যাগন[15] থাকত?  
  • তিন বছর বয়েসে ক্রেশে কান্নাকাটি করে বিশাল ঝামেলা পাকিয়েছিল কারণ শিক্ষিকারা ওকে রাজনৈতিক ভাবে সঠিক হতে আর অন্য সংস্কৃতির একটা বাচ্চার জন্যে হ্যাপি বার্থডে গাইতে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন, যার আমাদের মূল্যবোধ আর রীতিনীতি ছিল না?
  • অআকখ শেখার আগেই ও মে-রি-টো-ক্র্যা-সি শব্দটার বানান জানত?
  • জন্মানর আগে থেকেই ও মনে করত যে এটা মোটেই গণতন্ত্র নয়?
  • ও যদি রুবিকস কিউব বার করত তো ওই জঘন্য জিনিশটার সমাধান করা অনেক সহজ হত কারণ ওটাতে কেবল একটা রঙই থাকত?

পাঠ ৯১

ভাল ফ্যাসিস্ট জানে কিভাবে এটার সমাধান করা যেত

“এইভাবেই।”

        অবশ্য এটাই শুধু নয়। এটাই সব। 

        মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট? “এইভাবেই।”

        আরব-ইজ়রায়েল সঙ্ঘর্ষ? “এইভাবেই।”

        সির্ভিসু নাসিওনাল দ্য সাউদের[16] জন্যে টাকার জোগান? “এইভাবেই।”

       জ্বালানীর দাম বেড়েছে? “এইভাবেই।”

        দাবানল? “এইভাবেই।”

        স্থানীয় পরিকল্পনা? “এইভাবেই।”

        জলকর বেড়েছে? “এইভাবেই।”

        স্টিভেন সিগালের ফিল্মের গুণমান ক্রমশ খারাপ হয়ে চলেছে? “এইভাবেই।”

        ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে সবকিছুরই সমাধান আছে।

        এমনকি সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর জন্যেও। সবকিছুর জন্যে ভাল ফ্যাসিস্টের একটাই সহজ সমাধান: “এইভাবেই।”

        আর ঠিক এইভাবেই।

        কারণ ঠিক তাই।

        এইভাবেই, পক্ষীবিশারদদের মতে, এমন একটা পাখি যেটার মধ্যে উটপাখি আর পাতু পাতারেকুর[17] সব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে পাওয়া যায়।

পাঠ ৯২

ভাল ফ্যাসিস্ট আঙুল তুলে দেখাতে ভালবাসে

ভাল ফ্যাসিস্টের মধ্যে ভাল নেতাদের জিন থাকে।

        তর্জনী উঁচিয়ে ভাল ফ্যাসিস্ট আঙুল দিয়ে দেখাতে থাকে: শত্রুদের, যাদের ও ভীষণ অপছন্দ করে, যাদের ধরিয়ে দিতে পারলে ওর ভাল লাগত।

        কিংবা, বরাবর যেটাকে বেশী বাড়াবাড়ি করা হয় সেই ব্রেজ়িলকে দুহাতের দুটো তর্জনী দিয়ে।

        যেটা অবশ্য ঠিকই: ফার ওয়েস্টে পিস্তল ছুঁড়তে সবচেয়ে ওস্তাদ কাউবয়দেরও দুটো করে তর্জনী থাকত।

        ভাল ফ্যাসিস্ট আঙুল ওঁচাতে ভালবাসে। আর না বুঝেশুনেই একটা চমৎকার কৃতিত্ব অর্জন করে ফেলে: আঙুল দিয়ে সেলফি তোলার। এটা এই কারণে যে, যদিও বিনয় ওর ঔজ্জ্বল্যটা ম্লান করে দেয়, ওর মধ্যে সেইসব গুণ যথেষ্ট পরিমাণে থাকতে পারে যেগুলোকে অন্যদের মধ্যে আঙুল তুলে দেখায়:   

        “যত্ত শালা অকম্মার ঢেঁকি! চোরজোচ্চোরের দল!  শালা কাজই করতে চায় না!”

পাঠ ৯৩

আর তার কাছে সবকিছুর সমাধান আছে

এই পৃষ্ঠাটাই তার প্রমাণ:   

পাঠ ৯৪

ভাল ফ্যাসিস্ট সম্মানটাকে সবার ওপরে রাখে

বলাই বাহুল্য, সেটা ওর নিজের। তার একটা বড় কারণ, আর কারুর তো সম্মান হয় না, যদি না ওর নীতিগুলো মেনে চলা হয়।

        সম্মান হল জগতের সবচেয়ে সুন্দর জিনিশ, এমনকি (নির্দিষ্ট কোন কোন মাপকাঠি অনুযায়ী বাছাই করা মুহূর্তে) মাতৃভূমির চেয়েও। সম্মান হল সেই নাড়ী যেটা ভাল ফ্যাসিস্টকে বিশ্বের সঙ্গে জুড়ে রাখে। যদি ভাল ফ্যাসিস্ট একটা স্টেক হত তো সম্মান হত তার কোর্দোঁ-ব্ল্যো[18]।   

        আর ওকে কেউ অপমান করলে তার কপালে দুঃখ আছে। ভাল ফ্যাসিস্ট কখনই ভোলে না। ভাল ফ্যাসিস্টের হাতির মত মনে রাখার ক্ষমতা। কিন্তু ওকে কেউ হাতি বলে দেখুক দেখি, বা ওরকম একটা ইঙ্গিতও করুক দেখি।

        এমনকি সেটা যদি এটুকু বলার জন্যেও হয় যে সে হাতি না হলেও ভাল ফ্যাসিস্টের মনে রাখার ক্ষমতাটা হাতির মত।

        আর ও আবার নাকি অপমান করে? কবে থেকে?

        সব রাজনীতিবিদের যদি জিপসি হয় তাতে ওর দোষটা কোথায়? আর মহিলারা সব যদি, জন্ম ইস্তক, চোরছ্যাঁচড় হয়? মেয়েলি ব্যাটাছেগুলো যদি সব মেয়েলি হয়? ইহুদিগুলোর হাতে টাকার রাশটা থাকে? জিপসিগুলো সব যদি রাজনীতিবিদ হয়? এমেলের মালগুলো সব হারামজাদা হয়? মুসলমানেরা আমাদের সংস্কৃতিটাকে ধ্বংস করতে চায়? আঁতেলরা সব নকল আঁতেল হয়?  

        এটাই যদি ঘটনা হয় তবে…

        আর এগুলোই যে সব ঠিকঠাক ঘটনা সেটা ও কি করে জানে? আরে, সেটা তো খুব সহজ, উত্তরটা ত পাঠ ৪৮-এর শেষেই আছে।  

পাঠ ৯৫

মাতৃভূমির ওপরে আর কিছু হয় না

নাহলে আমার বাঁইফিকা/স্পোর্টিং/পোর্তু/ব্রাগা/গিমারাঁইয়েশ/[ভাল খদ্দেরের মত নিজের ইচ্ছে অনুসারে অন্য  যে কোন ক্লাবের নাম দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করুন]। সবার ওপরে ক্লাব।

        তত্ত্বগত ভাবে, কোন ফুটবল ক্লাবের সমর্থক হওয়াটা খুশির, দোষের নয়, মজার। কিন্তু ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। কোন এক রহস্যময় কারণে, পোর্তুগালে, ফুটবল একটা আতিশয্যের আকার ধারণ করে, ঠিক যেন একটা আলমারি হঠাৎ করে গোটা ঘরটা জুড়ে বসেছে, এমনকি একটা খবরের কাগজ রাখারও আর জায়গা নেই। আর ফুটবল নিয়ে তর্কবিতর্কগুলোর এক ডেকচি আরোশ দ্য কাবিদেলার চেয়েও বেশী রক্তাক্ত হবার প্রবণতা থাকে।  

        টেক্সাসের জন্যে লড়াইয়ের বিষয়ে বলার জন্যে অ্যামেরিকানদের “রিমেমবার দ্য আলামো![19]” আছে: এমন একটা ঘটনা যেটাকে ভোলা যায় না, যেটা স্মৃতিতে খোদাই হয়ে রয়েছে। টেক্সানরা একেবারে কচুকাটা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাদের প্রত্যেকে গৌরবান্বিত সাহসের কারণে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিল – আর, কিছুদিনের মধ্যেই, তাদের হত্যার উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছিল, হৃত সম্মান পুনরুদ্ধার হয়েছিল আর, বুরিতোতে গুয়াকামোল[20], টেক্সাস বরাবরের মত সংযুক্ত হয়েছিল।

        পোর্তুগালে, আমরা “আলকুশেতকে[21] ভুলো না!” ব্যবহার করা শুরু করতে পারি।

        এবার প্রশ্ন উঠতে পারে: ওই তিরিশটা বেচারা মুখোশ-পরা লোক কি “ভাল ফ্যাসিস্ট” ছিল?

        না। অন্তত সচেতন ভাবে তো নয়ই। কিন্তু ট্রেনিং সেন্টারে দল বেঁধে গিয়ে খেলোয়াড়দের “শিক্ষা দেবার” বুদ্ধিদীপ্ত ওই চিন্তাটা তারই লক্ষণ। বাজে কথা নয় কিন্তু, ওটা লক্ষণ।  

পাঠ ৯৬

ভাল ফ্যাসিস্ট মনে করে যে আগেই ভাল ছিল

আর আমি একমত, আগে যা যা করতাম সেসব ব্যাপারে যখন ভাবি এবং এখন আমার আর সেসব করার স্বাধীনতা-বিস্ময়বোধক-চিহ্ন নেই: মার্বেল খেলা, দৌড়ন, সাইকেলে করে সারা পোর্তুগাল ঘুরে বেড়ান কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলের ছিপি নিয়ে পাড়ার ফুটপাথের ধারে, বেন্তুবাবুর[22] দোকানে কয়লা কিনতে যাওয়া, লোকের বাড়িতে বেল টিপে পালিয়ে যাওয়া, টিফিনটাইমে খেলা করা, ক্যানেস্তারা মাথায় করে খালি পায়ে আমাদের রাস্তা বেয়ে উঠে আসা জেলেনীদের দেওয়া পেশকাদার[23] মাথাগুলো একটা দড়িতে বেঁধে তাই দিয়ে তাইজুতে কাঁকড়া ধরা, বড় পর্দায় সিনেমা দেখা, কুলীসেউর[24] কাছে এখন যেখানে একটা বিলাসবহুল হোটেল সেখানে একটা সিঁড়ির তলায় সেকেন্ড হ্যান্ডে মুন্দুশ দ্য আভেন্তুরাশ[25] আর মাজরেশ আলভেগা[26] কেনা, পালাদিয়ামে[27] গিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া আর পিকদানের পোর্সিলিনের মধ্যে বিলিয়ার্ডের বড় বড় খেলোয়াড়দের পরের পর একশোটা স্ট্রাইক মারতে দেখা, পিংপং খেলতে পার্ক মায়ারে[28] যাওয়া, জিনা[29] পত্রিকাতে বাজে বাজে ছবি দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়া, সকাল ছটায় কাইশ দু সুদ্রেতে[30] কোকো খাওয়া, ক্লান্ত না হয়ে একটানা ফুটবল খেলেই যাওয়া, প্রেম করা (আমার বিরক্তিকর বউটা এখন আর করতে দেয় না!), অনন্ত বিস্ময় নিয়ে যৌনতার অলৌকিকতা আর যন্ত্রণা আবিষ্কার করা, বিনা পয়সায় অচেনার লোকের গাড়িতে চড়া, আঙুর তুলতে[31] ফ্রান্সে যাওয়া, গোগ্রাসে বই গেলা আর তাতে দাগ দেওয়া আর ক্রমশ বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাতাগুলোর মার্জিনে তার জবাব দেওয়া, সবাইকার প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া, খুব অল্পতেই চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া, গান-গাওয়া আগামীগুলোতে আর কবিতা-আবৃত্তি করা বর্তমানগুলোতে বিশ্বাস করা, পেটুক দামুর মত গিলেও মোটা না হওয়া, সত্যিসত্যি প্রথমবার প্রেমে পড়া, সুসিয়েদাদ দ্য বেলাজ়-আর্তশের[32] বক্তৃতাগুলো শুনে আর গুলবেনকিয়ানে[33] সাধারণত দুর্বোধ্য পার্ফর্ম্যান্সগুলো দেখে হতভম্ব হয়ে যাওয়া, সিনেমাতেকাকে[34] ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলা, ফেল্লিনি, বের্গমান আর পাসোলিনির সবকটা সিনেমা দেখেও বোর না হওয়া, টানা সাত ঘণ্টা ধরে বের্তোলুচির ১৯৯০ দেখা, যে সময়টায় রবার্ট ডি নিরো্র অল্পই বয়েস আর দেপারদিউ ফরাসীই, প্রথমে দুটোর শোয়ে কন্দেশে আর তারপর ছটার শোয়ে তিভোলিতে[35], উল্টোপাল্টা কাজ করে তার ফলভোগ না করা যদি না সেটা দশ-বিশ বছর পরে হয়ে থাকে। হ্যাঁ, অতীতটা (ফোঁস) অনেক ভাল ছিল।      


[1]সত্যি ঘটনা। দুই জুগোস্লাভ তরুণী ট্যুরিস্ট হিসেবে দক্ষিণ পোর্তুগালের আলগার্ভ অঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে দুই পোর্তুগিজ়ের হাতে ধর্ষিত হন। ১৮/১০/১৯৮৯-এর রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক বলেন যে ওই দুজন তরুণী “‘আইবেরীয় পুরুষের’ পূর্ণ মৃগয়াভূমিতে রাস্তায় বেরিয়ে (…) যে কারুর কাছ থেকে গাড়িতে লিফট চাইতে ইতঃস্তত করেননি।”  

[2]Bacalhau – কড মাছ। কডের শুঁটকি বা নোনা কড পোর্তুগালের জাতীয় খাদ্যের পর্যায়ে পড়ে।  

[3]কিন্তু সেই কড পোর্তুগালের আশেপাশে কোথাও পাওয়া যায় না, যে জন্যে টাটকা কড খাওয়ার প্রচলন ও দেশে নেই। কড শিকারের জন্যে পোর্তুগালকে নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের কাছ থেকে সমুদ্র ইজারা নিতে হয়।

[4]যখন একদল বন্ধু রেস্টুরেন্টে খেতে যায় তখন বিল আসার পর নিজের ভাগের টাকা দেবার সময়ে এই যুক্তিটা প্রায়ই শোনা যায়।

[5]খুব সম্ভবত সালাজ়ার এই প্রবাদটা তৈরি করেছিলেন যেটা একটা স্লোগানে পরিণত হয়। যেহেতু পোর্তুগালের মুখ্য উৎপাদনগুলোর মধ্যে ওয়াইন পড়ে, তাই ওয়াইন কেইনে খাওয়ার অর্থ অর্থনীতিকে মজবুত করা। বিকল্প খ-এ লেখক উদ্ভট রস তৈরি করার জন্যে এই স্লোগানটাকে উল্টে দিয়েছেন, যেটা বাংলার চেয়ে মূল পোর্তুগিজ়ে শুনতে অনেক বেশী উদ্ভট লাগে কারণ আমরা তো সব-ই খাই, এমনকি ওয়াইনও, কিন্তু পোর্তুগিজ়রা তো ওয়াইন “খায়” না, ওরা ওয়াইন “পান করে”।    

[6]A Canção de Lisboa ১৯৩৩ সালে লিসবনের তেয়াত্রু সাঁও লুইশ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত জুজ়ে কুতিনেলি তেলমু পরিচালিত একটি পোর্তুগিজ় কমেডি ফিল্ম যেটি কুমেদিয়া আ পুর্তুগেজ়া ধারার জন্ম দেয়। এটি পোর্তুগালে তৈরি পূর্ণদৈর্ঘ্যের দ্বিতীয় সবাক ফিল্ম।      

[7]দ্য ডিয়ার হান্টার নামের ১৯৭৮ সালের একটি ফিল্ম, পোর্তুগালে যেটি উ কাসাদর (শিকারি) নামে মুক্তি পেজুদ্ধেরেই ফিল্মের প্রেক্ষাপট ভিয়েতনাম যুদ্ধ। পাঁচটি অস্কার জয়ী এই ফিল্মের গল্প কিছুটা জার্মান লেখক এরিখ মারিয়া রেমার্কের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখা উপন্যাস ইম ওয়েস্টেন নিষ্টস নয়েস (অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রান্ট)-এর ওপর আধারিত।

[8]১৯৪২ সালের ওয়াল্ট ডিজ়নি প্রযোজিত অ্যানিমেশান ফিল্ম যার মূল চরিত্র বাম্বি বলে শাদা ল্যাজওয়ালা একটা হরিণের ছানা।  

[9]Carlos Ray “Chuck” Norris (১৯৪০) একজন অ্যামেরিকান মার্শাল আর্টিস্ট, অ্যাকশান ফিল্মের হিরো, সিনেমার প্রযোজক ও চিত্রনাট্যের লেখক। Steven Frederic Seagal (১৯৫২) একজন অ্যামেরিকান অভিনেতা, চিত্রনাট্যের লেখক, সিনেমার প্রযোজক, মার্শাল আর্টিস্ট এবং সঙ্গীতশিল্পী।

[10]আবার পেসোয়ার কবিতা; এবারে তাঁর স্বনামের কবিতা “Autopsicografia” (স্ব-এর মনস্তত্ব)। এর প্রথম স্তবক:

O poeta é um fingidor                                         [কবি একজন ভণ্ড

Finge tão completamente                                     সে এত ভালো করে ভান করে

Que chega a fingir que é dor                                যে সে ভান করে শেষে সেই ব্যথা

A dor que deveras sente.                                     যে ব্যথা সত্যিই তার।]

[11]ব্রেজ়িলীয় উচ্চারণে pão de queijo; এক ধরণের চীজ় রোল বা চীজ় বান। এটা দক্ষিণ অ্যামেরিকার, বিশেষ করে প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনার বিশেষত্ব, ব্রেজ়িলেও এর খুব কদর, বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের মিনাশ জেরাইশে।      

[12]Käsebrot – জার্মানে চীজ় স্যান্ডউইচ।

[13]Ach, wie fein! – জার্মানে আঃ, কি ভাল!  

[14]Ribatejo – ১৯৩৬ থেকে ১৯৭৬ অবধি মহাদেশীয় পোর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের একটি  প্রদেশ। বর্তমানের লিসবনের দুটি পৌরাঞ্চল আর সান্তারাঁই জেলার বেশির ভাগটা নিয়েই এই প্রদেশ গঠিত ছিল। এটি ছিল মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল, এ ছাড়াও এর বিস্তীর্ণ  সমতল প্রান্তরে গবাদি পশু পালন করা হত, বিশেষ করে বুলফাইটের জন্যে ষাঁড়। জুজ়ে সারামাগু ছিলেন এই অঞ্চলেরই।   .

[15]পোর্তুগালের তিনটি প্রধান ফুটবল ক্লাবের প্রতীক। সিংহ স্পোর্টিঙের, ঈগল বাঁইফিকার আর ড্র্যাগন পোর্তুর।

[16]Serviço Nacional de Saúde (জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা) বা SNS হল এমন একটি সংগঠন যার মাধ্যমে পোর্তুগাল রাষ্ট্র প্রত্যেকটি নাগরিকের স্বাস্থ্যের অধিকার (অগ্রগতি, নিবারণ ও তত্ত্বাবধান) সুনিশ্চিত করে। এটিকে ১৯৭৯ সালে গঠন করা হয়েছিল।   

[17]পোর্তুগিজ় লেখক আন্তনিউ তুরাদুর ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত বাচ্চাদের জন্যে লেখা বই পাতু পাতারেকু দু দানিয়েল আলবের্তু-র এই নামের অন্যতম মূল চরিত্র একটি হাঁস।  

[18]Le Cordon Bleu (ফরাসীতে এর অর্থ নীল ফিতে) কুড়িটি দেশে ছড়ান অতিথিসেবা ও রান্না শেখানর পঁয়ত্রিশটি কেন্দ্রের একটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যেখানে ফরাসী ওত কুইজ়িন (অর্থাৎ যেসব পদ বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পরিবেশিত হয়) শেখান হয়ে থাকে। এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৯৫ সালে প্যারিসে।   

[19]উত্তর অ্যামেরিকার টেক্সাস-বাসীদের মেক্সিকোর কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ডাক। এই শব্দবন্ধ টেক্সাসের প্রতিরোধকারীদের ১৮৩৬ সালের ঘেরাও হওয়া কেল্লা আলামো রক্ষার জন্যে প্রাণপণ লড়াইকে মনে করিয়ে দেয়।

[20]Burrito মেক্সিকোর একটি খাবার। ময়দার তরতিয়ার (আমাদের হাতরুটির মত অ্যাজ়টেকদের রুটি) মধ্যে রান্না-করা যেকোন মাংসের বা রাজমার বা সবজি আর চীজ়ের পুর দিয়ে রোলের মত করে পাকিয়ে এটি তৈরি হয়। এতে বিভিন্ন ধরণের মশলা ও সসও দেওয়া হয়, যার মধ্যে গুয়াকামোল একটি; গুয়াকামোলও মেক্সিকোর, এটির মূল উপাদান অ্যাভোকাডো (একধরণের ফল) ও হালাপেন্যিয়ো (একধরণের লঙ্কা), এই দুটিই মেক্সিকোর তবে ইদানীং এ দেশেও ব্যাপক ভাবে অ্যাভোকাডোর চাষ হচ্ছে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে। বুরিতো আর তরতিয়াও এখন এদেশে পিৎজ়ার মত সহজলভ্য। এখানে বুরিতোয় গুয়াকামোলের অর্থ    সোনায় সোহাগা।  

[21]লিসবনের কাছে তাইজুর ওপারে সেতূবাল জেলার আলকুশেতে অবস্থিত আকাদেমিয়া স্পোর্টিং বা আকাদেমিয়া দ্য আলকুশেত ফুটবল ক্লাব স্পোর্টিঙের ট্রেনিং সেন্টার। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বার মাসে এর নোতুন নাম হয়েছে আকাদেমিয়া ক্রিশ্তিয়ানু রুনালদু। ২০১৮ সালের পনেরোই মে স্পোর্টিং লিগের খেলায় তৃতীয় স্থান অধিকার করার পোর ক্লাবের পঞ্চাশজন সমর্থক গভীর রাতে মুখোশ পরে এসে বহু খেলোয়াড় এবং কয়েকজন কোচকে হাতিয়ার নিয়ে প্রচণ্ড মারধোর করে, তাতে বেশ কয়েকজন গুরুতর ভাবে আহতও হয়।    

[22]রুই জানিয়েছেন – “এই পাঠটা অন্যগুলোর থেকে আলাদা, এমনকি স্টাইলেও, কারণ এখানে আমি আমার ছোটবেলার কথা বলছি। সিন্যিয়র বেন্তু ছিলেন একজন গালিসীয় যিনি আমার দিদিমার বাড়ির সামনে কয়লা বিক্রি করতেন। এই পুরো পৃষ্ঠাটা নস্ট্যালজিক এবং ব্যক্তিগত। এটা সত্যিই আমার শৈশবের কথা।”

[23]Pescada যার বৈজ্ঞানিক নাম Merluccius merluccius, পোর্তুগালে রোজকার খাওয়ার একটি মাছ, অনেকটা যেমন আমাদের রোজ রুইমাছ খাওয়ার মত। ইংরিজিতে একে হেক, হেরিং হেক আর কর্নিশ স্যামনও বলা হয়ে থাকে।   

[24]Coliseu dos Recreios – লিসবনে বাইশার কাছে সাঁও জুজ়ে অঞ্চলে ১৮৯০ সালের অগাস্ট মাসে চালু হওয়া একটি অডিটোরিয়াম যা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

[25]Mundo de Aventuras কমিক্সের একটা পত্রিকা। ১৯৪৯ সালের আঠেরোই অগাস্ট প্রথম সংখ্যা এবং ১৯৮৭ সালের পনেরোই জানুয়ারি শেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। মোট ১৮৪১টি সংখ্যা বেরিয়েছিল।   

[26]Major Alvega – ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একজন কল্পিত নায়ক। তাকে নিয়ে লেখা কমিক্সের (Battler Britton – England’s Fighting Ace of Land, Sea and Air) অনুবাদ পোর্তুগালে কিশোরদের পত্রিকা উ ফালকাঁও-এ বেরতে শুরু করলে তা বিশ শতকের ষাটের এবং সত্তরের দশকে খুবই জনপ্রিয় হয়। কিন্তু স্বৈরতন্ত্রী শ্তাদু নোভু সরকারের সেন্সরের দাবী অনুযায়ী এর নায়কের শরীরে যে পোর্তুগিজ় রক্ত আছে তা দেখান আবশ্যক হয়ে পড়াতে তার নাম বদলে হয়ে যায় Jaime Eduardo de Cook e Alvega, যার বাবা রিবাতাইজুর আদি বাসিন্দা এবং মা ইংরেজ, আর তার শিক্ষাদীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় শহর কুইম্ব্রাতে।      

[27]O Café e Salão de Chá Palladium – রেশ্তোরাদরেশে কাছে আসেনসাঁও দা গ্লরিয়ার পাশে এক নম্বর আভেনিদা দ্য লিবেরদাদেতে অবস্থিত এই ক্যাফেটি খোলে ১৯৩২ সালে এবং সত্তরের দশকের শেষাশেষি এটি উঠে যায়। এই ক্যাফে লিসবনের সাংস্কৃতিক অ সামাজিক জীবনে একটি মাইলফলক ছিল। এখানে শ্তাদু নোভুর বিরোধিতা করা অনেক লেখক ও বুদ্ধিজীবী আসতেন, অভিনেতা ও সাংবাদিকরাও আসতেন, যেমন আসতেন বিকেল পাঁচটা ঠেকে সাতটার মধ্যে পরিবেশিত চা এবং বিশেষ “টা”-এর আকর্ষণে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলাদের দল।

[28]Parque Mayer – লিসবনের প্রধান রাজপথ আভেনিদা দা লিবেরদাদের কাছেই পালাসিউ মায়ারের পাশে তৈরি হয় পার্ক মায়ার যেখানে নাটক, সিনেমা ও রেভিশ্তা আ পুর্তুগেজ়ার (নাচ, গান, রঙ্গব্যঙ্গে ভরা নাটক) জন্যে বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ, একাধিক রেস্টুরেন্ট, ফাদু শুনবার আর বক্সিং দেখার জায়গা, নাগরদোলা, বন্দুক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করার স্টল ইত্যাদি মনোরঞ্জনের জায়গা ছিল। আমোদপ্রমোদের এমন উৎকৃষ্ট ব্যবস্থা ছিল যার ফলে সেখানে যেমন সাধারণ মানুষের ভিড় জমত তেমনি তাবড় তাবড় রেজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীদেরও দেখা পাওয়া যেত। নব্বইয়ের দশক থেকে এর জৌলুশ ম্লান হতে থাকে, প্রেক্ষাগৃহ ও রেস্টুরেন্টগুলির বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে যায়; এই মুহূর্তে দুটি মাত্র প্রেক্ষাগৃহ এবং কয়েকট রেস্টুরেন্ট কেবল চালু আছে।      

[29]Gina – পোর্তুগালের প্রথম এবং সবচেয়ে বিখ্যাত পর্নোগ্রাফির পত্রিকা। ১৯৭৪ থেকে ২০০৫ অবধি এর ১৯৬টি সংখ্যা বেরয়।  

[30]Cais do Sodré – লিসবনের বন্দর এলাকার একটি অংশ। এখানে এই নামে একটি রেলস্টেশান, একটি মেট্রোর স্টেশান ও একটি ফেরিঘাট আছে। এটাকে ঘিরে একটা নৈশপ্রমোদের অঞ্চল গড়ে উঠেছে যেখানে অনেক বার এবং ডিস্কো আছে।    

[31]বাণিজ্যিক ভাবে যেখানে আঙুরের চাষ হয় সেখানে ফল তোলার সময়ে অনেক অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়। সাধারণত ছাত্রছাত্রীরা কিছু রোজগারের আশায় এই কাজ করে থাকে। স্পেন, পোর্তুগাল, ফ্রান্স, ইটালি সর্বত্রই এটা হয়ে থাকে।  

[32]Sociedade Nacional de Belas Artes – শহরের প্রাণকেন্দ্র বাইশার কাছে আভেনিদা দা লিবেরদাদে পাশে ১৯০১ সালে স্থাপিত হয় এই ললিত কলা কেন্দ্র। এখানে আধুনিক শিল্পকলার প্রদর্শনী ছাড়াও এখনও নিয়মিত ছোট ছোট কোর্স করান হয়।   

[33]Fundação Calouste Gulbenkian – লিসবনে অবস্থিত জনসাধারণের জন্যে একটি বেসরকারী ফাউন্ডেশান যার মূল লক্ষ্য শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও শিক্ষার অগ্রগতিতে সাহায্য করা ও জনহিতকর কাজকর্ম করা। প্যারিসে ও লন্ডনে এর দুটি শাখা আছে। কালুস্ত সারকিস গুলবেনকিয়ান নামের এক ধনী আর্মেনীয় তাঁর সব সম্পদ এই ফাউন্ডেশানের মাধ্যমে পোর্তুগালকে দান করে যান। এটি তৈরি হয় ১৯৫৬ সালে, গুলবেনকিয়ানের মৃত্যুর এক বছর পরে।

[34]Cinemateca Portuguesa – সিনেমাশিল্পের, বিশেষ করে, পোর্তুগিজ় সিনেমার, প্রসার ও সংরক্ষণের জন্যে একটি সরকারী সংস্থা। ১৯৪৮ সালে স্থাপিত হয়েছিল, শ্তাদু নোভুর আমলে। এখানে ফিল্মের প্রদর্শনী ছাড়াও ফিল্ম বিষয়ক প্রদর্শনী হয়ে থাকে। এতে একটি সিনেমার মিউজ়িয়াম, আর্কাইভ, লাইব্রেরি, বইয়ের দোকান ও বার-রেস্টুরেন্টও আছে। এখন সিনেমাতেকা আর সুসিয়েদাদ নাসিওনাল দ্য বেলাজ়-আর্তেশের ভবন দুটি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

[35]Teatro da Rua dos Condes, বা শুধুই Condes ছিল লিসবনের একটি নাটকের প্রেক্ষাগৃহ। বেশ কয়েকবার ভেঙে নোতুন করে তৈরি করবার পর ১৯১৯ থেকে এতে শুধুই ফিল্মের প্রদর্শন শুরু হয়। ১৯৫১ সালে আবার সেটাকে ভেঙে ফেলে একেবারে সিনেমার উপযোগী করে তৈরি করা হয়। ১৯৯৭ সালে মলগুলোর মধ্যেকার মাল্টিপ্লেক্সগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৩ থেকে সেই জায়গায় একটি হার্ড রক কাফে আছে। Cine Teatro Tivoli – ফিল্ম দেখানর জন্যে ১৯২৪ সালে আভেনিদা দা লিবেরদাদের ওপরে এটিকে তৈরি করা হয়। তবে শুধু শিনেমা নয়, প্রথম থেকেই এই প্রেক্ষাগৃহে নাটক, ব্যালে, অপেরা সবই হয়ে থাকে।         

ঋতা রায়
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।  

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.