ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় (পর্ব ১৪)

বাংলা English
Rui Zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista

পাঠ ৭৮

একজন ভাল মহিলা ফ্যাসিস্ট কি নারীবাদী?

না। “নারীবাদীরা নারীসুলভ হতে জানে না”, একজন ভাল মৌলবাদী মহিলা ফ্যাসিস্ট বলে।

     “এটার আজকাল কোন মানে হয় না”, একজন ভাল পরিশীলিত মহিলা ফ্যাসিস্ট বলে। এটা, এমনকি, জীবনে পিছিয়ে যাওয়াও হতে পারে। নিজেদের স্বাধীন করছে ভেবে মেয়েরা আবার নিজেদের পরাধীন করে ফেলে। নিজেদের যৌন স্বাধীনতা আছে মনে করে তারা পুরুষদের খেলাটাই খেলতে থাকে, যারা চায় যে নারীরা যৌনতার জন্যে সহজলভ্য হোক। কারণ কামনা ব্যাপারটা পুরুষদের, নারীদের নয়, সেটা আমরা সবাই জানি।

     অন্যদিকে, আবার, খুব সাধারণ পরিবারে জন্মান একজন মহিলা ফ্যাসিস্ট বলে:

     “ওদের যেটা অভাব সেটা হল পুরুষের!”

     একজন ভাল মহিলা ফ্যাসিস্টের “নারী হওয়ার জন্যে গর্ব” হয় আর তারা মনে করে যে নারীদের নিজেদের জায়গাটা জানা দরকার। তাহলে ওরা আরও বেশী সুখী হবে। তার একটা বড় কারণ নারীরা “তারা কাজে আসছে সেটা ভাবতে, সাজগোজ করতে ভালবাসে”, নিজের পুরুষের জন্যে নিজেকে সুন্দর করে তুলতে, “গৃহকোণেই লাজুক, নম্র”[1] হয়ে থাকতে ভালবাসে। ইত্যাদি। [আর হ্যাঁ, য – এইসব কথা কেউ বানিয়ে বলে না।]    

      ঔপনিবেশিক যুদ্ধের[2] সময়ে, যেসব সৈন্য যুদ্ধের জন্যে রওনা দিত, একজন ভাল মহিলা ফ্যাসিস্ট তাদের মধ্যে আলকান্তারার জেটিতে সিগারেট বিলি করত, এটা না জেনেই (কারণ সে তো কেবল একজন অসাবধানী মহিলা ছিল) যে তামাক স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ আর ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।  

সুন সুর[3] সঙ্গে কথাবার্তা

স: যদি অনুমতি দেন তো বলতে পারি, রুই, যে আপনার বইটা, সত্যি বলতে কি, অসাধারণ বলে আমার মনে হয়েছে!

র: ধন্যবাদ, সুন সু। আনন্দটা উভয়ত। অবশেষে এমন কেউ আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন যাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি।

স: ওটা, বস্তুত, অসমাপ্ত হলেও, আগামী প্রজন্মগুলোর জন্যে চমৎকার একটা কাজের উপকরণ।

র: এবার আমায় লজ্জা দিলেন, সু।

স: না, না, কথাটা খুব আন্তরিকভাবে বলছি। আমার তো মনে হয় আমার তুচ্ছ ক্ষুদ্র বইটার থেকেও সময়ের পরিবর্তনকে বেশী প্রতিরোধ করতে পারবে।  

র: ধন্যবাদ, কিন্তু এই বইটা কখনই আপনার রণকৌশলাবলি-র মত অতদিন টিকতে পারবে না। মাকিয়াভেল্লিরটার চেয়ে বেশীদিন টেকাটা মুশকিল নয়। (লেখাটা ভাল, কিন্তু নিকোলো ভুল ঘোড়াতে বাজি ধরেছিল – সত্যি, বেবি: শেষে তোমার সেসার বর্জিয়াকে এত পছন্দ হল?!) কিন্তু আপনারটা? প্রশ্নই ওঠে না!   

স: হঠাৎ এমন বিনয়ের অবতার, রুই? আপনার কাছ থেকে আমি এটা আশা করিনি!

র: আমি জানি।

স: আমি ভাবতাম, আমার মত আপনিও বিনয়কে সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস বলে মনে করেন।

র: বিনয় নয়, সুন সু, আমি কেবল হিসেব কষছি। আপনার বইটা লেখা হয়েছিল দুহাজার বছরেরও আগে। আর সেটা শাশ্বত। আমারটা কি করে সেটাকে হারাবে যদি, শাশ্বত হওয়া (যেটা খুবই সম্ভব) সত্ত্বেও, আমার এই সুন্দর মানুয়াল-টা আড়াই হাজার বছর পর দৌড়টা শুরু করে?   

স: ভাল উত্তর।

র: জানি। গুরুর কাছে শিখেছি।    

চতুর্থ পর্ব সমাপ্ত

জিনিশ যেমন তেমনই

“ওই দেখ খ-এর বাচ্চা নোত্র দামের

ধ্বংশাবশেষে ওপরে মসজিদ বানানর

অপেক্ষায় আছ?! তোমার লজ্জা হওয়া উচিত

যদি এইসব আগুন লাগান এতই পছন্দের

তো ওদের দেশে যাও হারা@জাদা, তোমার

এখানে কোন ঠাঁই নেই বা©©দ…

অনামা ভাল ফ্যাসিস্ট

কণ্ঠস্বরের নব্যপ্রভুরা  

প: ডক্টর রুই, শুভ সন্ধ্যা।

র: শুভ সন্ধ্যা, পারমেনিডেস[4]।  

প: সর্বাগ্রে, আপনাকে বলতে চাই যে এমন একজনের সঙ্গে কথা বলাটা খুবই আনন্দের যিনি সবকিছু জানেন।

র: ধন্যবাদ, পারমেনিডেস। বস্তুর সত্তার অপরিবর্তনীয়তা নিয়ে তোমার মতটাতে আমিও বেশ মজা পেয়েছি।  

প: আমি খুব কৃতজ্ঞ…

র: যদিও আমার বেশি পছন্দ হেরাক্লিটাসের অনন্ত পরিবর্তন।

প: পছন্দের ওপরে কথা চলে না।

র: হয়ত।    

প: আমায় একটা কথা বলুন, ডক্টর রুই। আমরা কি ফ্যাসিজ়মকে খুব মামুলি করে ফেলছি না?

র: না।

প: বা নির্বুদ্ধিতাকে তুচ্ছ করে ফেলছি না?

র: দুঃখের বিষয়, না।

প: মানবজাতির কি আর কোন আশা আছে? নাকি পৃথিবীটা শেষ?  

র: হয়ত।

প: পোর্তুগালের জন্যে কোন আশা আছে কি? না আমরাও দণ্ডপ্রাপ্ত?

র: হ্যাঁ।

প: আপনার কোন ধারণা আছে যে লোকেরা অন্যদের বিষয়ে যা বলে সেটা পছন্দ করে…

র: তাদের পছন্দের তারিফ করতে হয়।

প: যতক্ষণ না আবিষ্কার করে যে অন্যরাও তাদের ব্যাপারে একই কথা বলছে আর তখনই তারা সত্যিসত্যি ক্ষেপে যায়?

র: হ্যাঁ।

প: আর, তাসত্ত্বেও, তারা আশা করে যে কেউ তাদের বন্ধু হবে নাকি তারা জানে যে তারা কেবল শত্রুই তৈরি করে?  

র: হ্যাঁ।

প: এইবারে সব গুলিয়ে দিলেন। আপনি কি সত্যিই বলছেন না মজা করছেন?

র: না।

প: দাঁড়ান, দাঁড়ান, আমার কিরকম একটা দেজা-ভ্যু-র মত লাগছে।

র: সেই।

প: আপনি একটা সাক্ষাৎকারের ঠিক একই রকম কাঠকাঠ উত্তর দিয়েছিলেন, এটা কি সত্যি না সত্যি নয়?  

র: হ্যাঁ।

প: আমায় একটু মনে করিয়ে দিন। এটা কোন কাগজের জন্যে আর কত বছর আগে হয়েছিল?

র: এই বছর দশেক আগে হবে।

প: এরমধ্যেই এতগুলো বছর হয়ে গেল?

র: কিংবা আরও বেশী।

প: দিয়ারিউ ইকনমিকু-র জন্যে ছিল, তাই না?

র: হ্যাঁ।

প: এইবার মনে পড়ছে। উইকএন্ডের জন্যে খেলাচ্ছলে একটা সার্ভে ছিল, ঠিক কিনা?

র: হ্যাঁ।

প: আর কি হয়েছিল?

র: ওরা আমাকে সেন্সর করেছিল।

প: আপনি মজা করছেন।

র: তা-ই যদি হত!

প: একটা উইকএন্ডের সার্ভেতে আপনার উত্তরগুলোকে সেন্সর করা হয়েছিল?!

র: হ্যাঁ।

প: উইকএন্ডের সামান্য একটা মজার সার্ভেতে?

র: হ্যাঁ।

প: নিশ্চয়ই অন্য কারুর নামে খারাপ কিছু বলেছিলেন।

র: না। সেটা বললে ওরা ছাপাত।

প: উল্টোপাল্টা কিছু বলেছিলেন?

র: উল্টোপাল্টার সংজ্ঞা বল।

প: গালাগাল।

র: না।

প: আমার বিশ্বাস হচ্ছে না! আপনি যে উত্তরগুলো দিয়েছিলেন সেগুলোকে সেন্সর করা হয়েছিল?

র: হ্যাঁ।

প: আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।

র: ঠিক আছে।

প: ডঃ রুই নিশ্চয়ই কিছু করেছিলেন। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না…

র: সেটা তোমার সমস্যা।

প: আপনার কাছে কোন প্রমাণ আছে? প্রমাণ?

র: সৌভাগ্যক্রমে আছে।

প: কোথায়?

র: ইউটিউবে। “সেন্সর করা সাক্ষাৎকারের কেসটা”[5] দিয়ে দেখ।    

প: তা-ও আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

র: আমারও হয় আর ঘটনাটা তো আমার সঙ্গেই ঘটেছিল[6]

প: অবিশ্বাস্য। বোকাবোকা।

র: কখনই সঠিক হওয়া যায় না, এমনকি একটা রেস্টুরেন্টেও না[7]

প: আঃ! আপনি অবশেষে মুখ খুলেছেন!

র: এই খাবারটা ঠাণ্ডা খায় না, কিন্তু আমাকে সেটা ঠাণ্ডাই দেওয়া হয়েছিল[8]।  

প: খুব খারাপ! এবার আপনি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন!

র: না, করছি না।

প: হ্যাঁ মশাই, করছেন।

র: একেবারেই নয়।

প: এই কথাগুলো তো আপনার নয়, এগুলো তো ফির্ণান্দু পেসোয়ার লেখা কবিতার লাইন।

র: আলভারু দ্য কাম্পুশ[9]

প: তাই-ই সই।

র: সেই।

প: সেই? শুধু এটাই আপনার বলার আছে? “সেই”?

র: সেই।

প: এবারে বুঝছেন কেন কেউ আপনার বন্ধু হতে চায় না?

র: সেই।  

প: আপনার এইরকম একটা স্বভাব আর তারপরেও আপনার অবাক লাগে?

র: সব শৈশবেই একটা বাগান থাকে, সেটা সর্বজনীন হোক বা প্রতিবেশীর…[10]

প: খুব খারাপ।

র: যেখানে আমরা খেলে সেটার মালিক হতাম[11]।  

প: দেখুন, এইভাবে যদি চালিয়ে যান তো আমিও আপনার মুখ বন্ধ করে দেব। ওই দিয়ারিউ ইকনমিকু-র মত।  

র: আমার কোন অসুবিধে নেই।

প: বইটা যে আপনার তাতে আমার কিস্যু যায় আসে না…  

র: ঠিক আছে।

প: আমি বহু শতাব্দী ধরে মৃত হয়ে থাকতে পারি, কিন্তু এখনও আমার কিছু অনুভূতি অবশিষ্ট আছে!

র: দ্য প্রব্লেম ইজ় ইয়োর্স, বেবি।

প: বেশ, এখানেই শেষ।

আমি সাবধান করে দিয়েছিলাম। যাও, ফোটো। আর আপনিও, পাঠক। এই পৃষ্ঠায় আর কিছু পড়ার নেই। কেটে পড়ুন।

পাঠ ৭৯

ভাল ফ্যাসিস্টের জগতে সবই যেমন ঠিক তেমন-ই

একজন পুরুষ একজন পুরুষই। একজন মহিলা একজন মহিলাই। একটা পাঁউরুটি একটা পাঁউরুটিই, একটা চীজ়় একটা চীজ়ই। একটা পুলিশ একটা পুলিশই। একটা শালগম একটা শালগমই। খেলা খেলাই। সম্মান সম্মানই। ঐতিহ্য ঐতিহ্যই। ফ্যাসিজ়ম হল অর্থহীন পুনরাবৃত্তির শাসন।

     এদিকে আবার জগৎটাকে দেখে যা মনে হয় তার চেয়ে সেটা অনেক বেশি জটিল কারণ, সেটা এতটাই সরলীকৃত ছিল যে স্যুররিয়াল হয়ে পড়েছিল। যেমন ধরুন, “একজন পোর্তুগিজ় তো একজন পোর্তুগিজ়ই” – এতটা প্রাথমিক একটা সংজ্ঞা, আপাতভাবে ঠিক উল্টো মনে হলেও আসলে পোর্তুগিজ় যে সত্যিই কি সেটা জানাটাকে কঠিন করে তোলে। অনেক পুর্তিশ্তা[12] আর পোর্তুবাসীর কাছে, বা ব্রাগাবাসী বা গি্মারায়েঁশবাসীর কাছে একজন আলগার্ভবাসী[13] হল মূর। একজন লিসবনবাসীর কাছে মিন্যিউ[14] অঞ্চলের মানুষেরা গালিসীয় হয়ে গেছে। আসরেশে[15] কোঁতেনেন্ত[16]-এর চেয়ে অ্যামেরিকার দিকে বেশী তাকান হয়, যেখানে পরিবার-পরিজন আছে, আর অন্য জায়গাটায় কি যে আছে কারুর জানা নেই। একজন বাইরাঁও[17] বা ত্রানশমোন্তানু[18] নিজেকে লিসবনের চেয়ে স্পেনের বেশী কাছে বলে মনে হতে পারে। আর যে শ্বেতাঙ্গরা অ্যাফ্রিকায় জন্মেছে বা যে কৃষ্ণাঙ্গরা পোর্তুগালে জন্মেছে? আর অন্য কোন দেশের পুরুষ/মহিলার সঙ্গে করা বিয়ের ফলে যেসব ছেলেমেয়েরা জন্মেছে? আর পিরেশ[19] যে ফরাসী (পির‍্যাস) হয়ে গেছে বা যে প্যতি[20] যে পোর্তুগিজ় হয়ে গেছে? তাদের তো মহা ঝামেলা। খুবই জটিল ব্যাপারস্যাপার।  

     আসলে, সত্যিকারের পোর্তুগিজ় বোধহয় কেবল আলেন্তাইজুতেই[21] পাওয়া যায়। কিন্তু, তারপরেও, দুঃখের বিষয় হল, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়: কারণ আলেন্তাইজুর লোকগুলো হল “কমি”, যাদের জন্ম হয়েছে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক-দের[22] ভূমিতে। আর ভাল ওয়াইন, কর্ক, অলিভ অয়েল আর আসোর্দা দ্য কাসাঁও[23] সত্ত্বেও কোন কাম্পু দ্য ওরিকের[24] অলৌকিক ঘটনা ওদের বাঁচাতে পারবে না।   

পাঠ ৮০

ভাল ফ্যাসিস্ট কারুর মত সঠিক তথ্য জানে না

যেগুলো ঘটেছে সেগুলো নয়, সেগুলোতে তো যিশু খোকারও আগ্রহ নেই আর, তাছাড়া, সেগুলোকে নিয়ে ওই মিথ্যুক বাস্তবতাটা তো কারচুপি করে, যে বাস্তবতার আবার, আদ্ধেক সময়ে, গাধার মত, মাকুদের ভেক ধরে থাকার বাতিক আছে। ভাল ফ্যাসিস্ট প্রকৃত তথ্যগুলো™ জানে, যেগুলো বিকিয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যম লুকিয়ে রাখে কারণ সেগুলোকে দেখাতে ওদের ভয় করে।   

     একটা তথ্যের সঙ্গে একটা প্রকৃত তথ্য™-এর তফাত আছে, কারণ বড় হাতের অক্ষরের না হওয়া ছাড়াও তথ্যের একটা বিরক্তিকর অভ্যেস আছে, যেটাকে সত্যিবলে আমরা জানি সেটাকে পাকা খবর না বলার। অন্যদিকে, একটা প্রকৃত তথ্য™ একটা ছোট্ট মিষ্টি বেড়ালছানার মতই বাধ্য।    

     কিংবা একটা কুকুর। হ্যাঁ, একটা কুকুরছানা – কারণ একটা প্রকৃত তথ্য™ বেড়ালের মত নয়, সে চাইলেই থাবা বাড়িয়ে দেয়।  

     আর বামপন্থী-সংবাদমাধ্যম যখন এই বলে নিজেদের সাফাই দেয় যে তারা সত্যিটাকে ভয় পায় না – যেটা ওরা পারে না সেটা হল যাচাই না-করা খবর প্রকাশ করা – তখন একজন ভাল ফ্যাসিস্ট মাথা নেড়ে এমন একটা বিদ্রূপের হাসি হাসে যেটা একটা মমি করে রাখা নেহাইয়ের যোগ্য:

     “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক আছে রে হারামি!”  

     কারণ ভাল ফ্যাসিস্ট আগে থেকেই জানত যে এই অজুহাতটাই ওরা দেবে। ওকে টুপি পরাতে পারবে না। ও কি আর সেটা জানত না! কখন যদি একজন ভাল ফ্যাসিস্ট না জানে তো সেটা স্রেফ এইজন্যে যে ও কি জানত সেটাই ও ভুলে মেরে দিয়েছে।

পাঠ ৮১

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ভয় খুব ভালবাসে

ভয়ই ওকে পুষ্ট করে। আর ওর সবচেয়ে বড় ভয় হল ভয় না পাওয়ার ভয়। কারণ ভয় পেতে ওর যতই কষ্ট হোক, বেঁচে থাকার একমাত্র যে উপায়টা ও জানে তা হল ভয় পাওয়া (এবং, সম্ভব হলে, দেখান)।  

     ভয় ছাড়া ওর জীবনটা হল চিরতরে অন্ধকার একটা জগতে স্রোতের টানে ভেসে চলা পাথরের একটা ভেলা[25]। এটা স্বীকার করে নেওয়া ভাল যে ভাল ফ্যাসিস্টের চব্বিশ ঘণ্টা কালো চশমা পরে থাকার বাতিকটাও কিন্তু ব্যাপারটাকে খুব একটা সহজ করে তোলে না।  

     আর একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে জগৎ আর জীবনটা কি? আরে! ভয়কে আতঙ্কিত করা ছাড়া ওগুলো আর কি হতে পারে?  

     তাসত্ত্বেও, ভয় দেখিয়েও (জগৎ, জীবন, বিশেষ করে ভালবাসা, যেটা কিনা জীবনের সবচেয়ে বড় অভিব্যক্তি, আর আমাদের ভাগ্য ভাল হলে, সেটা আমাদের কাছে জগৎটাকে উন্মুক্ত করে দেয়) ভাল ফ্যাসিস্টের একটা খুব মূল্যবান উপকার করে: ওটা হল আরিয়াডনের[26] সেই সুতো যেটা ওকে গোলধাঁধার মধ্যে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে। ভয়, অন্তত, একটা পথপ্রদর্শক, একটা নিভে-যাওয়া বাতি যেটা ওকে আলো দেখায়, এমন কিছু যা এই অর্থহীন ইয়োইয়োটা অর্থপূর্ণ করে তোলে, যেটা খুব দ্রুত খুশি থেকে দুঃখে চলে যায়, আনন্দ থেকে আকস্মিক ক্ষতিতে।

ভয় হল জগৎটাকে পড়ার জন্যে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে যে উপায়টা আছে। জগতে ভয় না থাকার সম্ভাবনাটা ওকে আতঙ্কিত করে তোলে, যার মধ্যে ভয়শূন্য-জগতের সেই কষ্টকর সন্দেহটাকে নিশ্চিত করার শঙ্কাটাও আছে: যে সে অস্তিত্বের ব্যাপারে একজন নিরক্ষর।   

পাঠ ৮২

ভাল ফ্যাসিস্ট সবকিছুকেই অবিশ্বাস করে

অস্বীকার করে লাভ নেই। লৌকিক জ্ঞান যদি বলে যে যা-ই ঝকঝক করে তা-ই সোনা নয়, তো ভাল ফ্যাসিস্টের কাছে যা-ই আলো তা-ই কুলক্ষণ। এমনকি ক্রিসমাসের আলোও ওর মেজাজ খিঁচড়ে দিতে পারে। একটু বেশী পরিণত ফ্যাসিস্টের মুখ থেকেই শোনা যাক:

     “কিন্তু এসব কি ঘোড়াড্ডিমের ক্রিসমাসের আলো দেওয়া হয়েছে?!”

     “দেখে মনে হচ্ছে যেন টার্কির পতাকা আর মুসলমানদের প্রতীক সব, একধরণের একটা চাপা,

বহুত্ববাদী, মুসলমানতোষণকারী বার্তায়…”

     “ধুস শালা! আমরা একটা খ্রিস্টান দেশে বাস করছি আর ক্রিসমাস খ্রিস্টের জন্ম উদযাপন

করে! আলো দিয়ে যে সাজান হয়েছে সেটা তো বিকৃত না করে এর উপযুক্ত হতে হবে!”

“এটা আমাদের ক্ষমতায় না থাকারই ফল! আমরা থাকলে আমাদের পরিচিতি আর সংস্কৃতি দুই-ই রক্ষা পেত!”

     [য – এসব কথা কেউ বানিয়ে বলে না।] ক্রিসমাসের আলোকসজ্জাও আসল।

*                    *               *                    *

           *         

*                               *               *

পাঠ ৮৩

ভাল ফ্যাসিস্টের খুব বাস্তববুদ্ধি আছে

কোন মাকু যদি একটা আরশোলা দেখতে পায়, সে বুঝতে পারে না যে কি করবে কারণ, যেহেতু সে কাফকা পড়েছে, তাই সে গভীর চিন্তাভাবনায় ডুবে যায়:

     “আর যদি এই আরশোলাটা একটা মানুষ হয়ে থাকে, বেচারা গ্রেগর জ়ামজ়ার মত?”

     অন্যদিকে, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট, সে যদি মেটামরফোসিস পড়েও থাকে, তো সে গ্রেগরের বাবামার কথা মনে করে, যারা নিজেদের ঘাড় থেকে ওই বিরক্তিকর গুরুভার ঝেড়ে ফেলতে এতটুকু দ্বিধা করেনি, কারণ সেটা তাদের জীবনটাকে কেবল পেছনদিকেই ঠেলে নিয়ে যেত আর সেটা বোঝা তো অসম্ভব ছিল না।   

     তা বলে এটা ভাবলে চলবে না যে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের কোনরকম মায়াদয়া নেই। আছে। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট আসলে মনের গভীরে (বেশ গভীরে, একেবারে তলায়) একজন ভীষণ অনুভূতিপ্রবণ মানুষ। হয়ত এইজন্যেই সে অন্যদের মানুষ বলে মনে করে না। সে তো খারাপ কিছু ভেবে অন্যদের হেঁজিপেঁজি, পরগাছা, মুন্যিয়ে[27], কালা আদমি, কিপটে, হিজড়ে, ইত্যাদি বলে ডাকে না, এটা একটা বাস্তববোধের প্রশ্ন: ওদের মানুষ বলে মনে করা যদি একটুও না বন্ধ করে, তাহলে ওদের খারাপটা চাইবে কি করে শুনি? আসলে, ওদের মানুষ বলে মনে করে না কারণ ও নিজে ভীষণ রকম মানবিক, এটাই হল ব্যাপার।

     ভেতরে ভেতরে (খুব ভেতরে), একজন ভাল ফ্যাসিস্ট খুবই ভাল। আর কখনই কারুর ক্ষতি করত না। অন্তত কোন লোকের নয়। এমন কোন লোকের নয় যাকে লোক বলে মনে করা যেতে পারে। সেটা কখনই না।

     এবার একটা পোকার, পরগাছার, একটা রক্তচোষার, একটা বাঁদরের, একটা গোরুর, একটা আরশোলার, একটা শুয়োরের, যেটা এখানে কেবল অপরাধের কাদায় গড়াগড়ি দিতে আসে, তাদের ক্ষতি করলে দোষটা কোথায়? দোষটা কোথায় শুনি?

পাঠ ৮৪

ভাল ফ্যাসিস্ট ভাবে না, কাজ করে

ভাল ফ্যাসিস্ট মনে করে যে পৃথিবীর হাল খুব খারাপ কারণ লোকে বড্ড বেশী কথা বলে – কাজ করলেই সব চুপচাপ থাকে। সুতরাং “কাজ করা”-টাই দরকার। “পাথর ভাঙা” দরকার। “গঠন করা” দরকার।

     ভাল ফ্যাসিস্ট প্রগতির বিরুদ্ধে নয়। বরং সে প্রগতির পক্ষে।

     তার খালি এটাই মনে হয় যে ভাবার অর্থ থেমে থাকা আর আমাদের প্রয়োজন “যাওয়া”, দেশটার দরকার “যাওয়া”-র, “ভবিষ্যত গঠন করা”-র।

     আর ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে মজবুত ভিত গড়া দিয়ে শুরু করা ছাড়া ভবিষ্যৎ গঠন করার জন্যে অন্য কিছু ভাল হতে পারে না। সেটা হল একটা দেওয়াল।

     কিন্তু যতক্ষণ না আমরা ভবিষ্যতের প্রাচীর™ গড়ে তুলছি, আমরা ততদিন একটা বর্মের ব্যবহার দিয়ে শুরু করতে পারি। ওই মধ্যযুগীয়গুলোর মত একটা, যেগুলো পরে মানুষ হেভি মেটালের একটা ব্যান্ডের চেয়েও বেশী ধাতব হয়ে যায় আর, সেগুলোর তো একটা কবচ আর একটা শিরস্ত্রাণ থাকে, আর শিরস্ত্রাণে একটা সরু ফুটো ছাড়া দেখার কিছু নেই, যাতে দেখা না দিয়েও দেখা যেতে পারে, ঠিক যেমন সামাজিক মাধ্যমে একটা মিথ্যে প্রোফাইল: কেউ আমাদের দেখতে পায় না বলে, আমরা কে কেউ জানতে পারে না বলে আমরা একশ শতাংশ সুরক্ষিত। হেব্বি মজা!

     আর এই বর্মটা হল গাড়ি।

     আগেকার দিন হলে বর্ম হত পেশীগুলো। দুর্ভাগ্যক্রমে, আজকালকার দিনে, জিমে বহুবার যাবার পরই ভাল ফ্যাসিস্টের এই সুবিধেটা জোটে, আর তাদের বেশীর ভাগই দুবলা পাতলা ধরণের – সেইজন্যেই লড়াইয়ের প্রযুক্তিকৌশল হিসেবে বর্মের উপযোগিতা।

     সেইজন্যেই স্টিয়ারিঙে বসে ভাল ফ্যাসিস্ট তার ন্যায্য আর পুরুষোচিত মারমুখো ভাবটার আগল খুলে দেয়। সেটাই তো স্বাভাবিক, নিজেকে শক্তিমান, সুরক্ষিত, কবচ-ঢাকা বলে মনে করে।  

     এক কথায়, আরও বেশী করে পুরুষ।

[অনুশীলনী: কোন পথচারীকে জ়েব্রার বাইরে রাস্তা পার হতে দেখলেই গতিটা বাড়াবেন। চিন্তা করবেন না, ওকে যদি ধাক্কা মারেন তো সমস্যাটা ওর, বেঁড়ে পাকা লোকটা কখন যেন আইন আর না ভাঙে।]

পাঠ ৮৫

ভাল ফ্যাসিস্ট কখন কি কোন কাজ করে?

হ্যাঁ। কিন্তু, সেটাতে, আমাদের জেনে রাখা ভাল, মজাটা কম হয়।

পাঠ ৮৬

ভাল ফ্যাসিস্ট কোনরকম ঝামেলা চায় না

ভাল ফ্যাসিস্ট এটাও কখন বোঝেনি কি কারণে অঙ্কের মিস ওকে ফেল করিয়ে দিয়েছিলেন, যদিও সে টেস্টে সব ঠিক উত্তর লিখেছিল। আর সে জানে যে সেগুলো ঠিক ছিল, কারণ সেগুলো ওই ক্লাসের গুডি গুডি ফাস্টবয়ের উত্তরগুলোর সঙ্গে মেলান ছিল, সে তো ওর পাশেই বসেছিল, আর গর্দভটা সবচেয়ে বেশী নম্বর পেয়েছিল। কেবল ওই গুডি গুডি গর্দভটা নাকি প্রতিটা স্টেপস করে দেখিয়েছিল আর ও শুধু উত্তরটাই ঠিক দিয়েছিল।

     তো? কবে থেকে স্কুল প্রবলেম সল্ভ করার বদলে প্রবলেম তৈরি করতে শুরু করল?

     সৌভাগ্যক্রমে ভাল ফ্যাসিস্টের বাবা স্কুলে গিয়েছিল দিদিমণিটাকে জিজ্ঞেস করতে সে ঘোড়াড্ডিমের কোন কারণে বাচ্চাটাকে ফেল করিয়েছে যদি সে সব উত্তর ঠিকই লিখে থাকে। সেটাই কি বেশী গুরুত্বপূর্ণ নয়, ঠিক উত্তর দেওয়া? যত্ত সব ফালতু ব্যাপার! কে বলুন তো, নিজের বুদ্ধিবিবেচনা ঠিক থাকলে, কিভাবে কাজটা হয়েছে সেটা দেখে, যখন কাজটা করাটাই বেশী জরুরি? ম্যাডামের প্রগতির ওপরে এত রাগ কেন? আর উন্নয়নের ওপরে? আর মেরিটোক্রাসির ওপরে? তাহলে ম্যাডাম নিশ্চয়ই জানেন না যে ফুটবলে গোল দেওয়াটাই আসল, কিভাবে দেওয়া হল সেটা নয়? তা বেশ। আমি কেবল আপনাকে একটা কথাই বলব, ম্যাডাম, যদি ছোঁড়াটা ঠিকঠাক উত্তর দিয়েই থাকে তো আপনারও একটাই কাজ করার আছে: ওকে পাশ করান। যদি না আপনি চান যে আমি আপনার জন্যে সমস্যা তৈরি করি। আপনি চাইলে আমিও সমস্যা তৈরি করতে জানি। সমাধানটা পছন্দ না হলে পরে যেন আবার নালিশ করবেন না।  

     আর সে খুব ভদ্র ব্যবহার করছে, কিন্তু ম্যাডাম মাপ করবেন, আপনার জায়গায় যদি কোন ব্যাটাছেলে থাকত তো এতক্ষণে তার নাকেমুখে দুয়েকটা ঘুষি পড়ে যেত, কারণ আপনার বাড়িতে কি হয় জানা নেই কিন্তু আমার পরিবার নিয়ে কোনরকম ইয়ার্কি চলবে না।

     মায়ের ভোগে যান।       

     আর ওই মিস, ক্লান্তির চোটেই হোক বা ভয়ে, বা হয়ত তাঁর দিব্যদর্শন হয়েছিল, ওকে পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন। আর ওটা প্রথমবারও ছিল না। শেষবারও নয়। এখন, নোতুন আইন মোতাবেক, ওঁর আরও তেরো বছর বাকি থাকত অবসর নেওয়ার।   

     নাঃ, ভাল ফ্যাসিস্টের স্কুল মোটেই ভাল লাগত না।  


[1]লেখক এই পাঠে আগাগোড়া ব্রেজ়িলের বর্তমান রাষ্ট্রপতি বলসোনারোর বিভিন্ন উক্তি ব্যবহার করেছেন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ও দেশের “ভেয়জা” বলে একটি সেইসময়কার উপরাষ্ট্রপতি মিশেল তেমেরের স্ত্রী মার্সেলা তেমেরকে তিনটি বিশেষণের সাহায্যে বর্ণনা করে – “bela, recatada e do lar” (সুন্দরী, লাজুক ও সুগৃহিণী)। এর ফলে দেশেবিদেশে প্রচুর হইচই পড়ে যায়, ফেসবুক ইত্যাদি সামাজিক মাধ্যমেও প্রচুর লেখালিখি হয়, বেশির ভাগই বিদ্রূপাত্মক। গ্যাবি ক্রিশ্তুর গাওয়া “বেলা, রেকাতাদা ই দু লার” নামে একটি গানও খুব জনপ্রিয় হয়।

Que eu sou bela, recatada e do lar você já sabe
Pois sou comportada moça pura sem maldade
Um bom partido uma mulher que só quer
Cuidar do lar, se casar e ter filhos

[আমি যে সুন্দরী, লাজুক ও গৃহকর্মনিপুণা তুমি তো জানই/কারণ আমি হলাম খাঁটি সভ্য মেয়ে কোনরকম খারাপ স্বভাব ছাড়াই/একটা ভাল প্রস্তাব যে নারী শুধু চায়/গেরস্তালির জত্ন নিতে, বিয়ে করতে আর বাচ্চার জন্ম দিতে।]

[2]Guerra colonial – বা অ্যাফ্রিকায় পোর্তুগালের পাঁচটি উপনিবেশের মধ্যে তিনটির স্বাধীনতার যুদ্ধ। চলেছিল ১৯৬১ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত।   

[3]Sun Tzu ছিলেন পুর্ব চাউ এর শাসনকালে প্রাচীন চীনের একজন সেনানায়ক, যুদ্ধকৌশলী, লেখক এবং দার্শনিক। জন্মের সম্যে তাঁর নাম ছিল সুন ইয়ু তবে পাশ্চাত্যে তিনি সুন সু নামেই পরিচিত, যা আসলে একটি সাম্মানিক পদবি যার অর্থ “প্রভু সুন”। তাঁকে সুন্চি বিংফা-র রচয়িতা হিসেবে মনে করা হয়। এর আক্ষরিক অর্থ হল “প্রভু সুনের রণকৌশলাবলি”, বা ইংরেজিতে দ্য আর্ট অফ ওয়ার। এটি একটি প্রাচীন চৈনিক সামরিক আলোচনা গ্রন্থ। এটি সম্ভবত লেখা হয়েছিল খৃস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে। এটিকে রণকৌশলের উপর লেখা শ্রেষ্ঠ বই মনে করা হয়।

[4]এলেয়ার পার্মেনিডেস (গ্রীক: Παρμενίδης ὁ Ἐλεάτης) একজন সক্রেটিসপূর্ব দার্শনিক ও কবি যাকে এলেয়াবাদের (Eleaticism) জনক হিসেবে মনে করা হয়। এঁর জন্ম হয় ক্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের শেষে বা পঞ্চম শতকের শুরুর দিকে প্রাচীন বৃহত্তর গ্রিসের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ ইতালির এলেয়া নগররাষ্ট্রে।  একটি জটিল অধিবিদ্যক কবিতা রচনা করে তিনি প্রাচীন গ্রীসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সবচেয়ে দুর্বোধ্য দার্শনিকদের একজন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এই কবিতাটি ছাড়া তাঁর আর কোনো লেখা পাওয়া যায়নি এবং এই কবিতাটিরও পুরোটা পাওয়া যায়নি, কিছু খণ্ডাংশ আছে কেবল। তাঁর দার্শনিক চিন্তাধারা ছিল এক ধরনের অধিবিদ্যক একত্ববাদ (metaphysical monism)। এই চিন্তাধারা অনুযায়ী বিশ্বে কেবল একটিই বা এক ধরণেরই জিনিস আছে, কোন পরিবর্তন অসম্ভব আর অস্তিত্ব কালহীন, অভিন্ন ও প্রয়োজনীয়। তাঁর এই চিন্তাধারাকে হেরাক্লিটাসের চিন্তাধারার প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; পার্মেনিডেস যেমন একত্ববাদের পুরোধা ছিলেন, হেরাক্লিটাস ছিলেন বহুত্ববাদের পুরোধা।  

[5]সত্যি ঘটনা। Rui Zink – O Caso da Entrevista Censurada https://youtu.be/yeGyzdADUVk

[6]Eu não sei, e foi comigo… অর্থাৎ, আমি জানি না, আমার সঙ্গে ঘটেছিল… লেখক এখানে “না” বাদ দিয়েছেন। তৃতীয় স্তবক, দ্বিতীয় পংক্তি, টীকা ৯ দ্রঃ।   

[7]Nunca se pode ter razão, nem num restaurante. অর্থাৎ, কখনই সঠিক হওয়া যায় না, এমনকি একটা রেস্তোরাঁতেও নয়। দ্বিতীয় স্তবক, দ্বিতীয় পংক্তি, টীকা ৯ দ্রঃ।  

[8]Não é prato que se possa comer frio,

Mas trouxeram-mo frio.

[এই খাবারটা ঠাণ্ডা খাওয়া যায় না,

 কিন্তু ওরা আমাকে ঠাণ্ডাই এনে দিয়েছিল।]

পঞ্চম ও শেষ স্তবক, চতুর্থ ও পঞ্চম পংক্তি, টীকা ৯ দ্রঃ।

[9]Álvaro de Campos পোর্তুগালের সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন Fernando Pessoa-র (১৮৮৮-১৯৩৫) একটি অন্যনাম বা হেটেরোনিম। আলভারু দ্য কাম্পুশের তারিখহীন একটি কবিতার (Dobrada à moda do Porto – গোরুর নাড়িভুঁড়ি দিয়ে বানান একটা পদকে দুব্রাদা বলা হয় আর পোর্তুর প্রণালীতে রান্না করা দুব্রাদা খুবই বিখ্যাত।) প্রথম স্তবকে পেসোয়া লিখেছিলেন –

Um dia, num restaurante, fora do espaço e do tempo,

Serviram-me o amor como dobrada fria.

Disse delicadamente ao missionário da cozinha

Que a preferia quente,

Que a dobrada (e era à moda do Porto) nunca se come fria.

[একদিন, এক রেস্তোরাঁয়, স্থান আর কালের বাইরে,

ঠাণ্ডা দুব্রাদার মত করে ভালবাসা দিয়েছে খেতে।

ভদ্রভাবে বলেছিলাম রান্নাঘরের মিশনারিকে

যে আমার ওটা গরমই ভাল লাগে,

যে দুব্রাদা (সেটা আবার পোর্তুর ধরণে রান্না করা) কখনই ঠাণ্ডা খায় না।

[10](Sei muito bem que na infância de toda a gente houve um jardim,

Particular ou público, ou do vizinho.

[(খুব ভাল করেই জানি যে সবার শৈশবেই একটা বাগান ছিল,

নিজস্ব বা সর্বজনীন, বা প্রতিবেশীর।]

চতুর্থ স্তবক, প্রথম ও দ্বিতীয় পংক্তি, টীকা ৯ দ্রঃ।

[11]Sei muito bem que brincarmos era o dono dele. অর্থাৎ, খুব ভাল করে জানি যে খেলে আমরা সেটার মালিক হতাম। চতুর্থ স্তবক, তৃতীয় পংক্তি, টীকা ৯ দ্রঃ।  

[12]Portista – স্পোর্টিং আর বাঁইফিকার সঙ্গে পোর্তুগালের তিনটি প্রধান ফুটবল টিমের একটি; ক্লাবের পুরো নাম Futebol Clube do Porto, লোকে FC Porto বা সোজাসুজি Porto বলেই ডাকে। এই টিম বা ক্লাবের সমর্থকদের পুর্তিশ্তা বলা হয় আর পোর্তু শহরে যারা থাকে তাদের পুর্তুয়েন্স বলা হয়। লেখকের ইচ্ছানুসারে আমি এটাকে ইস্টবেঙ্গলী আর পূর্ববঙ্গীয়তে বদলে দিতেই পারতাম কিন্তু তাতে আসল লেখার মজাটা পাওয়া যেত না।    

[13]পোর্তু, ব্রাগা, গিমারায়েঁশ – এই তিনটি শহরই উত্তর পোর্তুগালে। গিমারায়েঁশকে পোর্তুগালেজ্যের শৈশবশয্যা বা দোলনা বলা হয়ে থাকে কারণ এই শহর থেকেই স্বাধীন পোর্তুগাল রাজ্যের যাত্রা শুরু হয়। আর আলগার্ভ হল পোর্তুগালের দক্ষিণতম অংশ; ৭১১ সালে এই অঞ্চল দিয়েই উত্তর অ্যাফ্রিকা থেকে বেরবেররা ঢোকে এবং সবচেয়ে বেশী সময়, পাঁচশো বছরেরও বেশী, তারা এই অঞ্চলেই ছিল। তাই মধ্য আর উত্তর পোর্তুগালবাসীদের কাছে এখানকার অধিবাসীরা “মূর” (পোর্তুগালে মুসলমানরা বরাবর “মূর” বা “আরব” বলে অভিহিত হয়ে এসেছে)। পোর্তুগালের উত্তর আর দক্ষিণের মধ্যাও সংস্কৃতিগত বিশাল পার্থক্য আছে – উত্তরের সঙ্গে স্পেনের গালিজ়ার বা গালিসিয়ার বেশী মিল আর দক্ষিণে, বিশেষ করে আলগার্ভে, ইসলাম সংস্কৃতির প্রভাব অনেক বেশী।    

[14]Minho – ১৯৩৬ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের ধারে উত্তর পোর্তুগালের একটি প্রদেশ। ব্রাগা আর গিমারায়েঁশ এই প্রদেশেরই দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।  

[15]Açores (আসরেশ বা এজ়ারস), সরকারী ভাবে যাকে Região Autónoma dos Açores (আসরেশের স্বশাসিত অঞ্চল) বলা হয়ে থাকে, একটা আন্তর্মহাদেশীয় দ্বীপপুঞ্জ আর উত্তর-পূর্ব অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের ম্যাকারোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত পোর্তুগিজ় প্রজাতন্ত্রের একটা স্বশাসিত এলাকা। এর ২০০ কিমি পূর্বে আইবেরীয় উপদ্বীপ, ১২০০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে মাদাইরা দ্বীপপূঞ্জ, আর ২৩০০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ক্যানাডার নোভা স্কোশিয়া অঞ্চল। এই দ্বীপপুঞ্জে নটা ভলক্যানিক দ্বীপ আছে যাদের তিনটে শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। পশ্চিম শ্রেণীতে আছে কর্ভু ও ফ্লোরেশ; মধ্য শ্রেণীতে আছে ফাইয়াল, গ্রাসিওজ়া, পিকু, সাঁও জর্জ, তিরসাইরা; পূর্ব শ্রেণীতে আছে সান্তা মারিয়া ও সাঁও মিগেল। সাঁও মিগেলে অবস্থিত পন্তা দেলগাদা এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় শহর ও অর্থনৈতিক রাজধানী আর ফাইয়ালের অর্তায় রয়েছে আশরেশের বিধানসভা। পোর্তুগালের সামুদ্রিক অভিযান শুরু হওয়ার প্রায় গোড়ার দিকে, ১৪৩১ সালে, সান্তা মারিয়া “আবিষ্কৃত” হয় আর তারপর পুব থেকে পশ্চিমের দ্বীপগুলোতে পোর্তুগিজ়দের পা পড়ে। তখন থেকেই তারা দ্বীপগুলোর দখল নেওয়া শুরু করে দেয়, মূলত দক্ষিণ পোর্তুগালের অধিবাসীরাই এখানে বাস করতে আসে এবং এদের মধ্যে একটা বড় অংশ ছিল ক্রিশ্তাঁও-নোভু বা সদ্য ইহুদি ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হতে বাধ্য হয়েছিল যারা। এছাড়া ফ্লান্ডার্স অঞ্চল থেকে প্রচুর ফ্লেমিংসও আসরেশে আশ্রয় নেয়। ইউরোপের মূল ভূখণ্ড ঠেকে অনেক দূরে এই দ্বীপপুঞ্জ ছিল কোনরকম ধর্মীয় নিগ্রহ শূন্য। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে পোর্তুগাল অংশগ্রহণ না করলেও অক্ষশক্তিকে আশরেশ রণকৌশলে ব্যবহার করতে দিয়েছিল। তারই অঙ্গ হিসেবে আজও তিরসাইরাতে অ্যামেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের লাজেস ফিল্ড বলে একটা এয়ারবেস রয়ে গেছে, পোর্তুগালের সামরিক বাহিনীও অবশ্য এটিকে ব্যবহার করে থাকে। সতেরো শতক থেকেই আসরেশবাসীরা উত্তর ও দক্ষিণ অ্যামেরিকায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা ও ব্রেজ়িলে অভিবাসী হয়ে চলে যেতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে এদের বসবাস মূলত রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচ্যুসেটস।

[16]Contenente অর্থাৎ continente, এইভাবেই আসরেশ ও মাদাইরার (পোর্তুগালের দ্বিতীয় স্বশাসিত দ্বীপপুঞ্জ) বাসিন্দারা ইউরোপের মূল ভূখন্ডে অবস্থিত পোর্তুগালকে উল্লেখ করে থাকেন। পোর্তুগালবাসীদের মধ্যে আসরেশের অধিবাসীদের “আক্সেন্ট” বা উচ্চারণভঙ্গীই সবচেয়ে ভারী, তাদের উচ্চারণে “কোঁতিনেন্ত” হয়ে যায় “কোঁতেনেন্ত”।    

[17]Beirão – বাইরা আলতা, বাইরা বাইশা ও বাইরা লিতরাল, এই তিনটি প্রদেশের বাসিন্দাদের বাইরাঁও বলা হত। এই তিনটি প্রদেশের অস্তিত্ব ১৯৩৬ থেকে ১৯৭৬ অবধি ছিল। বাইরা আলতা ছিল মধ্য পোর্তুগালে, স্পেনের ধার ঘেঁষে, এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল ভিজ়েউ ও গুয়ার্দা। বাইরা বাইশাও ছিল মধ্য পোর্তুগালে, স্পেনের ধার ঘেঁষে, বাইরা আলতার দক্ষিণে। বাইরা লিতরালও ছিল মধ্য পোর্তুগালে, অ্যাটলান্টিকের তীর ঘেঁষে আর এর পশ্চিমে ছিল বাইরা আলতা ও বাইরা বাইশা। এই প্রদেশে কুইম্ব্রা ও লাইরিয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল।  

[18]Transmontano – Trás-os-Montes বা ত্রাজ়ুশ্মন্তেশ প্রদেশের বাসিন্দা। এই প্রদেশের উত্তরে ও পশ্চিমে স্পেন, পুবে মিন্যিউ ও দক্ষিণে বাইরা আলতা। ১৯৭৬ সালে এই প্রদেশ অবলুপ্ত হয়ে যায়। ঐতিহাসিক ভাবে এই প্রদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যক অধিবাসীরা অভিবাসী হয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুগ যুগ ধরে এই প্রদেশের বিচ্ছিন্নতা সেইসব সাংস্কৃতিক প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে যা পোর্তুগিজ় পরিচিতির অপরিহার্য অঙ্গ।

[19]Pires – খুবই চলতি পোর্তুগিজ় পদবী। এর অর্থ পিরিচ বা সসার, এবং এই শব্দটি থেকেই বাংলায় পিরিচ শব্দটি এসেছে।

[20]Petit – ফরাসী পদবী।   

[21]Alentejo – পোর্তুগালের মধ্য-দক্ষিণ ও দক্ষিণ জুড়ে দেশের সবচেয়ে বড় অঞ্চল, এর পশ্চিমে স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল, পুবে অ্যাটলান্টিক ও দক্ষিণে আলগার্ভ অঞ্চল। পোর্তুগালের একমাত্র এই অঞ্চলেই কর্কের উৎপাদন হয়ে থাকে যা সারা বিশ্বের পুরো উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশী। খুব ভাল ওয়াইন আর অলিভ অয়েলও তৈরি হয় এই অঞ্চলে।   

[22]আলেন্তাইজু বরাবরই বিখ্যাত দেশের সবচেয়ে বেশী “লাল” এলাকা হিসেবে। দেশের কম্যিউনিস্টদের মধ্যে বেশীর ভাগই এই অঞ্চলের ভূমিপুত্র। «Traidores à Pátria» বা “দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতক” এই তকমাটি যেকোন স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই ব্যবহার করে থাকে।

[23]Açorda de cação – açorda মূলত পাঁউরুটি, রশুন আর অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি সুরুয়া। আলেন্তাইজুর আসুর্দা তৈরিতে উনুনের ব্যবহার হয় না। কাসাঁও হাঙর-জাতীয় একধরণের মাছ। আসুর্দা দ্য কাসাঁওয়ে ওই মাছটা আলাদা সেদ্ধ করে দেওয়া হয়।

[24]Batalha de Ourique বা ওরিকের লড়াই খুব সম্ভবত এখনকার দক্ষিণ পোর্তুগালের বাইশু আলেন্তাইজু জেলার ওরিকে হয়েছিল, অথবা লিসবনের ঠিক উত্তরে সান্তারাঁই জেলার ভিলা শাঁ দ্য ওরিকে, ১১৩৯ সালের পঁচিশে জুলাই। লড়াইটা হয়েছিল স্বাধীন পোর্তুগালের প্রথম রাজা, দন্ আফন্সু এনরিকশের নেতৃত্বে ক্রিশ্চান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুসলমানদের। সংখ্যায় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও ক্রিশ্চানরাই জিতেছিল। এই যুদ্ধে জয়ী০ হয়েই দন্ আফন্সু এনরিকশ নিজেকে পোর্তুগালের রাজা হিসেবে ঘোষণা করেন। লোককথা অনুযায়ী, যুদ্ধ যেদিনটায় হয়েছিল সেটা ছিল সেন্ট জেমসের দিন, আর দন্ আফন্সু এনরিকশ স্বপ্নে দেখেছিলেন যিশু তাঁকে যুদ্ধজয়ের আশ্বাস দিচ্ছেন। এই লোককথাটা পোর্তুগিজ়দের মনে শতাব্দীর পর শতাব্দী এমনভাবে গেঁথে গেছে যে এই লড়াইটাকে একটা অলৌকিক ঘটনা বলেই মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু এখানে লেখক ইচ্ছে করে একটা ভুল করছেন। বাতাল্যিয়া দ্য ওরিকের বদলে তিনি বলছে কাম্পু দ্য ওরিক, যেটা কিনা লিসবনের এমন একটা অঞ্চল যেখানে উচ্চবিত্তদের বাস আর এই মুহূর্তে যেখানে বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশী।    

[25]Jangada de pedra – পোর্তুগিজ় নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক জুজ়ে সারামাগুর ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত একটি উপন্যাস। সারামাগু ছিলেন আইবেরিয়ান ইউনিয়নের পক্ষে, অর্থাৎ স্পেন ও পোর্তুগাল একসঙ্গে মিলে একটি যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করবে। তাঁর এই মতের সপক্ষে এবং তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ে আইবেরিয়ার ভূমিকা নিয়ে  তিনি এই উপন্যাসটি লেখেন। আইবেরীয় উপদ্বীপ ইউরীপের ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে পাথরের ভেলার মত ভাসতে ভাসতে প্রাচীন ইউরোপ ও নবীন অ্যামেরিকার মধ্যে নিজের জায়গা খুঁজে পায়।

[26]Ariadne (গ্রীকে Ἀριάδνη) – গ্রীক পুরাণে ক্রিটের একজন রাজকুমারী। ক্রিটের রাজা মিনসের আদেশে ডাইডালস ও তার ছেলে ইকারস ক্নোসস শহরে লাবিরিন্থস (ল্যাবিরিন্থ) নামের একটা জটিল গোলকধাঁধা বা ভুলভুলাইয়া তৈরি করেন। এই গোলকধাঁধার একদম মাঝখানে বাস করত মিনোটাউরস (মিনোটর) বলে এক পশু-মানব যার মাথা আড় ল্যাজ ছিল ষাঁড়ের আড় দেহ ছিল মানুষের। এই ল্যাবিরিন্থে ঢুকে সবাই-ই পথ হারিয়ে ফেলত আর মিনোটরের হাতে মারা পড়ত। আথেন্সের প্রতিষ্ঠাতা বীর থেসেউসকে রাজকুমারী আরিয়াডনে একট সুতোর গোলা দেন, যেটাকে তিনি ল্যাবিরিন্থের মতে ছাড়তে ছাড়তে যান। ফলে তিনি পথ না হারিয়ে মিনোটরকে হত্যা করে ল্যাবিরিন্থের বাইরে বেরিয়ে আসেন।    

[27]Monhé – ভারতীয় উপমহাদেশের লোক তুচ্ছার্থে)। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আন্তনিউ কশ্তাকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীকে এই নামে ডেকে থাকেন যেহেতু তাঁর পিতৃকুল ভারতীয় বংশোদ্ভূত।  

Rita Ray
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।  

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *