ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায় (পর্ব ১১)

বাংলা English
Rui zink
Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 
Manual Do Bom Fascista
Manual Do Bom Fascista

এই পর্বের অনুবাদে সরাসরি যাবার আগে লেখকের অনুরোধে আর নিজের তাগিদে কিছু কথা বলা দরকার। অনুবাদ তো শুধু এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় রূপান্তর নয়, উৎস ভাষার সংস্কৃতিকে যতটা সম্ভব লক্ষ্যভাষার সংস্কৃতির কাছে নিয়ে যাওয়াও বটে। অনেক সময়ই সেটা সম্ভব হয় না দুই ভাষার সম্পৃক্ত  সংস্কৃতির মধ্যে দূরত্বের কারণে। এই সমস্যার মেটানর একটা উপায় পাদটীকা, যেটা অনুবাদক হিসেবে আমার খুব পছন্দের কিন্তু রুইয়ের একেবারেই নয়। তাসত্ত্বেও এবারের পর্বের জন্যে একটি নোট দিতে উনি নিজেই বলেছেন। প্রসঙ্গটা সমকামিতা নিয়ে, যা এর আগের দুয়েকটি পর্বে এসেছে; তখনও সমস্যা হয়েছে কিন্তু  অনিচ্ছাসত্ত্বেও তখন সেটা গোঁজামিল দিয়ে সেরেছি। কিন্তু এবারে আর সেটা হবার নয়। পোর্তুগিজ়ে সমকামিতা, গে, লেসবিয়ান এই সব শব্দের অনেকরকম প্রতিশব্দ আছে, অবশ্যই নিন্দাসূচক অর্থে। বর্তমানে বাংলা ভাষায় এই বৈচিত্র্য একেবারেই অনুপস্থিত। সত্যি বলতে কি, আমাদের তো একটিই শব্দ – সমকামী (এর আগের একটি পর্বের জন্যে আমার এক ছাত্রের শরণাপন্ন হয়েছিলাম এবং সে আমায় বেশ কয়েকটি শব্দ পাঠিয়েছিল যেগুলো আমি ব্যবহার করতেই পারতাম, আমার এ বিষয়ে কোন ছুঁৎমার্গ নেই, কিন্তু দেখলাম আমপাঠকের সেই শব্দগুলো বোঝার সম্ভাবনা নেই বলতে গেলেই চলে; পাঠক যে লেখা পড়ে বুঝতেই পারবেন না সেটা লিখে লাভ কি?)। এবারের পাঠ ৬৪-তে সমকামী পুরুষের জন্যে ছ’টি ও সমকামী নারীর জন্যে তিনটি প্রতিশব্দ আছে; বলাই বাহুল্য এই সব শব্দই চলতি ভাষার, কোন বিশেষ সামাজিক শ্রেণীর নয়। আমি রুইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম পোর্তুগিজ়রা সমকামিতা নিয়ে এত ওবসেসড কেন যেটার ছায়া তাদের ভাষায় পড়ে; এর উত্তরে উনি ঠিক যা বলেছেন আমি সেটা এখানে হুবহু তুলে দিচ্ছি: É cultural… Tem de vir alguém de fora para perceber que não é normal. Por exemplo, uma nota tua a dizer: aqui o Rui põe uma lista de 12 insultos, que não posso traduzir, por os desconhecer em bangla. Em conversa com ele, só teve um riso embaraçado e disse: «É cultural. Portugal foi durante demasiado tempo um país reprimido, estas coisas não se mudam de um dia para o outro. Mas está melhor. (ব্যাপারটা সাংস্কৃতিক… কাউকে বাইরে থেকে এসে বুঝতে হবে যে এটা স্বাভাবিক নয়। যেমন তুমি এখানে একটা নোটে বলতে পার: এখানে রুই ১২টা গালাগালের একটা তালিকা দিয়েছে যেগুলো আমি অনুবাদ করতে পারছি না কারণ বাংলায় এগুলোর কোন প্রতিশব্দ নেই। ওর সঙ্গে এই নিয়ে কথা  বলতে গেলে ও একটা অপ্রতিভ হাসি হেসে বলে, “ব্যাপারটা সাংস্কৃতিক। পোর্তুগাল বড় বেশি সময় ধরে একটা অবদমিত দেশ ছিল, এসব জিনিশ রাতারাতি বদলে যায় না। কিন্তু আগের থেকে এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।) আমি পাঠ ৬৪-র পাদটীকায় পোর্তুগিজ় শব্দগুলো দিয়ে দেব, অনুসন্ধিৎসু পাঠক সেগুলোর অর্থ অনায়াসেই নেটে পেয়ে যাবেন; শব্দগুলোর অর্থ সমকামী পুরুষ/নারী হলেও সেগুলোতে মাত্রার তারতম্য আছে। রুইয়ের যৌবনে নাকি কমবেশি এরকম তিরিশটি শব্দ ছিল, বর্তমানে এই সংখ্যাটা মোটামুটি বারোতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠ ৫৭

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বিস্ময়বোধক চিহ্নও খুব পছন্দ করে

বিস্ময়বোধক চিহ্ন একজন ভাল ফ্যাসিস্টের অস্ত্রগুলোর একটা। টুইটার বা ফেসবুক আসার বহু আগেই একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বিস্ময়বোধক চিহ্ন বের করে ফেলেছিল।

         আর আপাতত যথেষ্ট পরিমাণে নিরীহ অনেক ভাল ফ্যাসিস্টের কাছেই বিস্ময়বোধক চিহ্ন হল তাদের সেনাবাহিনী।

         আর সেটা ওদের স্বপ্নদোষের রসদ জোগায় এই ধারণার বশে যে একদিন ওদের হাতে বিস্ময়বোধক চিহ্নের এমন একটা বাহিনী থাকবে যেটা ওরা সেমি-অটোমেটিক থেকে অটোমেটিকে পরিণত করা রাইফেলে ব্যবহার করতে পারবে, ঠিক যেমন টিউনিং-এর কায়দা ব্যবহার করে অ্যামেরিকানরা তাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো বদলে ফেলে।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্টকে দেখে একজন এক্সপেরিমেন্টাল কবি বলে প্রায় মনে হয়, যে তুলনাটা শেষ পর্যন্ত দুপক্ষকেই চটিয়ে দিতে পারে। এটা খুব ভালভাবে জানা আছে যে ফ্যাসিস্ট বলে ডাকাটা এক্সপেরিমেন্টাল কবিদেরও পছন্দ নয়, আর ভাল ফ্যাসিস্টদের যদি কেউ “কংক্রিট কবিদের[1] দল” বলে ডাকে তো তাতে তারা মোটেই মজা পায় না।

         কিন্তু কখনসখন দুই প্রান্ত এসে একে অন্যকে ছোঁয় যেটা এই সুন্দর বিস্ময়বোধক চিহ্নের কুচকাওয়াজটায় দেখা যাচ্ছে:

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

পাঠ ৫৮

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট স্কুলে কোনরকম মতবাদ চায় না

এ বিষয়ে তার কোন ধারণা না থাকলেও প্রাচীনকালের প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যবইয়ের কথা একজন ভাল ফ্যাসিস্টের খুব মনে পড়ে আর সেগুলোর জন্যে মন কেমন করে। ওগুলোতে কোনরকম মতবাদ থাকত না। কেবল সালাজ়ারের ছবি থাকত। আর থাকত বাবা চাকরি করতে গেলে একজন নিপুণ গৃহকর্ত্রীর মত গৃহকর্মরতা মায়ের ছবি। যেগুলো নেহাৎ দরকার সেগুলোর কথাই কেবল বইয়ে থাকত: কর্তৃত্ব যার হাতে তার কথা মেনে চলা। মেনে চললেই সব ঠিক থাকে। টুঁ শব্দটি না করে স্ত্রী স্বামীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করত। আর আমরা ব্যাকরণ শিখতাম গরীবদের গরীব, গরীব বেচারা, খুব গরীব, সবচেয়ে গরীব আর দরিদ্রতমতে ভাগ করে। আর ছ’বছর বয়েসের মধ্যেই আমাদের মুখস্থ করে ফেলতে হত যে স্বদেশের জন্যে প্রাণদানকারীর চেয়ে পৃথিবীতে আরো সুন্দর আর উজ্জ্বল কোন পেশা নেই।

         খুব সুন্দর ছিল সেইসব সময় যখন এখানে সন্দেহের কোন জায়গা ছিল না, কারণ স্কুলে আমাদের সেইসবই শেখান হত যা সঠিক ও সত্যি। আর কারুর জন্যেই কোন মতবাদ বা মগজধোলাই ছিল না।

         আর আজকালকার স্কুলগুলো? জঘন্য। কেউ কিছু শেখে না, মাস্টারগুলো পড়ানর চেয়ে হরতাল করতেই বেশি ব্যস্ত। কুঁড়ে মাস্টারগুলো খালি হোমটাস্কই দিয়ে যায় কারণ তারা খাটতে চায় না। আর হয় তারা পড়াতে জানে না কিংবা কেবল সেইসব জিনিশই পড়ায় যা কারুর কোন কাজে লাগে না। ভাল ফ্যাসিস্টের এখনও মনে আছে ওই ছোটলোকগুলোর হাতে কি কষ্টটাই না পেয়েছিল: 

         “আর ওদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল এতিহাসের দিদিমণি, দর্শনের মালটা আর যে হিজড়েটা[2]

        পোর্তুগিজ় পড়াত। কারণ ওরা কেবল মাথায় কোন একটা মতবাদ ঢোকাতে চাইত!” 

         আর আমরা সবাই জানি স্কুলটা মগজধোলাইয়ের জায়গা নয়। স্কুলটা শেখানর জায়গা।

পাঠ ৫৯

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট শিক্ষা দিতে খুব ভালবাসে

কিন্তু সে যদি শিক্ষা নিতে পছন্দ নাও করে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কিন্তু শিক্ষা দিতে খুব ভালবাসে। ভীষণ ভালবাসে। বিশেষ করে যদি সেই শিক্ষা দেওয়ার মধ্যে কোনরকমের শারীরিক শাস্তির ব্যাপার থাকে – অবশ্য শেষ পর্যন্ত শারীরিক শাস্তিটাই ওই শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।   

         বা, ভাল করে ভেবে দেখলে, শিক্ষাটার একমাত্র অংশ।

         আর কার এই শিক্ষাটা দরকার, চমৎকার গুরুমশাই হিসেবে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের সেটা বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা আছে।  

         “তোমার এই শিক্ষাটা দরকার”, সুতরাং ভাল ফ্যাসিস্ট সেই লোকটাকে বলে যার ওই শিক্ষাটার প্রয়োজন।

         যেসব লোকেদের শিক্ষা দেওয়ার দরকার তাদের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। বেশি কথা খরচ না করে এটা বলাই ভাল যে যা কিছু শ্বাসপ্রশ্বাস নেয় তা-ই একজন ভাল ফ্যাসিস্টকে বিরক্ত করতে বাধ্য।

         আর তার ফলস্বরূপ তাদের শিক্ষা দেওয়াটা দরকার।

         তাসত্ত্বেও তার একটা বিশেষ টান আছে নকল বুদ্ধিজীবীদের প্রতি, বিদেশীদের প্রতি, কমিউনিস্টিদের প্রতি। আর নকল কমিউনিস্টিদের প্রতি। আর ক্যাভিয়ার-বামপন্থীদের[3] প্রতি। আবার ত্রেমোসু-বামপন্থীদের[4] প্রতিও।   

         আর রসিকদের[5] প্রতিও। যারা নিজেদের রসিক বলে মনে করে। হাসিটা ওকে খুব ভাবগম্ভীর ভাবে বিরক্ত করে। একদিকে শ্রদ্ধার অভাব বোঝানর জন্যে। অন্যদিকে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের সবসময়েই সন্দেহ যে হাসাহাসিটা ওকে নিয়েই হচ্ছে। কিংবা, যেটা আরও গুরুতর, এমন একটা কিছু নিয়ে হাসাহাসি হচ্ছে যেটা ও বুঝতেও পারেনি।  

         ওইসব সময়ে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হয়ত বলবে, সবার উদ্দেশে, আবার বিশেষ কাউকে লক্ষ না করেই:

         “মেরে যদি দাঁত না ভেঙে দিই তো…”  

পাঠ ৬০

একজন ভাল ফ্যাসিস্টের মেজাজটা সবসময়ে খিঁচড়েই থাকে

নিয়ম অনুযায়ী একজন ভাল ফ্যাসিস্ট হাসতে ভালবাসে না। কিংবা সে কেবল অন্যের দুর্দশা দেখে হাসতে ভালবাসে। কিংবা যখন সে অন্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এটাকে আমরা এমন একটা কথায় প্রকাশ করতে পারি যেটা সদা-বৈজ্ঞানিক জার্মানি তৈরি করেছিল: শাডেনফ্রয়েডে। অন্যদের ল্যাজে-গোবরে হতে দেখে খুশি হওয়া।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্টের সঙ্গে একজন মন্দ ফ্যাসিস্টের অনেক বিষয়ে পার্থক্য আছে, কিন্তু বদমেজাজের মত কোনটাই এত সুস্পষ্ট নয়। ভক্তি করার মত একজন ফ্যাসিস্টের মেজাজটা সবসময়ে খিঁচড়ে থাকে – এমনকি যখন সে জেতে তখনও সে আলগা দেয় না। সবসময়েই তো কোন একটা কিছু “খুব খারাপ” বলে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করার কারণ থাকে, এমন কোন পরিস্থিতি যখন ঘ্যানঘেনে অসহ্য বুড়িদের মত সে বলতে পারে “এটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না” আর অনেক অনেক অনেক মানে সত্যিই অনেকবার সে বলতে পারে “এটা কেবল পোর্তুগালেই সম্ভব!!!!!”, আর এই কথাগুলোর পরে বিস্ময়বোধক চিহ্নের একটা প্রেটোরিয়ান রক্ষীর[6] দল এলে আরো ভাল হয়।   

         রাগ আর বিরক্তি হল ওদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আর, হয়ত, ওদের বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ। ভাল ফ্যাসিস্ট যদি একটা বেড়াল হত তো ঘুড়ঘুড় করাটা হত ওর বিরক্তিভরা ক্ষোভ অথবা ক্ষুদ্ধ বিরক্তির প্রকাশ। কিন্তু একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তো আর বেড়াল নয়: খোশমেজাজে থাকার বা কোন কিছুর তারিফ করার, তা সে যা-ই হোক না কেন, ক্ষমতা তার নেই; বোকামি বা আগড়ুম বাগড়ুম কিছুর গন্ধ পেলেই একজন ভাল ফ্যাসিস্ট নিয়ম মেনে তার নাকটা কোঁচকায়। কিংবা এমন কিছুর খোঁজ যা আমাদের আসল ব্যাপার থেকে মনটা সরিয়ে দেয়! 

         আর এই আসল জিনিশটা কি? সেটার খুব একটা গুরুত্ব নেই। আসল জিনিশটা বদলে বদলে যায়, আর সেটা জ্বালানীর দাম থেকে রেফারিদের ছ্যাঁচড়ামি, বেশি সংখ্যক শরণার্থিদের নিয়ে ঝুঁকি থেকে প্যাকেটের আলুভাজার মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। আসল জিনিশের একটাই সংজ্ঞা: আসল জিনিশ হল সেইটাই যেটা একজন ভাল ফ্যাসিস্ট আসল জিনিশ বলে ঠিক করে।

[অনুশীলনী: আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর থাকার খেলাটা খেলুন। তারপর শাসানি দেবার মত কর মুখ ভ্যাঙচান। হাসিটা থামাতে পারার পর আবার খেলাটা শুরু করুন। ডোজ: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে শুতে যাবার বা খাবার পরে আগে তিনবার।]

পাঠ ৬১

একজন  ভাল ফ্যাসিস্ট জগতের শ্রেষ্ঠ রসিকতাটাকেও অপছন্দ করে

অন্তত সবচেয়ে ভাল যে রসিকতাটা আজ অবধি শুনেছি বা, আমার আশঙ্কা, আর কখনও শুনব। আর  জগতের সবচেয়ে ভাল রসিকতাটা কি? এইটা:

         “আপনি এই সব লোকেদের খুন করেছেন। (…) আপনার নিজের স্বপক্ষে বলার কিছু আছে?”

        “আমি নির্দোষ।”

        বিচারকদের ভুরুগুলো কুঁচকে যায়:

         “নির্দোষ? কিভাবে?”

        “আমি তো কেবল আদেশ পালন করছিলাম!”

        আর তারপর কমান্ডান্ট এসে ঢোকে। একজন বিচারক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটা পড়ে শোনান:

         “যে শিবিরটা আপনি চালাতেন সেখানে পৈশাচিক সব কাণ্ডকারখানা ঘটেছিল। (…) আপনার কিছু বলার আছে?”                            

         “আমি নির্দোষ, ধর্মাবতার।”

         বিচারকদের মুখ হাঁ হয়ে যায়:

         “নির্দোষ? কিকরে?”

        “আমি তো কেবল আদেশ দিতাম!”

পাঠ ৬২

একজন ভাল ফ্যাসিস্ট কৌতুক অপছন্দ করে

কিন্তু সেটা কেবল যে জিনিশগুলোকে ও বোঝে না সেগুলোকে ও ভয়ানক অপছন্দ করে বলে।

         আর ঠিক একই কারণে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট জগতটাকে ভীষণ অপছন্দ করে।

         প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে যে এ ব্যাপারে একজন ভাল ফ্যাসিস্টের হিউমারিস্ট আর কবিদের সঙ্গে খুব মিল। এরাও জগতটাকে বোঝে না।

         সহজভাবে বলতে গেলে, ওরা জানে যে এটাই প্রেম। যেটাকে আমরা বুঝি না সেটাকে ভালবাসা।

         আর মুখোমুখি হওয়ার – যে কোনরকম মুখোমুখি হওয়ার – মূল নীতিটা হল উল্টোদিকে কে আছে সেটা বোঝার চেষ্টা করা।  

         আর তাকে আমাদের দিকে নিয়ে আসা।

         অথবা তা নয়।  

         জগতটা বিশৃঙ্খল? কবিতা আমাদের শেখায় কিভাবে এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেও চলতে হয়। কবিতার পাঠকদের জন্যে কবিতা সুন্দর আর কখন কখন দুর্বোধ্য আর, সেটা জানাটা তাদের জগতটাকে আরো ভাল করে মেনে নিতে সাহায্য করে, কারণ জগতটাও তো সুন্দর আর দুর্বোধ্য, আর এইভাবে জগতটাকে ভালবাসতে আর আরো বেশি শ্রদ্ধা করতে সাহায্য করে, এমনকি জগতটা যে অতবার দুর্বোধ্য হয়ে দাঁড়ায় এই সত্যিটাকে তারিফ করতে সাহায্য করে – আর এইভাবে “সেটাকে বোঝার” চেষ্টাটা কম করতে সাহায্য করে। কবিতার পাঠকদের জন্যে জগতটাকে কবিতার মত করে পড়া যায়: “উপলদ্ধি করার” অংশটা কম চিত্তাকর্ষক।  

         এবার ভাল ফ্যাসিস্ট তো কবিতা একদম পছন্দ করে না – ওর পুরোটাই তো গদ্য। সাবধান, “প্রোজ়” থেকে যেন ভুলেও “পি”-টা সরাবেন না, তাহলে ওটা “রোজ়” হয়ে যাবে, আর গোলাপের গোলাপী রংটা তো মেয়েদের, তাই না?

পাঠ ৬৩

একজন ভাল ফ্যাসিস্টের হাতে যদি সব থাকত তো সবাই জেলে যেত

ও ছাড়া। একজন ভাল ফ্যাসিস্ট গ্রেফতার হওয়াটা পছন্দ করে না। কেই বা করে?

         তাসত্ত্বেও, একজন ভাল ফ্যাসিস্টের ইচ্ছা অনুসারে সব গ্রেফতার হত।

         এটাই হল ব্যাপার।

         একটা তালিকা করারও প্রয়োজন হত না, যদিও একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তালিকা খুব পছন্দ করে।

         একটা তালিকা করারও প্রয়োজন হত না।

         সত্যিই।

         প্রয়োজনই হত না।

         একজন ভাল ফ্যাসিস্টের স্মৃতি হাতির মত, কিন্তু সে হাতি নয়। সে ভোলে না। সে কখনই ভোলে না।

         ওর মাথার ভেতর একটা তালিকা আছে আর যে মালগুলোকে খতম করতে হবে তাদের তালিকাটা বর্ণানুক্রমিক (যেটা জীবনে অন্তত একবার, স্বার্থপরতার জন্যে ক্ষমা চাইছি, আমাকে ছোট্ট একটা সুবিধে[7] পাইয়ে দেবে যখন ওই ভাল ফ্যাসিস্ট সবকিছু তছনছ করে দেবার সিদ্ধান্তটা নেবে)।  

         নাঃ, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট ভুলে যায় না।

         মুখও না, নামও না, রঙও না, তিক্ততাও না।

         আর ও জানে তুমি কোথায় থাকো।

         আর সেজন্যেই একজন ভাল ফ্যাসিস্টের তালিকা তৈরি করার কোন প্রয়োজনই নেই।

পাঠ ৬৪

কিন্তু, বলাই বাহুল্য, একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তালিকা খুব পছন্দ করে

আর যাদের ব্যাপারে দেরি করে কোন লাভ নেই সেইসব মালেদের একটা তালিকা তৈরি করার লোভ ও সামলাতে পারে না:

  • দুর্নীতিগ্রস্তরা
  • দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকরা
  • রাজনীতিকরা যারা এখনও অসৎ হয়নি কিন্তু আজ হোক কাল হোক তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হবেই
  • সাধারণভাবে যেকোন রাজনীতিক, কেবল সেইসব রাজনীতিকদের ছাড়া, যারা রাজনীতিতে নাক গলায় না বলে বেশি সৎ
  • কমিউনিস্টিরা
  • কমিউনিস্টিদের প্রতি যারা সসহানুভূতিশীল
  • এই পোপটা
  • বেদেরা
  • বর্ণসঙ্করেরা
  • যেসব কালো কোন বাড়ি তৈরির কাজ করছে না বা…
  • আমাদের ফুটবল ক্লাবে খেলছে না
  • সমকামী[8]
  • সমকামী[9]
  • সমকামী[10]
  • সমকামী[11]
  • সমকামী[12]
  • সমকামী[13]
  • সমকামী মেয়েছেলে[14]
  • সমকামী মেয়েছেলে[15]
  • সমকামী মেয়েছেলে[16]
  • সাধারণভাবে সমকামিতা[17]
  • সরকারী অফিসের চাকুরেরা
  • এমেলের[18] মালগুলো
  • রিফিউজিরা
  • যাদের সংস্কৃতিটা আমাদের মত নয়
  • মুসলমানেরা
  • যে মালগুলোকে টিভিতে আগডুম বাগডুম বলতে দেখা যায়
  • যে মালগুলো বুদ্ধিজীবী হবার ভান করে
  • যেসব নকল বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিজীবীর হবার ভান করে
  • যেসব বুদ্ধিজীবীরা নকল বুদ্ধিজীবী হবার ভান করে
  • ওই বামপন্থী শালাগুলো
  • যে মাগীগুলো রাজনীতি করে
  • যে মেয়েছেলেগুলো ইউনিভার্সিটিতে পড়ে
  • ভাল ভাল মেয়েছেলে সব (আরে আমিই তো জেলার ছিলাম, হেহেহে[19])
  • যেসব ডাক্তার মনে করে যে গায়ে একটা শাদা কোট চাপিয়েছে বলেই আমাদের থেকে বেশি জানে
  • যেসব মাস্টাররা মনে করে যে ছাত্রদের হাতে ঠ্যাঙানি[20] খায় বলে আমাদের থেকে বেশি জানে  
  • বিশেষ করে ইতিহাসের মাস্টারনিটা
  • আবার দর্শনের জনতাটাও, যার বাতিক ছিল ভাল সাজার আর বোকা বোকা সব প্রশ্ন করার যার উত্তর ওর নিজেরও জানা থাকত না (তার ওপর আবার সেটা স্বীকার করতে গিয়ে হাসত)
  • ওই ব্যাটাচ্ছেলে লিকাস যে ছোটবেলায় আমার একটা মার্বেল ঝেড়ে দিয়েছিল
  • সন্ধে সাতটার ট্রামের কন্ডাক্টারটা[21], হারামীটা তো খেয়ালও করে না যে ভাল মেয়েটা ওর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, ব্যাপারটা খুবই খারাপ
  • যে মালগুলোর কোনরকম যোগ্যতা ছাড়াই সবকিছু আছে
  • ওই বারটার দারোয়ান, আমরা যথেষ্ট মাতাল ছিলাম না বলে যে আমাদের ঢুকতে দেয়নি
  • সেইসব মেয়েছেলেরা যারা কোন না কোন সময়ে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, ওদের আসলে কি দরকার সেটা আমি জানি    

তৃতীয় পর্ব সমাপ্ত


[1]কংক্রিট কবিতায় ভাষার কতগুলো উপাদান এমনভাবে সাজান থাকে যে অর্থ বঝানর জন্যে মুদ্রণের ভূমিকাটা শব্দার্থের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে কংক্রিট কবিতার উদ্ভব ঘটেছে বিশেষ আকারযুক্ত কবিতার একটা দীর্ঘ ঐতিহ্যের মধ্যে দিয়ে; এইসব কবিতায় শব্দগুলোকে তাদের বিষয়টাকে চিত্রিত করার জন্যে সাজান হত। জর্জ হার্বার্টের ১৬৩৩ সালের কবিতা “ইস্টার উইংস” মুখোমুখি দুটো পাতায় এমনভাবে ছাপা হয়েছিল যাতে মনে হয় যে দেবদূতেরা পাখা মেলে উড়ে যাচ্ছে। ফরাসি কবি গিয়োম আপলিনেয়ারের (১৮৮০-১৯১৮) কালিগ্রাম কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতাও কংক্রিট কবিতা। লেখিকা, অধ্যাপিকা, ভাস্কর আনা আতারলি (Ana Hatherly, ১৯২৯-২০১৫), যাঁকে রুই নিজের অন্যতম গুরু বলে মনে করেন, পোর্তুগালের কংক্রিট কবিতার একজন প্রবক্তা ছিলেন।    

[2]Fufa – সমকামী নারী। বাংলায় এর কোন উপযুক্ত শব্দ না পেয়ে “হিজড়ে” শব্দটা ব্যবহার করলাম। 

[3]পোর্তুগিজ়ে বলা হয় esquerda-caviar, ইংরেজিতে খুব সম্ভবত “ক্যাভিয়ার-লেফট” শব্দটা আছে। এই শব্দের প্রয়োগ নিন্দাসূচক। দুটো বিপরীত ধারণাকে একসঙ্গে এনে একটা বিরোধাভাস তৈরি করা হয়েছে। বামপন্থীরা বলে যে তারা মানুষের পক্ষে কিন্তু একদল আড়ম্বরপ্রিয় বামপন্থী আছে যারা আরাম-আয়েশের জীবন ভালবাসে। সাধারণত এই শব্দটা ব্যবহার করা হয় সেইসব কমিউনিস্ট এবং বামপন্থীদের বোঝাতে যারা সাধারণ মানুষের কথা বলে কিন্তু ফার্স্ট ক্লাসে চড়ে যাতায়াত করে।

[4]শব্দটা খুব সম্ভবত রুইয়ের তৈরি, “ক্যাভিয়ার-লেফট”-এর বিপরীতার্থক হিসেবে। ত্রেমোসু (tremoço) মটরশুঁটি জাতীয় গাছের ফল যা বিশেষত ছাত্রছাত্রীরা আর গরীবেরা বিয়ারের সঙ্গে চাট হিসেবে খেয়ে থাকে। 

[5]রুইয়ের নোট: মূলত জীবনরসিক, যারা বাঁচতে ভালবাসে, যারা আমার মত ভাবনাচিন্তা নিয়ে খেলতে ভালবাসে। যেসব মানুষ বাঁচতে ভালবাসে, হাসতে ভালবাসে একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তাদের ঘেন্না করে। আর মহিলারা (“সে হাসছিল, এখন আর হাসছে না) বিশেষ করে তার চক্ষুশূল। নাৎসিরা ইহুদিদের হাসি সহ্য করতে পারত না। ধর্ষকেরা নারীদের মুখের হাসি মুছে দিতে চায়।       

[6]প্রেটোরিয়ান রক্ষীরা (ল্যাটিনে cohortes praetoriae) ছিল রোমান সাম্রাজ্যের এক বিশেষ বাহিনী যারা সম্রাটের দেহরক্ষী ও গুপ্তচর হিসেবে কাজ করত।   

[7]লেখক নিজের নাম নিয়ে রসিকতা করছেন; যেহেতু ওঁর নাম “z” দিয়ে তাই বর্ণানুক্রমিক তালিকা হলে ওঁর নামটা সব শেষে আসবে। 

[8]maricas

[9]paneleiro

[10]invertido

[11]mariconço

[12]rabeta

[13]bicha

[14]fufa

[15]fressureira

[16]sapatona

[17]paneleiragem

[18]EMEL – Empresa de mobilidade e estacionamento de Lisboa (লিসবনের গাড়ি চলাচল ও পার্ক করার নিয়ন্ত্রক সংস্থা)।

[19]আবার রুইয়ের একটা নোট: পিদ (Pide – সালাজ়ারের গুপ্ত পুলিশবাহিনী) আর অন্যান্য রাজনৈতিক পুলিশ বাহিনী (ব্রেজ়িলের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিলমা রুসেফ যৌবনে স্বৈরতন্ত্রীদের হাতে অত্যাচারিত হয়েছিলেন এবং সেই বাহিনীর নেতা কর্নেল উস্ত্রাকে বর্তমান স্বৈরতন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বলসোনারো শ্রদ্ধা জানিয়েছেন) মানুষের ওপর অত্যাচার করত। আর এই অত্যাচারের সর্বদাই একটা যৌন দ্যোতনা থাকত। পোর্তুগালে দক্ষিণপন্থীরা একটা ব্যাপার নিয়ে খুব হাসাহাসি করত – তেরো বছরের বন্দীদশার মধ্যে একদিন অত্যাচার করতে করতে এইভাবেই নাকি কমিউনিস্ট নেতা আলঅভারু কুন্যিয়ালের (১৯১৩-২০০৫) প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল: “ওর টোম্যাটোগুলো (অণ্ডকোষ) একটা দেরাজে রেখে বলা হয়েছিল যে কথা না বললে দেরাজটা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ও তো কথা বলেনি, হাহাহা!” যেটা সবচেয়ে অদ্ভুত তা হল গল্পটা যদি সত্যি হয় তাহলে সেটা হবে ওঁর সাহসের প্রমাণ, অত্যাচারীদের শ্রেষ্ঠত্বের নয়। মহিলাদের সঙ্গে ব্যাপারটা আরো খারাপ হয়ে থাকে। এমনকি পুরুষদের ক্ষেত্রেও ধর্ষণটা সর্বদাই একটা প্রচ্ছন্ন আশঙ্কা, সে জেলেই হোক বা পুলিশ স্টেশানে যেখানে ধর্ষকামী পুলিশেরা থাকে। আর একজন ভাল ফ্যাসিস্ট তো ফ্রাস্ট্রেটেডও বটে, যেসব বিরক্তিকর মহিলাদের সে অপছন্দ করে, তাদের “সুযোগ নেওয়ার”, “কিছু করার” কল্পনা করে। হাসিটা লোভ চরিতার্থ করার প্রত্যাশা থেকে আসে। ভারতে তো এরকমটা রোজই ঘটছে। যে ভালমানুষটা সুপ্রভাত জানাচ্ছে, সে আসলে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যে খারাপটাই চাইছে। নাৎসিবাদ আর লিঞ্চিং আর মব মেন্টালিটি এইভাবেই কাজ করে: ফ্রাস্ট্রেশান, “অবিচার”-এর একটা অনুভূতি, প্রতিহিংসার ইচ্ছে, অন্ধকারময় সব ক্ষিদে মেটানর তাগিদের একটা মিশ্রণ।             

[20]রুইয়ের নোট: এখানে দুটো বিপরীতধর্মী চিন্তা আছে যেগুলো আলাদা ভাবে বললে বেশি অর্থবহ হত: ১) শিক্ষকেরা মনে করেন যে তাঁরা সাধারণ মানুষ বা ছাত্রদের থেকে বেশি জানেন – যেটা তোমার বা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত (সত্যিই তাঁরা জানেন); কিন্তু একজন ভাল ফ্যাসিস্ট বা যেসব মানুষ ইন্টারনেট থেকে জ্ঞানলাভ করে তাদের কাছে নয়; ২) আমার ছোটবেলায় শিক্ষকেরা ছাত্রদের মারতে পারতেন, ওটা শেখানর একটা উপায় ছিল; কিন্তু আজকাল এটা নিষিদ্ধ, কিন্তু অন্যদিকে আবার ছাত্ররা শিক্ষকদের ধরে মারছে এমন ঘটনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আর এটা ঘটছে কারণ শিক্ষকেরা সত্যিই তাঁদের কর্তৃত্ব খুইয়েছেন। আর তারপর এমন অনেক বাবামাও তো আছেন যাঁদের ছেলেপুলেরা সর্বদাই সঠিক।     

[21]আন্তনিউ জ়াম্বুজুর গাওয়া সাম্প্রতিক কালের একটা খুব জনপ্রিয় গান; একটি মেয়ে প্রতিদিন একই সময়ে একটা ট্রামে চড়ে কারণ সে ওই ট্রামটার কন্ডাক্টারের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, কিন্তু সেই মানুষটির তাতে কোন ভ্রূক্ষেপই নেই। ভাল ফ্যাসিস্ট চটে গেছে কারণ কন্ডাক্টারটার কপালে অমন ভাল একটা মেয়ে জোটা সত্ত্বেও সে তাকে পাত্তা দিচ্ছে না।

Rita Ray
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *