DIARY OF DREAMS AND IT’S DECONSTRUCTION by ANINDITA DATTA

বাংলা English

          নষ্ট সময়  স্বপ্ন শহরে

– অনিন্দিতা দত্ত

স্বপ্নের দিনলিপি। নিথর লিপির জীবাশ্ম। চিহ্নহীন ছাই ভস্ম। তবু সেই অলীক শরীর আর তার জলছাপ। পায়ে পায়ে ফোঁটা ফোঁটা। বিস্মৃতির ভয়ে কাঁটা। অজগর তেড়ে আসে। ধেয়ে আসে জ্যান্ত সময়। খুবলে খায়, ডুবে যায় স্বপ্নদেহ। কালিয়াদহে তবু নাটুকে পুরাণ। বীভৎস তাণ্ডব নৃত্যে খণ্ড খণ্ড টুকরো।  আর নাটকায়ন।

বেওয়ারিশ স্বপ্ন ভ্রুণের মতো জরায়ু দাপায়। জন্মাতে চায়।
বেবাক পেছল গর্তে সাঁতার কাটতে কাটতে গড়িয়ে যায়।
ইঁদুর সুড়ঙ্গে অন্ধের মতো হোঁচট খায়। বোবা বন্দর।
শব্দ শহরে আস্তানা খোঁজে ফ্যাকাসে প্রহর।

স্বপ্ন আখর ক্ষয়াটে মলাট
ফসিল সড়কে মড়কের পাঠ
ধোঁয়াটে  শব্দ শূন্য মাধ্যম
বাদ অনুবাদে নিরেট বিভ্রম

স্বপ্ন ১

কোথাও একটা বলতে যাব। আমার কথা। হিজিবিজি সব। ডায়েরি লিখন।ওখানেই থাকে। মনের কথা। পাঁজরের ব্যাথা। কলম থেকে। চুঁইয়ে পড়া। ব্যস্ত আমি। বলতে হবে। তৈরি থাকি। কাগজখানা। বাগিয়ে ধরে। ছটরফটর। কখন আসবে। সময় খানা। থমথম করে। চারপাশটা। ওঁত পেতে থাকা। কুফরি মেঘ। ইশান কোনে। ঢালবে আজ। ভাসাবে আজ। রাগ হিংসা। রক্তক্ষত। সমস্ত যত।

ঘোষণা হয়। আজান যেন। হ্যা, আমার নাম। ওইতো আমার নাম। ডাকতে থাকে। সবাই মিলে। বলবি কখন।হাঁক পাড়ে সব। তালা ধরে যায়। দুকান চাপি। বলব কী? কাগজ কোথায়? প্রিন্ট করে রাখা। পেপারটা? ডায়েরিটা? কোথায় গেল? তোলপাড় করি। তছনছ সব।বলব আমি। সুযোগ পেয়েছি। আমার কথা। হৃদয় কাটা। কাটা সময়। ভেতর কথা। স্তব্ধ কথা। লাশের ভাষা। ঝাপট মারে। বুকে রভেতর। লেখা কোথায়? সব যে ছিল। সাদায় কালোয়। খাদের ভেতর। কয়লা গাথা। বিকার মালা।

পাচ্ছি না খুঁজে। ঘর ছেড়ে যাই। রাস্তায় ঘুরি। দৌড়ে বেড়াই। জিনে পাওয়া। ঝড়ের তাড়ায়। বাছুর যেন। চেনা অচেনা। যাকেই পাই। জিজ্ঞাসা করি।লেখাটা কোথায়? বলব আমি !হাসে সবাই। গল্প পাড়ে। আকথা কুকথা। গালমন্দ। বোঝে না কেউ। সময় যাচ্ছে। হড়হড়িয়ে। বুনো নদীর। পাড়ের মতো। ধসে যাচ্ছে। আমার সময়। আনচান করি। প্রাণের ভয়ে। ভেসে যাবে সব। না বললে। খড়কুটো তবু। ভেলা খুঁজে যাই। মুখে যে বলব। মগজ ফাঁকা। গলাখানাও। ত্যাড়াব্যাঁকা। নাম ডেকে যায়। বারবার শুধু। দাঁতে দাঁত লাগে। দড়ি বাঁধা পাঁঠা। ছটফট করে। বলতে পারে না। কিচ্ছুটি। সাপের খাঁচায়। পিঁপড়েরা মারে। মরে পড়ে থাকে। কথা সমেত। কণ্ঠ সমেত।

..

স্বপ্ন ২

তড়িঘড়ি। দৌড়াদৌড়ি। একাএকা। ফাঁকা রঙচটা l ফাটাফুটা দোতলা বাড়িটা। সাদা তেলচিটে চুনরঙ।নোংরা সবজেটে জানলা দরজা।মেঝে লালচে।পুরো বাড়িটাই ধুঁকছে। সামনে লজঝরে গেটl ঢুকেই টানা বারান্দা।

কারা যেন মরে গেছে। বাড়িতেই। পরপর। শরবেঁধাl শবদেহl মহিলা সবl ঘিনঘনে তোষকl চিনচিনে ঘেন্না l রোগারোগাl রোগে ভোগাl ঠাকুরমার মতো একটা মুখl আঁকিবুকি আধেলা অসুখl মড়ার বালিশl  ধূপের ফিসফিসl  গন্ধটন্ধ বালাই নেইl স্কন্ধকাটা কান্না নেই। মগজ জুড়ে তুতপোকা নড়েl  কারা যেন,এভাবেই মরেl এভাবেই, এমন করেইl পোড়াধুপl ধূপের আগুনl তুলো পোড়া নিথর ক্ষতl

বিছানা সমেত মরার শরীর। মাদুর ভাঁজl শোবার ঘরের আলসেতে ভিড়l খাঁজে খাঁজl  বয়ামে ভরা শুকনো আচার কিংবা কালচে পুরোনো তেঁতুল যেনl লোক নেই মোটে। ঘুঘুচড়া ভিটেl  দু-একজন উদবৃত্তl  ছেদো কথায় জলজ্যান্তl  ভোজবাজিl বিভ্রান্তl

সিঁড়ি দিয়ে ছুটতে ছুটতে ডাকতে গেলাম বড়মামাকে। ব্যাঙ্কে যাওয়াl টাকা তোলাl অনেক কাজ।থমকে অবাকl সিঁড়িরথাক, মামা শুয়ে আছে সিঁড়িতেই। ওপরের দিকে।দোতলার মুখে। সাদা ধুতিটা কিছুটা কোমরে। গায়েও সাদা মতো কিযেন-  সরপড়াদুধl বাকি ধুতি সিঁড়িময় ছড়ানো একেবারে নীচপর্যন্ত – যেন গড়ানো। ধুতি জুড়ে লাল ছোপছোপl থ্যাৎলানো মুখl রক্তে মাখাl বমিতে মাখাl নিকষ বৃত্তl

ডাকতেই উঠেএল। খোশমেজাজে। কত্তার সাজেl সাজানো মৃতদেহ থরেথরেl শুকনো খটখটে। ব্যস্ত হয়ে নামানো হল। অনেকগুলো মরা। পাটের গোছার মতো। কোথাও যেন পাঠানো হবে। কোথায় যেন যাওয়া আছে। তড়িঘড়িl দৌড়াদৌড়িl ধুত্তোর! মরায় মন নেই… মাথায় ঘুরছে অন্য ধান্দা…

..

স্বপ্ন ৩

খোপখোপ ঘর। গিজগিজ লোক। পড়ি কি মরি। রাস্তার ওপর। কীসের খোপ,  দৌড় কেন- স্পষ্ট নয়l একেকটা দল, একটা একটা, ইঁদুর গর্তে। জায়গা নেই, অস্থির খুব, বেরিয়ে আসছে। ছাপোষা পোষাক। চোখেমুখে তাড়া। দুর্বোধ্য।

তাড়াখাওয়া জন্তু। নির্বোধ। না-বাধ্যl

পাবলিক টয়লেট। বিশাল বড়!!  খুপরি খুপরি। দরজা খোলাই। নারীপুরুষ নির্বিশেষ। গাদাগাদি। ইতিউতি দেখা নেই। চুকিতকিত দ্বন্দ্ব নেই। পাথুরে চোখ। নাছোড় তাগিদ। নিশ্চল। নিছন্দl 

একই খোপে একই জায়গায়l যে যার মতো প্রয়োজন মেটায়l একই সাথে। মল ও মূত্র। কঠিন তরল। গড়িয়ে যায়। চামড়া নেই। খোলস নেই। নিঘেন্না।

..

স্বপ্ন ৪

কর্মক্ষেত্র। হঠাৎ করেই। শ্রেণিকক্ষ । হাতে গোনা। গুটিকয়েক। ছাত্রীরা সব। গিঁটবাঁধা ভয়। চেয়ারে একা। দূরে দূরে। সন্দেহ চোখ। ছায়ার মতো। বলির পাঁঠা। হাঁড়িকাঠ খাঁড়া। জালে মাছ পড়া।

দৌড়ে বিভাগ। ইতস্তত। সহকর্মী। বিশ্বাসনেই। পালাতেচাই। ওদের শরীর ঘুরে বেড়ায়। আতঙ্কেরা দাঁত খেঁচায়। পালাব। পালাব। ভাল্লাগেনা। আমার চেয়ার একলা থাকুক। আশেপাশে। ঘেন্না যেন। বাতাসে ভাসে। একলা করো আমার চেয়ার। অচ্ছুত ফাঁদ…চিড়িয়াখানায়… জানোয়ার কাঁদে… দৌড় ..দৌড়…দে দৌড়… দৌড় দে…।

..

স্বপ্ন ৫

আবছা মুখ। আলতো সুখl পুরুষ এক। চেনা অনুভূতি। পুরনো স্বস্তি। অনেক পুরনো। শ্যাওলা ধরা। পিছলে গেছে। সে—ই  কবে। কথা ছিল না। তবুও হাজির। তার বাড়িতে। এক্কেবারে। বেজায় খুশি। মুচমুচে হাসি। উপচানো ঢেউ। কথাহীন মুখ। ভাষাময় চোখ। ফুরফুরে প্রলাপ। উড়ুউড়ু পালক। পায়রার বকবক।

আরেক মহিলা। বাড়িতেই থাকে। পরিচয় দেয় না। আয়া হয়তো। মাইনে করা। মা-মা মতো। গল্প করে। পাশে বসে।আদর দেয়।খাবারদেয়।ভালোবাসে।

দুপুর দেড়টা। খাবার সময়। ভয় দেখাই। বন্ধুটিকে। এখুনি পালাব। একটু পরেই। অস্থির হয়। আটকাতে চায়।বাঁধতে চায়।কী যেন এক খেলা করে। গোরুর চোখে বেড়াল চাউনি। বোঝা যায়। ভালো লাগে। চোখের খেলা। তৃপ্তিকে ধাওয়া করা অতৃপ্ত দৌড়। খোঁড়া হকারের ছেঁড়া জুতো হুড়মুড়l

বাথরুমে ঢুকি। বাকি গল্প এসে করব। সাপের মুখেতে ভেকেরে নাচাব। পাকা বাথরুম। দোতলায়। সিঁড়ির কাছে। টয়লেটে বসি। মেয়েলি কায়দা। আনমনা বেশ। হঠাৎ দেখি। জানলা খোলা। কাঁচ দেওয়া। উপরে নয়। নীচের দিকে। সিঁড়ি দিয়ে উঠছে দলদল লোক। প্রথমে ভাবি ঘষাকাঁচ। আমিই দেখছি ওদের শুধু। ওরা দেখছে না কিছু। চমকেদেখি – ভুল সব। উন্মুক্ত যোনি। প্রসারিত। দেখছে সবাই। হাসতে হাসতে। অনায়াসে। স্থবিরআমি। অবশ আমি। ঘামছি আমি। অর্ধনগ্ন- কাঁদছি আমি। চুরি যাচ্ছেl ব্যক্তি-গত।

..

স্বপ্ন ৬

অনেক ছেলে। অনেক মেয়ে। চারদিকে পাক। চেনা আধচেনা। মেয়েই বেশি। ছাত্রী কিংবা। অ-ছাত্রী। কলেজ ঘরে। বাথরুমেতেও। বারান্দাতে।  শোবারঘরে। পিলপিল করা। যেখানে সেখানে। ভনভনে মাছি। বড়রাও আছি। এখানে ওখানে। দাগ না পড়া। হাল্কা কালি।

খুশি করতে হবে। আনন্দ দিতে হবে। ওদের – মেয়েদের। তোষনটাই কাজ। অনুশাসন কড়া। বাধ্য আমরা। নাচছি কেউ। গাইচি কেউ। করছি ফানুস। উড়ছে আগুন। দুটো টুকরো পুতুল। বেঘোর, বেভুল। কাছা আর কাছিl শরীর আর মন। জোড়কলম। নাকি যমক। হাততালি মজা। চেনামুখগুলো। হাসছে খুব।পেরেছি বোধহয়। কী জানি কী!  তল পাই না।

একছুট্টে বাথরুম। আরো কারা সব।ওরা বলেছে। শ্যাওলা ঘসতে। ঘসছে তাই। ফাঁকি নেই।দেখছে ওরা।পা ঝুলিয়ে। হাসছে সব। মিটমিটিয়ে। আড়চোখে চায়। দিদিমণিরা। হচ্ছেতো ঠিক? খুশিতো তোরা?

বিছানা খোঁজে। ক্লান্ত শরীর। ক্ষান্তি নেই। ভিড় করেছে। এক দঙ্গল। গল্প বলো। গল্প চাই। ভাল্লাগে না। মন ভোলাতে। বলতেই হয়।কল্পকথা।

চেয়ারে এখন অনেকজন। বেঞ্চিতে আমি একলা কেবল। আমি অথবা আমার মতো। ভিন্ন কোনও অন্যজনl

..

স্বপ্ন ৭

রোগ শয্যা  –  মরার খাটিয়া –  কিংবা কফিন  – যন্ত্রণা ভীষণ – দড়ি দিয়ে বাঁধা –আগাপাসতলা – কারা যেন বসে পাশে – অনেক জন – কষে বেঁধে রেখেছে – কস বেয়ে নামে রসl চিৎকার করছি  – ছেড়ে দাও – ছেড়ে দাও – খুলে দাও দড়ি – খুলে দাও বাঁধন –  লাগছে আমার- তত গিঁট মারে– খাটের সাথে – ককিয়ে উঠছি – পারছি না আমি – দাঁতে কাটছি – দড়ির সুতো – লাগামছাড়া কান্না আমার – বেঁধো না আমায় – বেঁধো না আমায়- গোয়াল ঘরে গোরুর মতো – মরা বাছুরের মায়ের মতন– ঘাড় বেঁকিয়ে ছিড়তে চায় খুঁটোর শাসন – আমিও তেমন –

শ্মশান নাকি? – ওইতো চিতা –সারি সারি-  পুড়ছে দেখি   – কেন এনেছে?   মড়া কি আমি?  জ্যান্ত আমি – বাঁচতে চাই – ছাড়ো একবার– হাসছো তোমরা? মজা দেখছো ?  দাও না খুলে –  একটিবার- একটিবার- মুক্তি চাই – মুক্তি চাই – রক্ত ফেনায় মুখ ভরেছে – এবার ছাড়ো –এবার ছাড়ো – ছাড়ো তোমরা- পালাবো আমি – অনেক দূরে… সব শুদ্ধ- বিশুদ্ধ শবl

..

স্বপ্ন  ৮

শ্রেণিকক্ষ। অভিভাবক l  ভিড়। ছাত্রীদের অভিভাবক না। দিদিমণিদের। মাস্টারমশাইদের। খাবার বিলি চলছে। ত্রাণের মতো। অনেক মানুষ। রোগা রোগা। উপচে পড়া উদ্বিগ্নতা। হাড়হাভাতে হতাশা। বাটি হাতে বাবামা। মেঝেতে বসে।সবুজ মেঝে। দুহাতা সিমুই। পড়ল বাটিতে। কয়েকটা কম দামি শুকনো মিস্টি। প্যাকেট করা। ছিনিয়ে নিল প্রায়। খেতে পায়নি অনেকদিন। টাকাও পাবে। ভিখিরির লোভ। শেয়ালের দৃষ্টি। নেকড়ে রথাবা।পাচাটা কুকুরের বিচ্ছিরি লেজনাড়া। টিটকিরি দিল।কাছের লোক।সহকর্মী। বাপমা তুলে।

পালাতে পারেনি কেউ। জমা করা হয়েছে। মাঠের মধ্যে। হাসো খেলো। খাও দাও। ঘোরো বেড়াও। মাঠের মধ্যেই। বাইরে নয়। সময় সীমিত। বেলা দেড়টা। তারপরেই শেষ। মুহূর্তের মধ্যে। কিচ্ছু থাকবে না। শ্মশান হয়ে যাবে। ঘড়িহাতেএ কজন।পায়চারি অবিরাম। বাকিরা কেনাদাস। পোষা চাকরবাকর। বারবার জিজ্ঞাসা। সময় কীহলো? আর কতক্ষণ ? ক্ষীণ অবিশ্বাস। নড়বড়ে ক্র্যাচ। খুঁড়িয়ে হাঁটে আশা। থমথমে ভূগোল। গোটা মাঠজুড়ে। সময়আসে। শিকারিপায়ে। সময়আসে। চেতন জুড়ে। কী কাণ্ড! কিচ্ছু নেই। মরেছে সব একটু আগেই। ঘরিতে বাজে ঠিক দেড়টা। দেখবে কে? মরার পরে মরবেটা কে?

..

স্বপ্ন ৯

নিজের বাড়ি না। অন্য বাড়ি। চেনা মানুষ। আধচেনা মুখ। কাঠকাঠ চারপাশ। গাছাড়া গাছাড়া ভাব। যেন আধছেঁড়া ফুলl ফের বোটাতেl আলতো করেl লাগিয়ে রাখা। আহা কি খাতির। লোক দেখানো। গায়ে গতরেl খেটেখুটে খাওয়া। পাকাবাড়ি। লালমেঝে। কুটনো কাটা। বাসন মাজা। কলতলাতে।

হঠাৎ বুঝি অন্য কিছু। পুরনো এক উথাল পাথালl টালমাটাল। টের পাই। শরীর ভেতর আরেক শরীর। স্মৃতির ঢেউ হুমড়ি খায়। ঠিক এমনই। আগেও হয়েছে। কয়েকশ বার। খসে গেছে ফল। গাছের গায়েl শুকনো দাগ। ভয় পেয়ে যাই। সাবধান হই। দৌড়ে যাই। মাঝবয়সী- ঝিয়ের কাছে। লুটিয়ে পড়ি। বিছানা জুড়ে। স্যাঁতসেঁতে ঘর। অন্ধকার। পুরনো খাট। তেলচিটে দাগ। নানা আর না। এবার আমিl ঠিক রাখবো। আমার ভ্রণ। মাথায় ঝাঁটা। গর্ভপাতের। মাঝরাত্তির…চমকে উঠি।ভেজাভেজাপা। ভেজা যেন যোনি। রক্তরেখা। গড়িয়ে পড়ছে। আবার রক্ত? আবার তবে? পারবো না ? একছুট্টে। উড়ে যাই যেন। টলতে টলতে।দাই-এর মতো। কে যেন এক। বুঝিয়ে বলেন। এমন সময়। এটাই হবে।খুব স্বাভাবিক। রক্ত পড়বে। দুপা বেয়ে। ব্যাথা বাড়বে। ককিয়ে উঠবে। তবুও থাকবে। টিকে থাকবে। শত্রর মুখে। ছাই ছুঁড়ে দিয়ে। ঠিক বলছো? বলো না তুমি। আরেকবার। বলো একবার। থাকবে তো? থাকুক তবে। থাকুক টিকে। আছিতো শুয়ে। হাঁটুজোড় করে। প্রার্থনা। গলায় কান্না। উথলে ওঠেl গুমরে ওঠে। টিকে থাক তুই। আগলে রাখবো। প্রাণটুকু তোর। অন্তরঙ্গ… জানুর মাঝে। নতজানু আমিl অগোপন জঘনl

..

স্বপ্ন ১০

ভোর সকালের আলসে বিষাদ। ছেঁড়াত্যানা যত ভাবনা চিন্তা। সেসব নিয়েই ঝুলে আছি বেশ। ঝড়ে লেগে থাকা ঝুনো নারকেল। বিছানা আর বালিসটাতে। ফালাফালা একঘুমের সাথে।

বিছানার পাশে জানলা দুটো। খোলাই ছিল।খ চরমচর। চমকে উঠি। কিম্ভুত এক ডাকাতে লোক। ঝাঁটার মত গোঁফের ছাঁট। চোখ নয় যেন ঝিমানো দোজখ। ঝাঁপ ফেলি ফের। সাদা কালো চোখে। রেলিং খোপের ঘেরাটোপে। নিরাপত্তার কানাকড়ি মেপে। আঁতুরঘরে উদ্বেগ তবু… জন্তু কান খোলাই রাখে। সড়সড় ধপ! এ কি!  জানলা গলে কুকুর লাফ। সত্যি এক নেড়িকুত্তা! সাদা ছোপছোপ।এক্কেবারে বিছনার পাশে। ধড়মড়িয়ে সটান লাফ। লোহার মাঝে এতবড় ফাঁক! অঙ্ক হিসেবে এতখানি গ্যাপ!  নিরীহ জন্তু। নেহাত রাস্তার। তবু ভয় পাই। বিছানা ছেড়ে নামতে যাব। এমন সময়। আবার অবাক! লোকটাও দেখি গলে পড়ল। জানলা দিয়ে শুয়ে শুয়ে ! এ-ও কী হয়? এত্ত সহজ! ঘুনে পচাহাজা কুঁড়েঘর নাকি? লাল ইঁট আর লোহার গারদ! ভিরমি খাই হকচকিয়ে। পাশ বালিশে মাথা দিয়ে। লোকটা শুয়ে। ভাবনা নেই চিন্তা নেই। দখলদারির মোচ্ছব নেই। জায়গা চুরির ভয়ডর নেই। ধমকাই আমি! কাঁপা বাঁশপাতা। পাত্তা দেয় না। দরজা দিয়ে সিঁদ কেটে যাই। বাড়ির ভিতর। ডাকতে থাকি সব্বাইকে। চেঁরাবাঁশের ভীতুস্বরে। সাড়া পাই না। আওয়াজ করিl বেভুল বেঢপ। দুম দুম দুম ধপ ধপ ধপ। আড়মোড়া ভেঙে আসে একজন। বিরক্ত গলা মাথা টনটন। টেনে এনে দেখাই তাকে। দেখো কী কাণ্ড! নিশ্চিন্তির লণ্ডভণ্ড ! দেখো বিছানায় অপগণ্ড! আশ্চর্য !!! বিকারবিহীন। ঠাণ্ডাগলায়। বোঝায়আমায়। ব্যস্তহোসনা। পাগলনাকি? হয়েই থাকে। আখছাড় সব! সময় হলে, ঠিক চলে যাবে। হয়তো এখন নাক ডাকবে। বালিশময় লাল ঝড়বে। কিংবা চোয়া ঢেকুর তুলবে। সব স্বাভাবিক। এই সময়ে। চুপ করে থাক। ঘাপটি মেরে। সময় হলে, সময় যাবে। বেবাক আমি। ঘেবড়ে যাই। হাঁ হয়ে যাই। আগায় গোড়ায়। ঠ্যালা মারা চোখ।ধূলোতে গড়ায়।

..

স্বপ্ন  ১১

থকথকে অন্ধকার –  আছড়ি বিছড়ি – ডাকাতে দৌড়  – গাদাগাদা লোক –  কুচকুচে কালো – আদুল শরীর –  কোমরে কাটারি – নড়বড়ে পাড়  – ভাঙাভাঙা আল –  বেমক্কা ছুট –  ভয়ের গোল্লা  – গোল্লা ছুট – হঠাৎ থমকে – থমথমে ছবি –  ফালাফালা পেট – চাকাচাকা লাল– রক্তদাগ – চপার চালানো – খানখান সব – শত্রু কোথায়?  কোথ্থাও নেই – ওঁতপাতা ফাঁদ– অন্ধকারে , অন্ধ খাদ।

গাঁয়ের ঘর। মাটির দাওয়া। মাদুর পাতা। টিমটিম করে। লন্ঠন জ্বলে। বিয়ে অথবা। অমন কিছু। কীযেন হবে। একটা মেয়ে। কাঁদা ফোলা চোখ। একা বসে আছে। অন্ধকারে, অন্ধদাগ।

আবার আবছা। ছায়া ছায়া আলো। আচমকা এক। তীক্ষ্ণ আঘাত… টপটপ করে ঝড়ছে কী যেন … আমি? না অন্য? ঘেঁটে ঘ, জঘন্য! উল্টিপালটি  – লুটোপুটি – কাতরাচ্ছে – ককিয়ে উঠছে – আমি না অন্য? আমিই কী?  না-না- আমি না  –  হতেই পারে না… অন্ধকারে , অন্ধ ফাঁদ।

..

স্বপ্ন  ১২

আবছা একটা শোবার ঘর…একটা বড় বিছানা … গাদাগাদি করে শুয়ে আছে… দোতলার ঘর মনে হয়…চাপা একটা ভয় … নাকি উত্তেজনা… জানি না… একটা দুটো মুখ স্পষ্ট… বাকি সব যাচ্ছে, আসছে… দৌড়চ্ছে… ওরা খুব ব্যস্ত.. তেরছা শুয়ে …আমি কিংবা আমরা…ঝুপড়ি রান্নাঘর.. দাওয়া… রান্না হচ্ছে কীসব… একটি মেয়ে… মুখ দেখা যায় না .. রান্না করছে কড়াইতে.. অন্ধকার দাওয়া…উনুন না স্টোভ… জানি না…কিছু একটা জ্বলছে…আগুনটাই চোখে পড়ছে… প্রত্যেকের দায়িত্ব আছে… সবার ভাগে একটা করে সাপ আর একটা করে মাছ… রাখা আছে বেডরুমে… জানলার সাথে লাগানো সিমেন্টের একটা স্ল্যাব…মাছও নড়ে না, সাপও না… বারবার উঠছি… বসছি… কড়া নজর সাপ আর মাছে….অফিসিয়াল ডিউটি..আলটেড ডিউটি… নো অপসন … করতেই হবে… মাছ ভাজছে কড়াইতে … কমলা আগুন… ওই মেয়েটা… আমার মাছ কই? ঠিক আছে..সাপটা? জ্যান্ত হয়ে ওঠে নি তো?  … থাকগে… শুই একটু… নানা …সবার মাছ ভাজা হয়ে গেল… কী বাধ্য সাপ !আমার…আমারটা ঠিক আছে তো?  মাছটা হঠাৎ শিঙ্গি না মাগুর নাকী পাঁকাল কী একটা হয়ে গেল… আরেএ কী! সরসর করে…জানলা বেয়ে মাছটা জলঢালার নালীর মুখে…সর্বোনাশ!… খাবো কী!!! সাপ…সাপটা কই?… মোটা কালো কুচকুচে… মাছের পিছনে ধাওয়া করছে…ধড়ফরিয়ে বিছানায়… কিছু করার নেই…. উনুন জ্বলছে… সবার মাছ …রান্না চলছে… সামনে সাপটা আরো কদাকার…দুটুকরো হয়ে গেল… বিচ্ছিরি… সিরসিরকরছেগা….কুঁচকে যাচ্ছে মুখ…দপদপ করছে মাথার রগ… ছিঁড়ে যাচ্ছে চোখের শিরা… গড়িয়ে যাচ্ছে মাছ …. নালীর সুড়ঙ্গ বেয়ে…

..

স্বপ্ন ১৩

এঁদো বাথরুম …. জানলা নেই …বাইরের আলো বাইরে পড়ে …খালি গায়ে হড়হড় জল… কীসের একটা তেষ্টা যেন… গলার কাছে? … নানা…নীচের দিকে… কুকুর ঘুরছে বাইরে অনেক… শিকল খুলে কুকুরডাক…  ভেজা সপসপ আদুল গা…সামনে কুকুর…. পা ফাঁক করে লোভ…. আ!..আ!…তুতু.. চকচক করে কুকুর জিভ…বাড়ছে তেষ্টা কূল ছাপিয়ে…অনুমোদিত কুকুর প্রবেশ … বাথরুম জল যোনি আর জিভ …গলাকাটা কুকুর, মুণ্ডু আর জিভ শুধু… নানা শুধু জিভ আর যোনি, যোনি আর জিভ… রুপোলি পারদ হুহু করেওঠে… বাধ্য কুকুর পোষ মেনে এই এত্তটুকু… শ্যাম্পুর পাতা মরা টিকটিকি… জলের তোড়ে ভেসে যায় ড্রেনে.. আবছা একটা মুখ… একটা ঘর… নিরিবিলি বিছানা…. ছুঁতে চাই…. ছুঁতে চাই… ছুঁতে চাই… ছিটকে যাই স্বপ্ন থেকে… সিঁড়ির কাছে… মুখ থুবড়ে… স্বপ্ন দেহ।

..

স্বপ্ন ১৪

বিশাল বাড়ি- চেনা লোকজন- চোরের খোঁজ- চোর নিখোঁজ- খোঁজ খোঁজ খোঁজ- জিজ্ঞাসাবাদ-জবানবন্দি-বন্ধ ঘরে ধাক্কাধাক্কি- চাপা ফিসফাস- শিকল ভাঙা-দুজন কোথায়? সব ঘরেতেই বহুজন যে-একই মানুষ একই সাথে অনেক ঘরে- সঙ্গবাসের ছল চাতুরি অবাক করে- বেবাক বেভুল সেট থিয়োরি- চোরতো নেই, চোর কই- শুধুই চুরিl চোর নিখোঁজ, তবুও খোঁজ , খোঁজের খোঁজl

..

স্বপ্নগুলোর  নাটুকে ভাঙাচোরা।

বি  কিংবা সি-এর  নির্মাণ আগাগোড়া।

স্বপ্ন দেখা স্বপ্ন লেখা ভাষ্য ভাসান।

ভিন্ন মাধ্যম অন্য গোত্র কথার ভান।

চিহ্নিত এক বদল কেবল চিহ্নায়নে। ছিন্ন দায় সময় খায় তাপ্পিমারা তত্ত্বায়নে।

১ম দৃশ্য

নিথর নৈঃশব্দ্য। থরে থরে মৃত শব্দ(কঁ, মঁ, ইঁ, তঁ)। ধূসর কালো কাঠবেড়ালি আলো। ভেজাভেজা পর্দায় দাগ ছোপ আঠালো।

১মজন- ভাঙা স্বপ্ন

২য়জন- জোড়া স্বপ্ন

সমস্বরে- তাপ্পিমারা টাটকা স্বপ্ন।

১ম জন – মরা শব্দ

২য়জন- ফাঁদে জব্দ

সমস্বরে- শব্দজব্দে সময় বন্ধ।

১মজন- সস্তার টয়

২য়জন- খুব লেট হয়

সমস্বরে- টয়লেটেতে জয় পাবলিক জয়।

১মজন- কান্না ঘেন্না

২য়জন- কুমীর কান্না

সমস্বরে- ধূপধুনোতে ফালতু ধর্না।

১মজন-  সিঁড়ির অঙ্ক

২য়জন- সিঁড়ির রক্ত

সমস্বরে- সময় সিঁড়ির ভক্ত দোলনা।

কোলাজ- হা! হা! স্বপ্ন! জব্দ! হয়!

হা! হা! ভক্ত! ধর্না! জয়!

..

২য় দৃশ্য

গোঙানি যন্ত্রণা। যান্ত্রিক একটানা। এধারে on ওধারে off তারের লাইন। তারেতে বেঁধা বিয়োগ(-), যোগ(+), ভাগ(/) আরগুন(x )। নীলচে আলোয় আগুন রঙ। দেওয়াল জুড়ে মুখোস সঙ।

১মজন-  On  ঢুকেছে

২য়জন-  Off-এরঘরে

সমস্বরে- সিন্থেসিসে নাচ বাঁদরে।

১মজন-  তোষণ শোষণ

২য়জন- পড়ুক ঝড়ুক

সমস্বরে- দাস ক্যাপিটাল চাবুক চলুক।

১মজন-  পয়গম্বর

২য়জন- পেন্নামে গড়

সমস্বরে- দেবতা  নেমেছে পথের পর।

১মজন-  ভজ খ্যামতা

২য়জন- আহা নামতা

সমস্বরে- ফান্দে পড়ে কাঁদে কত্তা।

১মজন-  সময় অঙ্ক

২য় জন- টঙ্কা পণ্ড

সমস্বরে- বাতিল বিদ্যে লণ্ড ভণ্ড।

১মজন-  যন্ত্র বাঁধন

২য়জন- অবাধ্য ভান

সমস্বরে- গজব মন্ত্র হুরের নাচন।

১মজন-  উর্বর পশু

২য়জন- প্রজনন দায়

সমস্বরে- স্বজাতির মাস স্বজাতি খায়।

কোলাজ- হা! হা! ঘরে ঝড়ুক গড় নামতা!

হ্যা! হ্যা! খায় নাচন ভণ্ডকত্তা!

..

৩য় দৃশ্য

স্যাঁতসেঁতে আলো। মরাহাজা কালো। খুপরি খুপরি দরজার সারি। দরজায় আঁকা লিঙ্গ নাড়ী। শিৎকার চিৎকার। দোজখ হাহাকার।

১মজন-  ভয়ের গন্ধ

২য়জন- লাশের গন্ধ

সমস্বরে- বন্দি সময় অন্ধ অব্দ।

১ম জন-  পূতি গন্ধ

২য় জন-  অন্ধ নরক

সমস্বরে- অন্ধকারে শব্দ সড়ক।

১মজন- রক্ত গন্ধ

২য় জন- কামে অন্ধ

সমস্বরে- হনন থাবা যোনির শব্দ।

১মজন-  সময় চাটে

২য় জন- সময় শরীর

সমস্বরে- চিৎকারেতে বিস্ফার থিরথির।

১মজন-  হ্যাংলা অঙ্গ

২য়জন- ভূ-ভুজঙ্গ

সমস্বরে- মর্গে সময় বি-কলাঙ্গ।

১মজন- সঙ্গকাটা

2য়জন- সং ভোকাট্টা

সমস্বরে- হাত মৈথুন কেয়ামত ঠাট্টা।

কোলাজ- হা! হা! গন্ধ নরক অন্ধ শরীর!

হ্যা! হ্যা! ঠাট্টা কলাঙ্গ নিখোঁজ থির!

..

৪র্থ দৃশ্য

যন্ত্রে ভরা ঘর। প্রিন্টার ঘরঘর। কালো কাপড়ে মানুষ বাদুড়। দুরুদুরু বুক যন্তর সুর। মশার মাফিক মঞ্চ জুড়ে। শাপশাপান্ত মন্তর পড়ে। আলকাতরা পিচকালো রঙ। আলো আঁধারি সার্কাস ঢঙ।

১মজন- ইঁদুর যন্তর

২য়জন- ফানুস মন্তর

সমস্বরে- জাঁতাকলেতে ফাঁকফোকর

১মজন-  যন্ত্র সিঁড়ি

২য়জন- সোনার পিঁড়ি

সমস্বরে-  অন্ত্রপীরিত শ্রমিক ফেরি

১মজন- যন্ত্র আফিম

২য়জন-  ইভের আদিম

সমস্বরে-মরা ঈশ্বর ইশপ কাছিম

১মজন–যন্ত্রে আত্মা

২য়জন- হূর ফেরেস্তা

সমস্বরে – মঞ্চে ইবলিস টিকিট সস্তা

১মজন-  যন্ত্র আদম

২য়জন- মৈথুন দাম

সমস্বরে-  যন্ত্র গণিকা নষ্ট কাম

কোলাজ- হা!হা! নাস্তিক জন্তর আজান মন্তর

কোলাজ – হ্যা!হ্যা! কমিক গ্রাফিক নরক চক্কর

..

৫ম দৃশ্য

ভয়ের ছৌl  মুখোস ঢেউ। পোড়ো ঘর ঝড়ে ভাঙ্গা।  শব্দে জল, আলোয় ডাঙ্গা। জল জ্যান্ত কুমীরডাঙ্গা।

১ম জন-  স্বপন ঘোর না বেঘোর স্বপ্ন?

২য় জন- স্লিপিং পিল  আর টাইম কিলার ।

৩য় জন-  স্বপ্ন দোষ না স্বৈরিণী ইভ?

৪ থ জন- সরস্বতীর মাকড়সা  জাল।

৫ম জন- ভয়ের স্বপ্ন না স্বপ্নে ভয়?

৬ঠ জন-  উভলিঙ্গ ঢাল সব ভুলভাল।

৭ম জন- স্বপ্নে রক্ত  না ধ্বংস স্বপন?

৮ম জন-  নির্বাতাস আর আত্মা শিকার।

কোলাজ- আদেশ! আদেশ! ভাঙো  আবেশ!

কোলাজ- প্রশ্ন শেষ! প্রশ্ন শেষ ! 

ভিন্ন জন-  বললেই হবে? মঘার শ্লেষ?

              যন্ত্রণা ফিতে সব নিঃশেষ?    

               স্বপ্ন নাকি পিকদানি?

              বন্ধ খাঁচার ছিটকিনি?

কোলাজ- প্রশ্ন খতম!  খতম করো !

অন্য জন-   না! না! স্বপ্নগুলোই জবাই করো।

  কোলাজ- এত বড় কথা! জল্লাদ কই !

                    সব স্বপ্নের মুণ্ডু চাই!

মুণ্ডু চাই!   মুণ্ডু চাই !

গেণ্ডুয়া খেলা ভস্ম ছাই

সক্কলে- ক্ষমতা  খ্যামটা স্বপ্ন মারে

          নষ্ট সময়  স্বপ্ন শহরে ।

হ্যা হ্যা  নষ্ট সময় স্বপ্ন শহরে

আ হা ! নষ্ট  সময় স্বপ্ন শহরে।।

আ হা! সময় নষ্ট  স্বপ্ন শহরে। ।

Anindita Datta
অনিন্দিতা দত্ত  - পেশা অধ্যাপনা। বর্তমানে বেথুন কলেজে আছেন, প্রথম গ্রন্থ - 'শরীরের সাক্ষাৎকার'( শরীরী ভাষার দর্শন ও প্রয়োগ বিষয়ে) প্রকাশক- গাঙচিল, কোলকাতা, ২০১৮,সহ লেখক- শান্তনু ঘোষ।  দ্বিতীয় গ্রন্থ- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র কথসাহিত্য - আত্মপরিচয়ের বর্ণমালা'। প্রকাশক- এবং মুশায়েরা, কোলকাতা, ২০১৯ । তৃতীয় গ্রন্থ- 'আত্মহত্যার কথকতা', সম্পাদিত বই, যৌথ সম্পাদনায় শান্তনু ঘোষ,  প্রকাশনা - এবং মুশায়েরা, কোলকাতা,২০২০ ।  এছাড়া বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে নানা প্রবন্ধ ও মুক্তগদ্য।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *