poems by nasreen jahan

বাংলা English
নাসরীন জাহান
 নাসরীন জাহান এর  জন্ম মার্চ ৫, ১৯৬৪ বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। আশির দশকে শুরু হয় তাঁর লেখকজীবন। ১৯৯৩-৯৪ সাল নাগাদ তিনি সাপ্তাহিক ‘বাংলাবাজার’ পত্রিকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাজ করেছিলেন। ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিক থেকে  তিনি পাক্ষিক পত্রিকা ‘অন্যদিন’ এর সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক হিসাবে কর্মরত। তাঁর লেখা উপন্যাস গুলির মধ্যে ‘চন্দ্রের প্রথম কলা’ (১৯৯৪), ‘চন্দ্রলেখার যাদুবিস্তার’ (১৯৯৫), ‘যখন চারপাশের বাতিগুলো নিভে আসছে’ (১৯৯৫), ‘সোনালি মুখোশ’ (১৯৯৬), ‘কুয়াশার ফণা’ (২০০৮) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ‘স্থবির যৌবন’, ‘বিচূর্ণ ছায়া’, ‘পথ, হে পথ’, ‘সারারাত বিড়ালের শব্দ ‘(১৯৮৯), ‘অথৈ মনের তীর’, ‘এলেনপোর বিড়াল’ তাঁর লেখা অন্যতম কিছু ছোটগল্প।
 নাসরীন জাহানের কাব্যময় গদ্যগুলি এবং মানুষের আচরণের সম্পর্কে তাঁর যে নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, তা একেবারেই স্বতন্ত্র। জটিল মনোবিশ্লেষণেও তিনি সুদক্ষ। কৃত্রিম সামাজিকতার পটভূমিতে পুরুষ-মহিলার সম্পর্ক ও তার জটিলতা, টানাপোড়েন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি। যৌনতার প্রসঙ্গে রক্ষণশীলতা নয়, বরং তার চিত্রায়ণের ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই অকপট।  তাঁর লেখায় বাস্তববাদ, পরাবাস্তবতা, এবং যাদু বাস্তববাদের প্রসঙ্গও লক্ষণীয়। নিজের লেখা সম্পর্কে বলতে গিয়ে নাসরীন জাহান নিজেই তাই বলেছেন - “অনেকের কাছে আমার লেখার ভাষা জটিল বলে মনে হয়। কিন্তু আমি এভাবেই লিখি। আমার পাঠকরাও আমাকে এভাবে গ্রহণ করতে অভ্যস্ত।“
 ১৯৯৩ সালে লেখা 'উড়ুক্কু' উপন্যাসটি তাঁকে প্রবল খ্যাতি এনে দেয়। এই উপন্যাসের জন্যই তিনি ফিলিপ্‌স সাহিত্য পুরস্কারে(১৯৯৪) ভূষিত হন। তাছাড়া বাংলা সাহিত্যে তাঁর সার্বিক অবদানের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
 
                                                                         
                                               
 
 তাহার নাম অনুভব। 
 অনুভূতি অন্যকেউ
  
 নাসরীন জাহান। 
  
  
 তুমি তো তালুতে জোছনা নিয়ে খেলো
 খেলোবাজ,,
 আর কিছু ভাবার আগেই স্বর্গের বাতি নিভে যায়।
  
 আমি তাকে দেখিনি,
 ফের তরঙ্গ,বিহবলতা আমারও আছে।
 ভাসব?
 ভাসাব?
 না,ভেসে ভাসা!
 আমার ভেতর লুকিয়ে রেখেছি ইচ্ছেঘুড়ি! 
 আলোর উজান দেহস্মৃতি যখন জলপিপাসুর মতো,আমাকে অথবা তাহাকে নখড়ে ধরে, অবিশ্রান্ত প্রচ্ছায়া,রোদছায়া,চাঁদছায়া,শুনিনি তার কন্ঠের ভাঁজ,জানিনা তার কলম যখন কথা কয়,তাতে কেমন রঙিন পেইন্টিং মূর্ত হয়!
  
 এইভাবে, এইভাবেই আমাদের নিরন্তর ছায়া দিচ্ছে দোযখের আত্মা অথবা আজীবনের খালি খালি উদ্ভাসন,দিন নেই রাত নেই,জানো, আম্মার অবিরত হয়রান
 ধণিতে মুখ ডুবিয়ে কাঁদি,আরেকটু পারতাম?
  
 আমি এক শিশুবৃদ্ধা,,যখন পাঁচশ টাকা দিয়ে কেনা পাতলা ফিন পিনপিনে কম্বল অথবা ঝালর, ওপরে জানো সমুদ্র, পাহাড়ের ফটো আছে!
 নিজেকে পনিরঢেউ বানিয়ে সেদিয়ে দিয়ে করোটিচোখেই পড়েনা,ওপরে এক যুবকের অনেক তীব্র সাঁতার আছে!।
 বিড়বিড় করি,ভুটানে অথবা নীলগিরির অযোধ্যার  রোজরাতে মনে হতো,আমি অনেক অনেক পাহাড়ের ওমপেটে শুয়ে আছি,ক্রমশ,অজগরপেট,,
 পালাই পালাই!
 সোল্লাসে বলে,,ঘনরাতে যে পথেই যাবে,ভেবো আমি ছায়া!
 ফের বলে, যখন বলে,সে পাঁচ কোটি বয়সের যুবক, তার নাম অনুভব, তার সখীর নাম অনুভূতি!। 
 আমি নিমগ্ন! নির্জন! নৈঃশব্দ!
 বলে,আমার অবাক হওয়ার ক্ষমতা এরচেয়ে বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। 
 মূদ্রাকারে নাচি! নাচে! আমি নষ্ট হতে দিইনি! আমার অনুভূতি।ধিনতাধিন! 
  
 এইভাবে অবিশ্রান্ত বয়স যায়,জীবন যায়,আর কিশোর কিশোরী যুবতী, কিশোর,,অনেক হয়েছে,জানো, সে আমার অনেকটা প্রেমিকা,সহোদরা,, পুরুষালি! নাহ! না।
 যুবক সে,ভেতরের নারী,আমার ছাটাচুলে সারাদিন ফিতে দিয়ে বেনী করে,সারাদিন বেনী,,,,,
 শরীরের ওপর ঝালরের যুবক ঝাপ দেয়।
 তুমুল ধাক্কিয়ে পাহাড় ডিঙ্গাই।
 আমাদের দুজনেরই অনেকাধিক প্রেম আছে,যখন যে প্রেম,
 মনে হয়েছে,এটাই প্রথম,, অনেক অনেক নক্ষত্রের নিচে এমনসব কত করুণ গল্পে গল্পে,,,
 আমার চোখ নাই,চশমা আছে।
  
 আমি হাঁটি। ছায়া হয়ে শিশু হাঁটে! আমি হাঁটি! ছায়া হয়ে কিশোর হাঁটে!আমি হাটি ছায়া হয়ে যুবক হাঁটে। আমি হাঁটে ছায়া হয়ে হাড় কেবল হাড়!বাকল কেবল বাকল!
 এক আকাশ পুর্ণিমা করতল গোপনে রেখে বলি,আমি শূন্য হয়ে গেছি!
 এখানে হারানোর ভয়,নেই,, ফের তার তরঙ্গ ছুরিকাচি করি অথবা রোদ শুকাই,অথবা চাঁদের উপচানো রশ্মির কান ধরে হিড়হিড়,, মৃত্যু কাছবর্তী,, ফালিচোখ খুলে দেখি,
 প্রহরের ঘ্রাণ প্রেতাত্মার মতো নয়।
  
 আমি আমার সীমাহীন আমিকে শক্তছিপি জাদুবাক্সে রাখি।
 ফের,ক্রমশ তেপান্তরের নাটাই গোটাতে থাকি, 
 নাটাই গোটাতে থাকি,,
 নাটাই,,,,
                                                                                
           
          
      
  
   
 
  ইশ! এ কেমন প্রেম রে,,
   নাসরীন জাহান 
    
   আমার বয়স বাড়ার শুরুতেই টুপিটা মাথায় তুলে বলেছিলে,
   ইশ,থুত্থুরে হয়ে গেছে, জানিনা পথে বৃষ্টি   ছেয়ে গেলে এ চারপায়ে দাঁড়াতে পারবে কিনা,,
    
   ফলে হাত থেকে বই ফসকে যায়,
   ক্রমশ জীবনই পিছলে যেতে শুরু করে 
   মরা ইঁদুরের মতো ঝুলতে থাকে ঠোঁট 
   আর তাই দেখে প্রতিবেশি টিপ্পনী দেয়,
   মাত্র তিনদিন আগেই না বুড়িটা 
   বায়স্কোপে ঢঙ খেলেছিল!
    
   আমার চোখে জলের ছটা লাগতেই
   বই থেকে চোখ উঠিয়ে যেই আঙ্গুল ছুঁয়েছি পাপড়িতে,,বলেছিলে   ইশ,এর চোখের গ্লুকোমা শুকিয়ে চচ্চড়ি হয়েছে,
   পাগলি  বলে পোলাপান রা ঢিল ছুঁড়বে   এখন থেকে, 
   হাত সাঁতড়েও লাঠি কিংবা গাছের গোড়ালিও নাগালে পাবে না আর,
   অন্ধকারের চাদর বাদুড় হয়ে ঝুলবে এর চোখের পাতার সমস্ত কিনার ধরে,,ধরে , 
    
   এমন প্রেমিক কে এক মস্ত ল্যাঙ দিয়ে 
   একদা র মরনের রাহুচাঁদ ঠেসে মুখে
   তার শিশ্নে একটা বানর ঘন্টা ঝুলিয়ে 
   ভাবনায় কেন দেখবো না,ওর চারপাশে হঠাৎ শব্দের পর ধোঁয়ার পাহাড়,, 
   এরপর 
   রক্তাক্ত রাস্তায় মাথাহীন টুপি পড়ে আছে?
    
   যখন সাধু থেকে সন্যাসী ভাষায় এমন লিখছি, যেনবা গুহাজঠর ভেঙে  দাঁড়াও,
   আমি তোমার চশমা পরে ছুড়ে দিই চোখ,
   তুমি ক্রমশ গাছের কোমর ধরে অজস্র 
   কথার হাততালি ওড়াতে থাকো।
            
            
                                                                          

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.