poems by Arghya Roy Chowdhury

বাংলা English

সেইসব পাহাড়ি স্টেশন

বহুদিন কোনো উৎসব হয়নি
সুদূর বনপাহাড়ের থেকে উড়ে এল পাখি

একটা মেরুন শালের বিকেল মাখা পথ
খাদ থেকে উঠে আসা কুয়াশারা
ফায়ার প্লেসের কাছে উলবোনা সন্ধের মতো
আমাদের একান্ত পাহাড়ি পথে 
ফেলে গেছে কাঠের এক বাড়ি

নরম ছোঁয়ার মতো ভোর লেগে আছে।

 পাহাড়ের তারিখ

নির্জন হতে চাও
পাহাড়ে বেরিয়ে পড়তে পারো
দূরে শায়িত বুদ্ধ, বালক শ্রমণ
মেয়েদের কমলালেবু রং       

সমতল থেকে ওপরে উঠতে উঠতে
দেখবে ক্রমশ যাবতীয় সুখ দুঃখ
অভাবের যত অনুযোগ
ক্রমশ তুচ্ছ হয়ে গেছে

কখনো কখনো গভীর রাতে
নির্জন হোম স্টেতে শুয়ে
নিজেকেও পাহাড় মনে হবে।

মেঘের ব্যাকইয়ার্ড

মেঘ মানে কিছু জল, পাহাড়, টয়ট্রেন
মেঘ মানে অভিমানী মুখের চারপাশে
অলৌকিক কাঠবিড়ালীর খেলা

সারারাত কাঁথায় মোড়া স্বপ্নের ভেতর
মেঘ ঢুকে পড়লে দেখি আমিও মেঘের মতো
ভেসে যেতে যেতে তোমার উঠোনে
কিছু ভালোবাসার বৃষ্টি ঝরিয়ে দিলাম

আর তুমি মেঘ সাজিয়ে রেখেছো বারান্দার আলোয় তোমার অভিমানী মুখ ওই পাহাড়ি
পথের ভাঁজে ভাঁজে বৃষ্টি আর মেঘেদের সঙ্গে দূরের

বাঁকে মিলিয়ে যাচ্ছে, ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে।

ছায়াবৃত্ত

অপেক্ষমান নৌকার মতো
দাঁড়িয়ে দুইজন, চৈত্রের বিকেল
থেকে মুছে যাচ্ছে ছায়া
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আমাদের দিনগুলো সব
তারাও অপেক্ষা মেখে দাঁড়িয়ে আছে

এভাবে অপেক্ষার ভেতরে জন্ম হয়
এক সাঁকোর, ওপারে যাওয়ার পথ
তবুও এগোবে কে? সকলেরই আছে পিছুটান

ছায়াটাকে আঁকড়ে ধরে
হেঁটে যায় ফেরিওয়ালা এক
রঙীন বাঁশির ডাক, চৈত্রের বিকেল জুড়ে
পাহাড়ে পাহাড়ে বেজে ওঠে।

নিরালার নদী

বস্তুত পাইনের বন, নিরালার নদী
পাকদণ্ডী উঠে গেছে দূরে
এরপর রাতের গভীরে
দুইজনে কোনও এক পাহাড়ে বিভোর

মেরুন রঙের শাল
ফায়ারপ্লেসের আভা, ঘন হওয়া স্কচের আলাপ
বিটোভেন বেজে ওঠে ধীরে, সমতল মুছে যায় খুব।

অর্ঘ্য রায়চৌধুরী
অর্ঘ্য রায়চৌধুরীর জন্ম ১৯৭৬ সালে। কলকাতা নিবাসী,কলকাতা এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিনে লেখালেখি শুরু করেন। একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে,নাম - "বৃষ্টিপাতের রাতগুলো।"
কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গদ্যও লিখে থাকেন। যদিও কবিতাই তার বিশেষ ভালোলাগার জায়গা।

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *