An Open Letter to Myself by Debaprasad Bandopadhyay

বাংলা English

স্বীকারোক্তির সত্যিঘরের লীলেখেলা : “চির জীবন শূন্য খোঁজা”
দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়

.

দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া সমানং বৃক্ষং পরিষস্বজাতে।
তয়োরন্যঃ পিপ্পলং স্বাদ্বত্ত্যনশ্নন্নন্যোহভিচাকশীতি॥

দুই সুন্দর পক্ষী একত্র সংযুক্ত হইয়া এক বৃক্ষে বাস করিতেছে তাহার মধ্যে একটি স্বাদু পিপ্পল আহার করিতেছে, অপরটি অনশনে থাকিয়া তাহা দেখিতেছে (তর্জমাঃ রবিবাবু)

এক।। সম্পাদক সমীপেষুঃ আপনি কেন স্বীকারোক্তি চাইছেন আমার কাছ থেকে?  

মাননীয় সম্পাদকমহাই,

কেন আমাকে এই Confession Ritual-এর মধ্যে ফেললেন মনোবিশ্লেষক সম্পাদক মহাই? কেন আপনি আমার মনের গভীর গহন থেকে সত্য খুঁড়ে বের করতে চাইছেন, য্বেমনটি করতো গীর্জের পাদ্রীরা? কেন এই সত্য-মিথ্যে ঘরের রিচ্যুয়াল স্বীকারোক্তির খেলাখেলি? ফুকোকে সাক্ষী খাড়া করে জিজ্ঞেস করছি, আমার শরীরটাকে দখল করার ধান্দা নাকি আপনার? আপনার ক্লিনিক থেকে লিটল ম্যাগ কি আমার নিভৃত গোপনকে প্রকাশ্য করতে চাইছে সব্বার সামনে? সদাগর-পোষিত (ক্রোনি) সরকারের শাসনত্রাসনের সুবিধে তো আপনিই করে দিচ্ছেন নিজের অজান্তেই–।   

নীৎসের মতো সুপারম্যান কইবেন, আমি তো ঝাড় খেতে খেতে আমার নিজের ভেতরে একাধিক ভূত বানিয়ে ফেলেছি—একাধিক কাছিমের খোলোশে ঢাকা (ইয়ে যাকে বলে কূর্মাবস্থা) প্রেতাত্মা! একাধিক ভূত? উপনিষদ কইবে ওই দুই আত্মন্-এর কথাঃ এক দুঃখে ডোবা পাখি জীবনের তেঁতো ফল খাচ্ছে (তবু গিলছে না), আরেক পাখি সাক্ষী থাকছে—সে ব্যাটা/বেটী নাকি ধ্রুব অনড় সাক্ষীচৈতন্য, আমার আমি আমাকে নজর করছে যাত্রাদলের বিবেকের মতোন। সক্রেতিস-ফ্রিডস সংলাপেও তো এই দুই পাখির বদলে আত্মন্-রথে রথী-চালিত দুই ঘোড়ার কথা পাইঃ এক কদর্য পক্ষীরাজ ঘোড়া মরণশীল, নশ্বর; আরেকটা সুন্দর পক্ষীরাজ ঘোড়া হলো গিয়ে নিস্পাপ অমর।  

এই সাক্ষীচৈতন্যকেই কি সমাজ-রাষ্ট্র-ধম্মো-অর্থ নির্মিত সুপার-ইগোর শাসন কইবো? কিন্তু, প্রশ্ন হল, কটা সাক্ষীচৈতন্য?  আমার মন-ঘরে কজন বাস করে তা’তো আমি নিজেই জানি না!    

তোমার ঘরে বাস করে কারা ও মন জান না,
এক জনায় ছবি আঁকে এক মনে, ও রে মন
আরেক জনায় বসে বসে রংমাখে
ও আবার সেই ছবিখান নষ্ট করে
কোন জনা,কোন জনা
এক জনে সুর তোলে এক তারে, ও মন
আরেক জন মন্দিরাতে তাল তোলে
ও আবার বেসুরা সুর ধরে দেখো
কোন জনা, কোন জনা
রস খাইয়া হইয়া মাতাল, ঐ দেখো
হাত ফসকে যায় ঘোড়ার লাগাম
সেই লাগাম খানা ধরে দেখো
কোন জনা, কোন জনা
তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা…

অনুশাহ অনাদিল এই গানটা গাইতে গিয়ে কয়েছিলো, bipolar disease-থেকে many-polar disease-এর কথা। dis-ease? DSM-5 মান্যি করে bi-polar? এই দুই-এর প্রতি, এই বাইনারির প্রতি অতি ভালোবাসা নরকেন্দ্রিক বীক্ষায়। আমি যদি কই, এটা bi-polar নয়, n-polar না-রোগ? আমার ভেতরে-বাইরে বসত করে অনেক জনা? টুকরে টুকরে গ্যাংস আছে আমার ভেতরে-বাইরে। এক গ্যাং আমার প্রতিবিম্বিত পটকে ধ্বংস করে তো, আরেকজন বেসুরো-বেতালা করে বা সুরেলা করে…হবেও বা! After all, আমির নানান আমি আমাকে পতিত (Greek, ptosis, Latin Casus) করছে—যাকে কয়, falling being(s) আর কী!  

এই দেখো লালনের গান সেধে কিসব হাবিজাবি কইছি। যাকগে, যা কইছিলুম, আত্মন্ যদি রথী হয়, এই নশ্বর দেহ আমার রথ, ধী আমার নাকি সারথি, মন-লাগামে মেরে টান উদ্দাম ছুটন্ত ঘোড়াগুলোকে মানে ইন্দ্রিয়গুলোর কাজকম্মকে রুখে (repress?) রাখতে হবে—এমনি নিদান দিয়েছে কঠ উপনিষদ। রথী-রথ-সারথি-লাগাম-ঘোড়ার এমত উপমায় সবাই যদি ভোক্তা হয়, তাহলে ওই পাখি সাক্ষীচৈতন্যও কি ভোক্তা নয়? ব্যাস, গেলো গুলিয়ে সব কিছু। উপনিষদের ঘাপলা ছাড়ো ভাই, ট্যাক্সোনমির পর ট্যাক্সোনমি বানিয়ে, কৃত্রিম ধীমত্তা দিয়ে মেট্রিক্স বানিয়ে আমার দুর্গম মনকে ধরবে বাপু? সেটি হচ্ছে না কো। আমি এবার শুধু ভান (malinger) করবো—অন্যের, পড়শির আরশিতে নিজেকে দেখবো। অপরই তো মোরে সজ্ঞায়িত করে—নানা কথা কয় আমার সম্বন্ধে। আমার ঘরের চাবি তো পরের হাতে। তাহলে, হে সম্পাদকমহাই, অন্যের চাউনিতে আপনাকে আমার জড়বস্তুভূত (Objectified, Reified) অস্তিত্বের কথা আপনাকে শোনাই। কিন্তু, আমার রথ থুড়ি গাড়ি আর চলে না, ঝাড় খেতে খেতে সর্জনে নেমেছে পঙ্গুতা—

“গাড়ি চলে না চলে না,
চলে না রে, গাড়ি চলে না।
চড়িয়া মানব গাড়ি
যাইতেছিলাম বন্ধুর বাড়ি
মধ্য পথে ঠেকলো গাড়ি
উপায়-বুদ্ধি মেলে না।।

মহাজনে যতন করে
তেল দিয়াছে টাংকি ভরে
গাড়ি চালায় মন ড্রাইভারে
ভালো-মন্দ বোঝে না।।
ইঞ্জিনে ময়লা জমেছে
পার্টসগুলো ক্ষয় হয়েছে
ডাইনামো বিকল হয়েছে
হেডলাইট দুইটা জ্বলে না।।

ইঞ্জিনে ব্যতিক্রম করে
কন্ডিশন ভালো নয় রে
কখন জানি ব্রেক ফেল করে
ঘটায় কোন্ দুর্ঘটনা।।

আব্দুল করিম ভাবছে এইবার
কোন্ দিন গাড়ি কি করবে আর
সামনে বিষম অন্ধকার
করতেছে তাই ভাবনা।।”

ধুস, আমার বলে রইলো না আর কিছু—আমার লেখাপত্তর সব এরওর থেকে ঝাড়া মাল।

বিনীত নিবেদনান্তে, 

জনৈক (হয়তো বা) জ্যান্তে মড়া পৃথিবীবাসী মানুষ, কিন্তু, আমার ওপর অপরের দেওয়া এ্যাক্সিডেন্টাল ছাপ্পাঃ উচ্চবর্ণীয় হিঁদু বাউন (যদিও এই পরিচয় আমি মানি না)। তাই, আমি জম্মেও কোনোদিন অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার শিকার হই নি। আমার কর্মক্ষেত্রেও নয়। আমিই বরং সদাসর্বদা শোষকের ভূমিকা বারংবার পালন করেছি।

আবার আমি আমি জৈবিক পুং। বাবাতন্ত্রের আদর্শ প্রতিনিধি। এই পরিচয়ের দরুন কোনো জৈবিক নারী আমাকে কোনোদিন অত্যাচার করেন নি, বরং আমিই মারাত্মক মিসোজিনিস্ট হিসেবে তাঁদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছি। আমার কান্না পায় না। আমি কখনো কাঁদি নি। অতএব, আমি পাপীতাপী অপরাধী। আমি ভিক্টিম নই, ভিক্টিমাইজার।

একেই না কয়, স্বীকারোক্তি! এই হল গিয়ে মনমলত্যাগ! “তুমি নির্মল করো, মঙ্গলকরে…”—এই “তুমি” কোথায় হে? তবু মিথ্যে বিশ্বাসে (bad faith, mauvaise foi) কয়ে ফেলি, এই মুক্ত (?) অনুষঙ্গেই (free association) নাকি মিলে যায় স্বাধীনতা! এটাই তো চাইছিলেন আপনি, হে সম্পাদকমহাই হাঃ, হাঃ, হাঃ…   

দুই।। জড়ীভূত আমিকে অন্যেরা যা কয়ঃ লোকে বলে রে ঘরবাড়ি ভালা না আমার!”  

আমার না-ভালা আঁধার ঘরে ঢুকে দেখি, পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ আমার আলয়ের দেওয়াল। রক্তাক্ষরে সেখানে লেখা রয়েছে কত কথাঃ

।।সবাই PATRIARCH—কিন্তু, বাবাতন্ত্রের চরম প্রতিনিধি নারীনির্যাতনকারী দেবপ্রসাদকে জুতো পেটাও, ঝাঁটা পেটাও, তার বাড়ি থেকেই তাকে তাড়িয়ে দাও, খুন করো এই লোকটা সমাজের আবর্জনা।। 
শ্রীহীন ইতর দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়,
অবৈধ সন্তান, মেগালোম্যানিয়াক, ব্যাভিচারী, চিটিংবাজ, মিথ্যেবাদী, নিজমত অপরের উপর আলোচনাহীনভাবে চালানকারী গাঁঠ, প্রতর্কবিমুখ মৌলবাদী, অকম্মার ঢেঁকি
নিপাত যাক, নিপাত যাক, নিপাত যাক
সংসদে প্রতর্ক বিতর্ক নেই—এসব ছাড়াই কৃষিবিল পাশ বা বেপাশ হয়ে যায়।
দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারেও প্রতর্ক বিতর্ক নেই…
রাষ্ট্র=পরিবার

মোবাইল বেজে ওঠে। রিংটোনঃ

আর রেখো না আঁধারে,   আমায়   দেখতে দাও।

তোমার মাঝে আমার আপনারে     দেখতে দাও ॥

আমি আমার তুমিকে খুঁজে পাচ্ছিনা— আমি আরশিনগরের পড়শি পাচ্ছি না। আমার ভেতরেই যে আমার তুমি আমি হয়ে লেপ্টে বা না-লেপ্টে ভেদে-অভেদে রয়েছে, তা’ তো মালুম নেই আমার!

ফোনটা ধরি না। অজানা নাম্বার। ট্রু কলার লাল সংকেতে জানিয়ে দেয়, ওটা স্প্যাম! ব্যাঙ্কের লোকজন নির্ঘাৎ ধারধুর দিতে চাইছে। হোএ্যা খুলি। দেখি একটা দীর্ঘ চিঠি লিখেছে অনামা কেউ। খুলে পড়তে শুরু করি।

বিষয়ঃ PLANdemic-এর (-)সময়ে আতান্তর বা শাঁখের করাত

মান্যবর দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় সমীপেষু,

নেহাৎই আতান্তরে পড়ে আপনাকে এই অভিযোগপত্র লিখছি। অবশ্য আপনার মতো আদ্যন্ত পরজীবী (অন্যের বাড়তি শ্রম ঝেড়ে খান—নিজের আবশ্যিক মাল আপনি বানাতে জানেন না) এবং ব্যাঙ্কব্যালান্সওলা লোকের পক্ষে এই সমস্যা বোঝা সম্ভব নয়। তাই হয়তো অরণ্যে রোদন বৈ আর কিছু হবে না।

কি ঝামেলা বলুন তো। একদিকে লকডাউন না করে উপায় নেই, আবার লকডাউন থাকলে অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষ না খেতে পেয়ে মরবে। এই শ্রমজীবী মানুষদের ব্যাপারে আপনার কোনো চিন্তাভাবনা নেই এবং কোনোদিনও ছিলোও না। তাই ক্রমান্বয়ে লকডাউনের পক্ষে সওয়াল করে চলছেন। হাঙ্গার ইন্ডেক্সে ভারত আগেই তো ছিলো ১১৭টা দেশের মধ্যে ১০২ নম্বরে। আপনি জানেন না? আপনি যখন চর্বচোষ্য খান এম্ব্যাসি বা বড়লোকদের ক্লাবে গিয়ে, তখন ভারতের ত্রিশ কোটি জনতা না খেয়ে থাকে। বিশ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। আরে বাবা, লকডাউন উঠিয়ে শ্রমিক যদি দুপয়সা পেয়েও কিছু খেতে পেয়ে মরে তো আপনার বাপের কি? খেয়েই মরুক না হয়, না খেতে পেয়ে মরার থেকে তো ভালো!  

আর আপনি, বিজ্ঞানের রাজপ্রাসাদে কাজ করতেন এবং নিজের ব্যাপক অযোগ্যতার দরুন, পড়াশোনা না থাকার দরুন (আপনার কলিগদের থেকেই জেনেছি) মাত্তর ৫২ বছর বয়েসে অবসর নিয়ে কেটে পড়েন। অজুহাত দিয়েছিলেন, ইডিওলজিকাল স্টেট অ্যাপারেটাসে কাজ করবেন না (ধুর্বাল। হাসবো না কাঁদবো?) সেই বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থেকেও আপনি কেন জানতে পারেন নি, এ্যান্টিসিপেট করেন নিঃ 

  • মানুষের তৈরি করা শিল্পিত ওমে এই গ্রহের অবস্থা খারাপ—স্থলভাগ বরফগলা জলে ডুবতে বসেছে, তৈরি হচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তু বা ক্লাইমেট রিফিউজি;    
  • এই গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্মাফ্রস্ট গলছে। তাতে নিত্যিনোতুন ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাস জ্যান্ত শরীরকে আক্রমণ করবে। এসব রোগভোগ রোখার জিন-স্মৃতি আমাদের বা পশুদের শরীরে নেই;
  • এই মড়কের উৎস যাই হোক, সেটা পার্মাফ্রস্ট গলা কিংবা বায়োওয়েপন, আপনারা, বিজ্ঞানের রাজপ্রাসাদের ভেতরে থাকা লোকেরা জানতেন তো বিপদ আসছে। আপনাদের প্রতিষ্ঠানের লোকজন কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিলো? তাঁদের স্টোকাস্টিক মডেলে সম্ভাবনার আঁক-কষে কেন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন নি? কেন বলেন নি এমন বিপদের কথা। আর বলবেনই বা কি করে আই এস আই-এর পুরো পরিসর তো আপনার নিসর্গনাশক অ-নান্দনিক ঝুলনমেলা বানিয়ে বসেছেন।  বলিহারি আপনাদের বুদ্ধি আর এস্থেটিক সেন্সের–।
  • এইসব দুর্ঘটনা রুখতে যে বিকল্প অর্থনীতির প্রয়োজন, সেটা নিয়ে আপনাদের ফান্ডেড, ফোর্ড ফাউন্ডেশনের পে রোলে থাকা অর্থনীতিবিদরা (আদতে ফিস্কাল অডিটর এবং হিটম্যান) কি ভেবেছেন জানতে পারি কি? তাঁদের অবশ্যি সেসব ভাবার সময় নেই। আপনাদের প্রতিষ্ঠানের আশপাশের জুটমিলের একটাতেও গেছেন কখনো? দেখেছেন কখনো শ্রমিকের আত্মহত্যা? আমি দেখেছি, দেখেছি তাদের দুরবস্থা। কি করতে পেরেছে আপনাদের অর্থনীতিবিভাগ??? 
  • এসব জেনেও ব্যবস্থা নেন নি কেন মহাই? বরং আপনার প্রতিষ্ঠানকে আপনার মতো লোক মদত দিয়েছে সবুজ-বিরোধী(এ্যান্টি-গ্রীন) হতে। আপনাদের প্রতিষ্ঠানে আগে  ছিল গ্রীন আর্কিটেকচার – ফাঁপা ইঁটের বাড়ি। আতপ আর শব্দদূষণ এমনই নিয়ন্ত্রিত হত। এখন সেগুলো ভেঙে তৈরি হচ্ছে নিসর্গ-বিরোধী রিইনফোর্সড কংক্রিটের বাড়ি। আর্কিটেকচারাল ইম্পিরিয়ালিজমের নমুনা। নির্বিচারে গাছ কেটে তৈরি। সেন্ট্রালাইজ্ড্ এসি। আই এস ও ছাপ্পাও নেই মেশিনে। ওজোন স্তর ফুটিফাটা। ওম্ বাড়ছে। আপনাদের প্রতিষ্ঠানে রাস্তা ছিল মোরামের। আকাশগঙ্গার জল মাটির ভেতর সেঁধোতো। এখন পিচ বিটুমেনে ঢাকা। ঘাস বুজে গিয়ে টাইলস দিয়ে ভরাট করা জায়গায় ফসিল ফুয়েল পোড়ানো সারসার গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে – আগে থাকতো সাইকেলস্। পুকুরগুলোর চারপাশ আজ বাঁধানো। আশপাশের ছোট ছোট পোকামাকড়, গাছপালা তো শেষ হয়ে যাবে! একমাত্র অধ্যাপক রতনলাল ব্রহ্মচারী ছাড়া কেউ প্রতিবাদ করেনি। নিসর্গকে বেহাল করে দিয়েছে আপনার মতো দাপুটে ফান্ডেড বৈজ্ঞানিককূল। 
  • আপনি যে ভাষাতত্ত্বচর্চা করেন, তা মানুষের কোনো কাজে লাগে না—হিউম্যান সাফারিং-এর কোনো উত্তর দেয় না। এসব করে আপনি কি প্রমাণ করতে চান? কি ছিঁড়ে জোড়া দিতে চান? খালি মুখে বাতেলা – মুখেন মারিতং জগৎ! শুধুই তো প্রথম বিশ্বের জন্য ডেটা কালেক্ট করেন।

এসবই হয় নিসর্গ-বিচ্ছিন্ন জ্ঞান (?) চর্চার দৌলতে। নিসর্গ থকে অনন্বিত (alienated) হলে জ্ঞানের ক্ষেত্র প্রেমহীন হয়ে যায়—আপনি কি তা’ জানেন না?
আপনি এইসব আত্মঘাতী প্রকল্পের কোনো বিরোধিতা করেন নি। তাই আপনাকে সরাসরি বলিঃ

আপনি আদতে হিপোক্রিট আর কনফর্মিস্ট

আবার দেখছি লকডাউনের দরুন নিসর্গ স্ব-ছন্দে ফিরছে।এই নৈসর্গিক সাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার জন্য আপনার পরিকল্পনা কি? পুরোনো বস্তাপচা মানুষ আর না-মানুষ-বিরোধী নিও-ক্ল্যাসিকাল ইকনমি ধরে রেখে নিও-লিবারাল গ্লোবালাইজেশনে ফিরবেন? নাকি ভাববেনঃ

বিকেন্দ্রীকৃত

স্বনির্ভর

এলাকার সম্পদনির্ভর 

স্বশ্রমী বা সামাজিকভাবে আবশ্যিক শ্রমে থিতু

টাকার বিনিময়হীন

নিসর্গবন্ধু

সমবায়ী

গাঁ-এর

কথা???????

জানি, এসব আপনার মাথায় ঢুকবে না,কোনোদিনও ভাবেননি এসব কথা,  কারণ আপনি ডুবে আছেন চলতি ইকোনমির মোহে—। ইংল্যান্ডের মতো পরজীবী বড়লোক দেশ যেমন না খেয়ে মরছে, কামনা করি আপনার মতো প্যারাসাইটের তেমন মরণ হোক, হে বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই।

চরম ঘেন্না আর অশ্রদ্ধাসহ,

শ্রমজীবী মানুষের অনাহার-জনিত মৃত্যুর আশঙ্কায় লকডাউন-ওঠানোর পক্ষে এক অধম

#Sustainable_Retreat_from_Developmental_Paradigm as preached by the international creditors

#Local_Resource_Based_Self_Reliant_Moneyless_green_Economy.

মোবাইল থেকে চোখ ফেরাই। আমার “বৈধ” বৌ দেখি এফবিতে স্টেটাস দিয়েছে। মনে রাখবেন, ফেবুতে স্টেটাস দেবার সময় লেখা থাকেঃ What’s on your mind,…..? ফেবু আমার মন খুঁড়ে আমার মননের হাড়হদ্দ জানতে চাইছে। Govern-metality সর্বত্র, সর্বত্র anatomo-bio-politics! সালাম মঁসিয়ে ফুকোসাহেব।    

দেবাশিসদা-

ইনি আমার দিদির বর। খড়গপুর, কানপুর আই আই টি হয়ে জর্মানি থেকে কেমিস্ট্রির ডক্টরেট। এই বিখ্যাত কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতেন আই পি সি এল (পরে ২০০২-২০০৭ এর মধ্যে রিলায়েন্সের হাতে চলে যায়। ডিসইনভেস্টমেন্ট!)। একাধিক পেটেন্টস আছে।

এনার মতো লোক পাওয়া ভার। এখনও পৈতে, তাগাতাবিজ পরেন। জাতপাতের ব্যাপারটা সনাতন ধর্ম-অনুসারে মানেন। এই জন্য ছেলের বিয়ের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে হয়েই গোত্র মেলাচ্ছেন। তা’ আমার নাস্তিক বর তাঁকে জিজ্ঞেস করে কিনা, ” ব্লাডগ্রুপ ম্যাচিং করছেন তো? গোত্র ব্যাপারটা খুবই ঘাঁটা ব্যাপার।” তা’ উনি সবিনয়ে ওনার অজ্ঞতা স্বীকার করলেন। তাতে আমার না-ধার্মিক বরের কি হাসি। গা জ্বলে যায়। আরে বাবা, ওনার মতন পণ্ডিত মানুষ কি সুন্দর টোপর পরে পিঁড়িতে বসে বিয়ে করেছেন।যৌতুক নিয়েছেন নির্দ্বিধায়। আর আমার আর্টসপড়া বর এইসব সনাতন আচারেই গেলো না, কোনো যৌতুকও নিলো না।। এ নিয়ে আমার খুব দুঃখ আছে। কনে সেজে যাগযজ্ঞ করে বিয়ে করার মজাই আলাদা। সেটা আমি পেলামই না। বাপের সম্পত্তি যৌতুকের মাধ্যমে আমার কাছে আসতো, তা’ থেকেও আমি বঞ্চিত।

আমার হিউম্যানিটিস-পড়া বরের কি সাহস! একদিন কথা হচ্ছে মানে তুমুল ঝগড়া হচ্ছে সিঁদুরের ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, রাজনৈতিকতা (কোথায় মজার কথা কইবে, তা নয় সবসময় পড়ার কথা) ইত্যাদি নিয়ে। শেষে আমার নিরীশ্বর বর কিনা কেমিস্ট্রির ফেক তথ্য দিয়ে বসলো। ওরা নাকি ওদের বিজ্ঞান আন্দোলন চলার সময় বাজার-চলতি সিঁদুর পরীক্ষা করে সীসে আর পারদের উপস্থিতি পেয়েছে। দেবাশিসদা পরীক্ষা বিনে কোনো জিনিস গ্রহণ করেন না। এমন কী, পাঁঠার মাংস আনলেও জিজ্ঞেস করে নেন যে এটা মোছলমানদের দোকান থেকে আনা কিনা! তাঁকে সিঁদুরের ব্যাপারটা বলাতে নিশ্চুপ হয়ে গেলেন কেন কে জানে! হিন্দুরাষ্ট্র নির্মাণের সময় এসব ভাবলে চলে?

আমাদের বাপ-ঠাকুর্দাদের নিয়ম মান্য করে না চললে গুরুজনদের অশ্রদ্ধা করা হয়। দেবাশিসদা তো তাই পিতৃপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতেই সমস্ত শ্রাদ্ধাদি অনুষ্ঠান ঘটা করে করেছেন। আমার বর তার একাধিক পরমাত্মীয়র মৃত্যুতে একটাও শ্রাদ্ধ করেনি, বরং দেহদান করে বসে আছে। দেবাশিসদা এইসব অলুক্ষণে কাজ কদাপি করবেন না।  

উনি আর আমার মোদিভক্ত দিদি লকডাউনের দরুন আমাদের বাড়িতে প্রায় দু’আড়াই মাস আটকে ছিলেন। খবর দেখতে বসতুম যখন, দেবাশিসদা কি সুন্দর বিশ্লেষণ করে বোঝাতেন, এক বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠী কিভাবে এই ভয়ংকর রোগটা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনকী কাশ্মীরেও নাকি পাকিরা করোনা-আক্রান্ত রুগীদের ছেড়ে দিয়ে আমাদের ভারতমাতাকে বিপর্যস্ত করবে। NDTV- তে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে ঘ্যানঘ্যানাচ্ছে। দেবাশিসদা রীতিমতো বিরক্ত হয়ে বললেন, “এদের নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে। বিরক্তিকর।” মোদিজী ভালো ভালো কাজ করেন।টিভিতে দেখানো হয়। দেবাশিসদা বলেন, “দেখো লোকটা এত্তো কাজ করছে, তবু নিন্দুকগুলোর মুখ বন্ধ হয় না।” আর আমার বর বলে কিনা, “এসব হেট স্পীচ দিলে কাঁচা ছাড়বো”। কি অভদ্র, কি অভদ্র এই দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুজনদের সামনে কিভাবে কথা বলতে হয় তা ওর বাবা-মা শেখায়নি। ওর অত্যাচারেই তো ওরা দুজন (একজন হার্টের রুগী, আরেকজনের ডায়াবিটিস) আমাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হল। দেবুর আচরণটা অনেকটাই নারায়ণ গাংগুলির ‘নিশিযাপন’-এর ওই নির্মল (সন্দীপ রায়ের ছবিতে সব্যসাচী চক্রবর্তী অভিনীত) চরিত্রটার মতন। গুরুনির্ভর ব্রজেন লাহিড়ীকে (দীপঙ্কর দে) কি অপমানটাই না করলো পরকীয়ামত্ত নাস্তিক নির্মল। দেবুর এইধরণের আচরণের জন্যই ওরা সুদূর বরোদায় পাড়ি দিলো। কি যে দুঃখ হচ্ছে কি বলবো। 

দেবপ্রসাদ ওদের ইস্লামোফোবিক বলে। নিজে কি? বিড়িখোর, গরুখোর বিজেপিফোবিক কোথাকার।

কথায় বলে, “বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর”। এত্তো তর্কাতর্কি বা আলোচনা করে হবেটা কি? দেবু কি যে এক “পরিপ্রশ্ন” বলে একটা শব্দ বলে, মানে বোঝালেও বুঝি না। আরে যেমন চলছে চলুক না। সবই তো ঠিক আছে। অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করতে শেখো আগে। বিবেকানন্দ তো বারংবার বলেছেন, “বিশ্বাস, বিশ্বাস, বিশ্বাস”।

আমি বুঝতে পারছি দেবাশিসদার মত হিন্দুরাই ভারতমাতার ভবিষ্যৎ। আমার না-ধার্মিক বর নয়। সরি। দেবাশিসদা, আপনাকে শ্রদ্ধা আর প্রণাম।  

এই ও কাল আমাকে বিপত্তারিনী তাগা পরা এক সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে গেছিলো। আমি যে রোগে ভুগছি, তার স্ব-আরোপিত নাম, “ক্যাপিটালিজম্”—একথা কইতে দিল্যুজ-গুয়াত্তারি না-পড়া মনের ডাক্তার গেলেন ঘাবড়ে। সাব্যস্ত হলুম, আমি অসুস্থ, প্যাথলজিকাল পাগল।

ফেবুর মেসেঞ্জার ভরে গেছে দেখি ভরে আছে ঘেন্নার কথা সবঃ “চুতিয়া”, “গরুখোর”, “শুয়োরের বাচ্চা”, “সবজান্তা ভাবিস যদি নিজেকে, তবে কেলিয়ে শহিদ বেদি বানিয়ে দেবো।”। ধাম্মিক লোকেরা এসব লিখেছেন আমার সম্পক্কে। ভালো রে ভালা।

আর ও দেখি আমার সম্পক্কে কি সব লিখে রেখে গেছেঃ    

নাধার্মিক বা নিরীশ্বর নাধার্মিকের বৌ হবার জ্বালাযন্ত্রণা

(মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বৌ’-সিরিজ মনে রেখে)

কি মুশকিল।

বাপ-ঠাকুর্দার আমল থেকে যেসব নিয়মকানুন মেনে আসা হচ্ছে সেগুলোকে নাকি প্রশ্ন করতে শিখতে হবে।না-ধার্মিক লোকটার বক্তব্যঃ

-সিঁদুর-পরা চলবে না । কেন পরো, তার সোশিওলজিকাল ব্যাখ্যা দাও। তুমি তো সোশিওলজির ডিগ্রীধারী। এসো আলোচনা করি।

-পৈতেবাড়ি যাওয়া চলবে বা। ওই আবার সেই একই কথাঃ সোশিওলজিকাল ব্যাখ্যা দাও। কাস্টিজম খুব খারাপ ইত্যাদি।আমার সিপিএম মামারা আমার মামাতো ভাইদের একসঙ্গে পৈতে দিয়েছিলো বলে কি ঠাট্টাতামাশা করে আস্ত প্রবন্ধ নাবিয়ে দিলো।

-দুর্গাপূজায় অষ্টমীর অঞ্জলি দেবো—সেখানেও তুলকালাম। Anthropomorphism না কি সব টার্মস ব্যবহার করলো। বুঝিও না ছাই। যা হচ্ছে, তেমন চলুক না বাপু, এত্তো ঝামেলা পাকানোর কি আছে!

-কালীবাড়িতে বিপত্তারিণী মায়ের পুজো দিতে যাবো—সেখানেও বাধা। আমি আমার স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবো না?

(এই জন্য আমি আমার বিয়েটাও উপভোগ করতে পারলুম না। হিন্দু বিয়ের মন্ত্রে নাকি আছে, মেয়েকে তার বাবা “মাল” হিসেবে সম্প্রদান করেন।অত্তোসব সংস্কৃত মন্ত্র কে জানে রে বাবা! যেটা দীর্ঘকালের নিয়ম সেটাই নিয়ম)

-শ্রাদ্ধবাড়ি নিয়েও আপত্তি।আত্মা, ভূত, প্রেত মানে না। তা’ বলে সেটা আমার ওপর চাপাতে হবে?

এসব না করলে, আলোচনায় না বসলেই স্তালিনীয় পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়।একেবারে গুলাগ। আমাদের ওপর জোর করে চাপানো কেন রে? আমার দিদি, খুব মোদিজীর ভক্ত, এটা বলা মাত্রই এই নাস্তিক আমার দিদিকে বলে কিনা, “আমাকে ত্রিশ বছর আগে, স্পেশাল ম্যারেজ এ্যাক্টে বিয়ে করার সময়, জোর করে সিঁদুর পরাতে বাধ্য করেছিলে তুমি, এমন কি মালাওবদলও করিয়েছিলে।সে সময় এ কথা মনে ছিলো না? পুরো ব্যাপারটাই অসাংবিধানিক” এই এ্যান্টি-ন্যাশানাল (বলে কিনা “না-নেশনের বাসিন্দা”) লোকটা কোন মুখে সংবিধানের কথা বলে?

পুরোনো কাসুন্দি ঘাটতে ভালোবাসে লোকটা। লেবু কচলে কচলে যতক্ষণ না তেঁতো হচ্ছে, ততক্ষণ থামে না।উফফ, আর পারা যায় না।আরে বাবা, যে সমাজে থাকি, সে সমাজের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে না!

দেখি আমার ছেরাদ্দের কার্ড পড়ে আছে মাটিতে, বিছানায় আমার মড়া শুয়ে আছে, অপেক্ষায় আছে হৃদয় জুড়োতে—মর্গে! এই তো জীবন-আনন্দ!  

মহীনের ঘোড়াগুলো গেয়ে ওঠেঃ
ধাঁধার থেকেও জটিল তুমি, ক্ষিদের থেকেও স্পষ্ট
কাজের মধ্যে অকাজ খালি, মনের মধ্যে কষ্ট
স্বপ্ন হয়েই যখন-তখন, আঁকড়ে আমায় ধরো
তাইতো বলি আমায় বরং, ঘেন্না করো, ঘেন্না করো।
গুণগাণের হাজার বুলি, শুধুই সময় নষ্ট
আঁকছো ছবি সমস্ত দিন, রঙ সবই অস্পষ্ট
সুখের থেকে হাজার গুণে, দুঃখ অনেক ভালো
তাইতো বলি আমায় বরং, ঘেন্না করো, ঘেন্না করো।
আজ চালাক আমি কাল বোকা
মহৎ প্রেমিক ন্যাকা ন্যাকা
আমার আসল চেহারা কি চিনতে তুমি পারো?
চিনতে যদি পেরেই থাকো, ঘেন্না করো ঘেন্না করো।

শূন্য।। ০০০০

আমি কইলুম, আমাকে হিঁদুমতে পোড়াচ্ছো কেন? আমি তো এমনিই পুড়ছি। আমার মতো না-ধার্মিকের শরীর চিকিচ্ছেবিজ্ঞানের স্বার্থে, জ্যান্ত মানুষের স্বার্থে শবব্যবচ্ছেদের টেবিলে যাওয়ার কথা!    

এই অসময়ে আমার খালি তাঁতি কবীরের একটাই গান মনে পড়লো—

কবীরা খাড়া বাজার মেঁ, মাঙ্গে সবকি খৈর

না কাহু সে দোস্তি, না কাহু সে বৈর।।

মিত্রোঁওওও শত্রু কেউ নেই আমার এই “খোলা বাজারে”—আমি আমার ভেতরেই স্বয়ং নোংরা দেখতে পাচ্ছি—আমার মড়া যে পেঁদো গন্ধ ছড়াচ্ছে, তা’ শত অগরু-ধূপ-ফুলেও ঢাকতে পারবে না…হিমশীতল বরফও না, কেননা বরফ নেই, বরফ প্রচণ্ড ওমে গলেমলে একাকার। 

বুরা জো দেখনে মেই চলা, বুরা মিলিয়া কোয়

জো দিল খোঁজা আপনা, মুঝসে বুরা কোয়।।

অনন্তপুণ্য তখন আমার কাছে এসে বললেনঃভন্তে, জীবনে দুঃখ আছে, দুঃখের নিদানও আছে কিন্তু সব্বং খনিকম্ ভেতরবাইরে গুলিয়ে এবার শূন্য খোঁজ তো দেখি” 

আমি পাড়ি দিই তুরীয় থেকে তুরীয়ে, শূন্য থেকে অতিশূন্যে

[আইনি দাবিহীনতাঃ এই বয়ানের অথর মৃত। এই অথরের জীবনীর সঙ্গে তাই কোনো মিল খুঁজে পেলে, অথরের অথরিটি থাকবে না।]

Debaprasad Bandopadhyay
দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় মেক্সিকোতে ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপনার(honoris causa) সঙ্গে যুক্ত। সেণ্ট পিটার্সবুর্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির 'Interdepertmental Lexicographical Studio'-র বিশিষ্ট সদস্য। ঊনত্রিশটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর বারোটির অধিক বই এবং কম বেশি দুশোটি প্রবন্ধ লিখেছেন। নির্দল অথচ বলিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

One comment

  • Suddhasatya Ghosh

    আপনাদের মতন মানুষ সংখ্যায় বাড়লে খানিক কাজ হত। অবশ্য আপনি বলতে মৃত লেখককে নয়, জীবিত অক্ষরগুলির সংস্থাপককে অভিহিত করছি, বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.