A Short Story by RUI ZINK

বাংলা English
Rui Zink
 Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc.  

গল্পের পটভুমিকা

     আমাদের পূজাবার্ষিকীর মত পোর্তুগালে ক্রিসমাসের সময়ে পত্রপত্রিকায় সাহিত্যের ক্রোড়পত্র বেরয়। রুই প্রতি বছরই সেগুলোর কোন একটার জন্যে ছোট গল্প লেখেন। এই গল্পটা ২০১৫ সালের “জুর্নাল দ্য ফুন্দাঁও”-য়ে বেরিয়েছিল। গল্পটা রুইয়ের খুব প্রিয়, আর আমারও। চারিদিকে মলের বাড়বাড়ন্তের জন্যে ছোট ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতিটা হয় তা নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে পোর্তুগালে ছাত্রী থাকাকালীন দেখেছি আর গত কয়েক বছর ধরে এ দেশেও দেখছি। তখন থেকেই খুব সচেতন ভাবে যেমন ও দেশে তেমনি এ দেশে “পাড়ার দোকান” থেকে যতটা সম্ভব কেনাকাটা করি। রুই তো মলে যানই না, ছোটখাট সুপারমার্কেটে ক্বচিৎকদাচিৎ যান। এই গল্পের প্রেক্ষাপট আবার “আর্থিক সঙ্কট”, যা পোর্তুগালে সরকারি ভাবে এসেছিল ২০১১ সালে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে ওই দেশকে ত্রইকার (সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ব্যাঙ্ক, আইএমএফ ও ইউরোপিয়ান কমিশানকে নিয়ে গঠিত একটি নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠী) কথা অনুযায়ী পাঁচ বছর চলতে হয়েছে। এইসময়ে অনেক লোকের চাকরি গেছে, সবারই মাইনে কমেছে, আবার অনেকে ইউরোপের অন্যান্য বিত্তবান দেশে এমিগ্রেট করে চলে গেছে। এইসময় থেকেই পাড়ার ছোট দোকানগুলো আরো বেশি করে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। অনেক পোর্তুগিজ়ই লোকসানে চলা দোকানগুলো বিদেশিদের কাছে বিক্রি করে চাকরির খোঁজে বিদেশে চলে যান। তাই পাড়ার যে দোকানগুলো এখনও টিকে আছে তার বেশির ভাগই বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, নেপালি ও ভারতীয়দের হাতে। এই আর্থিক সঙ্কটের পটভূমিতেই রুই ২০১২ সালে ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু (বাংলায় ভয়) লিখেছিলেন।     

     সেদিক থেকে দেখতে গেলে এটা গল্প নয়, সত্যি ঘটনার বর্ণনা। তা এটাও একটা কারণ যে উ বাঙ্কেত সত্যিসত্যি আছে, রাফায়েল, ক্রিশ্তিনা আর তাদের ছেলে রুইও আছে। ক্রিশ্তিনা সত্যিই অপূর্ব রান্না করে, আইসিং দিয়ে কেকের ওপর অসাধারণ সব ছবি আঁকে, ওর কাছে আমি নিজে অনেক রান্না শিখেছি; সন্ধেবেলায় ওদের ক্যাফেতে দারুণ একটা আড্ডা বসে, বিশেষ করে যেদিন খেলা থাকে। দুর্ভাগ্যবশত ওদের একমাত্র ছেলে রুইয়ের সত্যিই ক্যান্সার ধরা পড়েছিল, ওই ২০১৫ সালের ক্রিসমাসের সময়েই। দুবছর ধরে চিকিৎসার পর সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাবামাকে ক্যাফে চালাতে সাহায্য করছে। রাফায়েল আর ক্রিশ্তিনার মুখে আবার হাসি ফুটেছে। অবশ্য গত দেড় বছরের খবর আমি জানি না। “পাই নাতাল” আর “মেনিনু জেজ়ুস” হয়ত রুইয়ের সাহায্যের আবেদনটা রেখেছেন।      

সাহায্য

রুই জ়িঙ্ক

ভাই স্যান্টা,  

     শুরুতেই বলে রাখি যে তুমি আছ বলে আমি মনে করি না। যিশু খোকা, তুমিও আছ বলে আমার বিশ্বাস হয় না, বিশেষ করে যবে থেকে তুমি[1] স্পোর্টিঙে[2] চলে গেছ। বহু বছর ধরে তোমাদের কাছে কিছু চাই না, আর সেটা খুবই স্বাভাবিক, আমি তো বড় হয়ে গেছি। ছোটবেলায় বোধহয় কয়েকবার স্যান্টাকে চিঠি লিখে থাকব, কিন্তু যেবার সাইকেল চাইতেও সেটা এল না, তখন থেকে লেখা ছেড়ে দিয়েছি। শহরে থাকার এই এক বিপদ, আমার বাবামা ব্যাপারটাকে মোটেই  নিরাপদ বলে মনে করেননি। সাইকেলে চড়তে হলে আমার দাদুকে আমায় কাম্পু গ্রান্দে নিয়ে যেতে হত, সেখানে ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যেত। কেবল বহুদিন হল আমি আর বাচ্চা নই। আর, যেমনটা বয়স্কদের ক্ষেত্রে হয়, আবার ছোট হয়ে যাবার সময়ও আমার এখনও আসেনি। আমার মনে হয় এটা হল বেশি বুড়োমানুষদের জন্যে অভিশাপ: হয় তারা শিশুদের মত হয়ে যায়, সবকিছুই না-বুঝতে শুরু করে; কিংবা তাদের বাচ্চা বলে মনে করে সেই তারা যারা কানে না  শুনতে পাওয়াটাকে কম বুঝতে পারা বলে ধরে নেয়।              

     সুতরাং আমার অনেকগুলো চাঁদ পার হয়ে গেছে, স্যান্টা, তোমার কাছে কিছু না চেয়েই, না তোমার কাছে না যিশু খোকা, তোমার কাছে, এখন যখন তুমি তোমার ক্রিবটা[3] বদলেই ফেলেছ। কিন্তু এবছর চাইব, আর সেটা আমার নিজের জন্যে নয়। নিজের স্বার্থের জন্যে, অবশ্যই – আজকাল নিজের স্বার্থ ছাড়া আমরা আর কোন কাজটাই বা করি? কিন্তু এটা আমার জন্যে  নয়। তোমরা কি জান, আমি যে বাড়িটায় থাকি তার কাছে একটা ক্যাফে, একটা ছোট্ট খাবার দোকান আছে, যেখানে আমি মাঝেমাঝে দুপুরে খেতে বা সন্ধেবেলায় ফুটবল দেখতে যাই? আমার ছেলেগুলো বড় হয়ে যে যার নিজের জগতে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে বসে গল্পগুজব করা বা  খেলা দেখার অভাবটা বড্ড টের পাই। সঙ্কট[4] শুরু হবার আগে ওখানে যেতাম না, কিন্তু বেশ কয়েক বছর হল সঙ্কটের শিল্প শুরু হবার পর, আস্তে আস্তে ওখানে বসা ধরেছি। আমার প্রথম কারণটা সহজ আর স্বার্থপর: মোড়ের ক্যাফেতে খাওয়াটা কেবল সামান্য একটু সাহায্য, আমার তরফ থেকে, যাতে মোড়ের ক্যাফেটা থাকে। সঙ্কটের (জীবনযাপনের একটা ধরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে সঙ্কটটা) শিল্পের উদ্দেশ্য হল আমাদের কাছ থেকে বাঁচার আনন্দটা কেড়ে নেওয়া, আমি সেটা জানি, আমি তো আর গাধা নই। আমাদের “দরকারী” করে তোলা: যতক্ষণ আমরা কম মাইনেতে উৎপাদন করে যেতে পারব ততক্ষণই আমরা ভাল; আর কাজে না লাগতে পারলেই আমাদের বাতিল করে দেওয়া হবে।                    

     (এই কম মাইনেটা, লেখকদের ক্ষেত্রে সহজেই “বিনা মাইনে”-তে পরিণত হয়। মাঝেসাঝে  আমাকে যখন নেমন্তন্ন করা হয়, সবসময়েই বলা হয় যে “ব্যাপারটা খুব সম্মানের হবে…”। ওদের  নিশ্চয়ই মনে হয় যে আমি সম্মান চিবিয়ে খাই। আমি এও ভেবেছি যে ইলেক্ট্রিক বিলটা সম্মান দিয়ে দেব: কিন্তু এদেপে[5] রাজি হয়নি।)   

            পাড়ার ক্যাফেতে যাওয়াটা, অন্তত আমার চোখে, প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটা অঙ্গ।  কোন মলে যাওয়ার বদলে পাড়ার খাতা-কলমের দোকানে বা মোড়ের মুদির দোকানে যাওয়াটাও তাই, যদিও এতে আমার খরচটা একটু বেশি হয়। লক্ষ করে দেখ, স্যান্টা, আর তুমিও যিশু খোকা, এটা কিন্তু স্রেফ পরের উপকার করতে চাওয়ার ব্যাপার নয়, বরং স্বার্থপর হওয়া: ঘটনাটা এই যে পাড়ার ছোটখাট সব ব্যবসা মরে গেলে আমিও কিছুটা মরে যাব। এটা শুধু একটা রাতে ঘুমনোর জায়গায় পরিণত হবে, লাশের একটা আড়ত, যেখানে কেউ মরার অপেক্ষা করছে আর কেউ বা হয়ত অপেক্ষায় আছে কখন আলার্মটা বেজে উঠে ওদের আবার কাজে পাঠাবে, যেটা দিনকে দিক আরো শস্তা হয়ে যাচ্ছে, কারণ, কর্মকর্তাদের কথা মত, জীবনটা সবার জন্যেই ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। (আরো কয়েকটা আংটি আর না জানি কটা আঙুল বিক্রির প্রক্রিয়াটা ভাল করে মসৃণ করার জন্যে ওই যে প্রাক্তন বিদেশ সচিব এখন মাসে তিরিশ হাজার রোজগার করেন, তাঁর জন্যে আমার কি মায়াটাই না লাগে!)          

            সুতরাং নিজের স্বার্থের কথা ভেবেই আমি এখানে যা খরচ করি তা আমার তরফ থেকে সামান্য একটু সাহায্য। যাতে এই পাড়াটা একদিন মরুভূমির মত খাঁখাঁ না করে। আর গন্ধে গন্ধে যাতে চোরছ্যাঁচড়ের দলও না এসে জোটে। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল পাড়াটাকে জীবন্ত থাকতে সাহায্য করে। ভাল করে সবকিছু ভেবে দেখলে, আমি হলাম অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখা একটা মাছের মত: অন্য যেসব মাছ আছে তাদের সঙ্গে আমার বনিবনা না হলেও আমার নিজেরই স্বার্থে কাঁচটা ভাঙতে দেওয়া যাবে না।           

            আর গত কয়েক বছরে আবিষ্কার করেছি যে এই পাশের ক্যাফেটা অসাধারণ! প্রথমে আমরা একে অন্যকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে “রুইবাবু”, “রাফায়েলবাবু”, “ক্রিশ্তিনা ম্যাডাম” বলে ডাকতাম; তারপর আস্তে আস্তে একদিন শুধু নাম ধরেই একে অন্যকে ডাকতে লাগলাম: রুই,  রাফায়েল, ক্রিশ্তিনা। আবিষ্কার করলাম ক্রিশ্তিনা নামক মহিলাটি শুধু যে অপূর্বব সব গিজ়াদু[6] রান্না করে তা-ই নয়, বাঁইফিকার গোঁড়া সমর্থকও বটে, যদিও বিয়ে করেছে স্পোর্টিঙের এক সমর্থককে, তবে এরকম মতিভ্রম তো সবচেয়ে ভাল লোকেদেরও হয়। অন্যদিকে আবার সেটা পুষিয়ে দেবার জন্যে ও আঁকেও, আর যেসব জন্মদিনের কেকের অর্ডার পায় তাতে সেগুলোতে অসাধারণ সব ছবি এঁকে দেয়। মাঝেসাঝে শুদ্ধু ক্যাফের বন্ধুদের জন্যে দুএকটা লাঞ্চ হয়, সেগুলো দেখে ক্রিসমাসের কথা মনে পড়ে যায়, আর সেগুলো সত্যিকারের ব্যাঙ্কোয়েট একেকটা। সেটা একদিক থেকে ভাল, কারণ ক্যাফেটার নামই তো তাই: বাঙ্কেত[7] আর আমার মনে হয় যে সঙ্কটের শিল্প যদি আমাকে এখনও বধ (নরম, বিষণ্ণ, বাধ্য, ফরম্যাট) না করতে পেরে থাকে তো তার জন্যে কিছুটা হলেও আমি বাঙ্কেত-এর কাছে ঋণী। আর সেইসব ফুটবল ম্যাচের কাছে যেগুলো আমি ওখানে দেখে আসছি, সন্ধেবেলায়, এতগুলো বছর ধরে। এমনকি যখন আমার ক্লাব হেরেও যায়, তখনও আমাদের খুব আনন্দ হয়, কারণ আমরা প্রাণ খুলে হাসি আর বিয়ার বা ওয়াইন খাই। আর আমার মনে হয় এইজন্যেই আমরা পৃথিবীতে এসেছিলাম, ভাই স্যান্টা: হাসতে আর বিয়ার বা ওয়াইন খেতে। আর অবশ্যই কাজ করতে, “উৎপাদন করতে”। কিন্তু প্রথমে যেটা বেশি গুরুত্বপুর্ণ সেটা করতে হবে। আর গুরুত্বগুলো তোমরা, এই সবকিছুর প্রভুরা, আবার উল্টেপাল্টে দিও না যেন! এমনিতে আমার কোন বায়নাক্কা নেই কিন্তু যতক্ষণ আমার গায়ে জোর আছে আমি সেটা কিছুতেই হতে দেব না!                    

            এবারে একটা সমস্যার কথা বলি। রাফায়েল আর ক্রিশ্তিনার ছেলে, যার নামও রুই, তার শরীরে কিছু অদ্ভুত টিউমার হয়েছিল। এর মধ্যেই নানারকম টেস্ট হয়েছে, ডাক্তার ক্যাটস্ক্যান করতে বলে দিয়েছেন, কিন্তু সেসবের রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। হয়ত কিছুই নয়, কেবল বেশ কয়েক সপ্তাহ হয়ে গেল রাফায়েল আর ক্রিশ্তিনা আর ঠিক আগের মত নেই: ওদের ভেতরটা যেন ফাঁপা, খালি, ওরা খুব ক্লান্ত। কাজ করে চলেছে বটে, কাজ তো একটা বড় সান্ত্বনাও, বিশেষ করে আমরা যখন নিজেরাই নিজেদের মনিব হতে পারি, কিন্তু ওদের ওই হাসিখুশি ব্যাপারটা আর নেই। মাসটা ডিসেম্বার আর ওদের মুখে হাসি নেই, স্যান্টা। এটা তো ভাল কথা নয়।         

            আমি জানি যে অলৌকিক কিছু ঘটুক এটা চাওয়াটা এই ক্রিসমাসের সময়েও বিরক্তিকর।  জানি যে ব্যাপারটা কঠিনও, জানি ওসব কমই আছে হয়ত তোমাদের কাছে, তোমার আর যিশু খোকার কাছে, আর ওরগুলো তো আবর বেশি ভাগ ফুটবলের ব্যাপারে, এই তো পরশুই স্পোর্টিং একটা পেনাল্টির জন্যে বেঁচে গেল, যেটা আবার অর্ধেক মনগড়া বলেই মনে হল – শুধু আমার নয়, অনেকেরেই। কিন্তু, ভাই সকল, এর ভাল দিকটা হল এই যে অলৌকিক কিছুর দরকার নেই! টেস্টগুলোর রিপোর্ট স্পষ্ট করে এখনও কিছু বলছে না। তাই আমার মনে হয় যে আমি অলৌকিক কিছু করতে বলছি না, কেবল একটা ছোট্ট সাহায্য চাইছি। ব্যাপারটা আলাদা। একটা ছোট্ট সাহায্য করতে তোমাদের কতই বা কষ্ট হবে?   

     আর আমি এটা নিজের স্বার্থের জন্যেই চাইছি। কারণ আমি চাই যে সঙ্কটের শিল্প চলাকালীন এই জঘন্য বছরগুলোতে ওই ক্যাফেটা যেন আমায় যা কিছু খারাপ তার থেকে আশ্রয় দেয় আর সুখী মানুষে ভরে থাকে। আমার প্রতিবেশীরাই যদি সুখী না থাকে তাহলে আমার আবার সুখী হবার সম্ভাবনাটাই কি আর থাকে? 

পুঃ আমি জানি যে আজকাল অলৌকিক কিছুর জন্যেও আগে থেকে দামটা দিয়ে দিতে হয়, তাই আমি এখনই, যতটা নিষ্ঠা আমার পক্ষে করা সম্ভব, তাই দিয়েই কৃপা করবার জন্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ, স্যান্টা। আর তোমাকেও, যিশু খোকা। সাহায্য করার জন্যে ধন্যবাদ।   


[1]Jorge Jesus (১৯৫৪) – পোর্তুগালের প্রাক্তন মিডফিল্ডার। ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বাঁইফিকার কোচ ছিলেন। এই গল্প লেখার সময়ে, অর্থাৎ ২০১৫ সালের ডিসেম্বারে, উনি প্রতিদ্বন্দী ক্লাব স্পোর্টিঙের কোচ ছিলেন। বর্তমানে উনি আবার বাঁইফিকার কোচ। রুই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে “দ্য বয় জিজা়স” আর জর্জ জেজ়ুসকে মিলিয়ে দিয়ে রসিকতা করছেন।    

[2]Sporting – ১৯০৬ সালে স্থাপিত পোর্তুগালের তিনটি প্রধান ফুটবল ক্লাবের একটি স্পোর্টিং ক্লুব দ্য পর্তুগাল। অন্য দুটি বাঁইফিকা ও এফসে পোর্তু।

[3]Crib – ক্রিসমাসের সময়ে রোমান ক্যাথলিকরা চার্চে আর বাড়িতে যিশু যে আস্তাবলে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয় পুতুল দিয়ে সেই দৃশ্য তৈরি করেন। আমাদের এখানে জন্মাষ্টমীতে অনেকে যেরকম করেন। সেটাকেই ইংরেজিতে ক্রিব বলা হয়।   

[4]Crise – দশ-বারো বছর আগে সারা পৃথিবীই এক চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছিল, সেই সঙ্কটের কথাই এখানে বলা হয়েছে। লেখকের মতে বিশেষজ্ঞরা যাই সেই সঙ্কট এখনও কাটেনি, আমরা তাতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি মাত্র।   

[5]EDP – এনেরজিয়াশ দ্য পুর্তুগাল, পোর্তুগালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টনকারী সংস্থা, যা এককালে সরকারি ছিল, এখন পুরোপুরি বিদেশি বহুজাতিক সংস্থার হাতে।   

[6]Guisado – পেঁয়াজ-রশুন আর টোম্যাটো দিয়ে ঢিমে আঁচে ঢাকা দিয়ে বানান মাছ, মাংস বা সবজির একধরণের ঝোল।    

[7]O Banquete – পোর্তুগিজ়ে এর অর্থ “ব্যাঙ্কোয়েট” বা মহাভোজ। 

Rita Ray
 ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন। 

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *