শিরদাঁড়ার ঘুম এবং অতলান্তিক আত্মপ্রেম – শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

বাংলা English

শিরদাঁড়ার ঘুম

  এবং

  অতলান্তিক আত্মপ্রেম

 অনেকদিন ধরে খেলছ, তুমি। অনেক যুগ ঘুমের ভিতর একা একা স্বপ্নের শূন্য ময়দানে, রয়ে গেছ তুমি। গ্যালারিতে পঞ্চভূতের কঙ্কালেরা হাততালি দিয়ে গেছে, ফাজলামো করত। হাজার বছর ধরেই যেন খেলাটি চলিতেছে তবু তোমার পঞ্চেন্দ্রিয়ের বাসরে।ওগো, জাগো – খেলাভাঙ্গার প্রহর এল যে ! বলবার কেউ নেই। সামনেট যত  ছোটো হয়ে আসছে। পিছনটা ততই দীর্ঘ  হচ্ছে। কিন্তু যে ঘুমিয়ে আছে ঘুমিয়ে ছিল ঘুমিয়ে থাকবে বলে পণ করেছে, তাকে জাগায় কে!

শিরদাঁড়ার ঘুম। কিংবা আত্মবিস্মৃতির জগতের অন্ধকারে। কতবার আমি ঢুকে পড়েছি, তোমাকে খুঁজে পাব বলে। কত বার পথ হারিয়েছি । কতবার পাতালের ভেতর থেকে জল উঠে এসেছে। তোমাকে খুঁড়ে খুঁড়ে পেতে চেয়ে। খনির ভিতর আচমকা জলের তোড়ে উঠে এসে যেভাবে সব কিছুকে মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যায় – সেইভাবে ভেসে গেছে আমার সর্বস্ব । তোমাকে জাগাতে গিয়ে। বেপথু মানুষের মত পথে পথে ঘুরে, ফিরে এসেছি আবার। না, তোমার কাছে নয়। তোমার থেকে অনেক দূরে। দূরের এক জগতে। যেখানে তুমি নেই বটে। আর আছে সব, সমস্ত কিছু। সব্বাই। কিন্তু কে চায় তাঁদের।

প্রিয় শিরদাঁড়া, জাগো এবার। দয়া করে জাগো। ‘এখন আমার যাবার সময় হলো।’

কিছু জরুরি কথা বলার ছিল। একজীবন জানি সমস্ত রকম বলার পক্ষে যথেষ্ট নয়। আর জন্মান্তরে আমার বিশ্বাস করতে খুবই সাধ হয়, অথচ পারি না ভরসা করতে, সেই বিশ্বাসে। ধরো, যদি সেই জীবনে গিয়ে আমি এই জীবনের সব কথা বেমালুম ভুলে যাই। তোমাকে ভুলে যাই। আমি যা ভুলো। তখন কি হবে, জন্মে। পোকার মত বারংবার এই পৃথিবীর আলোয় জন্মে এই পৃথিবীতেই উড়ে উড়ে পুড়ে পুড়ে এই পৃথিবীর অন্ধকারে ঝরে গিয়ে। সত্যিই তো কোনও লাভ নেই, স্মৃতিসূত্রহীনভাবে, সম্পর্কসূত্রহীনভাবে, ইতিহাস-চেতনাহীন ভাবে – কেবলই  ‘আমার’ শব্দটির মত  মানবসভ্যতার গায়ে টিকটিকির মত নড়াচড়া করে। বস্তুত  আমি তা ঘৃণাও করি; জেনো। তাই স্পষ্টতই আমার দাবী একটাই , সুমনের গানের মত প্রথমত দ্বিতীয়ত তৃতীয়ত এবং শেষপর্যন্ত আমি তোমাকে চাই।

তুমি এলে, তোমাকে আমার বলার কথা অঢেল। যদিও বলার সময় খুব কম। তবু বিশ্বাস করো, আমি সব গুছিয়ে গুছিয়ে হয়তো বলতে পারব না। আমি তো ঠিক বাংলার ঘরে ঘরে যেই সব অশোক-গৌড় কথকঠাকুর বা story-teller-রা নিত্য বিরাজ করেন, তাঁদের মত সুদক্ষ গল্পবলিয়ে লোক নই। ওরা পারে যে কোনও প্রসঙ্গে ‘ট্রেনের টিকিট’ থেকে ‘টাইটানিক’ কিংবা ‘Sex’ থেকে ‘Sex-পীয়র’ অথবা ‘গীতগোবিন্দ’ থেকে ‘কমিউনিজমের ভালমন্দ’  – অনর্গল ওরা সব বিষয়ে। আমি তা পারি না। কোনদিন পারলাম না, বাচাল বাতাসে ভর করে বয়ে যেতে , পথ। না, তা বলে তুমি ভেব না, আমি ভয়ংকর সিরিয়াস হতে চেয়েছি জীবনভর। তাও নয়। গম্ভীর, দমবন্ধ করা জ্ঞানের গুমোট ঘরেও  আমি হাঁসফাঁস করি। আমার হৃদয় খুব ছোট। দম নিতে কষ্ট হয় যত্রতত্র।

কিছু পাপ, এখনও দামী গয়নার মত লুকিয়ে রেখেছি। জীবনের ঘুলঘুলিতে। কিছু সাধ আছে, পুরনো-চিঠির মত প্রায় অন্ধ চোখের দেরাজে। কিছু ব্যাথা ছিল, নৈঃশব্দ্যের গভীরে, নিঃশব্দ হয়ে। অহংকার করতে পারি, ঈশ্বর আমাকে তেমন জামার বোতাম দেন নি। তাই আমার হা হা করে বুক শীতে, গ্রীষ্মে, বর্ষায় । সংবৎসর । নিপীড়িত, পরাজিত মানুষের মত। হয়ত সেজন্যই আমি তোমাকে খুঁজছি। হয়ত এই আমার শেষ দান। জেতার। তোমাকে জেতার। কেননা কে না জানে, তুমি ছাড়া আমি অস্তিত্বহীন। তুমি আমার আজন্মের অতলান্তিক প্রেমের উপাখ্যান, শক্তি  , পরমনির্ভর এক আশ্রয়। শিরদাঁড়া, ওঠো, জাগো, বলো কথা বলো। আমার দিকে তাকাও। দ্যাখোতো চিনতে পারো কিনা -। এই আমিই কি সেই জন্মলগ্নের আমি… যোউবনের আমি… তোমার চিরসখা… সেই ইস্কুলের কবিতা প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হওয়া ছেলেটা, যে বলে ছিল – ‘চির উন্নত মম শির…’।

এই কি সেই ছেলে – অন্ধকারে লণ্ঠন হাতে যে মায়ের পাশে পাশে হাঁটত, গাঁয়ের পথে, সন্ধ্যা হয়ে গেলে। এই কি সেই – না, থাক।

পাপ আমিও করেছি, জানো। সেসমস্ত ইতর-জঘন্য হীনমানুষের মত কাজের অনুশোচনায় এখনও আমি বিস্মিত হই , এই কথা ভেবে যে, তুমি থাকতে,  এত নীচে আমায়  কীভাবে টেনে  নিয়ে গেল এরা।

তখন আমার জানোয়ারের মত যৌবন। যে বয়সে ভোগের থালায় সাজানো হয় ভালোবাসা। আর ভালোবাসার হাঁড়িগুলোয় চাপে ভোগের খিচুড়ি। তো বুঝলে একটা মেয়ে। না না একটা নয় দুটো। ধূর দুটো কী বলছি, আরও অনেক বেশীই হবে ওইসব মেয়েদের সংখ্যা। আমাকে ভালোবেসে কিছুদিনের জন্য যেন মেরুদণ্ডহীন করে তুলেছিল। যেন তুমি নেই কোথথাও। ওরা আমাকে বলল – তুমি আমাদের জন্য কী কী করতে পার? আমি বীরত্ব দেখিয়ে বলেছি! সব পারি। ওরা বলল! নষ্ট হতে পারবে! আমি নষ্ট হয়ে গেলাম। নাকি নষ্ট করে ফেললাম ওদেরকে। আমার প্রিয় সময়কে। জীবনকে। যৌবনকে। সেকথা তারপর বুঝে উঠতে সময় লেগে গেল, অনেক অনেকগুলো বছর। সেইসব দিনে আমি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে , নেশাখোর মানুষের মত দিনের অনেকটা বেলা ঘুমিয়র  কাটাতাম। জেগে উঠতাম রাতভোর।  জন্তুর মত। সুন্দরী মাংসের লোভে। শুধুই মাংস। তখনই শিখেছি, মিছেকথা কীভাবে সত্যির মত করে বলতে হয়, অনর্গল।

 জেনেছি, এই দেশে – উত্থানের শব্দ নেই, কেবল পতনেরই শব্দ আছে। হ্যাঁ, পাপ আমাকে পতনের গভীরে নিয়ে গিয়েছিল। সেই পথ থেকে বেঁচে ফিরব আবার, ভাবিনি।

তারপর হঠাৎ একদিন চোখে পড়ল – একটা বহু পুরনো পাতাঝড়া  স্বপ্নের টুকরো।

আমি অপমানিত হচ্ছি। কালো, বৃষ্টির মত অপমান, ঝরছে। আমি ভিজে যাচ্ছি। নিঃশব্দে।  কাঁপছি। ভয়ে-লজ্জায়-অমানবিকতার বাতাসে । কেননা এখন যারা আমাকে অপমান করছে তারা কেউ সেসব ভালোবাসা পেতে বা দিতে আসা মহিলারা নয়। এরা আমার আপনজন। আত্মীয়। সুহৃদ।

এরা জানতে চাইছে : কেন ওঁরা আমায় আশ্রয় দেবে! আমি ওঁদের জন্য কী করেছি! আমি নাকি এক স্বার্থপর জীব! হিংসুটে প্রাণী। যে সারাজীবন শুধু নিজস্ব  সুখের কথাই ভেবেছি।

ওরা অপমানে তাড়িয়ে দিল না । বলল : নিজস্ব স্বাধীন জীবনের পথ বেছে নিতে। তার মানে কী! এই কথা ভাবতে ভাবতে আমি টের পেলাম, আমি একা। মধ্যরাতের শীত তাড়ানো আগুনের ভিড়ে দরিদ্রের মতো দাঁড়িয়ে আছি। একদিন নতুন কোনও ভোর এসে আমাকে ডেকে নিয়ে যাবে বলে। নতুন কোনও ঠিকানায়। তখনও তুমি অচেতন। গভীর নিদ্রায়। শিরদাঁড়াহীন সাপের মত আমি তবু খুঁজে চলেছি – একটা কোনও গর্ত। একটা আড়াল যেখানে লোকে আমাকে দেখলে ঢিল ছুঁড়বে না। মুখ খারাপ করবে না। পালিয়ে যাবে না। দূর থেকে দেখে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করবে না – ঐ দ্যাখো, দ্যাখো ‘আর্টিস্ট’ আসছে।

 ‘আর্টিস্ট’ নাকি ‘ভালোমানুষ’, কী ঠিক হতে চেয়েছিলাম আমি! আজ এত বৎসর পরে গুলিয়ে গেছে। দেখেছি এই নগরীতে বহুপথ ঘুরে – আর্টিস্ট হতে গেলে কিছুতেই  ভালোমানুষ হওয়া সম্ভব নয় যেন। আর ভালোমানুষ হতে চাইলে, কখনই তুমি আর যাই হোক এখানে ‘আর্টিস্ট’ হতে পারবে না । কী এক আশ্চর্য রহস্য! স্ব-বিরোধ। তবু গুরুজনেরা বলেন, ভালোমানুষ না হলে ভালো আর্টিস্ট হওয়া যায় না, নাকি!  অথবা ভালো আর্টিস্ট হওয়ার প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে তাকে ভালোমানুষ নাকি হতেই হবে! কী কাণ্ড!  এ এক অপূর্ব জাঁতাকল। বিশেষ করে যেসব ‘শিল্পচর্চার’  সাথে   ‘সঙ্ঘ’ জড়িয়ে থাকে, সেসব যৌথ শিল্পের আড়তগুলোয় শুনেছি – নিত্য গালিগালাজ,   খুনখারাবির মত ষড়যন্ত্র, গোপন ধর্ষণ , তীব্র বিদ্বেষের ঝড় বয়ে যায় প্রতিনিয়ত। শুধু ভালোত্ব দিয়ে তাকে ঠেকানো কঠিন। কত সত্যি ভালোমানুষের ছানাদের দেখেছি, চোখের জলের জলপ্রপাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে চলে যেতে। আর কত বিকট দানবের প্রতিভাকে , রাক্ষসীর-ট্যালেন্টকে,  তুমুল জনপ্রিয় হতে! কে ভাল কে মন্দ কে বলে দেবে! আমি শুধু টিকে গেছি। এক জন্মদিন থেকে আরেক জন্মদিনে। তার কারণ- আমার যেমন প্রতিভা নেই – ভালো মানুষ হওয়ার কিংবা সত্যিকারের আর্টিস্ট হতে, তেমনি আমার উপায় ছিল না –শিল্পচর্চা না করে বেঁচে থাকার। গ্রাসাচ্ছাদনের। কেননা, আমি যে আর কোনও কাজ শিখিনি, শিরদাঁড়া। জানি না আর কিছুই। তাই ভস্মের  ভিতর বসে থেকেছি, উদাসীন। আগুন আর ভস্মের মধ্যে বেছে নিয়েছি  – ছাই ছাই জীবনের স্বাদ, সাধ, স্বপ্ন। ওঁ  শান্তি।

একদিন কমবয়সে যখন চামড়ার-ঔদ্ধত্য ছিল, শরীরে – অবজ্ঞা করেছি যে কোনও ধর্মবোধকে। মধ্য বয়সে পৌঁছতে না পৌঁছতে সেসব ঘুচে গিয়ে ধর্মভীরু হয়েছি। আজ প্রৌঢ় বেলায় ধর্ম,  ধর্ম , ধর্মই একমাত্র অন্তরের অবলম্বন। ঈশ্বর-চালিত এই আমি, গুরুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি , করুণা পাই যদি কিছু এই অবেলায় ঘাটে বসে থেকে। জগদীশ্বরের নোউকা কখন আসবে, জানি না। কোন পথে আসবে তাও জানি না। তবু বসে থাকি, পরম বিশ্বাসে। ঘাটে বসে মনে হয় – আমি কী তবে সারাজীবন এই ‘ধর্ম’কেই খুঁজেছিলাম। ‘আত্ম-ধর্মে’! শিল্পচর্চা একটা সেই ধর্মকে অনুসন্ধানের পথ ছিল মাত্র। তাই গুরুর সন্ধানে ঘুরে মরেছি আখড়ায় আখড়ায়, শহরে নগরে গ্রামে গ্রামে! একজন কোনও জাগতিক গুরু! যে আমাকে ‘পথ’ দেখাবে। আমার গন্তব্যের…।

 অবশেষে একদিন দেখলাম, গুরুকে। ভিখারীর বেশে, অন্যের বেশে, অনাথের বেশে, হতদরিদ্র মানুশের বেঁচে থাকার দৈনন্দিনের ভিড়ে। নিঃস্ব সর্বস্বান্ত  যেন বা গোটা একটা মানুষ নয় শুধু একটা দেশ বা মহাদেশই ঘুরে বেড়াচ্ছে সমস্ত বাংলার জেলায় জেলায় । আমাকে দেখে কেমন করে যেন তারা চিনতে পারলেন। বললেন : চলে এসো। দীক্ষা হলো আমার। প্রণামী হিসেবে, পূর্বের চোখের সমস্ত দেখা, সব দৃষ্টি মণিসুদ্ধ খুলে রাখতে হল, ওঁদের পায়ের কাছে। আমি  অন্ধ  হলাম।  

এতদিন এগুলোর মধ্যে দিয়ে দেখেছি জগতকে। এবার শুরু হল দেখা, অন্ধকারের ভিতর দিয়ে। শিল্পচর্চার গতিপথ ঘুরে গেল। পালটে গেল এতকালের পরিচিত দেখার দৃষ্টি। শিরদাঁড়ার ঘুম ভাঙল। কিছুক্ষণের জন্য। দরিদ্র নিপীড়িত  অন্ধ দেশবাসীরা আমাকে শেখাল :

‘আঘাতই জ্ঞান।‘ যে অন্ধ  নাকি যত ধাক্কা খায়, ধাক্কাজনিত আঘাত পায়, রক্তাক্ত হয়, ব্যথা পায় – তার ভিতর দিয়েই সে চিনতে, জানতে, বুঝতে শেখে, এ জগতকে।

সত্যি নাকি!

অন্ধকারের দেবতারা আমার হাত ধরে নিয়ে গেল, নিজেদের দেশে। অন্ধকারের সংস্কৃতি-জীবনযাপন-রিচুয়ালের সাথে পরিচয় করাবে বলে। শর্ত একটাই :

আমি ছবি আঁকি। আমাকে তাই আঁকতে হবে,  অন্ধকারে বসে অন্ধকারের ছবি। জীবনভোর। কেননা অন্যের ছবি আঁকতে শেখে নি। বিনিময়, শুধু, এইটুকু! চোখ হারাবার পর থেকে তাই আমি একজন ‘Blind Painter’ হয়ে গেলাম। আমার ছবিরা কথা বলে। ওরা ছবির চরিত্রদের কথা শুনেই বুঝে নেয়, কখনও, কখনও নিজেরাই চরিত্র হয়ে ওঠে। বলে; আঁকো! আরও আঁকো আমাকে! আমাদের আঁকো! আমরা দেখতে চাই নিজেদেরকে। দেখাও শোনাও তোমার ‘কথা-বলা ছবি’ বা ‘ টকি-পেন্টিং’ এর কলাকৌশল।

আমার চোখে আজ পৃথিবীর সব নাটকই ‘টকি-পেন্টিং’ বলে বোধ হয়!

১০

একদিন আচমকা তারপর  – মহামারী এল, দেশে। আগেই আলোর দল গ্যাছে চলে।  এখন অন্ধকারও সরে গেল, সংক্রমণের ভয়ে। আমাকে একা রেখে। কোথায় যাব আমি এরপর। মৃত্যুরে ভয় ঘিরে ধরল, দ্রূত।

অন্ধকারের ভিতর অবিশ্বাস-ভয়-আতংক, ক্রমে আমাকে গিলে খাচ্ছিল তখন। কেঁচোর মত বাঁচবার আকুল  আশায় কেবলই মানুষের শব্দ শুনলেই অন্তর-কুণ্ডলী মেরে যায় ঘনঘন হায়!  তখন তুমি কোথায়! 

আমার তো ঘড়ি নেই। ঘর নেই। সংসার নেই। তেমন আপন বলতে কেউ আছে কি, যে মহামারীর সংক্রমণ উপেক্ষা করে এসে আমার সেবা করবে! আমি যে পথের মানুষ। কালো সূর্যের মত একা। দিগন্তের  দীঘি  জলে ডুবে যেতে যেতেও, প্রতিভার  আলোক সন্ধানে মত্ত থেকেছি। ভূতগ্রস্ত। স্বাভাবিক নই যেন আর চার পাঁচজনের মত।

কেন যে আমি এমন হলাম। দৈবের কারণে!  অভিশাপে! জন্মের দোষে!  সমস্ত মহামারী জুড়ে, শিরদাঁড়া তুমি যখন ঘুমিয়ে ছিলে – আমিও তোমার পাশে ঘুমিয়ে থাকার ভান করে কাটিয়েছি। আশ্চর্য অলীক মৃত্যুসংবাদের দামামার মধ্যে।  কী করবো বলো। আমি যে এখনও মরতে ভয় পাই।

১১

দু দণ্ড অপেক্ষা করো। কে যেন ডাকছে…..। মৃত্যু কী! না, বোধহয়।

শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়
শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় থিয়েটারের সর্বক্ষণের কর্মী। নাটককার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক। দৃষ্টিহীনদের দিয়ে নাটকের কাজ করাচ্ছেন অনেকদিন। ছোটোদের সঙ্গে থিয়েটারের কাজে একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। “অন্যদেশ’ নাট্যদলের নির্দেশক। উল্লেখযোগ্য কাজ গুলি হল রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী, রাজা, মনসামঙ্গল, অর্কেস্ট্রা, যখন অন্ধ প্রকৃতি চণ্ডালিকা, যখন ডাকঘর আছে অমল নেই। শুভাশিস কাব্য নাটক লিখেছেন অনেকগুলি। প্রকাশিত বই এর সংখ্যাও বেশ কয়েকটি। বর্তমানে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক।

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *