প্রায় অন্ধকার সনেটগুচ্ছ – অর্ণব মুখোপাধ্যায়

বাংলা English

প্রায় অন্ধকার সনেটগুচ্ছ

দাঁড়িয়েছ দরজার বাইরে
এখন তোমাকে আমি কোথায় বসাই ?
তুমি তো বলেছ হেসে
কবির রুগ্ন বাসা তোমাকে মানায়

এ ঘর অন্ধকার এ ঘর পুকুর,
বিছানায় উবু হয়ে অপমান বসে
তুমি তো রেখেছ মাথা ব্রাত্য বুকেতে
হায় প্রেম চাদরেতে তারা যায় খসে

দাঁড়িয়েছ ঘরের মাঝে
এখন তোমাকে আমি কীভাবে খাওয়াই ?
ও ঠোঁট ফলের মত
তোমাকে ছুঁলেই কেন পাপ পাপ ভয় ?


দাঁড়িয়েছ মনের ভেতর বৃক্ষজননী
হায় হায়, এতদিন কীভাবে বুঝিনি !

ও প্রায় অন্ধকার
ও প্রায় মায়া
দিয়েছি শস্যে মুখ
আঙুল গরাদ

যে মুখ পাতার মত
যে মুখ জল
করেছি স্নানের শেষে
আহ্নিক ব্রত

ও তুমি শিয়রে বসো,
ও তুমি খুনি
দিয়েছি অস্ত্র কিছু
হাতের অবশ

আমাকে মারার পর জানি
তুমি নিজেকে মারোনি 

আমি তো চাইনি থাকো ছাতার তলায়
যেটুকু রোদ সে তো বিবাহতারিখ
দুজনে উনুন হই দুজনেই হাঁড়ি
পাথরকে জল ভেবে যতটা গড়ায়

বুকের সজনে ফুলে কলি কলি হাসি
সে হাসি ঢেকে রাখে জমির জরিপ
যে ঘরে ছাদ নেই, নেই কোন সিঁড়ি
প্রেম প্রেম খুন খুন লাশের হদিস


ধানের মাটিতে মাখা ধুলো চোখ মুখ
যেটুকু রোদ সে তো রক্তের লাল
তুলে দেখি কত খাঁটি কঞ্চির ঘা
মরা ঘাসে নুয়ে ঠোঁট দিয়ে যায় থু

আমি তো চাইনি থাকো ছাতার তলায়
এ জীবনে কে-ই বা কতটুকু পায়

কবি মরে গেলে একমাঠ জল পড়ে থাকে,
গোড়ালি ডুবিয়ে রেখে দাঁড়াও সম্মুখে

শুকনো নদীর বুকে কাদা কাদা খেলি,
মাটির বুকের দিকে তাকাওনি কি ?

রোদ নিভে এলে বুক ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায়,
এই ভিটে মাটি ছেড়ে পালাব কোথায় ?

যে বাড়িতে টগরফুল ফুটে ফুটে আছে,
ছোট শিশুদের দল ঈশ্বর সাজে,

ঈশ্বর গাছের ফল টোপা টোপা কুল,
তোমার যা কিছু প্রেম বিপদসঙ্কুল

যে ঘর ভেসে গেছে নৌকো নৌকো করে,
খই গুড় বেঁধে দিও শিশুর কোঁচড়ে

কবি মরে গেলে একগাছ ফুল ঝরে যাও
কবির মুখ থেকে এখনই চাদর সরাও

অর্ণব মুখোপাধ্যায়

পরিচিতি – শৈশব কেটেছে শিলিগুড়ি-তে, পরবর্তীতে কোলকাতা শহরে ইঞ্জিনিয়ারিং ও বর্তমানে একটি বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত। ‘দেশ’ পত্রিকায় লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়েছে 'দেশ', 'উত্তরবঙ্গ সংবাদ', 'প্রতিদিন', 'লেখাজোকা', 'কবিসম্মেলন', ‘আবহমান’, 'উদীচী' সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'আমাদের যা কিছু' , সপ্তর্ষি প্রকাশন।

©All Rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.