নোবেলের মূল্য কী ? – রুই জ়িঙ্ক

বাংলা English

এবছরের সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রুইকে ওয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “নতুন নোবেলের লেখা পড়েছ?” গত বেশ কয়েক বছর ধরে এই রীতিটাই আমাদের মধ্যে চলে আসছে, নতুন কোন লেখকের নাম জানতে পারলেই ওকে জিজ্ঞেস করি, “পড়েছ? তোমার কেমন লাগে?” কারণ গত এগারো বছরের পরিচিতিতে এটুকু বুঝে গেছি যে আমাদের পড়ার রুচি বেশির ভাগটাই মেলে। তা ওই ৬ই অক্টোবার বিকেলে আধঘন্টার মধ্যে রুই উত্তর দিল, “পড়েছি। চটি বই লেখে, ব্যক্তিগত। একজন ফরাসিনীর পক্ষে খুব একটা খারাপ নয়। নোবেল? ওই মোদিয়ানো আর ল্য ক্লেজ়িওর মত…” তারপর ১৬ তারিখ “কুরাইয়ু দ্য মান্যিয়া” দৈনিকের রবিবাসরীয় ক্রোড়পত্রে এই লেখাটা বেরল।   

নোবেলের মূল্য কী ?

মানে যে পায় তার কাছে অনেক মূল্য। এখনও এটা সবচেয়ে লোভনীয় পুরস্কার, যেটা সাম্প্রতিক আর বহুদিন আগেকার কোন কীর্তি দুটোকেই সম্মানিত করে। এমন নোবেল প্রাপকও আছেন যাঁর প্রশংসিত কাজটার বয়েস পঞ্চাশ বছর। বিজ্ঞানের পুরস্কারগুলোতে এরকম প্রায়ই ঘটে। এমনও হয় যে পুরস্কারটা পাওয়ার সময়ে প্রাপক অনুপস্থিত হয়ে ওখানেই থাকেন, সেই ঔজ্জ্বল্যের প্রশংসা শুনতে শুনতে, যা তাঁর এককালে ছিল কিন্তু এখন আর নেই। রোনালদুর মত। আর আমার এটা ভাল লাগে। 

সাহিত্যের ক্ষেত্রে, অনেক নোবেল দেওয়া হয় যখন আমরা বেশ বুড়ো হয়ে গেছি। আমার এগুলো বেশি পছন্দের, ছেলেছোকরাগুলোকে দেওয়া নোবেলের চেয়ে, রাডিয়ার্ড কিপলিঙের মত, যে ওটাকে ৪১ বছর বয়েসে বাগিয়েছিল, অরহান পামুক (৫৪ বছরে) বা ওলগা তোকারচুকের (৫৭ বছরে) মত। যেসব লেখক পুরস্কারটা পায় না, তারা যে হতচ্ছাড়া ঢ্যাঁড়শ,  সেটাই এরা মনে করিয়ে দেয়। আলবেয়ার কাম্যিউ, অন্তত, ৪৪ বছর বয়েসে নোবেলটা পেয়ে তার তিন বছর পরেই, ৪৭ বছর বয়েসে, একটা গাড়ির দুর্ঘটনায় মরে যাওয়ার ভদ্রতাটা দেখিয়েছিল। ইশিগুরুরা, পামুকরা আর তোকারচুকরা ওরকম কিছু করবে বলে মনে হয় না। খুবই অবমাননাকর।    

বুড়োহাবড়াগুলো, কিন্তু, আমাদের মনে আশা জাগায়। আর আশা চাগিয়ে তোলে, উৎসাহ জোগায়, সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাসগুলোতে মনটাকে তাতিয়ে তোলে। “এখন আমায় কেউ পড়ে না, কিন্তু যখন আমি ৮০তে পৌঁছব তখন কিন্তু আমাকে নিয়ে সাবধান! আমি আনি এরনোর মত হব!” 

৮৮ বছর বয়েসে দেওয়া ডোরিস লেসিঙেরটাকেও আমার বেশ যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছিল। 

অনেক পেশায় কোনরকম গুরুত্ব না থাকায়, কেউ চায়নি এরকম আলতুফালতু লেখার (আর কেউ লিখতে বলেনি এমন সব ভাষণের) মধ্যে এইসব জিনিশের কিছু মূল্য তো আছে বটেই। ওঃ, লেখকেরা নিজেদের নিরাসক্ত দেখায়, বলে যে তাদের কিছু যায় আসে না। যত্ত নাটক! আসলে সবাই সবাইকে কনুই দিয়ে গুঁতিয়ে চলেছে কে প্রথমে পৌঁছয় সেটা দেখতে। কারণ “শেষে তো একজনই থাকতে পারে”, ইমুরতাইশদের[1] সিনেমাটার মত। “শেষে একজনই বেঁচে থাকে।”

সাহিত্যের নোবেল হল যারা লেখে তাদের আকিলিসের গোড়ালি, মনের সেই বিষফোঁড়া যেটা আমাদের সবাইকে নীতিকথার মিথ্যুক শেয়াল বানিয়ে তোলে: দেওয়ালের ওপরে ঝুলতে থাকা রসালো আঙুর দেখে লোভ করে মরিয়া হয়ে লাফ দিয়ে তারপর হতাশ হয়ে গজগজ করা “ওগুলো টক, খাওয়া যাবে না”। যাবে। যেত! আমাদেরই দুর্ভাগ্য, কারণ জীবনটা অন্যায্য। 

এখনও আমার ভালমানুষ মায়ের কথা মনে আছে, কাগজটা দেখিয়ে বলতে, “আচ্ছা রুই, এই লেখক বার্নাবে পুরস্কারটা পেয়েছে, তুই পেলি না কেন?” আর আমি গোঙাতাম, কারণ মা খারাপ ভেবে কিছু করতেন না কিন্তু, না বুঝেই, খারাপ করতেন। আর আমি দাঁতের ডাক্তার, উকিল, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভাষ্যকার বা জর্জ জেসুশের[2] পোর্তুগিজ়ে তরজমাকার না হওয়ার জন্যে অনুতাপ করতাম।

এছাড়া, বেশ কিছু অবিশ্বাস্য লেখকও যে নোবেল পাননি সেই সান্ত্বনাটা রয়েই যায়। বর্হেস, আগুশ্তিনা, কার্দজ়ু পিরেশ, সুফিয়া, ক্লারিস[3] ও আরও কতজন। এটা মনে করেও সান্ত্বনা পাওয়া যায় যে সুইডিশ অ্যাকাডেমি কেবল গোটা কয়েক ভাষা পড়তে পারে – আর সেগুলোর কোনটাই পোর্তুগিজ় নয়। ধন্য পিলার[4], যে ভাল সময়ে স্যরামাগুকে লান্সারতে নিয়ে গিয়েছিল, না হলে ওঁরও জুটত না।     

আর আনি এরনো, এ বছরের বিজেতা, কি নোবেল পাওয়ার যোগ্য? সত্যি বলতে কি, লোবু আন্তুনেশের চেয়ে বেশি নয়। উনি লেখায় অনেক বেশি দীপ্তিমান। আর ওঁর অটো-ফিকশান পড়তে অনেক বেশি ভাল লাগে। কিন্তু আনি অযোগ্যও নন। আর তিনি পাতলা পাতলা বই লেখেন, ক্লিনিকাল, সাহসী, সেগুলো ভালভাবে অনূদিত হয়েছে আর, নীল সাগরের ওপরে গোল্ড ভিজ়া, আমাদের বইয়ের দোকানগুলোতে সেগুলো পাওয়া যায়।   

 


[1]Os Imortais – ২০০৩ সালের ৭ই নভেম্বার মুক্তি পাওয়া একটা পোর্তুগিজ় অ্যাকশান ফিল্ম। ফিল্মে ঔপনিবেশিক যুদ্ধের চারজন প্রাক্তন সৈন্য রহস্যজনক ভাবে হারিয়ে যাওয়া তাদের পঞ্চম সঙ্গীর সম্মানে একটা অপরাধের পরিকল্পনা করে সেটাকে বাস্তবায়িত করে। ফিল্মের শেষে তাদের মধ্যে একজন মাত্র বেঁচে থাকে ।

[2]Jorge Jesus (১৯৫৪) – পোর্তুগালের একজন বিখ্যাত ও বিতর্কিত ফুটবল কোচ। এই মুহূর্তে তুরস্কের একটা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত।   

[3]Agustina Bessa-Luís (১৯২২-২০১৯) – পোর্তুগিজ় লেখিকা; José Cardoso Pires (19251998) – পোর্তুগিজ় লেখিকা; Sophia de Mello Breyner Andresen (১৯১৯-২০০৪) – পোর্তুগিজ় কবি; Clarice Lispector (১৯২০-১৯৭৭) – ব্রেজ়িলিয়ান লেখিকা।

[4]Pilar del Río – স্প্যানিশ সাংবাদিক ও অনুবাদিকা, জুজ়ে স্যরামাগুর দ্বিতীয়া স্ত্রী।  

রুই জ়িঙ্ক
Rui Zink

Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over.   Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 

©All Rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published.