RUI ZINK interviewed by LUÍS RICARDO DUARTE for JORNAL DE LETRAS, ARTES E IDEIAS, translated by RITA RAY

বাংলা English
RUI ZINK
 Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures, i magines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 

প্রাসঙ্গিক হবার দাম

লুইশ রিকার্দু দুয়ার্তেকে দেওয়া রুই জ়িঙ্কের সাক্ষাৎকার
জেএল – জুর্নাল দ্য লেত্রাশ, আর্তেশ ই ইদাইয়াশ (০৮/০৯/২০২১)

নতুন সংস্করণ বেরিয়েছে, ফ্রান্সে পুরস্কার পেয়েছে, বেশ কয়েকবার নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটা গত জুলাই মাসে ফেস্তিভাল দ্য আভিন্যিওঁয় মঞ্চায়িত হয়েছে: ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু[1]। যেটা ওঁর বিখ্যাত বইগুলোর অন্যতম, যার পাঠক পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে, কিন্তু এটাই একমাত্র নয়। এটা হয়ত বলাই যায় যে তাঁর সাড়ে তিন দশক ব্যাপী সাহিত্যিক ও শিল্পী জীবনে – যেটার  উদযাপন তিনি এই মুহূর্তে তিনি তাঁর জীবনের ষাট বছর পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গে করছেন – তিনি সর্বদা লোকচক্ষুর সামনে  উপস্থিত থেকেও কিন্তু বিভিন্ন অবিচারের শীকার হয়েছেন। তাসত্ত্বেও, নিজের সব কাজেই স্বাধীন এবং সম্পূর্ণ হওয়ার ফলে কোনদিন তার দাম দিতে ভয় পাননি। একজন আজন্ম রক্ষণশীলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার।       

যাঁরা ওঁকে চেনেন তাঁরা জানেন যে প্রবচন যেন ওঁর জন্যেই তৈরি হয়েছিল। রুই জ়িঙ্কের সঙ্গে সব আলাপ-আলোচনাই চেরির মত, প্রতিটা বিষয় অন্য আরেকটা বিষয়ের দরজা খুলে দেয়, আর এইভাবেই চলতে থাকে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আলোচনা করা, যুক্তি খণ্ডন করা, যে কোন বিষয়ে অনর্গল কথা বলা তাঁর পছন্দ (আর সেটা যে তাঁর বয়েসের সঙ্গে সঙ্গে আরো তীক্ষ্ণ হয়েছে এটা তিনি মানেন)। আরো ভাল করে নিজের যুক্তির ব্যাখ্যা করার জন্যে রূপক তৈরি করতে পারার তাঁর যে একটা ঝোঁক আছে এ বিষয়ে তিনি সচেতন। উদাহরণস্বরূপ, যেসব বই প্রাসঙ্গিকতা হারায় না তাদের সম্পর্কে তিনি খুব ভাল করে পালিশ করা একটা বলের উপমার আশ্রয় নেন, যেটা সময় আর পৃথিবীর ভূগোল বেয়ে গড়িয়ে যায়, সর্বদাই নোতুন নোতুন পাঠকের খোঁজে। এটাই ঘটেছে আ ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু নামক তাঁর বইয়ের ক্ষেত্রে। ২০১২ সালে প্রকাশিত এই বইয়ের সম্প্রতি একটা নতুন, সংশোধিত ও পরিবর্ধিত, সংস্করণ বেরিয়েছে, যাতে সাম্প্রতিক অতিমারী নিয়ে অনেকগুলো অংশ যোগ করা হয়েছে। কারণ নিজের সমকালের ডাকে সাড়া দেওয়াটা সর্বদাই সেই রুই জ়িঙ্কের গতিপথের অন্যতম চিহ্ন, যিনি এই বছর ষাট বছর পূর্ণ করেছেন আর লেখক জীবনের পঁয়ত্রিশ বছর যার  মধ্যে আছে অসংখ্য দুঃসাহসী – অনেক সময়েই বিতর্কিত – পরিকল্পনা, যা শেষ পর্যন্ত জন্ম দিয়েছে ছোট গল্প, উপন্যাস, কমিকস ও গ্রাফিক নভেল, পারফর্ম্যান্স, টিভির অনুষ্ঠান, হিউমার, ইন্টারনেট (এর মধ্যে ফেসবুকও পড়ে) আর গবেষণা – ইউনিভিরসিদাদ নভা দ্য লিশবোয়ার ফাকুলদাদ দ্য সিয়েন্সিয়াশ সুসিয়াইশ ই উমানাশে, যেখানে উনি অধ্যাপনা করেন। এক্সপেরিমেন্টাল কবিদের ও অন্যান্য অ-রক্ষণশীল শিল্পীদের ঘরানায় বেড়ে ওঠা রুই জ়িঙ্কের একমাত্র সত্যিটা ছিল তাঁর গল্প বলার ইচ্ছেটা।  

____      

জেএল: আ ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু-র নতুন সংস্করণ আর তার বিরাট প্রাসঙ্গিকতা সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে…    

রুই জ়িঙ্ক: একজন লেখকের বিভিন্ন স্বপ্ন থাকে, যদিও সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল একটা ভাল বই লেখা। তারপর আরো অন্যান্য সৌভাগ্য আছে যেগুলো তার হাতে নেই, সেগুলো বরং অচেনা লোকেদের দয়ার ওপর নির্ভরশীল, টেনেসি উইলিয়ামসের কথা অনুযায়ী, ওঁকে উদ্ধৃত করতে আমার খুব ভাল লাগে। সেসব হচ্ছে নির্ভরশীলতার পরিস্থিতি, যেমন ইউরোপিয়ান ইকনমিক ইউনিয়ানে পোর্তুগাল। লেখক চায় তার পাঠক হোক, তার বই কেনার জন্যে লোক থাকুক, চুক্তি হোক, বইয়ের দোকানগুলো তার বই রাখুক, সমালোচনা হোক। আর নতুন সংস্করণ হোক বিশেষ করে, পুনর্মুদ্রণ নয়। বিদেশে সংশোধিত বা নতুন সংস্করণ, মানে অনুবাদ। এই বইটার মত আমার সব ভাল বইয়ের জন্যে এটাই আমার উচ্চাভিলাষ।   

জেএল: আজ অবধি আপনার সাহিত্যের সুদীর্ঘ যাত্রায় আপনার কোন বইকে কি অন্যায়ভাবে বিস্মৃত হতে দেখেছেন?     

রজ়: অবধারিতভাবে। আজকালকার বইয়ের জগতটা তার বাইরে যা ঘটছে তার থেকে মুক্ত নয়। আর আমি এও আশা করি যে এটা যেন শুধুমাত্র একটা খারাপ মুহূর্ত হয়। কিছুদিন আগেই একটা বেরত্রান্দে[2] ঢুকে দেখলাম দোকানের ঠিক মাঝখানে কোয়ান্টাম যোগের একটা সেল্ফহেল্প বইয়ের স্তূপ। প্রশ্নটা বইগুলোর থাকা  নিয়ে নয়, কিন্তু ঠিক মাঝখানে থাকা নিয়ে, ঠিক যেন গির্জার মধ্যে প্রার্থনার বেদিতে, যেখানে বইয়ের দোকানগুলোর নিজেদের পরিচয় আর পার্থক্যটা নিশ্চিতভাবে বোঝানর কথা। কিন্তু আমরা প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলছিলাম। আমি অবশ্যই অবাক হয়েছিলাম কারণ কারা আজকাল পড়ে তার প্রাসঙ্গিক চিত্র ছিল ওটা।  আমি আমার ষাঁড়টার আর অসুরদের মুখোমুখি হই, তাদের মধ্যে কেউ মিষ্টি আর নরম তুলতুলে, বাকিরা যাচ্ছেতাই রকম বিরক্তিকর। আজকাল সাহিত্যকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখার ফলে যে ক্ষতিটা হয় তা হল সেটাকে পাঠক ও লেখকের সেনাবাহিনীর (আর অসুরদের) মধ্যে একটা সংঘর্ষ হিসেবে দেখাটা বাদ দিয়ে  দেওয়া। ওদের একসঙ্গে একটা খুব সুন্দর লড়াই হয়, যেটা বইয়ের পাতায় একধরণের ওয়ার অফ থ্রোন্স।      

জেএল: এই বইটার পাতায় কি ধরণের সংঘর্ষ দেখতে চান?    

রজ়: আগে থেকে বলাটা সর্বদাই কঠিন – আর বইয়ের মার্জিনগুলো তো আছেই আরেকটা নতুন বই সৃষ্টি করার জন্যে, যেটা পড়া হচ্ছে তাতে সাড়া দেওয়ার জন্যে। ভয় হল মানবতার ইতিহাসের একটা বিধিসম্মত বিষয়। ওটা চিরকালই আমাদের মধ্যে ছিল। গত এক দশকে যেটা হয়েছে তা হল ভয় পাশ থেকে লাফিয়ে মাঝখানে এসে পড়েছে, ঠিক বইয়ের দোকানগুলোতে ওই সেল্ফহেল্পের বইগুলোর মত। আমি যে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হই আমার সবরকম রূপে, পাঠক আর লেখক হিসেবে, বাবা আর স্বামী হিসেবে, প্রেমিক হিসেবেও – সর্বদাই চমৎকার – আর শিক্ষক বা ছাত্র হিসেবে, তার অন্যতম হল কোনটা অপরিহার্য আর আনুষঙ্গিক। যে মুহূর্তে আমি লিখি তাতে প্রাসঙ্গিকতা, শালীনতা, নৈতিকতার ক্রমটা কিরকম হয়?             

জেএল: ভয়কে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতেই কি ২০১২ সালে এই বইটা লেখা হয়েছিল?   

রজ়: হ্যাঁ। মানব অবস্থার সবরকম দিক শিল্পে এসে মিলিত হয়। সাহিত্য হল একটা না-বিজ্ঞান আর একটা না-ধর্ম যেটা এই বিজ্ঞানের কাছাকাছি আসে তো এই ধর্মের কাছাকাছি যায়। ওটা একটা এলোমেলো বিজ্ঞান, আর লেখক হল সেটার ধর্মের যাজক। কারুর এতে দুটো পয়সা হয়, অন্যরা নিজেদের বই লেখে। যেটা অনেক সময়েই প্রার্থনা। আমি কুর্ট ভোনেগাট আর তাঁর স্লটারহাউস ফাইভের[3] কথা ভাবছি, আমার জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বই, কিংবা জুজ়ে গোমশ ফেরাইরা আর আভেন্তুরাশ দ্য জুয়াঁও সাঁই মেদু[4], বা ফিরনাঁও মেন্দেশ পিন্তু আর তাঁর পেরেগ্রিনাসাঁও[5]। এই বইগুলোর যে কোন একটা ধর্মীয় বক্তৃতা হিসেবে, একটা মিসা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। যখন লিখি তখন আমার সামনে যা আছে, আমাকে যা বিরক্ত করে, সবসময়ে সেসবের কথাই বলি। দুঃখের বিষয়, যেটাতে আমার আরো বেশি বিরক্তি লাগে আর কম ভাল লাগে সেটা হল মেজাজ। এটা হল একমাত্র উপায় যাতে অন্যের প্রতি, জগতের প্রতি, আমার দেশের প্রতি, আমার ভাষার প্রতি উদার হওয়া যায়। অন্যের মত করে কাজ করতে গেলে ব্যাপারটা টিক চিত্তাকর্ষক হবে না, আমার নতুন কিছু বলাও হবে না।        

জেএল: কিভাবে?   

রজ়: অন্যজন তো ওখানেই আছে। কাময়েঁশ হবার চেষ্টা করাটা হাস্যকর হত। ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওই সুপার-কাময়েঁশ হবার ইচ্ছেটার মধ্যে কোন মজা নেই। কিসের জন্যে? সাহিত্য নিশ্চয়ই এই মতবাদটার মধ্যে দিয়ে যায় যে আমরা সবাই বিভিন্ন স্বর। আমি যা পারি তা-ই দিই। যা আমায় অস্থির করে আমি তাই নিয়েই  কথা বলি। আর ভয় নিয়ে গালভরা সব কথাবার্তা ওই সময়ে আমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ওই কথাবার্তাগুলো নোতুন কিছু নয় সেটা তো জানাই আছে – অবশ্য পৃথিবীতে এখন নোতুন বলে আর কিছুই  নেই – আর তাই সেগুলোর প্রভাব খুব বেড়ে চলেছে। যেমন মার্গারেট থ্যাচারের টিনা[6]: কোন বিকল্প নেই। আজও এই ডিসকোর্সটা চলছে, একটা বিশেষ দিকে। আমি ঠিক, তুমি ভুল, আমি বাস্তববাদী, তুমি আদর্শবাদী – এই যুক্তিতে এটাকে খুব সহজেই একটা বোর্ডে রাখা যায়। আমাদের দক্ষিণপন্থীদের আমি খুব যত্ন করে এটা বোঝাতে চাই যে সোভিয়েতের তারা এত সমালোচনা করে, বাস্তববাদ আর উন্মাদ বামপন্থার এই ডিসকোর্সটা তারই একটা যুক্তির নকল। এর বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই, এমনকি আমি এটা পছন্দও করি।                  

জেএল: আপনার কি মনে হয় এই ডিসকোর্সটা এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে?

রজ়: পেদ্রু[7] আর আনীবাল[8] জুটির পর কশ্তা[9] আর মার্সেলু[10] ক্ষমতায় এলে একটা সাময়িক বিরতি পাওয়া গিয়েছিল। ভয়ানক একটা ধাঁচ থেকে আমরা চলে গেলাম আরো একটা হাসিখুশি, কোমল, আনন্দে ভরা একটা ধাঁচ। বুদ্ধিমান বা রাজনীতিক হবার জন্যে লজ্জা না পাওয়াটার মত একটা সহজ সরল ব্যাপারই একটা বিশাল স্বস্তির কারণ। আমরা এখনও সঙ্কটের মধ্যে আছি, কিন্তু ডিসকোর্সটা বদলে গেছে। এই বইটা ২০১৬, ২০১৭ আর ২০১৮[11]-তে অনূদিত হয়েছিল যেসব দেশে সেখানে খুব প্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু পোর্তুগালে ২০১৬ সালে ফুটবলের ইউরোতে আর সালভাদর সুবরালের হাত ধরে গানের ইউরোভিশানে জয়ের ফলে একটা সাময়িক বিরতি আসে। এটা আমাদের স্বাস্থ্যের কত উপকারই না করেছিল! পোর্তুগালে ছাঁচটা পরিষ্কার ভাবে বদলে গিয়েছিল।    

জেএল: এমন একটা শক্তি যেটা যুগ আর দেশ নির্বিশেষে পার হয়ে যায় সেটাকে ধরতে পারার ফলস্বরূপ কি একটা টেক্সটের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হয়?    

রজ়: একটা টেক্সট একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সাড়া দেয়। কিন্তু সাহিত্যে তার পুরো জড়িয়ে পড়াটা – আবার করে লেখা আর সহজ ভাবটা, এমনকি আন্তরিকতাও, যেসব দৃষ্টিকোণের জন্যে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় আর কি – চূড়ান্ত ফলাফলটাকে ভাল করে পালিশ করা একটা গোল আকার দেয়। আর তারপর সেটা গড়িয়ে বাইরে চলে যায়। যে স্বপ্নটার কথা প্রথমে বলছিলাম সেটা হল এইটা: নির্দিষ্ট একটা মুহূর্তে একটা বইতে লাথি মারা হল (এই বইটা ২০১২ সালের) কিন্তু সেটা যদি ঠিকমত গোল হয় তো সেটা নিজেনিজেই গড়াতে থাকবে। কখন কখন সামনে উঁচু কোন জায়গা পড়লে সেটার গতি ঢিমে হয়ে যায়, তারপর কতগুলো ঢাল এলে গতিটা খুব বেড়ে যায়, কিংবা হঠাত কেউ লাথি মারলে সেটা আবার সামনের দিকে এগিয়ে যায়। একটা যুক্তি যোগ করার অর্থ ওই বলটা তৈরি করা।          

জেএল: এই বলটাকে কিভাবে তৈরি করা হয়?

রজ়: সেইটা কেউ জানে না। আর কেউ এখানে টেকসই কিছু তৈরি করছে না, কারণ সেটা ঠিক বিপরীত জিনিসটাকে নিশ্চিত করে। কোন ম্যাজিক ফর্মুলা নেই। তোমাকে পালিশ করতে হবে আর সেটা করার সবচেয়ে ভাল উপায়টা বের করতে হবে। এমন অনেক টেক্সট আছে যেগুলো শিগগিরি নিজেদের দেউলিয়া বলে প্রকাশ করে ফেলে, এমনকি বের হওয়ার মুহূর্তেও তারা নোতুন কিছু দিতে পারে না। আজকাল যেমন শিকারি টেক্সটের প্রতি খুব ঝোঁক দেখা যাচ্ছে।    

জেএল: শিকারি টেক্সট কি জিনিস?

রজ়: যে টেক্সট পাঠকের অজ্ঞতার সুযোগ নেয়। নতুন কিছু যোগ করার অর্থ তোমার টেক্সটটাকে তুলনার মুখোমুখি হতে দেওয়া আর সেটা যে প্রতিরোধ করছে তা উপলব্ধি করা। পপ গানে এটা বোঝা অনেক বেশি সহজ। একটা সময়ে গিয়ে আমরা কতগুলো কর্ড খুঁজে পাই যেগুলোর সঙ্গে কে জানে কবেকার তৈরি কর্ডগুলোর সত্যিকারের মিল আছে। যাই হোক, আ ইনশ্তালাসাঁও যে নানারকমের ভয়ের একটা ভাণ্ডার এতে আমি খুব খুশি। একটা অতি প্রাচীন কর্ড বাজাচ্ছি, আগে থেকেই উপস্থিত কতগুলো উপাদান নিয়ে – এমন  কি পাঠকের প্রত্যাশা নিয়েও – খেলছি, কিন্তু একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবিক দিকের প্রতি গুলি ছুঁড়ছি।        

জেএল: আর আপনার সাহিত্যিক গতিপথে আ ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু-র কি গুরুত্ব রয়েছে? আমার তো মনে হয় এই বইটা ওসু[12]-তে একটা বিশেষ লেখার পথ শুরু করে দিয়েছে…     

রজ়: আমার এখন বলা উচিত “মোটেই না, মোটেই না” আমি চেষ্টা করি আমার প্রতিটা বইতেই একটা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে, কখনোই বারবার এক জিনিস দেখাতে চাই না। আমার পছন্দের বইগুলোর মধ্যে একটা হল উ আনিবালেইতর[13], আরেকটা বই যেটা গড়িয়ে যাবে বলে আমি আশা করি, এর সুরটা নরম। আ ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু অনেক বেশি টানটান, উত্তেজনায় ভরা, একটু যেন তাড়া আছে, রসকষহীন। কিন্তু এর দুবছর আগে দেশ্তিনু তুরীশ্তিকু[14] লিখেছিলাম, সেই বইটা বেশ নীরস বলে তার ফর্মটা খুব চিত্তাকর্ষক।  বইয়ের প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে প্রথম অংশটায় একটাই পরিচ্ছেদ। দ্বিতীয় অংশের পরিচ্ছেদগুলো ক্রমশ ছোট হতে থাকে। আমি এতে খুব মজা পেয়েছিলাম। ইনশ্তালাসাঁও-এ নিজের স্বরটা বদলাচ্ছি বলে মনে হয়নি। যেটা ঘটেছিল তা হল ওই সময়েই যা লিখছিলাম আর বলছিলাম সেটা কিরকম যেন ভুলে যাচ্ছিলাম। প্রথম পরিচ্ছেদটা দুবার লিখেছিলাম: দুটো লোক একজন মহিলার বাড়িতে ঢুকে তাকে চমকে দেয়।               

জেএল: আর এই দুটো পরিচ্ছেদ নিয়ে কি করেছিলেন?

রজ়: দুটোকে মিলিয়ে দিয়েছিলাম। একটা উত্তম পুরুষে লেখা হয়েছিল, মহিলাটির দৃষ্টিকোণ থেকে, অন্যটা তৃতীয় পুরুষে। কোন বিকল্পটা বেশি ভাল সেটা পরিষ্কার ছিল, বাইরে থেকে দেখাটা, আরো ঠাণ্ডা। বইটার অস্বস্তিকর, অস্বচ্ছন্দ, রসকষহীন হবার কথা। সত্যি বলতে কি, আমার টেক্সটগুলো সর্বদাই একটু নীরস হয়ে থাকে। অলঙ্কার হিসেবে যা থাকে সেটা হল লোকে যাকে বলে “রুই জ়িঙ্কের বিখ্যাত বিদ্রূপ”, যেটা মাঝেমাঝে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, কারণ সবসময়েই তো আর আমি বিদ্রূপ করি না বা করতে চাই না।     

জেএল: কিন্তু বিদ্রূপ বা কৌতুক কোনটাই তো এই বইটাতে নেই।

রজ়: না, নেই। এমনকি পুলিশের একটা কথাতে কৌতুকের একটা আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে: “ক্রীতদাসেরা যখন জাহাজের খোলের মধ্যে শিকলে বাঁধা থাকার জন্যে প্রতিবাদ করত, তখন ক্যাপ্টেন বলত, আরে ভাই, আমরা তো সবাই একই নৌকোয়।” কিন্তু পুরো কৌতুকটাই প্রস্তাবনাগুলোর অযৌক্তিকতার ওপর জোর দেওয়ার একটা ফর্ম। পাঠককে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করে, কখন কখন বা বিরক্ত করারও।          

জেএল: পরীক্ষানিরীক্ষা আর প্রাসঙ্গিকতা: এগুলোই কি সাহিত্যে আপনার চলার পথের বৈশিষ্ট্য?

রজ়: আমি হলাম এক ধরণের মোগলি, নেকড়েদের হাতে মানুষ হওয়া একটা ছেলে। সারা জীবন যেসব লেখকদের ছত্রছায়ায় বড় হয়েছি, তাঁরা সব পোর্তুগালের এক্সপেরিমেন্টাল কবি ছিলেন (এবং এখনও আছেন)। ফিলিজ়েশ দা ফের[15] সঙ্গেও অনেক কাজ করেছি, বিশেষ করে রিগুর[16] সঙ্গে। এদের সঙ্গে আমার কোথায় মিল? নাগরিক ও বিনোদনমূলক কাজকর্মে, কোনরকম বিভাজন ছাড়া। মানুষ তো সবসময়ে একই থাকে, সর্বদাই অখণ্ড, পড়ায়, কথা বলে, লেখে, কেবল কাজগুলোই আলাদা হয়। আমার অনেক পাঠক হবে এমন আশা কোনদিনই করিনি, আর আমার গুরুদের চেয়ে আমার ঝুঁকিটা কম ছিল, তার কারণ এই যে আমার সময়টাই ছিল আলাদা, পঁচিশে এপ্রিলের[17] পরে। আমি বেছেও ছিলাম একটা গতানুগতিক পথ: গল্প বলা। তাছাড়া আমি যখন লিখতে শুরু করি তখন উঁচু আর নীচু সংস্কৃতি, গভীর আর চটুল সাহিত্যের মধ্যে প্রাচীন বিভেদটা ভেঙে পড়ছিল।                  

জেএল: আপনার চালিকাশক্তি কি ছিল? প্ররোচনা?

রজ়: প্ররোচনার ধারণাটা সর্বদাই সঙ্কোচক, যদিও আমি মনে করি যেসব শিল্পী প্ররোচনা দেন তাদেরও প্রয়োজন আছে। সত্যি বলতে কি আমার মত স্যাম্পেল খুব বেশি নেই। যেটা ভালও নয়, আবার খারাপও নয়। সব যুগেরই তাদের নিজস্ব পাগলাটে খামখেয়ালি লোকের দরকার থাকে। আমার মনে হয় না যে আমার পেশাদারী জীবনটা এমন কিছু আকর্ষণীয় ভাবে উদ্ভাবক ছিল। কিন্তু নিজের যুগের আন্দাজে পিছিয়েও পড়িনি কখন। আর প্রাসঙ্গিক জিনিসপত্তর করার দামও আছে। হ্যাপেনিং যখন কোন প্রতিষ্ঠানের অন্তর্গত ছিল না  সেই সময়ে আমি তা করেছি; টিভি যখন খাদ্যশৃঙ্খলের চুড়ো আর সম্মানযোগ্যতায় পৌঁছনর হাইওয়ে ছিল না সেই সময়ে আমি সেখানে অনুষ্ঠান করেছি; কৌতুক করেছি সেই সময়ে যখন সবাই সেটাকে সহ্য করত না;  উপন্যাস লিখতে বসে প্রবন্ধ লিখেছি সেই সময়ে যখন লোকে সবকিছুর মধ্যে স্পষ্ট একটা ভাগ দেখতে চাইত; যখন ভিল্যিয়েনার[18] ওপর থিসিস লিখেছি তখনও বিশ্ববিদ্যালয় বলত যে ওটা অ্যাকাডেমিক কোন বিষয়ই নয়; আর আজ আমি নিশ্চিত যে আমি যখন অবসর নেব তখন কলেজে কলেজে লেখক বা শিল্পীর পদ তৈরি হবে, যে পদমর্যাদাটা এত বছর ধরে আমার হতে পারত।        

জেএল: আপনাকে কি সর্বদা নতুন নতুন পথ কেটে চলতে হয়েছে?

রজ়: নতুন নতুন পথ কেটে চলাটা খুব আত্মশ্লাঘার বিষয়। হ্যাঁ, আমি এমন সব কাজ করতে গেছি যেগুলোর নিজস্ব একটা ফর্ম ছিল, যেটা কোন মডেলের নকল করে হয় না। আমি সর্বদা নিজের শরীর আর ধারণাগুলোর ভেতরে অখণ্ড ছিলাম, কখন কোন সিস্টেমের মধ্যে নয়। কোন কিছু তার নিজের সময়ের মধ্যে বা স্থানীয় সময়ের একটু আগে করলে তার দামটা দিতে হয়। সেটা দিতে আমার কখনই গায়ে লাগেনি। আর আমিই তো একমাত্র ছিলাম না। আমার প্রজন্মটা কিছুটা ভুল ফ্যাশানের শিকার হয়েছিল। যখন আমরা লিখতে শুরু করলাম তখন অল্পবয়েসী লেখকদের পড়ত না। যখন আমরা একটু ঝানু হলাম তখন লোকের নজর গিয়ে পড়েছে তারুণ্যের ওপর। এই সংকীর্ণতার জন্যে কাউকে আমাদের কাছে মাপ চাইতে হবে না, কেবল এটুকুই মেনে নিলে হবে যে এরকমটা ঘটেছিল।

__


[1]A instalação do medo, বাংলা অনুবাদ ভয়, মনফকিরা, ২০১৮। 

[2]Livraria Bertrand – ১৭৩২ সালে স্থাপিত পোর্তুগালের সবচেয়ে প্রাচীন আর বর্তমানে সবচেয়ে বড় বইয়ের দোকানের চেন।  

[3]Kurt Vonnegut (১৯২২-২০০৭), অ্যামেরিকান লেখক; তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাসের নাম Slaughterhouse Five (১৯৬৯)।

[4]José Gomes Ferreira (১৮৯৯-১৯৮৫), পোর্তুগিজ় লেখক; Aventuras de João Sem Medo ছোটদের জন্যে লেখা তাঁর একটি উপন্যাস যা ১৯৩৩ সালে ধারাবাহিক ভাবে বেরিয়েছিল।

[5]Fernão Mendes Pinto (১৫০৯-১৫৮৩) একজন পোর্তুগিচজ় অভিযাত্রী ও নাবিক; ১৫৬৯ আর ১৫৭৮ সালের মধ্যে তিনি Peregrinação লিখেছিলেন। বইটি ভারত, চীন ও জাপানে তাঁর সফরের বিবরণ বা ডায়েরির আকারে লেখা। তাঁর মৃত্যুর ৩১ বছর পর, ১৬১৪ সালে, বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই দেরির কারণ ১৫৮০ থেকে ১৬৪০ অবধি পোর্তুগালে স্পেনের শাসনকালে ইনকুইজ়িশানের অত্যধিক রকমের বাড়াবাড়ি। প্রকাশিত সংস্করণে বেশ কিছু অংশ বাদ পড়েছিল ও “সংশোধিত হয়েছিল”। লেখাটা পনেরো ও ষোল শতকের “আবিষ্কারকদের” অভিযানগুলোর একটা বিবরণী। এই লেখা থেকে পোর্তুগিচজ় নাবিকদের যে ছবিটা বেরিয়ে আসে সেটা অবীরোচিত, নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্যে যারা সবকিছু করতে প্রস্তুত, সাধারণত সেটা হত দেশীয় লোকেদের লুঠতরাজ করে বড়লোক হয়ে স্বদেশে ফেরা।         

[6]TINA অর্থাৎ “There is no alternative”; এটা ছিল ইংল্যান্ডের কনজ়ারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের ব্যবহার করা একটা স্লোগান। একমাত্র বাজার অর্থনীতিই কাজের আর এই নিয়ে সবরকম আলোচনা শেষ হয়ে গেছে, থ্যাচারের এই দাবী বোঝানর জন্যে এই স্লোগান ব্যবহার করা হত। 

[7]Pedro Passos Coelho (১৯৬৪) – দক্ষিণপন্থী পার্তিদু সুসিয়াল দিমোক্রাতার একজন নেতা, ২০১১ থেকে ২০১৫ অবধি পোর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এই সময়েই পোর্তুগাল সাংঘাতিক অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছিল, যার পটভূমিকায় ইনশ্তালাসাঁও দু মেদু লেখা হয়।    

[8]Aníbal Cavaco Silva (১৯৩৯) – দক্ষিণপন্থী পার্তিদু সুসিয়াল দিমোক্রাতার প্রাক্তন সভাপতি, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ পোর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী আর ২০০৬ থেকে ২০১৬ অবধি দেশের রাষ্ট্রপতি।  

[9]António Costa (১৯৬১) – পার্তিদু সুসিয়ালিশ্তার একজন নেতা, ২০১৫ থেকে পোর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী।

[10]Marcelo Rebelo de Sousa (১৯৪৮) – দক্ষিণপন্থী পার্তিদু সুসিয়াল দিমোক্রাতার প্রাক্তন সভাপতি, ২০১৬ থেকে পোর্তুগালের রাষ্ট্রপতি। 

[11]২০১৮য় কলকাতা বইমেলায় বাংলায় প্রকাশিত। কিন্তু এর ইংরেজি অনুবাদ এ দেশের কোন প্রকাশক এখন অবধি ছাপতে রাজি হননি। হিন্দি অনুবাদেরও একই সমস্যা। 

[12]OssO – ২০১৫ সালে প্রকাশিত লেখকের একটি নভেলা; এটি বর্তমান বিশ্বের সঙ্কট নিয়ে তাঁর লেখা টেট্রালজির চতুর্থ ও শেষ খণ্ড, মেদু দ্বিতীয় খণ্ড। এর বাংলা অনুবাদের নাম নয়ন, প্রকাশিত হয়েছে ২০১৭ সালে। 

[13]O Anibaleitor, প্রথম প্রকাশ ২০০৬য়ে, প্রথম পরিবর্ধিত ও সংশোধিত সংস্করণ ২০১০এ, দ্বিতীয় পরিবর্ধিত ও সংশোধিত সংস্করণ ২০১৫য়। দ্বিতীয় সংস্করণের বাংলা অনুবাদ এক সমুদ্দুর বই, ২০১৫য় প্রকাশিত; বাংলায় অনূদিত লেখকের প্রথম বই। 

[14]বর্তমান বিশ্বের সঙ্কট নিয়ে লেখা টেট্রালজির প্রথম খণ্ড, যার প্রথম প্রকাশ ২০০৮এ আর পরিবর্ধিত ও সংশোধিত সংস্করণ বেরয় ২০১৫য়; এর বাংলা অনুবাদের নাম বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা, প্রকাশিত হয়েছে ২০২০তে। 

[15]Felizes da Fé  – ১৯৮৫ সালে এই দলটির জন্ম। মূল উদ্যোক্তা রুই, সঙ্গী তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সহপাঠী ও বন্ধু; তাঁদের কয়েকজন পরে শিল্পী ও চিত্রপরিচালক হিসেবে নাম করেন। এই দলটি মূলত সাধারণ পরিসরে – তা যেমন রাজপথ হত তেমনি মেট্রোর কামরাও হত – দেশের এবং বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে পথনাটিকা করে বেড়াত। নাটক থেকে পোস্টার সবই ছিল রুইয়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। এই নাটকগুলো এতই আকস্মিক ভাবে শুরু হত যে অনেক সময় উপস্থিত কেউ সেটিকে নাটক না ভেবে সত্যি ঘটনাই ভাবতেন। এই কাজ করতে গিয়ে রুই এবং তাঁর বন্ধুদের বার দুয়েক পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। বছর দশেক এই দলটি তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। অর্থাৎ কিছুটা সময় ফিলিজ়েশ দা ফে এবং আ নইতে দ্য মা লীঙ্গুয়া একই সঙ্গে চলেছিল। www.felizes.planetaclix.pt

[16]Rigo – ১৯৮৫ সালে রুই জ়িঙ্ক আর দুই গোভাইয়া ভাই, জিলবের্তু ও রিকার্দু মিলে ফিলিজ়েশ দা ফে তৈরি করেন। পরের বছর রিকার্দু গোভাইয়া বা রিগু, যিনি বর্তমানে একজন নামকরা ভাস্কর, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ফ্রান্সিস্কোতে গিয়ে বসতি স্থাপন করে সেখানে ফিলিজ়েশ দা ফের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।  

[17]১৯৭৪ সালের পঁচিশে এপ্রিল লিসবনে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটে।  

[18]José Vilhena (১৯২৭-২০১৫) – একজন পোর্তুগিজ় লেখক, চিত্রকর, কার্টুনিস্ট ও কৌতুকশিল্পী। সালাজ়ারের আমলে সেন্সরকে প্যারোডি করে ছবি ও বিদ্রূপাত্মক লেখা সম্বলিত প্রচুর বই বার করেন। এর ফলে বারবার পুলিশের, বিশেষ করে গুপ্ত পুলিশ পিদের বিরাগভাজন হন, বারবার তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত হয়; তাঁকে ষাটের দশকে বার তিনেক জেলেও যেতে হয়েছিল।     

Translator : RITA RAY
RITA RAY
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

©All Rights Reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *