Interview of rui zink

বাংলা English
                               Interview Of Rui Zink
                            Taken By VANDA MARQUES For SÁBADO
                               TRANSLATED BY RITA RAY
RUI ZINK
 Portuguese writer Rui Zink was born on June 16, 1961. "Writes books, gives lectures,
 imagines  things." - Rui Zink in his own description. He continues to write one story after another, novels, plays, graphic novel and much more. His language has become beyond its own boundaries. The structure of his written text also goes beyond conventional grammar. A different world came to life in subjective language. 'Torkito Tarjoni' has been  published on the occasion of his upcoming  60th birthday on June 16. Presently a lecturer by profession. His first novel was ‘Hotel Lusitano’(1986). Zink is the author of ‘A Arte Superma’(2007), the first Portuguese Graphic Novel. Also his ‘Os Surfistas’ was the first interactive e-novel of Portugal. He is the author of more than 45 published books all over. 
 Zink achieved prestigious ‘Pen Club’ award on 2005 for his novel ‘Dádiva Divina’. His several books has been translated in Bengali like ‘O Livro Sargrado da Factologia’(‘ঘটনাতত্ত্বের পবিত্র গ্রন্থ, 2017), ‘A Instalação do Medo’(‘ভয়, 2012), ‘O Destino Turístico’(‘বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা', 2008), 'Oso'('নয়ন') etc. 

আমরা তাঁকে স্বপ্নদর্শী বা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বলতে পারি কারণ তাঁর শেষ কয়েকটি বইতে ভবিষ্যৎ দেখার জাদুদণ্ড আছে। ২০১২ সালেই তিনি ভাইরাসজনিত বিপদ আর প্যানডেমিক নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন তাঁর উপন্যাস ইন্সতালাসাঁও দু মেদু-তে, যেটা কদিন আগেই পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। আর ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর মানুয়াল দ্য বোঁ ফাশিশ্তা – ভোটে শেগা একটা ঐতিহাসিক ফল করার আগেই – কিন্তু রুই জ়িঙ্ক বলেন যে তিনি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নন, তিনি কেবল তাঁর আশেপাশের দুনিয়ায় কি ঘটে চলেছে সে বিষয়ে সজাগ। যে বছরে তিনি তাঁর জীবনের ষাট বছর, লেখক জীবনের পঁয়ত্রিশ বছর আর শিক্ষক জীবনের প্রায় চল্লিশ বছর পূর্ণ করছেন, এই লেখক পোর্তুগালকে আগের চেয়ে ভাল চোখে দেখছেন। তাসত্ত্বেও এই সমাজে যে শিল্পোদ্যোগের যুক্তি গেঁড়ে বসেছে আর, অ্যাবার জ্ঞানগর্ভ কথায়, যেটা বিজয়ীকেই সবকিছু দেয় আর পরাজিতকে কিছুই দেয় না, সেটাকে তিনি মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন।    

আপনার ইন্সতালাসাঁও দু মেদু[1] উপন্যাসটি আবার নতুন করে প্রকাশিত হচ্ছে। এখন কেন?

আপনার কি মনে হয় এর চেয়ে ভাল সময় আর আছে? আমাকে এটা বলতেই হবে যে আমার বড় আশ্চর্য লাগে যে এত লোক সন্দেহ করছে যে ভাইরাসটা উহানের গবেষণাগারে তৈরি হয়েছে কিন্তু কেউই এই সম্ভাবনাটার কথা ভাবছে না যে আসলে আমার এজেন্টই এই কাজটা করেছে যাতে আমি পেশাগত ভাবে এগিয়ে যাই। অবশ্য আমার শেষ তিনটে বই-ই এরকম: মানুয়াল দ্য বোঁ ফাশিশ্তা[2], আপনার মধ্যে যে ফ্যাসিস্টটি আছে তাকে আবিষ্কার করার জন্যে একটা সহায়িকা, আর অন্যটা উ আভো তাঁই উমা বুররাশা না কাবেসা (দাদুর মাথায় একটা রাবার আছে), আলজাইমারের কথা বলে, যেটা কিনা এই শতকের আরেকটা আলোচ্য বিষয়, আর এই ইন্সতালাসাঁও দু মেদু-ওএবার তা-ই হতে পারে।   

এই প্যান্ডেমিকে ভয় পেয়েছিলেন ?


আমার ছেলেদের জন্যে ভয় পেয়েছিলাম। যাদেরই ছেলেমেয়ে থাকে তারা সবসময়েই ভয়ে ভয়ে থাকে। ইমোশানাল সিকিউরিটির দৃষ্টিকোণ থেকে ছেলেমেয়ের জন্ম দেওয়াটা খুব বোকার মত সিদ্ধান্ত। কারণ ওরা জগতের সবচেয়ে বড় আনন্দ কিন্তু আমাদের দুর্বলতম অংশও বটে।  

এই উপন্যাসটা, যেটা বিদেশে পুরষ্কার পেয়েছে, তার প্রসঙ্গে আপনি বলেছেন: “ক্ষমতার আসনে যেসব খানকির বাচ্চারা বসে আছে তারা এই বইটার দিকে চোখ বুজে ছিল।” এখনও কি এরকমটাই চলছে? 

হ্যাঁ, এখনও তাই চলছে। মানে আমি পোর্তুগিজ় সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ভিক্টিম নই। আমার ষাট বছর বয়েসের উঁচু ডালে বসে এইটুকু বলতে পারি যে আমি অনেক ইন্টারেস্টিং কাজ করেছি কিন্তু আজকাল যা দেখি তা হল লোকে ভুলে যায় যে সবকিছুরই একটা ইতিহাস আছে। এই দেশটা হল সাহিত্য পুরষ্কারের। আমি কল্পনা করে নিই যে আমার ক্ষেত্রে জুরিরা বলে: “তাহলে রুইয়ের বইটা?” আর কেউ একটা উত্তর দেয়: “মালটার একটা লাম্বরঘিনি আছে, ওর এসবের দরকার নেই।” জুরিদের আঘাত না দিয়েই বলছি যে এমন কেউ যিনি পোর্তুগালে সাহিত্য বিষয়ক জুরি হতে রাজি হয়েছেন তিনি কিন্তু বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে তিনি  বিশাল কেউ নন।  


কেন?

 
সাহিত্যের কোন কোন জুরিকে পনেরো দিনের মধ্যে তিরিশটা বই পড়তে হয়… এটা তো অযোগ্যতাকে আমন্ত্রণ জানান। আর তারও আগে কোন একজন সম্পাদকীয় সহযোগী বাছাইয়ের কাজটা করেছে; আমি বেশ দেখতে পারছি ভালবেসে, প্রচুর খেটে করা একটা পাণ্ডুলিপির দিকে তাকিয়ে সে বলছে: “হুম” [কাঁধটা ঝাঁকিয়ে]। অনেক সময়ে আমাদের একটা বই বারবার পড়তে হয়। তারপর এরকম একটা অজুহাত খাড়া  করা হয় যে দুতিন পাতা পড়াই যথেষ্ট। না, যথেষ্ট নয়। একবার আমার উ সুপ্লেন্ত (বদলি) বলে উপন্যাসটার একটা ভাল সমালোচনা পড়েছিলাম; এই উপন্যাসটার বিষয়বস্তু খুবই গুরুগম্ভীর, সন্তানের মৃত্যু,  সবচেয়ে খারাপ জিনিশ যা ঘটতে পারে। কেবল বইটা শুরু হয় একটা মজার দৃশ্য দিয়ে, একটা ফুটবল খেলা নিয়ে। কিন্তু তারপর আরো তিনশোটা পাতা আছে শুদ্ধু একটা বিয়োগান্ত ঘটনা নিয়ে। এবার ভাল সমালোচনাগুলো বলল: “রুইয়ের আরেকটা বই, খুব মজার, ফুটবল নিয়ে রসিকতায় ভর্তি।” তারা পুরো বইটা পড়েনি…  


এই উপন্যাসে আপনি লিখছেন যে “শিল্পোদ্যোগের সংস্কৃতি ধীরেধীরে সমাজের জায়গাটা নিয়ে নিচ্ছে”। আপনি ঠিক কি বলতে চাইছেন?


এই ধারণাটা যে আমরা রয়েছি কাজে লাগার জন্যে, প্রয়োজনীয় হবার জন্যে, যখন আমরা আর কাজে লাগি না তখন আমাদের ফেলে দেওয়া যায়। একটা দেশ এই মুহূর্তে কুঁড়েদের, কম যোগ্যদের আর বয়স্কদের বরখাস্ত করতে পারছে না। শিল্পোদ্যোগের রীতিনীতির উলটো পথে চলে, যা কিনা সহযোগীদের বরখাস্ত করাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করে, যেটা আমার কাছে ভয়ঙ্কর ও অমানবিক। আমার ট্যাক্সের টাকাটা খরচ হবে যাতে কুঁড়েদের এক গেলাস ওয়াইন খাবার অধিকার থাকে আর ঘুমোনর একটা জায়গা থাকে, যাতে অযোগ্যদেরও চাকরি থাকে, যদি সেটা কর্পোরেশানে প্রেসিডেন্ট বা মালির হয় তা-ও, যাতে যেসব লোকেদের  আমি পছন্দ করি না তারাও ভালভাবে থাকতে পারে। এমনকি সেইসব লেখকেরাও যাদের বই আমার বইগুলোর থেকে বেশি বিক্রি হয় আর যাদের জেলে পাঠান উচিত আর এরকম লেখক প্রচুর আছে। 


কে?

এখানে আমি রাখব গোন্সালু এম তাভারেশকে, জুয়াঁও তর্দুকে, ভালতার উগো মাঁইকে, আফন্সু রাইশ কাব্রালকে। এদের সবার জেলে যাওয়া উচিত কারণ এদের প্রতিভা আছে, এদের বই আমার বইয়ের চেয়ে বেশি বিক্রি হয় আর, হয়তবা তারা আমার চেয়ে ভাল লেখে। আর এদের জীবনটা আমার জীবনের চেয়ে ঢের ভালভাবে চলে আর এটা একটা অবিচার। আমার এটা বলার মত বয়েস হয়েছে।


কিন্তু এটা তো আপনি সর্বদাই বলে এসেছেন?

হ্যাঁ, কিন্তু এখন এটা যৌক্তিকতার সঙ্গে বলি। আগে আমিই ছিলাম বিদ্রোহী, বিস্ময়-বালক। এখন একদল বেজন্মা আছে যাদের মাথায় আমার চেয়ে বেশি চুল আছে আর তারা দেখতেও বেশি ভাল।

এটা আপনি সহ্য করেন কি করে?

একেবারে পারি না। খুব হিংসে হয়, রাগ হয়, মনে হয় আমার বউ অন্য কারুর সঙ্গে প্রেম করছে, কিন্তু খেলাচ্ছলেই তো সত্যিটা বলা হয়। লেখক হিসেবে আমি যা, আর যে লেখকদের আমি পছন্দ করি, কেউই তাদের গুণ দিয়ে লেখে না – ওরা হল নির্বোধ – ওরা নিজেদের খুঁতগুলো দিয়ে লেখে। লেখার মহৎ সৃজনী শক্তি একটা খুঁতকে মহতী শক্তিতে পরিণত করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে চল্লিশ বছর ধরে আমি লোকজনের সামনে নানারকম কাজকর্ম করছি আর আমার একটা দোষ আছে: আমি পরিষ্কার করে  কথা বলতে পারি না, আমার কথা আধোআধো। কিন্তু বীরভোগ্যা বসুন্ধরা। মানুষ দিনকেদিন আরো পাগল হয়ে যাচ্ছে, প্যানডেমিকের জন্যে, আর এই যে সংস্কৃতিতে আমরা বাস করছি তার জন্যেও বটে – বিজয়ীর সংস্কৃতি। 

কেন?

এই সংস্কৃতিটা এমনই যে একজন লেখকের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হলেই সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ লেখক বলে মনে করে আর একজন গর্দভ একটা ইতিহাসের বই লিখে নিজেকে মস্ত বড় ঐতিহাসিক বলে মনে করে। লোকে ক্রিস্তিয়ানোর কাঁচে-ঘেরা বারান্দার[3] নিন্দে করে কিন্তু জুজ়ে গোমশ ফেরাইরার[4] কাঁচে-ঘেরা বারান্দা নিয়ে কিছু বলে না। এরকম একটা ধারণা তৈরি হয় যে “বিজয়ীর জন্যে সবকিছু, পরাজিতর জন্যে কিচ্ছু না” অ্যাবার জ্ঞানগর্ভ কথা[5]। এই সমাজ, যা কিনা এখন সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ, তার সামনে এই মুহূর্তে বিশাল ঝুঁকি এটাই যে মানুষ ব্যর্থ হয়েছে এটা তাদের মনে করানর জন্যে সে সবকিছু করবে। লোকে ডিভোর্স করছে কারণ তাদের কোন ধৈর্য নেই।  

বিয়ে মানে ধৈর্য? 

একটা ভাল বিয়ের রহস্য হল: এক নম্বর – প্রচুর ধৈর্য; দু নম্বর – মাঝেমাঝে আমরা কি করি সেটা যেন অন্যজন জানতে না পারে আর তিন নম্বর – আমাদেরও ভান করতে হবে যে কিছু কিছু জিনিশ আমরা দেখিনি। কারণ চিরন্তন, কৌমার প্রেম তখনই ভাল যখন রোমিও আর জুলিয়েটের বয়েস পনের বছর। আমরা আজকাল আরো বেশিদিন টিকি। চিরন্তন প্রেম বলে কিছু নেই, যা আছে তা হল এমন সব মানুষ যাদের জীবনটা প্রেমের চেয়ে কম সময় টেকে।  

মানুয়াল দু বোঁ ফাশিশ্তা-তেও আপনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এবার ভোটে শেগা[6] যে এত ভাল ফল করেছে সেটা কি আপনি কল্পনা করতে পেরেছিলেন?

পোর্তুগালে বহু বছর ধরে বর্বরদের জন্যে অপেক্ষা করা নিয়ে একটা বকবক লেগেই ছিল। ওরা দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু কিছুতেই আর এসে পৌঁছয় না। আমরা কিন্তু ইচ্ছে আর ভয় এই দুটোকে গুলিয়ে ফেলি। জানেন, আমি পোর্তুগালে তিনটে জিনিশ একেবারে পছন্দ করি না: ওই লোকগুলোকে অপছন্দ করি যারা খুব ভাল বোঝানর জন্যে আঙুলগুলোকে গোল করার চিহ্নটা নিজেদের করে নিয়েছে, যারা লিভ্র[7] বলে একটা পার্টি তৈরি করেছে আর যে মালগুলো শেগা বলে একটা পার্টি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা না করে বলতে পারি না “কখন আসছ?[8]”; কিংবা ট্যাক্সি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করতে পারি না: “খালি আছে?”[9]     

আপনি আন্দ্রে ভেন্তুরার শেগাকে কিভাবে দেখেন, আপনার কাছে ওর সংজ্ঞাটা কি?

ব্যাপারটা খুব হাস্যকর, বোকাবোকা। তার সঙ্গে প্রসংশনীয়, কারণ পার্টিটার সংসদে একজন সদস্য আছে, আর দু বছর ধরে লোকে শুনে আসছে যে: “ভোটটা যদি আজ হত…”। আমি ভাবতাম যে কাগজে বাস্তবের কথা বলা হয়, এখন তারা সম্ভাবনার কথা বলে। স্পষ্টত ওই পার্টিটাই বিশেষভাবে সমস্যা নয়। পোর্তুগালে দুটো জিনিশ আছে: সঙ্কট আর সঙ্কটকে উপলব্ধি করা। আমরা ইউরোপের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নই, কিন্তু এটাই ঘটনা যে আমাদের মনে হয় আমরা তাই। আমি পোর্তুগালকে ভালবাসি। এটা একটা বয়েসের ব্যাপার। অল্প বয়েসে ভালবাসতাম না, বিদেশে চলে যেতে চাইতাম। তারপর অনেক দেশে ঘুরে বুঝেছি যে এই দেশটা হল বিশ্বের সেই দেশগুলোর একটা যেখানে সবচেয়ে ভাল গণতান্ত্রিক জীবন আছে।     

নইতে দ্য মা লীঙ্গুয়ার[10] মত আরেকটা অনুষ্ঠান করতে ইচ্ছে করে কি আপনার? 

হ্যাঁ। মানে যেসব কাজে টাকা পাওয়া যায় সেসব আমার সবসময়েই পছন্দ, কিন্তু আমার এই অনুষ্ঠানটাকে ভাল লাগার আরেকটা কারণ আমরা সবাই খুব ভাল বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম, আর্মিতে যেরকম হয় আরকি। কিন্তু মানুষ যেটা ভাবছে সেটাই মুখে বলছে – এটা কিরকম যেন ২০২১এ মানায় না। এটা হল রাজনৈতিক ভাবে সঠিকের খারাপ দিক, যেটা হল: এখন আমিও বোতাম টিপে কাউকে শেষ করে দিতে পারি। 

আপনি নিজের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, অনুষ্ঠানটা কি এতটাই চমৎকার ছিল?

হ্যাঁ। কিন্তু আমি আশির দশকে [ফিলিজ়েশ দা ফে[11]] সাধারণ দর্শকদের জন্যে কিছু জিনিশ করতাম যেগুলোর খানিকটা প্রভাব ছিল। আমি গরীবের শিল্প বেছে নিয়েছিলাম – আমার দরকার কেবল কাগজ আর কলম। আর একজন লেখকের জীবন দীর্ঘায়ু পায়। কাল যদি আমি মরে যাই তো আমার কাজ থেকে যাবে। চার দশক ধরে হিসু করেছি। কেবল এই মুহূর্তে যখন নিজের কাজটা উপভোগ করতে যাব তখন মনে হচ্ছে যে রাতারাতি সবাই ভুলে যায়। বাতিল করার অ্যামেরিকান সংস্কৃতিটা সব সময়েই ছিল, কিন্তু সেটা ছিল দক্ষিণপন্থীদের, এখন সেটা বামেদের। যখন সাহায্য দরকার হয় তখন বামেরা সর্বদাই আমায় পছন্দ করে।    কিন্তু ওদের চাহিদা না মেটালে ওরাই প্রথম আমার ওপর ক্ষেপে যায়। পোর্তুগালের যেকোন শিল্পী শেয়াল আর কাকের গল্পটা জানে। যে মুহূর্তে আমরা চীজ়টা দিই শেয়ালটা ঘাবড়ে যায়। আমার জীবনের গল্প হল ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড। কেউ কেউ আমায় এই বলে লোভ দেখায়: “রুই, তোমার চোখ দুটো কি সুন্দর, তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে।” তারপর আমরা বিছানায় যাই আর ওরা যা চায় তা-ই করতে দিই, আর পরের দিন একটা চুমুও জোটে না। এটাই হল আমার আর পোর্তুগালের যে কোন শিল্পীর গল্প ।


[1]বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে ভয় নামে, ২০১৮সালে। 

[2]ভাল ফ্যাসিস্ট হবার সহজ উপায়, তর্কিত তর্জনী ওয়েবম্যাগে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে।

[3]কয়েক দিন আগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো লিসবনে তার নতুন ফ্ল্যাটের বারান্দা বাড়ির স্থপতি বা পৌরসভার অনুমতি না নিয়েই কাঁচ দিয়ে ঘিরে ফেলার ফলে নিন্দার ঝড় ওঠে।  

[4]José Gomes Ferreira একজন সাংবাদিক ও পোর্তুগালের সবচেয়ে বড় বেসরকারি টিভি চ্যানেল SIC-এর একজন কর্তাব্যক্তি। গত মাসে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই Factos Escondidos da História de Portugal (পোর্তুগালের ইতিহাসের লুকনো তথ্যাবলি)। এই বইতে তিনি দাবী করেছেন যে এ যাবৎ পোর্তুগালের ইতিহাস বলে আমরা যা জানি, বিশেষ করে পনেরো শতক থেকে শুরু হওয়া সমুদ্রাভিযানগুলির ইতিহাস, তা সবই ভুল। অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মত নতুন মহাদেশগুলি সবই পোর্তুগিজ় নাবিকেরা আবিষ্কার করেছিল, আর তা অনেকদিন আগেই। পোর্তুগালের ক্ষমতাসীন লোকেরা এতগুলো শতক ধরে দেশের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এসেছে।    

[5]ABBA নামের ব্যাণ্ডের একটা বিখ্যাত গান – The winner takes it all/The loser’s standing small।

[6]Chega, André Ventura-র নেতৃত্বে পোর্তুগালের একমাত্র অতি দক্ষিণপন্থী দল। ২০১৯ সালে এই দল তৈরি হয় এবং সে বছরের সংসদের নির্বাচনে একটি আসন লাভ করতে সক্ষম হয়। বলাই বাহুল্য এই ঘটনাটিকে পোর্তুগালের রাজনৈতিক ভাষ্যকারেরা অশনি  সঙ্কেত হিসেবেই দেখছেন।   

[7]Livre আক্ষরিক অর্থে মুক্ত। ২০১৩ সালে তৈরি এই দলটির মূল নীতিগুলি হল সর্বজনীনতা, স্বাধীনতা, সমতা, সংহতি, সমাজবাদ, বাস্তুসংস্থান ও ইউরোপীয়বাদ।

[8]a que horas chega? – কটার সময়ে পৌঁছবেচ? chega (শেগা)-র অর্থ পৌঁছবে।  

[9]está livre – এখানে লিভ্র-এর অর্থ খালি।

[10]A noite de má língua (খারাপ ভাষার রাত) – বেসরকারি চ্যানেল সিকে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭  অবধি প্রতি বৃহস্পতিবার একটু বেশি রাতে এই অনুষ্ঠানটি হত, সঞ্চালনায় থাকতেন জুলিয়া পিন্যিয়াইরু। অনুষ্ঠানটি ছিল দেশের সেই সময়ের পরিস্থিতির সমালোচনা আর নিন্দা করার জন্যে আর প্রতি সপ্তাহে কোন না কোন বিখ্যাত ব্যক্তিকে খারাপ ভাষার পুরষ্কার দেওয়া হত। এর চারজন ভাষ্যকারদের মধ্যে রুই ছিলেন একজন।

[11]Felizes da Fé – ১৯৮৫ সালে এই দলটির জন্ম। মূল উদ্যোক্তা রুই, সঙ্গী তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সহপাঠী ও বন্ধু; তাঁদের কয়েকজন পরে শিল্পী ও চিত্রপরিচালক হিসেবে নাম করেন। এই দলটি মূলত সাধারণ পরিসরে – তা যেমন রাজপথ হত তেমনি মেট্রোর কামরাও হত – দেশের এবং বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে পথনাটিকা করে বেড়াত। নাটক থেকে পোস্টার সবই ছিল রুইয়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। এই নাটকগুলো এতই আকস্মিক ভাবে শুরু হত যে অনেক সময় উপস্থিত কেউ সেটিকে নাটক না ভেবে সত্যি ঘটনাই ভাবতেন। এই কাজ করতে গিয়ে রুই এবং তাঁর বন্ধুদের বার দুয়েক পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। বছর দশেক এই দলটি তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। অর্থাৎ কিছুটা সময় ফিলিজ়েশ দা ফে এবং আ নইতে দ্য মা লীঙ্গুয়া একই সঙ্গে চলেছিল। www.felizes.planetaclix.pt

RITA RAY
ঋতা রায় (১৯৬৫) ইংরেজিতে স্নাতকত্তোর করার পর পর্তুগিজ কবি ফির্ণান্দু পেসোয়ার ওপর গবেষণা করেন। পঁচিশ বছর দিল্লি আর কলকাতার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্তুগিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পড়ানোর পর গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য বাংলা, ইংরেজি ও পর্তুগিজে অনুবাদ করে চলেছেন।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *