আমি সৃষ্টি-আমিই কর্তা

বাংলা English
Rakeeb Hossain
রাকীব হাসান
পরিচিতি: রাকীব হাসান চিত্রশিল্পী এবং কবি। এক দশক আফ্রিকায় পড়াশুনা এবং অসংখ্য একক এবং যৌথ প্রদর্শনীর পরে মন্ট্রিয়ালে আছেন গত বিশ বছর ধরে। এখানে অবস্থিত শিল্পীর স্টুডিও এবং উঠান আর্ট গ্যালারি উত্তর আমেরিকার কবি, লেখক এবং শিল্পীদের মন মাতানো আড্ডার অন্যতম আকর্ষণ।

চিন্তাকে স্কেচ করে সেসব রেখাকে রঙ দিয়ে অবয়ব দিলে তা জীবনের কোনো না কোনো রেখা বা রঙ নিয়ে আসবে। মননের স্পেস থেকে জীবনের আলোর তাপমাত্রার যে সব বিকিরণ তাই চিন্তা, এই চিন্তাকে সংগ্রহ করার প্রয়াসই বোধহয় শিল্পচর্চা। আলো এবং অন্ধকার নারী-পুরুষের মত প্রেম নিয়ে যা কিছু সৃষ্টি করে তা সময়ের সন্তান। এই গভীর সৃষ্টির মাঝে আমাদের খেলা আছে বটে তবে নিয়ন্ত্রণ নেই – নিয়ন্ত্রক যিনি তিনি সময়। সময় জীব সৃষ্টি করে, সেই জীবের একটি ক্ষুদ্র অংশ রঙও সৃষ্টি করেছে। লক্ষ বছর আগে যে সব রঙের জীবন তা আমরা লক্ষ বছর পরেও এঁকে যাচ্ছি, কিন্তু সময়ের ল্যাবরেটোরিতে প্রতিদিন নতুন উপাখ্যান, নতুন তুলি, নতুন রঙ এবং নতুন আঙ্গুলে নতুন চিন্তা।

আমরা দেখেছি বিশাল ক্যানভাসে সামান্য একটি বিন্দু ছবি হয়ে ওঠে, রঙের ব্যবহারে বিন্দু হয়ে ওঠে রহস্যময়, ভাবনার মেঘ ছাড়িয়ে মহাশূন্যের সঙ্গে আমাদের মন তখন আলোকবর্ষ নিমিষে হেঁটে আসে। কিছুদিন হলো ব্লাক হোলের ছবি তুলেছেন বিজ্ঞানীরা কিন্তু বলা বাহুল্য এই ব্লাক হোলের ইমেজের মতো বহু আগে শিল্পী বিমূর্ত চিত্রকলায় এ সকল ইমেজ দেখিয়েছেন। যা কিছু দেখা যায় তা সীমিত আর যা কিছু ভাবা যায় তা অসীম। যদি দেখা আর ভাবার মধ্যে তুলনা করি তবে দেখার গতি শব্দের মতো কিন্তু ভাবনার গতি আলোর মতো। শিল্পীর ভাবনার অসীমতা আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা চিত্রকলায় বহুভাবে দেখেছি আমরা, সালভাদর দালি যখন পরাবাস্তবে ডুব দিলেন তখন আমরা বস্তু ও প্রাণের সমবাসের চিত্রে মানব প্রাণের সুক্ষ্ণ চিন্তার নতুন রঙ দেখি। পিকাসো যখন নারীকে জ্যামিতি বানায়, তখন তা নারীর বস্তুসম ভাবনা যেমন আনে তেমনি নারী স্বাধীনতার ধারালো ত্রিকোণমিতি আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। একটি গোলাপ, পাখি অথবা বসন্ত আঁকলেই ছবি হয় না। আসলে কোনো কিছু আঁকলেই ছবি হয় না। একটি ছবি জন্ম নেয় শিল্পীর চিন্তার জেনেটিক বিন্যাসের রসে। এই রসের ধারা সীমিত কিন্তু নিরন্তর বয়ে যায় কোনো না কোনো শিল্পীর চিন্তায়। তাই ছবি আঁকলেই সকলের শিল্পী হয়ে ওঠা হয় না।

জ্যাক কাটারিকাওয়ে-র হাতি

রেখা যদি শিল্পীকে পথ দেয়, রঙ দেয় হাঁটার শক্তি। হাঁটতে হাঁটতে তাকে চাষ করতে হয় কাঙ্ক্ষিত জমিন, শিল্পঋতুর মনস্তাত্বিক স্রোত শিল্পীকে না ভাসালে তার চিন্তার বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম সম্ভব নয়। তাই একটি সার্থক প্রদর্শনী একজন শিল্পীর শস্যক্ষেত।

প্রতিটি জীবনে যে সময়ের ফ্রেম সেখানে পুরাতনের যেমন জাল আছে, তেমনই আছে বর্তমানের অনেক অজানা-অচেনা মুহূর্তের যুদ্ধ — তবু মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন মানুষের অপরিচিত বর্তমানকে মেনে নেয়ার সুখকর অবলম্বন। ছবি, কবিতা, গল্প কিম্বা সঙ্গীত সর্বত্রই শিল্পের যে রসায়ন তার ভিতরে মানুষ সবচেয়ে বেশি নিমজ্জিত। সব শিল্পের চরিত্র সমান্তরাল, তাই একজন শিল্পী একজন কবির সঙ্গে ছন্দ ও শব্দের চিত্রকল্প আঁকতে পারেন চিন্তার সমান্তরাল পথে, একজন কথাশিল্পী সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে বাজাতে পারেন একতারায় জীবনের সমান্তরাল মেঠোপথ।  

জ্যাক কাটারিকাওয়ে-র পাখি

ছবি বিখ্যত হলে চিত্রকর বিখ্যাত হন, কবিতা হলে তবেই কবি হয়ে ওঠেন একজন ব্যাক্তি। অন্ধকারে নরম আলো না দিলে এই চাঁদটাকে আমরা চিনতেই পারতাম না!উদ্ভিদের সবুজের সঙ্গে মানুষের প্রাণের যে স্রোত একসঙ্গে বয় তা শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, কিন্তু এই মানুষের কিছু মানুষ শুধু বেঁচে থেকে থেকে সন্তষ্ট হয়নি। সে জীবনের রঙ আঁকতে চেয়েছে, দেখাতে চেয়েছে মানুষের ভিতরের চিন্তার জগত, যেমন পিকাসো শুধু একজন ব্যক্তির নাম, কিন্তু তাঁর আঁকা ছবিগুলো এই গ্রহের মানুষের জীবনের রঙ, মানুষের মননের সুখ। তাই পিকাসো বলতে ছবি বুঝি, পিকাসো মানে চিন্তার মানুষ। তিনি এবং তার সমকালীন এমনকী এখনও অনেক ইউরোপিয়ান শিল্পী আফ্রিকার শিল্পকলার কাছে এসে মানচিত্র ভুলে যান।  ছবির আঁকার কি সংজ্ঞা আছে? না ছবির আঁকার কোনো সংজ্ঞা নাই! শিল্পী সংজ্ঞা সৃষ্টি করেন না, সংজ্ঞা সৃষ্টি হয় শিল্পীহীন সময়ের জন্য। একজন নতুন শিল্পীর জন্মে প্রতিষ্ঠিত সংজ্ঞা ভেঙ্গে যায়। শিল্পীর জনগোষ্ঠি আছে কিন্তু মানচিত্র নাই, এই ভাবনার সাহসে আমিও আফ্রিকান আর্টের সঙ্গে বসবাসের স্বপ্নে মেতে উঠি।

একদিন আমার ভিতরে আফ্রিকা জন্ম নেয়, যেন আমার দ্বিতীয় জন্মের জন্মভূমি। কালো রঙই  কেবল পারে সব রঙ ধারণ করেও নিজেকে অপরিবর্তিত রাখতে! সে আমাকেও গ্রহন করে। আমার চিত্রকলার প্রায় এক দশকের শিক্ষা এবং নিরীক্ষা কেনিয়াতে। এখানে পৌঁছানোর প্রথম সপ্তাহে একটি গ্যালারির প্রদর্শনীতে আবিষ্কার করি, আমার না দেখা এবং ভাবতে না পারা এক বিশাল শিল্পের সমাবেশ! সেইসব ছবিতে শিল্পীরা গল্প এঁকেছেন, কবিতা এঁকেছেন আর এই গল্প-কবিতার ক্যানভাসে রঙের ঘোরে শিল্পীরা ছবির দেহকে যেভাবে কম্পোজ করেছেন তা আমি এই ছবি দেখার আগে কখনো ভাবতে পারিনি। এই প্রদর্শনীতেই আমি আবিষ্কার করি ইস্ট আফ্রিকার বিখ্যাত কয়েকজন শিল্পীকে — জ্যাক ক্যাটারিক্যাওয়ে, অ্যানসেন্ট সয়ি, জ্যাকারিয়া ম্বুথা, সানে ওয়াদু এবং ওয়ানিয়ু ব্রাশ। এঁরা সবাই স্বশিক্ষিত চিত্রকর, এঁদের জীবনের গল্প এবং চিন্তার স্বতস্ফুর্ত স্রোত পরবর্তীতে আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিলো যে, আমি বুঝতে পেরেছিলাম এঁরাই আমার সুজন এবং এ-ই আমার শিল্পের মানচিত্রবিহীন স্বদেশ! ধীরে ধীরে আমার ভিতরে থাকা মাতৃভূমির নদী আর পশ্চিমা স্থাপত্য শিল্পের সঙ্গে নতুন মাত্রায় বসে পড়ে ।

Jak Katarikawe
Jak Katarikawe, 

আফ্রিকান চিত্রকলার মুগ্ধতা। কেনিয়ার রিফট ভ্যালিকে বলা হয় মানব জন্মের প্রথম মাটি, এবং এখান দিয়েই শুরু হয় আমার শিল্পী জীবন।
 একজন শিল্পীকে বীজ সৃষ্টি করতে হয়, কেননা শিল্পীর এক একটি ছবি আঁকা শেষ মানেই এক একটি বীজের বিস্ফোরণ। অন্যভাবেও দেখা যায়। একজন শিল্পী ছবি আঁকছেন, তার কাজই তো ছবি আঁকা, মানুষের অন্যসব কাজের মতো এও এক জীবনের বেঁচে থাকার অবলম্বন। জ্যাক কাটারিক্যাওয়ে সম্ভবত জন্মেছিলেন শিল্পী হয়ে। উগান্ডায় জন্ম নেয়া এই শিল্পীর জীবনের দৃশ্যাবলীই তার ছবির গল্প, কিন্তু এইসব গল্পের রঙ এবং ভাষার কাব্যময়তায় তাঁর প্রতিটি ছবি থেকে কবিতার শব্দ-ছন্দের রসায়ন বের করে আনে দর্শকদের মন। জ্যাক ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুবৎসল এবং নিরীহ প্রকৃতির মানুষ, বুঝি তাই, আফ্রিকার এতো বৈচিত্রময় জগত থেকে তিনি তার ছবিতে বেছে নিলেন শুধু গবাদিপশু আর হাতী! একটি গাভী, বাছুর আর ষাঁড়ের জীবনকে জ্যাক দেখতে পেয়েছিলেন। কবি জীবনানন্দ দাশ আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে জীবন ফড়িঙের তা তাঁর দেখা হয়নি, কিন্তু জ্যাক মানুষের জীবনের বাইরে অন্য প্রাণের জগতকে যেভাবে রঙঘোর করেছেন তা দেখে তাকে একজন তৃপ্তপ্রাণের মানুষ ভাবতেই হয়। তাঁর হাতীর ছবির এক্সপ্রেশন দেখে আমার ভাবতে হয়েছে, হাতীর সঙ্গে জ্যাক বেড়ে উঠেছিলেন এক সঙ্গে, খুব সহোদর না হলে এতো মমতা দিয়ে অন্য প্রাণের ভাষা আঁকা যায় না। তাঁর হাতীর ছবিগুলোই সবচেয়ে বেশি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে। ইউরোপে বিভিন্ন দেশের মিউজিয়ামে জ্যাকের যেসব ছবি সংগ্রহীত হয়েছে, সেখানে তাঁর হাতীর ছবিই প্রধান্য পেয়েছে। অবশ্য জ্যাকের মনোজগতে হাতী ছিলো শুধুই রূপকের একটি মনস্পর্শ, এই গ্রহের বৃহৎকার প্রানীর এমন অভিব্যাক্তি এঁকে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছিলেন? জ্যাকের ছবির মানুষ এবং প্রাণীজগৎ জীবনে সুখি এবং পরিতৃপ্ত, এই অভিব্যাক্তি তিনি অনায়াসে আনতে পেরেছেন কারণ জ্যাক অপরের মুখাবয়বে আসলে নিজেকেই এঁকেছেন। তাঁকে আমি কখনো দুঃখী দেখিনি। জীবনের প্রতি কতটা ধনাত্মক হলে জীবন ধন্য হয়ে ওঠে তা তাঁর চিন্তা প্রকাশিত রঙের ভলিউম সাক্ষ্য দেয়।
 ১৯৯৫ সালে নায়রোবীর ফ্রেঞ্চ কালচারাল সেন্টারে আমার দ্বিতীয় একক প্রদর্শনীর শুরুর সন্ধ্যায়, তখন ওপেনিং-এর ফর্মালিটি শেষ, জ্যাক এসে জানালেন তিনি প্রদর্শনীর ৭ নম্বর ছবিটি কিনতে চান। আমি ছবিটিতে বিক্রয় সাংকেতিক লাল টিপ পড়িয়ে দিলাম, যেন জ্যাকের এক টুকরো ভালোলাগার সঙ্গে ছবিটির বিবাহ হয়ে গেল। ছবির বরপুত্র হিশেবে জ্যাকের মন পেয়ে আমার কেমন লেগেছিলো, তা আজও শিহরণ জাগায়। ইস্ট আফ্রিকার সমতল থেকে কিলিমাঞ্জারোর চূড়াতক শিল্পের যে উচ্চতা, সেখানে জ্যাকই কিলিমাঞ্জারো। জ্যাক এবং তাঁর ছবি এই দু’য়ের সাথে সমান ভালোবাসা ছিলো আমার। চিন্তা আর নান্দনিকতার ঘোরে তাঁর সাথে আমার চেনাজানার ঘুড়ি বহুদূর উড়েছিলো, উড়তে উড়তে সব ঘুড়িই একদিন কেটে যায়, জীবনের সুতা ছিঁড়ে জ্যাকের ঘুড়ি শুন্যতায় হারিয়ে গেছে ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮। আশি বছরের জীবনে তাঁর ছবির জগত মহাবিশ্বের শুন্যতার ভিতরেও পৃথিবীর সহস্র প্রাণের শতরঙে দৃশ্যমান। 

ট্রাইবাল উৎসব

নির্মোহ জীবনের রঙ কেবল একজন শিল্পীই আঁকতে পারেন। জ্যাকের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আমার তা বারবার মনে হয়েছে। ইস্ট আফ্রিকার মানুষের জীবন এখনো অনেকটা প্রকৃতিনির্ভর, সহস্রকাল ধরে একই গল্পের পরম্পরায় এখানে মানুষ এখনও জীবন বিশ্বাস করে। কত অল্পে পরিপাটি জীবনের দেখা মেলে তার নমুনা সংগ্রহ কেবল আফ্রিকাতে সম্ভব। তাই বোধকরি এখানের শিল্পে প্রানীকুলের সঙ্গে, শষ্যের সঙ্গে মানুষের আত্মার রেখার তান বড় বেশি মৌলিক রঙে বেজে ওঠে। মানুষের জীবন এখানে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তের মানুষের মতো মোটেই জটিল নয়। প্রকৃতির নিয়ম আর তার দানের ভিতরে এখনও ট্রাইবাল মানুষ বেঁচে থাকছে। সঙ্গে থাকছে তাদের শিল্প-প্রীতির প্রাগৈতিহাসিক অভ্যাস। এই অভ্যাস বড় বেশি রক্তে প্রোথিত, আফ্রিকান মানুষ এই অভ্যাস ত্যাগ করতে জানে না। এখানে প্রতিটি গোত্রের নিজস্ব শিল্প সম্ভার আছে এবং তার সঙ্গে বেঁচে থাকাই তাদের আধুনিকতা। গান আর নাচ তাদের প্রতিদিনের প্রার্থনার মতো মাতাল-সুখ, আর পাথর কিম্বা কাঠ খোঁদাই করে হৃদয়ের নান্দনিক মুহূর্তের যে প্রকাশ, তা আফ্রিকার মানুষের মূর্তমান জীবনের শিল্পসংগ্রহ। আফ্রিকার ছবির রঙ যেন সুর্যের আলো জলে ভিজিয়ে তৈরি, যেন এক একজন শিল্পীর প্যালেটে এক একটি রঙধনু, যার প্রকাশ পৃথিবীর সব রঙের চেয়ে উষ্ণ অথচ জলমগ্ন!

অতি সাধারণ দৃশ্যেই তো জীবন অসাধারণ, আমরা যারা সাধারণ তা দেখতে পাই না। কিন্তু সেই শিল্পী তা দেখতে পান যিনি সাধারণ থেকে বেরিয়ে অসাধারণের তুলি নিয়ে সাধারণের রঙে আঁকেন। শিল্পী যখন জীবনের ছবি আঁকেন, তখন তা নিজের জীবনই আঁকেন। সাধারণ জীবনকে অসাধারণ দেখার সৌন্দর্যবোধ জ্যাকের ছিলো। তাই তাঁর ছবি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা তিনি নিজেই শেষ করে দিয়ে গেছেন। যে সব ছবি নিজেই সাধারণের সঙ্গে কথা বলে, তার সামনে শিল্পবোদ্ধারা অসহায়! শিল্পী যখন সৃষ্টি করতে করতে নিজেই সৃষ্টি হয়ে যান, সে সৃষ্টির তিনিই কর্তা। তাই জ্যাক নিজের জীবনের কম্পোজিশনে যে কোন মহৎ শিল্পীর মতই প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন জীবনের সকল নির্মানে —-আমি সৃষ্টি এবং আমিই কর্তা।

© All rights reserved by Torkito Tarjoni

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *